তথ্য উপদেষ্টা জয়ের তথ্যে বাংলাদেশে- শুন্য বেকার.!?

বাংলাদেশে শুন্য বেকার, কিভাবে?
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, যেহেতু বাংলাদেশের বেকারত্বের হার ৪.৮ ভাগ, মানে ৫ ভাগের নীচে সুতরাং বাংলাদেশে বেকারত্বের হার শুণ্য! কেন উনি বলেছেন? কারণ তিনি বলেছেন, অর্থনীতিকরা না’কি বলেন, ৫ শতাংশের নীচে কোন পরিসংখ্যা থাকলে সেটাকে শুন্য বলা হয়!

বেকার কে?
“বেকার বলতে শ্রমশক্তির সেই অংশকে বুঝানো হয়, যারা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্ধান করা সত্ত্বেও কোন কাজ পায় না। বাংলাদেশের শ্রমশক্তি সম্পর্কিত জরিপে ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের এমন ব্যক্তিকে বেকার বিবেচনা করা হয়।”

কত বেকার?
সরকারী হিসেবে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা ৪ কোটি ৮২ লাখ! তারমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় একচতুর্থাংশ (বিবিএস ২০১৬-১৭)। বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে মোট কর্মোপযোগী মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত ৬ কোটি ৮ লাখ মানুষ, বাকীরা বেকার।

তথ্য-পরিসংখ্যানের গড়মিল ও মারপ্যাচ!
প্রথমত যে কোন কিছুরই একটি সার্বজনীন ও স্বীকৃত সংজ্ঞা আছে! কিন্তু প্রত্যেকটা দেশ সেগুলো যার যার মত করে অনুসরণ করে। যেমন ধরা যাক বাংলাদেশে শিক্ষিতের হার শতকরা ৫০ ভাগ আবার জাপানেও শিক্ষিতের হার ১০০ ভাগ। তারমানে বাংলাদেশে শিক্ষিতের হার জাপানের অর্ধেক! কিন্তু এখানে একটা বিরাট ফাকি আছে! কেমন? জাপানের যে কোন শিক্ষিত মানুষ কমপক্ষে ১২ থেকে ১৫ ক্লাস পর্যন্ত পড়েছে। আর বাংলাদেশের শিক্ষিত লোক বলতে, যে কোন রকমে নাম লিখতে পারে তাকেও শিক্ষিতের মধ্যে ধরা হয়।

এখন বুঝতে পারছেন জাপান ও বাংলাদেশের শিক্ষার ও তথ্যের গড়মিল..! তথ্য বিষয়ে এখানে একটা ছোট উদাহরণ দিলাম মাত্র! এ রকম সবক্ষেত্রেই তথ্য ও পরিসংখ্যানের গড়মিল দেখানো সম্ভব! সেটা দিয়ে কোন বিষয়ে তুলনামুলক ফলাফলের সমীকরণ টানা হবে ভুল! গবেষণা বিদ্যা তাই বলে। আপনি কোন বিষয়ে সঠিক চিত্র পেতে হলে, তথ্যের ভারসাম্য ও সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তিতে বাবাও যে ভাই হয়!
এক রকম যুক্তি দিয়ে বাবাকে ও ভাই বানানো যায়! যেমন, মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই, বা সব মুসলমান ভাই ভাই। সে হিসেবে বাবাও আমার ভাই! কি বলেন?

উনার যুক্তি যদি মেনে নেই তাহলে যে সকল “পানীয়তে ৫ ভাগ বা তার কম এ্যালকোহল আছে, সেগুলোকে মদ বিয়ার না বলে আমরা ‘এনার্জি ড্রিকস’ হিসেবে অনায়াসেই পান করতে পারি, কি বলেন? আর ৫ ভাগের কম ব্যাংক সূদকে বা লেন-দেনকে আমরা সূদ না বলে, বলতে পারি সার্ভিস চার্জ, কি বলেন ভাইবোন?

সজিব ওয়াজেদ জয় দরিদ্র প্রজাতান্ত্রিক দেশটির সকল রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিয়ে প্রবাসে অবস্থান করছেন! উনাদের মত একজন ব্যক্তির আর্থিকসুবিধা দিয়ে এক একটি স্কুল পরিচালনা করা সম্ভব। যারা কথায় কথায় আমাদের প্রবাসজীবন নিয়ে খোটা দিতে ছাড়েন না, কিন্তু তারা এখানে নিরব!

আমাদের দেশের মন্ত্রী ও উপদেষ্ট পরিষদ হলো বৃদ্ধাশ্রমের মত। এরা কি করে? কি বলে? সব যেন তালগোল.? সত্যিই এক বিষ্ময়! এই আশ্রমের কিছু তরুণও আছে, তাদের অবস্থাও তথৈবচ.! তবু আমরা আছি উন্নয়নের মহাসড়কে.?
———————————————
। ডঃ মঞ্জুরে খোদা । প্রাবন্ধিক-গবেষক । ১২ আগস্ট ২০১৮ ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 7