হাসিনাকে ক্ষমতায় ধরে রাখার দায় কি মুক্তনারা নিয়েছে?.. আরো কিছু প্রশ্ন

?_nc_cat=0&oh=0d7bb9327777dfcd287e9dcb5c47c52d&oe=5C13322F” width=”500″ />

সেই ২০১৩ সাল থেকে ব্লগারদে আন্দোলনের উপর ভর করে তাদের ত্রুটিপূর্ণ আইনের মেরুদন্ড ঠিক করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নিবার্চনী অঙ্গিকারকে বাস্তবায়ণ করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। সেইদিন কাদের মোল্লার মামলার রায়ের পরে যদি আমরা ব্লগাররা মোম হাতে শাহাবাগের রাস্তায় না বসতাম তবে বিচার চলমান কোনো একটি ইস্যুতে, উদ্দেশ্য প্রোণোদিত ভাবে, আইন পাশ করা ওতো সহজ হতো না। কিন্তু সেই আন্দোলন-এর পরে আমরা ব্লগাররা কি পেয়েছি।একে একে দেশের সব নেতৃত্বস্থানীয় ব্লগ মুখ থুবড়ে পড়েছে। জঙ্গীরা ব্লগারদের হিটলিষ্ট করেছে। একে-একে প্রশাষনের নাকের ডগায় থেকে খুন হয়েছে ব্লগাররা। বিচার চেয়ে লাঞ্চিত হয়েছে ব্লগারদের পরিবার গুলো। বেঁচে থাকার জন্য দেশছেড়ে দেশের ব্লগার, মুক্তমনা, বৈচিত্রময় লৈঙ্গিক পরিচয়ের মানুষ গুলো। শুধু তাই নয় ৫৭-ধারা দিয়ে লেখার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মামলা দিয়ে গ্রেফতার করেছে, করছে। এতো কিছুর পরেও যখন দেখি কোনো মুক্তমনা, কোনো নাস্তিক, কোনো ব্লগার এই আওয়ামী লীগ সরকারে সাফাই গাইছে তখন মনে হয় ওই বেজন্মার বাচ্চার মুখে আলকাত্রা লেপে দেই। এই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় অনেক নাস্তিককে দেখেছি আন্দোলন নিয়ে নেতিবাচক সব পোষ্ট দিয়েছে।

?_nc_cat=0&oh=5769a22f7bff5c568003f3a0d85144f2&oe=5C100755″ width=”500″ />

স্লোগানে এতো চুলকানী কেন?
০১.
যারা গত ৩দিনের পরিস্থিতি দেখে ভাবছেন “অসভ্য ছাত্র-ছাত্রী গুলোর উচিত শিক্ষা হয়েছে, আন্দোলন তো সরকার ভরে দিলো জায়গা মতো” তাদের জন্য আমার বালতি ভরা সমবেদনা প্রকাশ করা ছাড়া কিছু করার নেই। আশ্চর্য রকমের একটি নিষ্ক্রিয়তা-নির্লিপ্ততা আমাদের সমাজের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে ছেয়ে গিয়েছিলো, যাকে এক ঝটকায় ঝেড়ে দিয়েছে দেশের শিক্ষার্থীরা। গত ১০ বছরের হাসিনার পেটয়া বাহিনীর হত্যা-গুম খুনে জর্জরিত হয়ে মানুষ ভুলেই গিয়ে ছিলো পুলিশ আমাদের ট্যাক্সের টাকায় চলে, আমরা তাদের বাপের জমিদারীতে থাকি না। শিক্ষার্থী এক স্লোগানে দেশের সব আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের অবস্থান দেখিয়ে দিলো “পুলিশ কোন চ্যাটের বাল” । ঠিক এই কথাটাই আমরা উচ্চারণ করতে ভুলে গেছিলাম, শালীনতা আর সামাজিকতার ঘোরটোপে। আমরা ভুলেই গিয়ে ছিলাম যে প্রতিরোধ করতে হবে, যদি প্রতিবাদে কাজ না হয়, শিক্ষার্থীরা মনে করিয়ে দিলো “যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ”। আমরা আক্রান্ত হচ্ছি বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন ঘটনায়, হাসিনার তীব্র থাবা থেকে মুক্তথাকতে পারছিনা কেউ, এমনকি খোদ আওয়ামী লীগের লোকজনও না। আমরা সেই বোধ কে হারিয়ে ফেলেছিলাম যে এইসব দুঃশাষণও অবসান হবে গন প্রতিবাদে কিন্তু শিক্ষার্থীরা স্লোগানে মনে করিয়ে দিলো “ হয়নি বলে আর হবে না, আমরা বলি বাদ দে, লক্ষ তরুন চেচিয়ে বলে, পাপ সরাবো হাত দে”। যারা এই নিরাপদ সড়কের দাবীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের স্লোগানে অশ্লীলতা খুঁজে পেয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে আমার প্রথম নিবেদন এইতিনটি স্লোগান, বাংলাদেশের ৪৭ বছরের ইতিহাসে আর ভারত-পাকিস্তান ভাগের ৭১ বছরের ইতিহাসেও কোনো আন্দোলনে এমন স্লোগান উচ্চারিত হয় নি। কেউ মরচে পড়া সমাজের মনে এতো সাধারণ ভাষার অসাধারণ প্রয়োগ করে, তাকে উজ্জীবনী স্লোগান হিসেবে তুলে ধরতে পারে নি।


হাসিনাকে ক্ষমতায় ধরে রাখার দায় কি মুক্তনারা নিয়েছে?
০২.
আচ্ছা বাংলাদেশের মুক্তমনা, তথা এথিষ্ট, অজ্ঞেয়বাদী, প্রগতিশীলরা কি হাসিনাকে যে কোনো ভাবে সমর্থনের শপথ নিয়েছে? আজব লাগে, শুধু মাত্র শেখ হাসিনাকে, খালেদা জিয়ার বিকল্প ভেবে ১০টা বছর তার পৈশাচিক নির্যাতনের পরেও হাসিনা নির্লজ্জের মতো সমর্থণ দিয়ে যাচ্ছে বহু মুক্তমনারা। এই হাসিনা, খালেদার প্রতিচ্ছবি হতে পারে, বিকল্প? কোন যুক্তিতে হাসিনাকে খালেদার বিকল্প ভাবছেন যদি কোনো “দালাল মুক্তমনা” ব্যাখ্যা করতেন তবে বুঝতাম আপনাদের দালালীর কারন। সেই ২০১৩ সাল থেকে ব্লগারদে আন্দোলনের উপর ভর করে তাদের ত্রুটিপূর্ণ আইনের মেরুদন্ড ঠিক করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নিবার্চনী অঙ্গিকারকে বাস্তবায়ণ করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। সেইদিন কাদের মোল্লার মামলার রায়ের পরে যদি আমরা ব্লগাররা মোম হাতে শাহাবাগের রাস্তায় না বসতাম তবে বিচার চলমান কোনো একটি ইস্যুতে, উদ্দেশ্য প্রোণোদিত ভাবে, আইন পাশ করা ওতো সহজ হতো না। কিন্তু সেই আন্দোলন-এর পরে আমরা ব্লগাররা কি পেয়েছি। আমার ব্লগিং-এর আতুর ঘর নাগরিক ব্লগ বন্ধ হয়ে গেছে, একে একে দেশের সব নেতৃত্বস্থানীয় ব্লগ মুখ থুবড়ে পড়েছে।

জঙ্গীরা ব্লগারদের হিটলিষ্ট করেছে। একে-একে প্রশাষনের নাকের ডগায় থেকে খুন হয়েছে ব্লগাররা। বিচার চেয়ে লাঞ্চিত হয়েছে ব্লগারদের পরিবার গুলো। বেঁচে থাকার জন্য দেশছেড়ে দেশের ব্লগার, মুক্তমনা, বৈচিত্রময় লৈঙ্গিক পরিচয়ের মানুষ গুলো। শুধু তাই নয় ৫৭-ধারা দিয়ে লেখার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মামলা দিয়ে গ্রেফতার করেছে, করছে। এতো কিছুর পরেও যখন দেখি কোনো মুক্তমনা, কোনো নাস্তিক, কোনো ব্লগার এই আওয়ামী লীগ সরকারে সাফাই গাইছে তখন মনে হয় ওই বেজন্মার বাচ্চার মুখে আলকাত্রা লেপে দেই। এই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় অনেক নাস্তিককে দেখেছি আন্দোলন নিয়ে নেতিবাচক সব পোষ্ট দিয়েছে। তবে পরিচিত অজ্ঞেবাদী মুখ গুলো লাইভে এসে কথা বলেছেন, পোষ্ট দিয়েছেন আন্দোলনের পক্ষে, এটা আবার স্বস্তির বিষয়।

আপত্তি-কি আন্দোলনে বিএনপির একাত্মতা প্রকাশে?
০৩.
৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পর দেশে ১দিনের গনতন্ত্রনামক যেই দিনটা ছিলো, সেটাও এখন ভ্যানিশ হয়ে গেছে, দেশে হাসিনাকে সিজদা করার নামই এখন গনতন্ত্র। ৯৬-তে ক্ষমতায় এসে ইচ্ছা মতো ডক্টরে ডিগ্রী কিনেছিলোন ওই অভদ্র মহিলা। এবারে ক্ষমতায় এসে নোবেলের পাবার মনবাঞ্ছায় ১০লাখ রোহিঙ্গা শরনার্থী নিয়ে নিলো, একটা বার দেশের পাবলিক পার্সেপশন শোনার প্রয়োজন মনে করলো না। এখন আবার আসামের NRC তালিকা নিয়ে চুপ করে আছে, ৪০লাখ মানুষকে বাংলাদেশি বলে চিন্হিত করা হচ্ছে। আমি মানছি ৪০লাখ থেকে কিছু আবার তালিকা ভুক্ত হবে, কিছু আছে রোহিঙ্গা, সব প্রক্রিয়া শেষ করে ১০লাখ মানুষ ও যদি NRC থেকে বাদ পড়ে, তাদের ও হাসিনা নিয়ে নিবে আরেক বার নোবেল প্রাপ্তির আশায়, কিন্তু আমরা পাচ্ছিটা কি?

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপি ২০১৪ এর নির্বাচনের পরে কোনো গনতান্ত্রিক আন্দোলনও করতে পারছেনা। তাদের কে মিছিল-মিটিং-সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এবং কথা বললেই গন-গ্রেফতার, হরতাল কল করলেই চিরুনী অভিযানের নামে নেতাকর্মী গ্রেফতার, গুম-খুন তো আছেই। তার উপর তাদের দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া রাজনৈতিক মামলায় অবরুদ্ধ, জামিন পাবার পরেও সরকারের ইচ্ছায় জেলখানায়। এমন শ্বাষরুদ্ধ কর প্রেক্ষাপটে ওইদলটি যে কোনো আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেরা সম্পৃক্ত হয়ে সরকারকে অস্থির করে তুলতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। তাই প্রতিটা আন্দোলনের মাঝে কি এক বালের বিবৃতি প্রদান করা হয়ছে আন্দোলনে বিএনপি-জামাতের অনুপ্রবেশ ঘটছে। আর আমরা সাধারণ মানুষও ভাবি হায় হায় বিএনপি-জামাত আন্দোলনে আসতে চাইছে? খুউব খারাপ কথা? কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে খারাপটা কি? তাদের আন্দোলন তাদের করতে দিলে তো, তারা অন্যের আন্দোলনে ভর করতে চাইতো না। কি বলবেন? তাদের আন্দোলন করতে দিলে, তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়? আওয়ামী লীগ যদি আন্দোলন দমনের নামে চরমপন্থী কার্যক্রম চালাতে পারে, তবে বিএনপি আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালালে যত গাত্রদাহ?

কোটা আন্দোলনে তারেক রহমান যখন ফোন করলেন তখন তার ফোন কল প্রকাশ করলো একত্তার টিভি আর বাংলাট্রিবিউন, নিরাপদ সড়কের দাবীতে আন্দোলনে যখন ফোন করলেন আমির খসরু মাহমুদ তখনও তা প্রকাশ করেছিলো বাংলাট্রিবিউন। কিন্তু প্রশ্ন হলো এতো বিজ্ঞ গনমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের ব্যাংকের সোনা গায়েব হবার কারনটি উদ্ঘাটন করতে পারে না, দিনে দুপুরে কোটি টাকার কয়লা গায়েব হওয়া নিয়ে এদের কোনো গবেষনা নেই। এদের গবেষনা একটাই নেতারা কাকে ফোন করছে। আমরা এইসব ফোন কল রেকর্ড শুনে ভাবি হায় হায় এমন ভাবে আন্দোলনে নামতে বলছে? তো আন্দোলনে নামতে বললে সমস্যাটা কি? একটা কথা স্পষ্ট করে বলে রাখি, আন্দোলনে নামার জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা নিদের্শণা দিতে পারে এবং সেটাই স্বাভাবকি, এটা কোনো ফৌজদারী অপরাধ নয় যে এটাকে ফলোআপ করে গনমাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। এখানে অপরাধটা কি আমাকে তাই একটু বোঝান কেউ।

আজব গুজব
০৪.
গুজব নিয়ে আমার বিশেষ কিছু বলার নেই, কারন প্রচলিতই আছে “যাহা রটে, তাহা কিছু তো বটে..” আমি আমার আগের লেখাতেও বলেছি, ধরে নিলাম কোনো হত্যা হয়নি বা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু নারী সাংবাদিক মলেষ্টেসনের ঘটনা তো মিথ্যা নয়? আমার আগে ব্লগে পোষ্ট করা ভিডিও লিঙ্ক গুলতে থাকা ভিডিও দেখা গেছে কি হারে মলেস্টেসন ঘটেছে। আর ছাত্রদের রক্তাক্ত শার্ট তো মিথ্যা ছিলো না, নাকি বলবেন ছাত্ররা সাথে আলতা নিয়ে এসেছিলো? ঝিগাতলাকান্ডের সেই ঘটনার পর গনহারে ৫৭-ধারাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে নিউজপোর্টাল গুলো বিরুদ্ধে, নাগরিকের বিরুদ্ধে। হামলা হয়েছে সেই রাতে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলমের বাসায়।বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেট। ফেইসবুকে মেসেইজ ফিল্টার করা হয়েছে, হচ্ছে মামলার ভয়ে সকল নিউজ পোর্টাল আন্দোলনের খবর তাৎক্ষনিক ভাবে প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছে, এবং দিন শেষে সরকারে কাছে প্রুফ দেখিয়ে তারপর সারাদিনের আন্দোলনের সংবাদকে বিটিভির ধাঁচে প্রকাশ করছে।

?_nc_cat=0&oh=8a4b63bd6a7c2f9b6691ff572b836f7a&oe=5C0ABA19″ width=”500″ />

আল-জাজিরাতে এই আন্দোলন নিয়ে সাক্ষৎকার দেয়ার পর প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম কে হাসিনার গুমবাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। বাসায় ঢুকে প্রথমে সিসিক্যামেরা গুলো ভেঙ্গে ফেলেছে, এবং পরে সিসিক্যামেরের ভিয়ার বক্স খুলে নিয়ে গেছেএই ভদ্রলোকের বিরুদ্ধেও ৫৭ধারাতে মামলা হয়েছে। আমি জানি না তার বিরুদ্ধে মামলার আর্জিতে কি লেখা হয়েচে, বা কে বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে। কিন্তু এই গ্রেফতারের মধ্যদিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা আরেকটি মেসেইজ দিলো যে যদি কেউ তার বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক মিডিয়াতে কোনো সাক্ষাৎকার দেয়, দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে, তাকেও গুম করে দেয়া হবে। তাকানো যাচ্ছিলো না এই লোকটির দিকে, এতো অত্যাচার করা হয়েছে, হাঁটতে অব্দি পারছিলো না। এমন বাংলাদেশে কে নিরাপদ বোধ করছেন? কোনো কোনো বিষয়কে গুজব বলবেন আপনারা?

বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে হামলা
০৫.
৫ এবং ৬ আগষ্ট, বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে হামলা হচ্ছে, অভূতপূর্ব আচরণ করছে পুলিশলীগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে, টিআর-শেল মারছে, রাবার বুলেট মারছে। উইনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিক, স্টেট ইউনিভার্সিটি, নর্থ-সাউট ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ইষ্ট-ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটির নাম উল্লেখ না করলেই নয়। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা-পুলিশলীগ মিলে গণহারে ছাত্রদের বেধড়ক পেটাচ্ছে, টাইমলাইনে চোখ রাখা যাচ্ছে না, রক্তাক্ত মানুষের ছবি দেখতে দেখতে। আর তার মাঝেও কিছু কিছু দালালের লাজ, লজ্জা, ভয়, অবিকল গত হয়, তাদের বিবেক গুলো ধোঁয়া হয়ে সম্ভবত উবে গেছে। দলদাসের ন্যায় হাসিনার কাজকে জাস্টিফাই করার জন্য লেগে আছে।

?_nc_cat=0&oh=ee205e0d018add58bf89a73d261914c0&oe=5C0002D2″ width=”500″ />

শেষকথা
০৬.
হয়তো এই আন্দোলনটি মুখ-থুবড়ে পড়বে বা পড়েছে, কিন্তু যারা এই আন্দোলন থেমে যাওয়া নিয়ে ব্যঙ্গাত্ব প্রশ্ন করছেন যে “এখন লাইসেন্স চেক করি না?” তাদের জন্য বলে রাখি, এই স্বৈরাচারী সরকার আরো বেশি প্রকট হবে, এই আন্দোলনের পর গনমাধ্যম আরো বেশি করে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, এই আন্দোলনের পর ঘরে ঘরে গুম হবে, খুন হবে। এই আন্দোলনের পর কলতলার ঝগড়াটে শেখের বেটি শাকচুন্নীর ন্যায় আচরণ করবে। ছাত্রলীগ ছাড়িয়ে যাবে হাসিনাকে। সত্যি বলছি আমি মনে প্রাণে চাইছিলাম আন্দোলনটি মুখ-থুবড়ে পড়ুক, না হলে শাষক গোষ্ঠী আরো বেশি আগ্রাসী হবার সুযোগ পাবে না। আন্দোলন গুলোতে যে দাবীটি স্পষ্ট করে এখনো উচ্চারিত হয় নি, তা হবে না কখনো। আজকে এই আন্দোলনকে দাবিয়ে দেয়ার জন্য হাসিনা তার স্বয়ম্ভূ রূপে আবির্ভূত হয়েছে। স্বৈরাচারী হাসিনা তার সকল গনতন্ত্রের লেবাস খুলে ফেলে দিয়েছে।

সবশেষে একটা কথা বলি, একটা ক্লাস-৭এর বাচ্চা ছেলের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিলো অনলাইন গেইম ক্লাশ-অফ-ক্লান খেলার পার্পাসে তাও ৩বছর আগে। ছেলেটা এখন ১০-এ পড়ে। এই ছেলেকে সব সময় দেখতাম রাজনীতি উদাসীন। কিন্তু গত ৩টা দিন এই ছেলের কথা বলার ধরন দেখে আমি অবাক হচ্ছি, এইবাচ্চা ছেলে এতো সচেতন? এতো ভাবে দেশ নিয়ে! কই কখনো টের পেলাম না তো! তার সাথে সাথে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত পরিবারের এই ছেলে হাসিনাকে প্রচন্ড ঘৃণা করে। এই ছেলে না শুধু এই ছাত্র আন্দোলনে থাকা কোনো ছেলেই হাসিনাকে আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনে করে না। করবে না কখনো।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1