বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনার পূর্বে নিজেদের ভিত্তি মজবুত করুন।

বর্তমান স্কাই মিডিয়ার যুগে অনলাইন প্লাটফর্ম হচ্ছে মানব সভ্যতার অগ্রগতির জন্য একটি অন্যতম প্লাটফর্ম, আর এই অনলাইন প্লাটফর্মের মধ্যে সোস্যাল মিডিয়া হচ্ছে আরেকটি অন্যতম প্লাটফর্ম, যার মাধ্যমে তারা মানব সভ্যতার কল্যাণে একে অপরের সাথে তাদের মতবিনিময় করতে পারছে। আধুনিক বিশ্ব মানুষের এই অগ্রযাত্রাকে বিবর্তনের একটি ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখে থাকে। কিন্তু অসুবিধাটা তখনই দেখা যায় যখন একশ্রেনীর মানুষেরা এই বিবর্তন তত্ত্বকে তাদের বিশ্বাসের স্বার্থে হলেও মিথ্যা বা ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকে। এপর্যন্ত ব্লগ, মিডিয়া, পোর্টাল সহ এই সোস্যাল মিডিয়াতে অনেকেই নানা ভাবে কি কারণে এবং কারা এই বিবর্তন তত্ত্বকে মিথ্যা ও ভুল বলে প্রচার করে আসছে তা নিয়ে ব্যাপক প্রচারনাও চালিয়েছে। অনেকেই অতীতে যেসমস্ত কারনে নিজেদের জীপন পর্যন্ত বাজিতে রেখেছিলো।

মানব সভ্যতার ঘুনে ধরা আর জোড়াতালি দেওয়া ও একশ্রেনীর মানুষের দ্বারা রক্ষনশীল ভুল এবং ভ্রান্ত চিন্তা ভাবনা আর তাদের পালিত প্রথাকে যদি কোন মতবাদ শক্তভাবে আঘাত করে থাকে তার মধ্যে উন্নতম হচ্ছে “বিবর্তনবাদ” তত্ত্ব। তাইতো এই একটি তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করা এবং তাকে বাধা দেবার জন্য সবচেয়ে বেশি আঘাত এই তত্ত্বটির উপরেই আসার কথা। সেই একশ্রেনীর মানুষেরা তাদের নিজেদের বিশ্বাস করা মতবাদ এবং পালিত প্রথার প্রতিরোধ যতটা না করে, তার থেকেও বেশি প্রতিরোধ করতে চাই এই বিবর্তনবাদ তত্ত্বকে। মজার ব্যাপার হলো তারা অন্যন্য প্রানীদের বিবর্তন তাদের নিজেদের অজান্তেই মেনে চলছে। যেমন, বাজারে গেলে মনুষ্য সৃষ্ট হাইব্রিড মাছ, মুরগী, শাক, শ্ববজী, ফলমূল সবই তারা কিনে আনছে যা তাদের চোখের সামনে এই ৪০ বা ৫০ বছরের মধ্যেই মানুষ নানান গবেষণা করে আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু সমস্যা তখনই বাধছে যখন তারা মানুষের বিবর্তনের কথা শুনছেন।

এপর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এই সোস্যাল মিডিয়াতেই সেই শ্রেনীর মানুষদের অনেক আবির্ভাব আমি দেখেছি, যারা হুটহাট করে এই প্লাটফর্মে আসে এবং নিজেদের খুব বড় মাপের উন্নত কোন দেশের শিক্ষিত নাগরিক বলে পরিচয় দিয়েই নানাভাবে তাদের বিশ্বাস করা সেই মান্ধাতার আমলের ঘুনে ধরা ও ভঙ্গুর কিছু ধারনাকে মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠা করার স্বার্থে উঠে পড়ে লাগে। তারা সোস্যাল মিডিয়াতে সংঘবদ্ধ চক্রের মতো কাজ করে থাকে এবং বাছাই করে সেই বিবর্তনবাদ তত্বকেই মিথ্যা ও ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা চালিয়ে যায়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে তেমনই একটি চক্র আমার নজরে আসছে খুব। তাদের নির্দিষ্ট কিছু আইডিতে বিবর্তনবাদ তত্ত্বটি যে একটি মিথ্যা ও ভুল তত্ব্ব তা প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা একটি লক্ষনীয় বিষয়। একটা মজার বিষয় হচ্ছে যখন আপনি এদের কোন ভুলে ভরা তথ্য দিয়ে সাজানো বিবর্তনবাদের ভুল ধারনাতে মন্তব্য করেন তাহলে তাদের কিছু নতুন সদস্য এসে আপনাকে বিতর্কের আহব্বান জানাবেন। অর্থ্যাৎ তাদের এমন ভুল তথ্য প্রচার করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিতর্কের মাধ্যমে তাদের সেই ঐশরিক ধর্মীয় ভুংভাং দিয়ে আপনাকে একটি বুঝ দিয়ে দেওয়া এবং পরবর্তিতে দাবী করা যে তারাই সঠিক।

আসলে বিতর্ক করা বা সমালোচনা করাকে আমি নেতিবাচক বলছি না, অবশ্যয় এটি একটি ইতিবাচক দিক। এতে করে অনেকের জানার পরিধি বৃদ্ধি পায়, হয়তো কারো কারো ভূল ধারণা দুর হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই বিশ্বাসীরা কিন্তু এক দিক থেকে বিতর্কে অংশগ্রহন করা বা সমালোচনা করার যোগ্য না। আমার কাছে মনে হয় ঠিক তাই। কারণ আমরা জানি, যে ব্যাক্তি কোন কিছু সঠিক ভাবে যাচাই বাছাই করে ভালো এবং মন্দের পার্থক্য বুঝে ভালোকে গ্রহন এবং খারাপকে বর্জন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তার পক্ষে নিরাপেক্ষ ভাবে কোন আলোচনা করা সম্ভব নয়। এরকম পরিস্থিতিতে অবশ্যয় ব্যাক্তি নির্দিষ্ট একটি দলের পক্ষ নিয়ে সেই দলের নেতিবাচক বিষয়গুলোকেও ইতিবাচক করেই উপস্থাপন করবে। এতে করে সমালোচনা বা বিতর্কের নিরাপেক্ষতা নিশ্চিত হবে না এবং সঠিক সমাধানে পৌছানো সম্ভব হবে না। অতএব, আমাদেরকে বিতর্কে অংশগ্রহন করার পূর্বে অবশ্যয় এই বিষয় গুলো খেয়াল রাখা জরুরী, বিশেষ করে যারা এগুলা না বুঝেই যে কাউকে হুটহাট এমন প্রস্তাব দিয়ে বসে।

মৃত কালপুরুষ
২২/০৯/২০১৮

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

59 − 54 =