মন্ত্রীদের উল্টোপথে গাড়ী চালনোর মতই প্রধানমন্ত্রীও ভুল পথে হাটছেন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন মন্ত্রী আপনার কাছে এতই গুরুত্বপূর্ণ? আপনি কি সেই মন্ত্রীর কাছে জিন্মী? উনার মত যোগ্যতাসম্পন্ন মন্ত্রী আপনার দলে দ্বিতীয় জন নেই? মন্ত্রীর কাছে কি পরিবহন খাত জিন্মী? তার অপসারন কি আপনার কোন সমস্যা.? দেশের শীর্ষ রাজাকার আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী রাজনীতিক, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসি দিলেন! বিএনপি’র মত পরাক্রমশালী রাজনৈতিক দলকে আপনাকে আপনি ঘরে তুললেন কিন্তু এক্ষেত্রে এত দূর্বল ভাবার কোন লাইন খুঁজে পাচ্ছি না!?

না’কি আপনি ভাবছেন বাচ্চাদের দাবী মেনে নিলে, এটা ঘোষনা দিলে তারা আরও দাবী করবে? এরা আরও আত্মবিশ্বাসী হবে! অথবা নিজেদের দূর্বলতা স্বীকার করা হবে? বিষয়টা কি এমন? বিএনপি-জামাত না হয় আপনার রাজনীতির প্রতিপক্ষ, তারা আপনার জীবন বিপন্ন করেছে অনেকবার তাদের বিরুদ্ধে না হয় আপনি কিছু করতে পারেন, তাও মানলাম!

কিন্তু এই বাচ্চাদের সাথে কেন আপনি এমন করছেন? এরা তো আপনার নাতিপুতির বয়সের, আপনি তো এমনিতেই চকলেট-কাঠি লজেন্স নিয়ে ওদের সাধুবাদ জানিয়ে, ওদের কথা শুনে, বাবা-শোনা বলে বাড়ি পাঠাবেন? আপনার তো গর্ব করার কথা? আজ লাখো মুজিব ঘরে ঘরে, পথে প্রান্তরে.. তাহলে কিভাবে আপনি ভাবেন এ দেশ হারাবে পথ? কিভাবে ভাবতে পারেন এমন ঘুরে দাড়ানো প্রজন্ম থাকতে বাংলাদেশ হারাবে পথ? এই শিশুরাই যদি তাদের চেতনা-স্পর্দ্ধা নিয়ে জেগে থাকে, তাহলে কিসের দুশ্চিন্তা? ওরাই হবে অতন্দ্র প্রহরী, দেখতে পাচ্ছেন ওরা কি করছে? ওরাই মুক্তিযোদ্ধা মুক্তির জন্য সংগ্রাম করছে! ওরাই এই প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা! ওরাই স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে স্বাধনীতার ইতিহাস পড়া প্রথম প্রজন্ম! ওরাই টিভিতে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষন শুনে বড় হওয়া প্রথম প্রজন্ম। ওদের কে আপনি ভয় পাচ্ছেন? ওরা তো আপনার পদত্যাগ চায়নি, সরকার উৎখাত চাইনি? ওরা যা চায় তা কি আপনার সরকার ও দলের নীতির সাথে সাংঘর্ষিক? নিরাপদ সড়ক কি আপনি চান না? তাহলে কেন ওদের দাবী আপনি মানছেন না? ওদের একটি দাবীও রাজনৈতিক নয়, তাহলে কেন এই বৈরীতা? মন্ত্রী পরিষদ তো ফুটবল টিমের মতই, ম্যানেজার সবসময় মাঠের হাল দেখে সবসময় খেলোয়ার পরিবর্তন করে! এটাই তো একজন ম্যানেজারের প্রধান কাজ, সেখানেই প্রমানিত হয় তার প্রকৃত দক্ষতা ও যোগ্যতা!

কোন মা কি তার সন্তানকে প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বি মনে করতে পারেন?
আপনি কি বুঝতে পারছেন, কিভাবে ঘিরে রেখেছে আপনার স্তাবকরা? কিভাবে মিথ্যাচার করছে, মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে? আচ্ছা ওরা না হয় ভুল তথ্য দিল, আপনি প্রতিদিন পত্রিকা দেখেন না? আপনি কি দেশ-বিদেশের খবরের চ্যানেল দেখেন না? আপনি তো রাজনীতিক, সরকার প্রধান অবশ্যই দেখেন! আপনার কি মনে হয় সবই ভুল? সবই বানোয়াট? সবই বিরোধীদল আর প্রতিপক্ষের বানানো? খুব জানতে ইচ্ছা করে সত্যিই কি আপনি তা বিশ্বাস করেন? তাহলে তো বলতে হয় একজন শাসক হিসেবে আপনার চিন্তশক্তি খুবই সীমিত। আপনি খুব ধার্মিক, ইসলামের কথা বলেন? আপনি কি জানেন না, খলিফা হারুন অর রশীদ কিভাবে রাতের আঁধারে, ছদ্মবেশে প্রজাদের দুঃখ কষ্টের খবর নিতো! কিন্তু দেশ-বিদেশের মিডিয়াতে ব্যাপক আলোচিত-প্রচারিত বিষয়গুলোও আপনার নজরে আসে না? আপনি কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন, সময় ক্ষেপনের আশ্রয় নিচ্ছেন, কিন্তু কেন? প্রতিপক্ষকে কে সুযোগ কর দিচ্ছে ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকারের.?

প্রচার করা হচ্ছে কোন দূর্ঘটনার দায় সরকার নেবে না! সরকার সব দাবী মেনে নিয়েছেন? কিন্তু দাবী মেনে নেয়ার তো কোন সরকারী প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি! দাবী মানার তো কোন সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেখছি না? আর থাকলে কেন শিক্ষার্থীরা তা বিশ্বাস করবে না? কেন এই অবিশ্বাস আপনাকে, আপনার সরকার কে? কারন কি আপনার অজানা? কারন কোটা সংস্কার প্রশ্নে আপনার দ্বি-চারিতা ও কৌশলগত অবস্থান!! কোটা সংস্কার নিয়ে আপনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন! শিশুরাও বুঝতে পারে সেটা ছিল একটা প্রতারণা! সে কারণে শিক্ষার্থীরা দাবী পুরনের আশ্বাসে আস্থার সংকটে ভূগছে!! এটা কি খুব স্বাভাবিক নয়?

আপনার মন্ত্রী পরিষদের বয়স আছে আর মাত্র চার মাস! দাবী মেনে নেয়া মানে কি নিজের পরাজয় মনে করেন? ভাবছেন একবার পিছু হটলে, বার বার পিছু হটতে হবে? প্রতিপক্ষ তখন আরও দাবী করবে? পদত্যাগ-রদবদল এটা তো সারা বিশ্বের একটি কমন প্র্যাকটিস! এভাবে কয়টা বিদ্রোহ দমন করবেন? কয়বার পুলিশকে ব্যবহার করবেন অসংখ্য সরকারী ও পুলিশের সন্তান এই সংগ্রামে আছে! কিছু লোককে লগিয়েছেন, এই সংগ্রামের কি কি ভুল কয়টা খারাপ শব্দ ব্যবহার করেছে, তার তালিকার তৈরী করছে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কি জানেন আপনার দলের-নেতা-কর্মীর অপকর্ম লিখতে চাইলে সুন্দরবনের সকল কাঠ আর যমুনার সব পানি শেষ হয়ে যাবে!! তারপরও বলছি এমন বক্তব্য কারোই কাম্য নয়! অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধানে বিষয়গুলো বিবেচনা করুন।

১. শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে স্কুলের শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা পরিষদকে ব্যবহার করার কূটকৌশল পরিহার করুন
২. স্কুল থেকে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের স্থানীয় ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, আওয়ামী লীগের হুমকি, আক্রমন বন্ধ করুন। ছাত্রলীগকে সমলান!
৩. পুলিশবাহিনীকে আর এই বাচ্চাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবেন না! পুলিশদের বিতর্কিত করবেন না!
৪. বিএনপি-জামাত-শিবিরের কারসাজি বলে প্রচার করে স্কুলছাত্রদের স্বতস্ফুর্ত আন্দোলনকে ভিন্ন অপবাদ দেবেন না।
৫. বাচ্চাদের সাথে ছল-চাতুরী না করে, ওদের দাবীগুলো মানার বিশ্বাসযোগ্য প্রজ্ঞাপন জারী করুন! ওদের স্কুলে ফেরার ব্যবস্থা করুন, স্বাভাবিক জীবন-যাপন ফিরিয়ে আনুন!
——————————————————–
। ডঃ মঞ্জরে খোদা । সাবেক ছাত্রনেতা ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 8 =