নারীর যুদ্ধ

ডান হাতে লাঠি আর বাম হাতে বেশ লম্বা একটি ছাতা হাতে একদম কচ্ছপের গতিতে তিনি ধীরে ধীরে চলেন। কোনো কোনো দিন বাম হাতে হয়তোবা বাজার করার ছোট্ট কালো রঙের শপিং ট্রলি থাকে। তিনি হাঁটেন সামনে আর বাম হাতে হালকা শপিং ট্রলিকে পেছনে পেছনে টেনে নিয়ে যান। অত্যন্ত ধীর লয়ে। ওই হাতে টানা শপিংব্যাগেই একটি ছাতা গুঁজা থাকে। মহিলা সামনে হাঁটেন আর তার লাঠিটিও টুকটুক করে সামনে হাঁটে। হিসেব করে হাঁটা। ডান হাতে সোজাকৃতির একটি লাঠি। মাঝারি সাইজের। তার মতোই যেনো বয়সের ভারে লাঠিটি প্রায় বিবর্ণ। হাঁটেন আর ভারি কাঁচের অনুজ্জ্বল সোনালি ফ্রেমের চশমা পরা চোখে চারপাশ খুব শান্তভাবে অবলোকন করেন। কোথাও থামলে পরে প্রায় বুজে আসা বিবর্ণ চোখে অনেক্ষণ তাকিয়ে দেখেন। কী দেখেন কে জানে!

(১)
ডান হাতে লাঠি আর বাম হাতে বেশ লম্বা একটি ছাতা হাতে একদম কচ্ছপের গতিতে তিনি ধীরে ধীরে চলেন। কোনো কোনো দিন বাম হাতে হয়তোবা বাজার করার ছোট্ট কালো রঙের শপিং ট্রলি থাকে। তিনি হাঁটেন সামনে আর বাম হাতে হালকা শপিং ট্রলিকে পেছনে পেছনে টেনে নিয়ে যান। অত্যন্ত ধীর লয়ে। ওই হাতে টানা শপিংব্যাগেই একটি ছাতা গুঁজা থাকে। মহিলা সামনে হাঁটেন আর তার লাঠিটিও টুকটুক করে সামনে হাঁটে। হিসেব করে হাঁটা। ডান হাতে সোজাকৃতির একটি লাঠি। মাঝারি সাইজের। তার মতোই যেনো বয়সের ভারে লাঠিটি প্রায় বিবর্ণ। হাঁটেন আর ভারি কাঁচের অনুজ্জ্বল সোনালি ফ্রেমের চশমা পরা চোখে চারপাশ খুব শান্তভাবে অবলোকন করেন। কোথাও থামলে পরে প্রায় বুজে আসা বিবর্ণ চোখে অনেক্ষণ তাকিয়ে দেখেন। কী দেখেন কে জানে!

(২)
এই শহরে বিকেলের নরম রোদে তাঁকে প্রায়ই এভাবে হাঁটতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে সদ্য গোসল দিয়ে প্রায় ভেজা চুলে বেরোতে দেখি। খোলা চুলে হাঁটতে হাঁটতে যখন থেমে যান, তখন দেখলে পরে মনে হয় বয়সের ভারে নতজানু এক বোধিবৃক্ষ যেনো! আকারে প্রায় কঙ্কালসার মতো। চোখমুখ, ত্বক প্রায় কুঁচকে আছে। অনেকটা কুঁজো হয়ে হাঁটেন। চুলগুলো যা অবশিষ্ট আছে তা দেখলেই বোঝা যায় এককালে ঘন কালো চুলের অধিকারী ছিলেন। এখন মনে হচ্ছে দীর্ঘ দিনের অবহেলায়, অযত্নে শনের ঘর যেরকম বহুদিন নতুন শন দিয়ে ঘরে চাল না ওঠালে যেমন হয় তেমনি তার মাথার চুলও তেমনি। কেমন যেনো ফাঁকাফাঁকা। মাথার চুলগুলি প্রায় শাদা শাদা। মাথাটিও প্রায় হালকা। চুল যা আছে তা ভাঙ্গা শরীরমনের সাথে এক ধরণের বোঝাপরা করে টিকে আছে কী না কে জানে। তা না হলে শরীরে সাথে সাথে তা কবেই পড়ে যেতো। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হলে পরে ইদানীং হাঁপানির টান ধরে যায়। তখন এদিক ওদিক তাকিয়ে ফাঁকা বেঞ্চ দেখে হাপুসহুপুস করে সটান বসে পড়েন। ইনহেলার সাথেই থাকে। স্প্রে করে বসে থাকেন। তখন মিনিট পাঁচেকের আগে আর ওঠা হয়ে ওঠে না। এই করে করে বাজারসদাইয়ের উদ্দেশ্যে সুপারমার্কেট অবধি পৌঁছানোতে যতক্ষণ লাগে আরকি। আসা যাওয়া, বাজারসদআই করা সব মিলিয়ে তার জন্য কমপক্ষে চার ঘন্টা তো লাগেই! ছোট্ট এই শহরের বাস সার্ভিস থাকলেও তার নিজের বাসার অবস্থান, নির্দিষ্ট মার্কেটে গিয়ে বাজারসদাই কেনাকাটা করার জন্য বাসের জন্য আধা ঘন্টা পর পর বাস স্টপেজে হেঁটে গিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করা এ সময়ের হিসাবে বেশ ঝামেলা। এরচেয়ে কচ্ছপের গতিতে হাঁটা মন্দ নয়। ব্যক্তিগত গাড়ি হলে অবশ্য এসব কোনো ব্যাপারই না। বাজারসদাইয়ের মতো প্রয়োজনীয় জিনিশপত্র কেনার জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির বিকল্প এই বিদেশ বিভূঁইয়ে আর অন্যকিছু নেই। জোয়ান সোমত্ত মানুষের পক্ষেও হররোজ হাতে করে বাজার করা বেশ ঝামেলার। দূরত্ব বিচারে গেলে তো আরও সমস্যা। তা সাইকেলে হলেও ঝামেলা কিংবা হাতে টানা ট্রলি হলেও একই কথা। এই বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য হলে তো আর কথাই নেই। তারপরেও দেখি এঁরা হররোজ হাসিমুখে নিজেরা নিজেদের বাজারসদাই করেন। কারও সাহায্য এঁরা পারতপক্ষে নেন না যতক্ষণ না চলতেফিরতে বেশ কষ্ট হয় ততক্ষণ অবধি একা একা সবই করেন। সেই সাতসকালে এঁরা আস্তেধীরে ওঠে ধীরে ধীরে পায়ে হেঁটে কিংবা যে যেভাবে যেসবের সাহায্য নিয়ে হাঁটেন তা সঙ্গী করে টুকটুক করে বাজার সদাই করে বাসায় ফেরেন। রোজকার রান্নাবান্না করেন। রান্নাবান্না শেষে পুরো রান্নাঘরটি অত্যন্ত সুন্দর করে পরিপাটি করে মুছেন। চুলাটি অত্যন্ত যত্ন করে মুছেটুছে পরিষ্কার করে রাখেন। রোজই তা করেন। এই বয়সে এসব ঘরগৃহস্থালির কাজই যেনো তাঁদেরকে, তাঁদের অবসরকে কিছুটা হলেও ব্যস্ত রাখে!

(৩)
বেঁচে থাকার জন্য যেসব রসদ দরকার তা না থাকলে জীবন কেমন বিবর্ণ হয়ে যায়। আর তা কাউকে কাছ থেকে স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করা কষ্টকর হয়ে যায়। তাঁদের প্রতিদিনকার বেঁচে থাকার রুটিন, তাদের প্রাত্যহিক প্রেরণা-অবলম্বন কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবলম্বনহীনতাও যে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে ইন্ধন যুগিয়ে তাঁদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছে তা কাছ থেকে দেখলে পরে অনেক সময় নিজেকে আশপাশের অনেক কিছুকে তুচ্ছাতিতুচ্ছ মনে হয়। এবার শুরুর দিকের বয়স্ক, রুগ্নভগ্ন বয়স্ক মহিলার কথায় ফিরে আসি। এই জার্মানিতে তার স্বামী, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয় পরিজন কেউই নাই। একা একা থাকেন। নির্বান্ধব। আশেপাশে অনেকেই আছে। সবাই আশেপাশে থেকেও একা। আশেপাশে কেউ থেকেও তার কেউ নেই। তাকে দেখতেছি বেশ ক’বছর ধরে। বছর দেড়েক ধরে তো হবেই। শীতকাল আসলে পরে অবশ্য তাকে দেখি না বললেই চলে। এবারের পুরো গ্রীষ্মকাল বেশ তাপদাহ হওয়াতে তাকে প্রায়ই বাইরে বেরোতে দেখেছি। শরীর-স্বাস্থও বেশ ভালো দেখলাম। অন্তত আগের থেকে ভালোই মনে হলো। তাতে অবশ্য পাংশুটে বিবর্ণতা আড়াল হয়নি। তার বয়স হিসেবে গুনলে পরে এ অবশ্য অস্বাভাবিক নয়। খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

(৪)
এই গ্রীষ্মের মাঝামাঝি কোনো এক শনিবার তাকে আবার দেখতে গেলাম। এবার আমরা এক অন্যের একদম মুখোমুখি। আমি বাসায় ফিরছি ডান দিকের এক সুপার মার্কেট থেকে এটাসেটা কিনে আর তিনি খানিকটা দূরের অন্য এক সুপার মার্কেট থেকে। সামনের চৌরাস্তার ট্রাফিক সিগানাল পার হয়ে এক অন্যের মুখোমুখি আমরা। তো এবার রাজপথ ছেড়ে হাঁটা রাস্তায় এসে তার ট্রলির চাকাটা কীভাবে জানি আর কাজ করছে না। তার ট্রলি টানতে কষ্ট হচ্ছে। আমাকে সামনে দেখে বেশ শব্দ করেই কী যেনো বললেন। আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। বললাম আমাকে কিছু বলছেন? স্পষ্ট বললেন হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি। কথা শোনে মনে হলো আরবিভাষী হবেন। ডয়েচ বলা দেখে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে কিন্তু আমি এতোদিন ভেবেছিলাম তুর্কি বংশোদ্ভূত হবেন। এবার সমস্যাটা তার মতো করে বুঝালেন। ট্রলিটির কি হয়েছে তা একটু দেখে যদি সাহায্য করি। একটু নুইয়ে দেখলাম পেছনের দুই চাকায় পলিথিন আর কিসব সুতো মিলে বেশ টাইট হয়ে জ্যাম হয়ে আছে। বেশ কসরত করে টেনে বের করে দিতেই সহাস্য ধন্যবাদ দিলেন। এরপর আমরা মৃদুমন্দ হেঁটে একটু দূরেই বেঞ্চ দেখে তিনি বললেন তাড়া না থাকলে আসুন না আমরা কিছুক্ষন বসি। আমি কী আর সে সুযোগ হাতছাড়া করি! অমনি আমিও সহাস্য অনুমোদন দিয়ে বসে পড়লাম। দেখলাম তার কথাবার্তা বেশ জড়ানো। মনে হলো জিহ্বা-মুখে শব্দগুলো লেগে গিয়ে কেমন অদ্ভুতভাবে শব্দ করেন। ডয়েচ যা বলেন তা দিয়ে মোটামুটি চলে কিন্তু হলে কী হবে তা যে সব প্রায় অস্পষ্ট। পরে বুঝলাম স্ট্রোকের কারণে এমনটি হয়েছে। এক চোখে নাকি প্রায় দেখেনই না। চশমাটি খোলে দেখালেনও। বাম হাতও নাকি অনেকটা অবশ মতো। খেয়াল করি যে এরই মধ্যে দিব্যি প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে ফুঁকছেন! বললেন, টানবে তুমি? এক্ষণে তুমি বললেন। হেসে বললাম, না। ধন্যবাদ।

(৫)
বৃদ্ধা মহিলা জাতিতে কুর্দি। বয়স সত্তরের কাছাকাছি হবেন। একা একা থাকেন। আমার বাসা থেকে ধরলে হাঁটা পথে বিশ মিনিট দূরের হবে। কষ্ট হলেও সবকিছু এখনও একা একাই করতে পারেন। জার্মানিতে আছেন প্রায় চার বছর ধরে। তো কীভাবে একা একা এদ্দুর এলেন…? এই কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তর জানতে তার সাথে হেঁটে হেঁটে তার বাসা অবধি যেতে যেতে আমার প্রায় দুই ঘন্টা সময় লেগেছিলো। ভদ্রমহিলা সিরিয়ায় প্রায় চল্লিশ বছর ধরে সেবিকার কাজ করেছেন। স্বামী ছিলেন ডাক্তার। দাঁতের ডাক্তার। দু’জনেই পেশাগতভাবে সফল ব্যক্তি। প্রকৃতির নিয়ম মেনে দু’জনেই একদিন অবসর জীবনযাপন করছিলেন। যখন অবসর নিয়ে মোটামুটি নিজেদের মতো করে দিনযাপন করছিলেন তখনই সিরিয়ায় যুদ্ধ শুরু। তার ভাষায় এটি ভয়াবহ এক গৃহযুদ্ধ। তার চার ছেলেমেয়ের সবাই নিজে নিজ পেশায় যখন ভালো কিছু করছে, নিজেদের ক্যারিয়ার, চাকুরি পরিবার, সংসার তাদের বউ, ছেলেমেয়ে নিয়ে ভালোই আছে তখনই সিরিয়ার ভয়াল যুদ্ধ শুরু। সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমের শহর আফরিনে তার তাদের ছেলেমেয়েদের প্রায় সবারই বসবাস। এই শহরে সংখ্যায় কুর্দিরাই বেশি। তার ভাষ্যে (সাল, তারিখ অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারলেন না! আমার মনে হলো চৌদ্দ পনেরো সালের ঘটনাই হবে।), কোনো একদিন শুক্রবারে জুমার নামাজের সময় আফরিন শহরে বোম্বিং শুরু হয়। নিমিষেই নরক নেমে আসে। চারদিক ধূলিসাৎ। অন্ধকার। যেনো কেয়ামত। এর মধ্যেই কীভাবে জানি ভদ্রমহিলা কাকতালীয়ভাবে বেঁচে যান। ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে কে বা কারা কীভাবে তাকে বাঁচিয়েছে তা তিনি ভালো জানেন না। বলতেও পারলেন না। ফ্যালফ্যাল চোখে একদিন দেখেন তিনি অন্যদের সাথে কীভাবে কীভাবে জানি নানা পথঘাট পেরিয়ে তুর্কিতে চলে এসেছেন। এখানে লাখ লাখ কুর্দিদের সাথে তিনিও মাস দু’য়েক রিফিউজি ক্যাম্পে ছিলেন। কীভাবে কেমন করে কী হলো আজ আর তিনি ভালো মনে করতে পারেন না। তবে এটুকু মনে আছে যে, তুর্কিতে রিফিউজি ক্যাম্পে থাকাকালীন নানান সংস্থা তাকে নানাভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। এইরকম এক ইয়াং ডাক্তার নাকি একান্ত ব্যক্তিগতভাবে নানান দেনদরবার করে এক এনজিও ও নানান দাতা সংস্থার মাধ্যমে তাকে পাসপোর্ট ভিসাটিসা করিয়ে কীভাবে জানি জার্মানিতে পাঠিয়েছে। এতোসব তিনি পরে জেনেছেন এই জার্মানিতে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর। ততো দিনে তিনি জার্মানিতে। ত’দ্দিনে বেশ সুস্থও। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে দেখেন তার জন্য এক জার্মান মহিলা গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সাথে কুর্দিভাষী এক দোভাষী মহিলা। তখন জানতে পারেন তার বসবাসের জন্য একটি এপার্টমেন্ট ভাড়া করা হয়েছে। দেড় কামরার। সাথে ছোট্ট বাথরুম, কিচেন আছে। অবশ্য তার শারীরিক সমস্যা বিবেচনায় তা একদম নিচতলায় ভাড়া নেওয়া হয়েছে। তার যাবতীয় বাসার ফার্নিচারও ইতিমধ্যে কেনা হয়ে গিয়েছে। জার্মান ভদ্রমহিলা এও জানলেন যে, তার দায় দ্বায়িত্ব জার্মান সরকার নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু এসব শোনেও তিনি প্রায় নির্বিকার। অনেক্ষণ পরে নাকি বলেছিলেন, আপনাদের সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ!

(৬)
তার কাহিনি শুনতে শুনতে একবার অবশ্য তিনি ইনহেলারও ব্যবহার করলেন। তখন শুধু বললেন যে, আমার ট্রলি থেকে পার্সটি বের করে ইনহেলারটি দাও। দিলাম। প্রায় মিনিট খানেক পর হাঁপানির টান কমলো। স্বামী সন্তানদের কথা জিজ্ঞেস করতেই তখন কেমন জানি লাগছিলো। আর তা টের পেয়েই কী না নিজ থেকে আপনমনে বললেন- স্বামী, ছোটো ছেলের স্ত্রী, দুই নাতি-নাতনি সবাই মারা পড়েছে। বড় ছেলেও আর জীবিত নেই। ছোটো ছেলে বেঁচে থাকলেও থাকতে পারে। দুই মেয়ের মধ্যে কেউই নাকি আর বেঁচে নেই। এক মেয়ের দুই কন্যা নাকি বেঁচে আছে। কোথায় আছে তা তিনি জানে না। দুই মেয়ের স্বামীর মধ্যে একজন বেঁচে আছে। তারা কে, কীভাবে আছে, কোথায় আছে আজ আর তিনি জানে না। আজকাল তাদের অনেকের নামধামও মনে করতে পারেন না!

“ওপারে থাকবো আমি
তুমি রইবে এপারে
শুধু আমার দু’চোখ
ভরে দেখব তোমারে।”

ততক্ষণে আমরা একে অন্যের দিকে আর তাকিয়ে দেখার মতো অবস্থায় নেই। ঘড়ির কাটায় রাত প্রায় ন’টা হতে চললো। অথচ গ্রীষ্মের রাত হঠাৎ দেখলে পরে মনে হবে বিকেল গড়িয়ে সবে সন্ধ্যে নামছে নামছে করছে। আলোও ক্রমশ কমে আসছে। আশপাশ চারদিক সবই শুনশান। মাঝেমধ্যে নিরবতা ভাঙ্গছে গাড়ি চলার ধাতব শব্দ। অনেকেই আছে যারা সবাই যে যার কাজ সেরে নীরবে আপন মনে ঘরে ফিরছে। শনিবার ছুটির দিন। মফস্বল শহর বলে চারপাশ অদ্ভুত নীরব। আলো আধারির মধ্যে এই নিয়নবাতিগুলি জ্বলে ওঠার আগেই আমরা একে অন্যকে বিদাই জানাই। আমরা জানি এরপর আমরা কেউই আর কারও দিকে তাকাতে পারবো না। অকালবোধন ছাইচাঁপা বোবাকান্না, বুক ভরা হাহাকার সাথে করে শহরের কৃত্রিম আলো জ্বলার আগেই আলো-আধারি বুকে নিয়ে আমাদের যে যার গন্তবে ফেরতে হবে!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 2