আদর্শ নাগরিক হিসেবে করণীয় ও বর্জনীয়।

আপনি কি জন্মসূত্রে একজন বাংলাদেশি? আপনার মাথায় কি আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সমাজিক রীতিনীতি নিয়ে নানা প্রশ্নের উদয় হয়? অথবা, আপনি কি একজন সংখ্যালুঘু? কিংবা, আপনি কি ধর্মীয় বিষয়ে চুলচেরা চিন্তাভাবনা করেন? বা, আপনি কি একজন জিজ্ঞাসু মস্তিস্কের মানুষ? এর কোনোটি যদি আপনি হন, তবে আপনার জন্যই আমার এই লেখা। উল্লেখিত এই ক্যাটাগরি গুলো ছাড়াও বাদবাকি প্রচলিত ধারার বাইরে আপনি যাই ভাবুন না কেন, আপনার ভাবনার সীমারেখা টেনে দিতে আমি লিখছি। লেখাটি পড়ে আপনি বুঝতে পারেন আদর্শ নাগরিক হিসেবে আপনার করণীয় ও বর্জনীয় কি কি, সেই সম্পর্কে

আপনি কি জন্মসূত্রে একজন বাংলাদেশি? আপনার মাথায় কি আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সমাজিক রীতিনীতি নিয়ে নানা প্রশ্নের উদয় হয়? অথবা, আপনি কি একজন সংখ্যালুঘু? কিংবা, আপনি কি ধর্মীয় বিষয়ে চুলচেরা চিন্তাভাবনা করেন? বা, আপনি কি একজন জিজ্ঞাসু মস্তিস্কের মানুষ? এর কোনোটি যদি আপনি হন, তবে আপনার জন্যই আমার এই লেখা। উল্লেখিত এই ক্যাটাগরি গুলো ছাড়াও বাদবাকি প্রচলিত ধারার বাইরে আপনি যাই ভাবুন না কেন, আপনার ভাবনার সীমারেখা টেনে দিতে আমি লিখছি। লেখাটি পড়ে আপনি বুঝতে পারেন আদর্শ নাগরিক হিসেবে আপনার করণীয় ও বর্জনীয় কি কি, সেই সম্পর্কে

০১.
যদিও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন, তথা সংবিধান আপনার চিন্তার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কে স্বীকৃতি দেয়, তাও ভাই স্বাধীনতার ও তো একটা সীমারেখা আছে। আপনি তা লঙ্ঘন করলে কোনো ভাবেই আপনাকে ছাড় দেয়া হবে না। আপনাকে ভাবতে হবে, বলতে হবে, চলতে হবে সীমার মাঝে। এখন প্রশ্ন হলো সীমাটা কে নির্ধারন করে দিবে? আর সেই সীমা নির্ধারণের মানদন্ড কি হবে? কি এই প্রশ্ন আপনার মাথায়ও আসছে? আসলে ঝেড়ে ফেলুন, প্রশ্ন করা যাবে না বেশি। মানদন্ড হলো শাসকগোষ্ঠীর ব্যক্তিইচ্ছার উপর নির্ভর করে। আর সীমা? সীমারেখাও নির্ধারিত হবে ধর্মব্যবসায়ী তথা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনী এবং সরকার দ্বারা। কারো অনুভূতিতে আপনি কোনো ভাবেই আঘাত করতে পারবেন না।

এখন অনুভূতি জিনিষটা কি সেটা নিয়ে আবার ভাবতে বসে যাবেন না যেন, কারন রাষ্ট্র নিজেও এটা ঠিক করতে পারে নি অনুভূতি জিনিষটা কি? এবং কোনো কোনো কাজ করলে তা অনুভূতির উপর আঘাত হানতে পারে। এই জন্যই তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে অনুভূতির কোনো সংজ্ঞা দেয়া হয় নি, এবং ৫৭ধারায় সঠিক ভাবে নির্ধারণ ও করতে পারে নি কোন কোন কাজ গুলো স্পষ্টতো আনুভূতির উপর আঘাত হবে। সাধারণত কোনো আইন যখন স্পষ্ট কোনো বিষয়কে ব্যাখ্যা না করে, তখন আদালতের দায়িত্ব হলো, সেই আইনের কোনো অংশ, যা নিয়ে বিভ্রান্তি আছে, তাকে ব্যাখ্যা করা, কিন্তু বাংলাদেশে অনুভূতি এমনই এক রহস্যজনক ইস্যু, আজ পর্যন্ত কোনো আদালতও পারেনি অনুভূতিকে ব্যাখ্যা করতে।

০২.
তো যা বলছিলাম, আপনি যদি রাষ্ট্রীয় কোনো অনিয়ম-দূর্নীতি-অন্যায় সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার কথা ভাবেন তবে তা এক্ষুণি ভুলে যান। আপনি কোনো ভাবেই রাষ্ট্রীয় কোনো সিধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবেন না। তবে হ্যা আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন পূর্ববর্তী সেই গোষ্ঠীর কর্মকান্ডের উপর যারা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের আগে ক্ষমতায় ছিলো। আবার পূর্বের ক্ষমতাসীন বলতে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পূর্ববর্তী আমলকে এর মধ্যে নিয়ে আসবেন না যেন ভুলেও। আপনাকে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের প্রত্যেকটি কাজে হ্যা তে হ্যা এবং না তে না বলতে হবে। এবং সমালোচনা করলে কেবল, ক্ষমতাসীনদের বিরোধীপক্ষের কর্মকান্ড ও শাষন আমল নিয়েই সামলোচনা করতে হবে। কোনো ভাবেই প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে নিঃসৃতি অহি নিয়ে কোনো প্রকারের মন্তব্য করা যাবে না। আর যদি ভুলেও বঙ্কিমের মতো “তারা অধম ছিলো, তাই বলিয়া তোমরা উত্তম হইবে না কেন” টাইপের বাঁকা প্রশ্ন যদি করছেন, তাইলে ভায়া মরছেন। আপনার বলতে হবে তারা অধম ছিলো, তাই তোমাকেও তাহাদিগো হইতে অধিক অধম হইতে হইবে। তবেই আপনি একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক বলে বিবেচিত হবেন।

০৩.
আপনি কি একজন সংখ্যালঘু? তবে আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো ও যুগোপযোগী যে পরামর্শটি আপনার জন্য আমি দিতে চাই, তা হলো নামের পাশে “মালুর বাচ্চা” টাইটেলটি যুক্ত করে নিন। ধরুন আপনার নাম রিকেল চাকমা আপনি চাকমার পরে মালুর বাচ্চা শব্দটা যুক্ত করতে পারেন। তাতে আপনার গ্রহনযোগ্যতা এই দেশে বাড়বে। আপনি যেই ধর্মেরই সংখ্যালঘু হন না কেন আপনার জন্য এই টাইটেল দেশের বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত।

আর আপনি যদি ভিন্ন কোনো জাতিগোষ্ঠী বা নৃ-গোষ্ঠী অর্থে সংখ্যা লঘু হন, তবে আপনার ঘরের সব নারী সদস্য এদেশের জাতীয় সম্পত্তি, আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে, সেনাবাহিনীর লাইসেন্সড দৈহিক আনন্দের উপকরণ তারা। তাই তাদের জন্য কোনো প্রকার আক্ষেপ, মায়া কিস্সু রাখবেন না। এমন আশাও করবে না যে আপনার বউ একজন কুমারী হবে, কারন তার কুমারীত্ব বা শারীরিক নিরাপত্তা নির্ভর করে রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠদের দয়ার উপর। আর হ্যাঁ, আপনি যদি ভেবে থাকেন আপনার জায়গা সম্পত্তি বলে কিছু আছে, তবে আপনি পাবনা গিয়ে মানসিক চিকিৎসা করান, তাও অনুগ্রহকরে এটা ভাববেন না যে আপনার কোনো স্থাবর সম্পত্তি আছে। এবং আপনি যদি জাতি হিসেবে নিজেকে কোনো নৃ-গোষ্ঠীর অর্ন্ততভূক্ত হয়ে থাকেন তবে মোটেই এটা ভাবেন না যে আপনি এই দেশের নাগরিক এবং সংবিধান প্রতিশ্রুত কোনো মৌলিক অধিকার আপনি পান। কারন সংবিধানের ৬নং অনুচ্ছেদের ২দফায় স্পষ্ট বলা হয়েছে “বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশি বলিয়া পরিচিত হইবেন” ।তো, আপনি যেহেতু জাতি হিসেবে নিজেকে নৃ-গোষ্ঠী মনেই করছেন, তাই আপনি কোনো ভাবেই এইদেশের কিস্সুর মালিক না। সংবিধান অন্তত তাই বলে।

আর যদি কোনোভাবে আপনি ভিন্ন লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণে সংখ্যালঘু হয়ে থাকেন, তবে হয় বটগাছের সাথে দঁড়ি বেঁধে ঝুলেপড়ুন, কিংবা বাপের টাকা থাকলে দেশ ছাড়ুন আপনাকে এখানে কোনো ভাবেই রিকোগনাইজ বা স্বীকার করা হবে না। কোনো ভাবেই না, মনে যেন থাকে।

০৪.
ধর্মের বিষয়গুলো নিয়ে কি আপনার মনের মধ্যে কোনো খুচখুচানি কাজ করে? আপনার কি মনে হয় যে ধর্মের বিধান গুলোকে আপনি মানবতা দিয়ে বিচার-বিশ্লেষন করবেন? ভাই সুখে থাকতে কি ভূতে কিলায়? ধর্ম হচ্ছে সকল জ্ঞানের আঁধার, ধর্মগ্রন্থ গুলোর হাত ধরে, যাবতীয় জাগতিক উৎকর্ষ স্থাপিত হয়েছে মেনে নিন।কোনো প্রশ্ন করা যাবেনা ধর্মীয় কোনো রীতিনীতি নিয়ে, হোক তা ইসলাম বা হিন্দু অথবা অন্য যে কোনো ধর্মের ইস্যু। একটা কথা পরিষ্কার মনে রাখবেন “চোরে চোরে মাসতুত ভাই” তাই আপনাকে ধর্মঅবমাননার জন্য যখন ক্যালাবে, তখন মুসলিম ক্যালানোর সময় সুযোগ বুঝে ক্রিশ্চিয়ান বা হিন্দু ভ্রাতারাও দুটি কিল-ঘুষি উপহার দিবে। আর কোপা-কুপির লিষ্টে যদি কোনো ভাবে নাম উঠে তো বোঝেন যে আপনার বাঁচার আর কোনো সম্ভবনা নাই, স্বয়ং তাদের প্রভু আপনাকে হত্যার দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নিবে। সাথে সহায়তা করবে রাষ্ট্রযন্ত্রও। যদি মনে করেন আইনী সুরক্ষা নিবেন, তবে জেনে রাখুন, আপনার অবস্থানটা খুনির চাপাতিকে সর্বাগ্রে জানান দিবে ওই আইনের লালগৃহ গুলোই

সর্বোপরি আরো অনেক ইস্যু আছে, সোজা কথা হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে আপনার দায়িত্ব শুধু ট্যাক্স দেয়া, আর কোনো প্রশ্ন, সন্দেহ, কিংবা প্রতিবাদ করা আপনার জন্য আক্ষরিক অর্থে নিষিদ্ধ। আর কি ভাবছেন মনে মনে, এটা কোনো স্বাধীন-সার্বভৌম-গনতান্ত্রিক দেশের আচরণ না? ধুর মিয়া এতোক্ষন কি বললাম কিছু ভাবাই যাবে না, শুধু বলেন জ্বি-হ্যা-ঠিক-আচ্ছা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 4