ডিপ্রেশনের সাথে বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা

?auto=compress&cs=tinysrgb&h=750&w=1260″ width=”500″ />

আমি ডিপ্রেশনে ভুগছি অনেকদিন ধরে । ডিপ্রেশন মনের অসুখ বা রোগ । ডিপ্রেশন মানে যে মন খারাপ নয় তা এখন অনেকেরই জানা হয়ে গেছে, কিন্তু ডিপ্রেশনকে জানার আগ্রহটা বোধহয় আর দশটা অনাগ্রহের খাতায় নাম লিখিয়েছে ফেলেছে আমাদের সমাজে । আমার মনের অসুখ, অথচ লক্ষ করলাম যখনই মা কাউকে আমার অসুস্থতার কথা বলতে যান তখন বলেন শরীর খারাপ । কেন ? অভ্যাস ? নাকি taboo ? আসলে দুটোই । মনের অসুখ বলাটা সমাজে ভয়ানক, ‘পাগল’ ট্যাগ পেতে আর বাকি থাকবেনা । অবশ্য ব্যাপারটা অত্যন্ত স্বাভাবিকই, যে দেশে মেয়েদের পিরিয়ডের কথা বলা অনুচিত সে দেশে মনের অসুখ তো অনেক বড় কথা । আমার আবার পাগল হতে আপত্তি নেই, তাই লেখার প্রথমেই নিজের কথাটুকু ভাগ করে নিলাম । এবারে জানাবো ডিপ্রেশনের লক্ষন ? চিকিৎসা । অবশেষে নিজের অভিজ্ঞতা ।

ডিপ্রেশনের লক্ষন
• দুঃখের অনুভুতি, দুশ্চিন্তা, অথবা শূন্যতা
• আশাহীন হয়ে যাওয়া
• অপরাধবোধ কাজ করা, মূল্যহীন অথবা অসহায় ভাবতে শুরু করা
• একসময় উপভোগ করা জিনিস গুলো আর উপভোগ করতে না পারা
• মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া । সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যার সম্মুখিন হওয়া ।
• ঘুম খুব কমে যাওয়া অথবা খুব বেড়ে যাওয়া
• রুচির পরিবর্তন
• ওজন বৃদ্ধি অথবা হ্রাস
• মেজাজ চিরচিরে হয়ে যাওয়া
• আত্মহত্যা অথবা মৃত্যুর ভাবনা

কেন হয় ?
ডিপ্রেশনের কারণ সহজভাবে নির্ণয় করা অসম্ভব এবং হতে পারে কারণ একটি নয় অনেকটি । ডিপ্রেশন নিম্নোক্ত কারণগুলির একটি জটিল সমন্বয়ের ফলে হতে পারেঃ

• বংশগতি
• জৈবিক – নিউরোট্রান্সমিটার লেভেলের পরিবর্তন
• পরিবেশগত
• সাইকোলজিক্যাল এবং সামাজিক (psychosocial)
চিকিৎসা
ডিপ্রেশন চিকিৎসাযোগ্য একটি মানসিক রোগ । নিমল্লিখিত তিন প্রকারে ডিপ্রেশন প্রতিকার করা হয়ে থাকেঃ
• বৈষয়িক সমস্যার সমাধান করা, পীড়নের ভাগ নেয়া থেকে শুরু করে পরিবারকে এ ব্যাপারে শিক্ষিত করে তোলা ।
• সাইকোথেরাপি, এটি আলচনাকারী থেরাপি নামেও পরিচিত, যেমন cognitive behavioral therapy (CBT).
• ওষুধ সেবন, বিশেশকরে এন্টি ডিপ্রেসেন্ট

এবার বলি ডিপ্রেশনে থাকতে কেমন লাগে । যদিও কেমন লাগে তা দু চারটা শব্দ পাশাপাশি সাজিয়ে বোঝানো সম্ভব নয় । তারপরও, কিছুটা চেষ্টা করলে মন্দ হয়না… ভালো লাগেনা কিচ্ছু, যা কিছু ভালো লাগতো, কোনো ইচ্ছা করেনা । ইচ্ছা করলেও কাজ করতে ইচ্ছে করেনা । মুক্তি চাইতে থাকি, মরতে আসলে চাইনা, কিন্তু মুক্তির উপায় একমাত্র মৃত্যুই থাকে । ঘোরের মধ্যে বেঁচে থাকা । কথা বলতে ইচ্ছে না করা, ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থাকতে পছন্দ করা । মানুষ দেখলে রাগ, বিরক্তি বোধ করা । মানুষ হয়েও মানুষ না যেন । মাথায় অসম্ভব ব্যথা, যেকোনো ব্যথার চেয়ে অধিক কষ্টদায়ক । কষ্ট এড়াতে কান্না করতে ইচ্ছে করে । কখনো হাসতে মন চায় । কারণ ছাড়া । মন সবসময় মন খারাপ করার উপায় খোঁজতে ব্যস্ত থাকে, কোন বাহ্যিক সমস্যার সমাধান করে ডিপ্রেশনের সমাধান হয়না । ভেতর থেকে যথাসম্ভব নির্মূল করতে হয় ।

আপনার কাছের মানুষটি কি ডিপ্রেশনে ভুগছেন ? এরকম খিটখিটেতো আগে ছিলেননা, কি হয়ে গেলো হঠাৎ ? অনেক কিছুই হতে পারে, বোঝার চেষ্টা করুন, মনের আবার কিসের অসুখ ? এত এত আত্মহত্যা কেন হয় ? আপনি নিজেই কি সুস্থ আছেন ? মনের ব্যামো থেকে সাবধান হন, সুস্থ জীবন বাঁচুন ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

43 − 40 =