কুরআন বনাম বিজ্ঞান : জাকির নায়েকের লজিক্যাল ফ্যালাসি


কুরআন বনাম বিজ্ঞান : জাকির নায়েক লজিক বনাম সায়েন্টিফিক লজিক
পার্টঃ ০১
প্রশ্নঃ কুরআন থেকে এমন কিছু বলুন যেগুলো বিজ্ঞান এখনো আবিষ্কার করে নি ৷
.
উত্তর – ডা. জাকির নায়েকঃ
.
(ভাই বললেন কুরআন থেকে এমন কিছু বলুন যেটা বিজ্ঞান এখনো আবিষ্কার করে
নি ৷ আপনাকে সেগুলোই বলব যেগুলো বিজ্ঞান এখনো আবিষ্কার করে নি ৷
তারপরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে ৷ এগুলো কুরআন বলেছে আমি এতে বিশ্বাস করি
৷ যেমন ধরেন কুরআন বলছে—
.
”তাঁর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত হল আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি, আর এ
দু’য়ের ভিতর যে প্রাণীকুল ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। আর যখন ইচ্ছে তিনি
তাদেরকে একত্রিত করতে সক্ষম।”
Al-Quran (Ash-Shura No42 Verse No: 29)
.
তাই কুরআন বলছে পৃথিবী ছাড়াও প্রাণের অস্তিত্ব আছে ৷ এখনো বিজ্ঞান প্রমাণ
করতে পারে নি যে পৃথিবীর বাইরে জীবন আছে ৷ বিজ্ঞানীরা বলছে যে পৃথিবীর
বাইরে প্রাণ থাকার খুবই সম্ভাবনা আছে ৷ তাই তারা প্রেরণ করছে রকেট,
আকাশযান ইত্যাদি ৷ কুরআন বলছে পৃথিবীর বাইরে জীবন আছে এটা আমি
বিশ্বাস করি ৷ বিজ্ঞান হয়তো আবিষ্কার করবে ৫ বছর পর, ১০ বছর পর, ১০০
বছর পর ৷ কুরআন বলছে আমি বিশ্বাস করি ৷ এখন অনেক অনুমান রয়েছে
পৃথিবী কিভাবে ধ্বংস হবে ৷ বলছে যে সূর্য বড় হবে ৷ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে ৷
পর্বত ভেঙে পড়বে ৷ পর্বতগুলো চূর্ণ হয়ে যাবে ৷ সমু্দ্র ফুলে উঠবে ৷ পৃথিবী
অন্ধকার হয়ে যাবে ৷ অনেক কল্পনা ৷ এই অনুমানের অধিকাংশই মিলছে
কুরআনের সাথে ৷ কুরআন বলছে—
.
”যখন সূর্য ও চাঁদকে একত্র করা হবে।’
Al-Quran (Al-Qiyaama No75 Verse No: 9)
.
সূর্য অন্ধকারে তলিয়ে যাবে ৷ যদি পড়েন —
.
”যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেয়া হবে” কোন কোন অনুবাদে— ‘সূর্য যখন নিস্প্রভ হবে,
.
Al-Quran (At-Takwir No81 Verse No: 1)
.
”আর তারকাগুলো যখন তাদের উজ্জ্বলতা হারিয়ে খসে পড়বে।”
Al-Quran (At-Takwir No81 Verse No: 2)
.
”পর্বতগুলোকে যখন চলমান করা হবে,”
Al-Quran (At-Takwir No81 Verse No: 3)
.
আরো বলা হয়েছে—
.
”যখন আসমান ফেটে যাবে,”
Al-Quran (Al-Infitaar No82 Verse No: 1)
.
”যখন তারকাগুলো বিক্ষিপ্ত হয়ে (ঝরে) পড়বে,”
Al-Quran (Al-Infitaar No82 Verse No: 2)
.
”সমুদ্রকে যখন উত্তাল করে তোলা হবে,”
Al-Quran (Al-Infitaar No82 Verse No: 3)
.
অনেক অনুমানের সাথে মিল আছে ৷ তবে কুরআন বলছে আমি বিশ্বাস করি ৷
কুরআন আরো বলছে—
.
”সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব যেমনভাবে (লিখিত) কাগজ-দলীল গুটিয়ে
রাখা হয়। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে আবার সৃষ্টি করব।
ওয়া‘দা আমি করেছি, তা আমি পূর্ণ করবই।”
Al-Quran (Al-Anbiyaa No21 Verse No: 104)
.
বিজ্ঞান এখনো আবিষ্কার করতে পারে নি ৷ কুরআন বলছে মৃত্যুর পরের জীবনের
কথা ৷ বিজ্ঞান এখনো প্রমাণ করতে পারে নি ৷ কুরআন জান্নাত – জাহান্নামের কথা
বলেছে ৷ বিজ্ঞান প্রমাণ করতে পারছে না ৷ কুরআন জ্বীন সম্পর্কে বলছে ৷ আর
মনোবিজ্ঞানীরা ভর করা শক্তির কথা বলে ৷ কিছু লোক আছে যারা জ্বীন বশ করে ৷
কুরআন সে ব্যাপারেও বলেছে ৷ কুরআন বলছে পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম (আঃ)
৷ বিজ্ঞান প্রমাণ করতে পারে নি এটা ৷ সম্ভাবনা আছে হয়তো পারবে ৷ এখন
হয়তো বলবেন যে ভাই জাকির এমন সুন্দর আলোচনা করলেন বিজ্ঞান এবং
প্রযুক্তির উপর ৷ শতভাগ প্রমাণ দিয়ে ৷ মৃত্যুর পরের জীবন কি আপনি বিশ্বাস
করেন? জ্বীনে কি বিশ্বাস করেন? জান্নাত- জাহান্নাম বিশ্বাস করেন? আপনি তো
ডাক্তার ৷ এগুলো কি অবৈজ্ঞানিক নয়? আমি বলব, না ৷ আমি বিশ্বাস করি আর
এগুলো বিজ্ঞানসম্মত ৷ ধরুন, কুরআন যা বলেছে তার আশি ভাগ ১০০% প্রমাণিত
হয়েছে সঠিক ৷ জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে বলেছে ৷ ভূতত্ত্ব নিয়ে বলেছে ৷ পানিচক্র,
সমুদ্রবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণীবিদ্যা, জীববিদ্যা ইত্যাদি নিয়ে ৷ কুরআন বলেছে,
৮০ ভাগ ১০০% প্রমাণিত হয়েছে যে সঠিক ৷ বাকী ২০% এখনো অজানা ৷ যাচাই
করা হয়নি ৷ প্রমাণ করতে পারে নি ৷ ভুলও না সঠিকও না ৷ এখন ১%ও এই
বাকী ২০ ভাগের ভুল প্রমাণিত হয় নি ৷ কুরআনের একটি আয়াতও নেই, যা
আধুনিক বিজ্ঞান ভুল প্রমাণ করবে ৷ আমার যুক্তি হচ্ছে ৮০ ভাগ যেহেতু ১০০%
সঠিক ৷ বাকী ২০ ভাগ অজানা এবং এই ২০ ভাগের ১ ভাগও ভুল প্রমাণিত হয়
নি ৷ তাই আমার যুক্তি হচ্ছে যে বাকী ২০ ভাগও ইনশাআল্লাহ সঠিক হবে ৷ আজ
না হলে কাল হবে ৷ ৫০ বছর পর, ১০০ বছর পর, ১০০০ বছর পর আল্লাহ মালুম,
আল্লাহই জানেন ৷ মৃত্যুর পরের জীবন প্রমাণিত হবে ৷ প্রমাণিত হবে জ্বীন৷
প্রমাণিত হবে জাহান্নাম ৷ জান্নাত প্রমাণিত হবে ইত্যাদি, ইত্যাদি ৷ আরেকটা
লেকচার দিতে পারব আমি, যেগুলো বিজ্ঞান প্রমাণ করে নি এখনো ৷ ইনশাআল্লাহ
তা প্রমাণিত হবে ৷)

প্রতিউত্তরঃ মৃত্যুর পরের জীবন,জান্নাত- জাহান্নাম, হযরত আদম পৃথিবীর প্রথম মানুষ কি না,
এইগুলো প্রমান করার চেষ্টাই কি অবৈজ্ঞানিক নয়?
বিজ্ঞান হচ্ছে প্রমাণিত সত্য। অর্থাৎ পুনঃ পুনঃ পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ, পরীক্ষা –
নিরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত সত্যকে বিজ্ঞান বলে।
পৃথিবী আজ পর্যন্ত টিকে আছে বিজ্ঞানের জন্য। কোন আসমানি কিতাব পড়ে তা
প্রমান করার চেষ্টা করা কোনভাবেই বৈজ্ঞানিক হতে পারে না। আসমানি কিতাবের
উপর নির্ভর করে থাকলে আমরা কখনোই আমাদের জীবনযাত্রায় এতটা এগিয়ে যেতাম না।
আমরা কখনই পৃথিবীর শুরু তে গিয়ে দেখে আসতে পারব না হযরত আদম পৃথিবীর প্রথম মানুষ কিনা, আমরা
কখনই মৃত্যুর পরের জীবনে গিয়ে আবার ফিরে এসে প্রমান করতে পারব না এটা সত্যি কি না।
তেমনি আমরা কখনই সাত আসমান পার করে গিয়ে দেখে আসতে পারব না জান্নাত-জাহান্নাম সত্য কি না।
এই ধরনের খোঁড়া যুক্তি দিয়ে কোরআন কে বড় আর বিজ্ঞান কে ছোট প্রমান করার চেষ্টা করা
বোকামি বৈ আর কিছু নয়।

পার্ট ০২
প্রশ্নঃ আপনার যে মগজ আছে তা কী আপনি প্রমাণ করতে পারবেন? মগজ না দেখেও কীভাবে বিশ্বাস করেন আপনার মগজ আছে? আপনি কী মগজটি ধরে দেখেছেন? নাকি আপনি বিশ্বাস করেন যে আপনার মগজ আছে? যেহেতু আপনি আপনার মগজে বিশ্বাস করছেন, সেহেতু আল্লাহয় বিশ্বাস করতে সমস্যা কোথায়?
প্রতিউত্তরঃ প্রথমত, এই যুক্তিটি প্রায় দুই হাজার বছরের পুরনো। যুক্তিবিদ্যায় সেই দুই হাজার বছর আগে এরকম যুক্তি দেয়া হতো। বর্তমান সময়ে এসব যুক্তি শুধুমাত্র ধর্মকে প্রমাণ করতেই কেউ কেউ দেয়। আধুনিক যুক্তিবিদ্যায় এইসব যুক্তি দেখালে তা নিয়ে রীতিমত হাসাহাসি শুরু হবে।
কেন এই কথাটি বললাম? কারণ এই যুক্তিটি বর্তমানে কিছুটা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত আস্তিকও দিতে চান না। তারা জানেন এই যুক্তি দেয়ার বিপদ। ইতিমধ্যে বিজ্ঞানের সহায়তায় Magnetic resonance imaging (MRI) যন্ত্র তৈরি হয়ে গেছে। যা দিয়ে খুব পরিষ্কারভাবে আপনার শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আমরা বাইরে থেকেই পরীক্ষা করতে পারি। রোগ নির্ণয়ও করতে পারি। সম্ভবত আপনি বিষয়টি জানেন না। যাইহোক।
আমি কোন কিছুই বিশ্বাস করি না। কিছু বিষয় আমি জানি যে সেগুলো সত্য, কিছু বিষয় আমি জানি যে সেগুলোর কোন প্রমাণ নেই, তাই মেনে নেয়ার প্রয়োজন নেই। তেমনি মগজেও আমি বিশ্বাসী নই। আমি জানি এবং মেনে নিয়েছি ওটা আছে। বিশ্বাস করছি না। বিশ্বাস আলাদা বিষয়। বিশ্বাস তখনই করতে হয় যখন কিছু প্রমাণ করা যায় না। বা প্রমাণের অপ্রতুলতা থাকে। তখন বিশ্বাস করতে বলা হয়। বিজ্ঞানের জগতে বিশ্বাসের কোন স্থান নেই। মগজের যথেষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে।
মানুষ যে সব উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করে, তা শুধু পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের ওপর সীমাবদ্ধ নয়। সবকিছুই যে আমার হাতে ধরে দেখতে হবে, বা চোখে দেখতে হবে, এমন নয়। কিছু জিনিস আমরা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারি। যখন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারি, তখন সেটা আমরা মেনে নিই।
যেমন ধরুন অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন আমরা দেখতে পাই না। কিন্তু আমরা মেনে নিই সেসব। কারণ আমরা পরীক্ষার সাহায্যে সেগুলোর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারি। আপনি পৃথিবীর যেকোন বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারে গিয়ে এরকম পরীক্ষা দেখতে চাইলে আপনাকে দেখিয়ে দেয়া হবে। তাহলে দেখুন, না দেখেও আমরা সেগুলো মেনে নিচ্ছি। কিন্তু আমরা কেউই বলি না, আমি অক্সিজেনে বিশ্বাস করি। বা আমি চাঁদে বিশ্বাস করি। বা আমি গাছে বিশ্বাসী। বা আমি এমিবায় বিশ্বাসী। কারণ বিশ্বাসের প্রশ্ন তখনই আসে যখন কোন কিছুর সত্যিকারের প্রমাণ পাওয়া যায় না। তখন সেগুলোকে বিশ্বাস করে নিতে হয়। যেমন কেউ ভুতে বিশ্বাসী, কেউ আল্লায়, কেউ ভগবানে, কেউ জ্বীনে, কেউ পেত্নীতে, কেউ সুপারম্যানে, কেউ শাঁকচুন্নিতে, কেউ জিউসে, কেউ শিবে। বিশ্বাস হচ্ছে একটি প্রমাণহীন ধারণা। প্রমাণসহকারে যেসব ধারণা সেগুলো হতে পারে প্রতিষ্ঠিত সত্য, নতুবা বৈজ্ঞানিক সত্য, নতুবা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। কিন্তু, আমরা কখনই বলি না যে, আমি অভিকর্ষ তত্ত্বে বিশ্বাসী। বা আমি বিগ ব্যাং এ বিশ্বাসী। কারণ এগুলো প্রমাণ নির্ভর, বিশ্বাস নির্ভর নয়।
আমার যে নিজের চোখ আছে, সেটা নিজের চোখ দিয়ে সরাসরি আমরা দেখতে পাই না। কিন্তু সামান্য একটি পরীক্ষা করলেই আমরা জানতে পারি, আমার আসলেই চোখ আছে কিনা। যেমন আয়নার সামনে দাঁড়ালেই আমরা আমাদের চোখ দেখতে পাই। খুব সহজ সাধারণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। পরীক্ষা করে দেখুন, আপনার আর বিশ্বাস করতে হবে না যে আপনার চোখ আছে। আপনি নিশ্চিতভাবে জেনে যাবেন বা মেনে নেবেন।
আবার, আমার যে মগজ আছে, সামান্য কয়েকটি পরীক্ষায় তা আমরা প্রমাণ করতে পারি। আমরা এমআরআই করতে পারি। নতুবা আমরা আরও কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতে পারি। যেমন মৃতদেহের ওপর পরীক্ষা। তার খুলিটা খুলে। কিংবা অপারেশনের সময় কারো মগজ অপারেশন হলে সেখানে উপস্থিত থেকে। আরও নানা পদ্ধতি রয়েছে। যেমন গাজা সেবন করলে। আরও অনেক পদ্ধতি আছে। পরীক্ষাগারে সেগুলো সহজেই প্রমাণযোগ্য।
সেই সাথে, আমরা যদি আমাদের পুর্বের স্মৃতি স্মরণ করতে পারি, তা থেকে বুঝতে পারি সেই স্মৃতিগুলো কোথাও জমা ছিল। নানা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষায় প্রমাণ হয়েছে যে, আমাদের স্মৃতিগুলো মগজেই সংরক্ষিত থাকে। কিডনি কিংবা হৃদপিণ্ডে নয়। মস্তিষ্কের কোষই একমাত্র স্মৃতি সংরক্ষণ করতে পারে। ডিএনএ এর ভেতরেও স্মৃতি থাকে, তবে সেটা ভিন্ন রকমের। এটাও কেউ আপনাকে বিশ্বাস করতে বলছে না। এটা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত। আপনার বিশ্বাস অবিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল নয়। আপনি চাইলে আপনাকেও পরীক্ষা করে দেখানো সম্ভব। এগুলো প্রমাণহীন স্রেফ ধারণা নয়। প্রতিষ্ঠিত সত্য, প্রমাণ সহকারে।
সেই থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায়, আমার খুলির ভেতরে মগজ রয়েছে। পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে, কিংবা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার দ্বারা। কিন্তু কোন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় আল্লাহ ভগবান ঈশ্বরের কোন প্রমাণ এখনো মেলে নি। কোন পরীক্ষা দেয়ার আগে আপনি আল্লাহ, ভগবান , ঈশ্বর কিংবা মামদো ভুত, শিব বা কালী বা হারকিউলিস, আলাদা আলাদা ভাবে এদের উপাসনা করে পরীক্ষা দিলে সবক্ষেত্রে একই রকম নম্বর পাবেন। প্রাপ্ত নম্বর নির্ভর করবে আপনি সেই বিষয়ে কতটুকু পড়ালেখা করেছেন তার ওপর। মোটেও আপনি কোন ঈশ্বরের বা দেবতার প্রার্থনা করেছেন তার ওপর নয়। বা আপনি লটারির টিকিট কিনতে পারেন। এক একবার এক এক জিনিসের নামে। ফলাফল একই রকম হবে। সম্ভাবনা সবক্ষেত্রে একই।
তাই এইসব প্রাচীন ও হাস্যকর যুক্তি কাজে লাগিয়ে যদি আপনারা শাঁকচুন্নি বা মামদোভুত বা আল্লাহ ভগবান ইত্যাদি সত্য তা প্রমাণ করতে চেষ্টা করেন, মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রতি অবমাননা বলেই আমার মনে হবে। এক হাজার বছর আগে এই যুক্তি দিলেও অন্তত মানা যেতো। আফসোস যে, আধুনিক পৃথিবী কোথায় চলে গেছে, আর আপনারা সেই খ্রিস্টপুর্ব আমলের যুক্তি দিয়ে আমাদের হাসির পাত্র হচ্ছেন। এটাই বাস্তবতা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

48 − = 42