বেয়াইন পদ দেন!

কষ্টে আছি, প্রিয় প্রধানমন্ত্রী। কষ্টে, কষ্টে প্রান ভোমরা উড়ে যাবার মত অবস্থা। কষ্ট কি একটা! না প্রিয় আপা, একটা না অনেকগুলি, আঙ্গুলদিয়ে গুনে কুলাবে না। ক্যালকুলেটর লাগবে মনে হয়, থাক এতো কষ্টের কথা নাইবা বললাম। কিছু কষ্টের কথা বলি তাই না, আপনি ব্যস্ত মানুষ আমাদের মত এলেবেলেদের কথা শোনার টাইম নাই জানি। আপনি দেশের গার্জিয়ান, তো সবার কথা শোনা যদিও আপনার দায়িত্ব। না সব দায়িত্ব যে আপনি পালনে বাধ্য তা না। শুনলে মানে পরলে আর কি হৃদয়ে আরাম পেতাম।

আপনি সরকারী চাকুরীজীবীদের অনেক সুবিধা দিচ্ছেন, তারা কেমন কাজ করে তা জেনেও যখন দামী গাড়ী, মোবাইল, ফোন বিল, গাড়ীর মেন্টেনেন্সের খরচ, বাড়ি ভাড়া। এতো এতো সুবিধা বাড়িয়ে দিচ্ছেন তাই মনে একটু একটু কষ্ট হচ্ছিল কেন কখনো সরকারী চাকরির চিন্তা করিনি। কিন্তু বিশেষ করে, ‘সরকারি কর্মচারী আইন ২০১৫’ নামে অভিহিত আইন যার প্রস্তাবিত খসড়ায় বলাহয়েছে, “ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ পত্র আদালতের অনুমোদনের পূর্বে কোন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করতে হলেসরকারের পূর্ব অনুমোদন নিতে হবে।” এই খবর সংবাদ মাধ্যমে পড়ার পর মনে হল, আমার সরকারী চাকরির পাওয়ার বয়স ছিল তখন কেন দিলেন না, তখন দেননি সমস্যা নেই কিন্তু এখন চাকরির বয়স সীমা ৪০ করে দেন। ট্রাই করি মন্ত্রী চাচা-মামা নেতাভাই, বড়ভাই ধরে। ঘুষটুষ দিয়ে একটা না একটা সাইজ করে ফেলবো প্লিজ বয়স বাড়ান। আর যদি একেবারে নাই হয়, বিদেশে বসে চাকরি বাকরি করে টাকা উপার্জন করলে পাঠায় দেশের ব্যাংকে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা হলেও তো অবদান রাখছি, সেই কারণে প্রবাসী লীগ বানিয়ে একটা সেক্রেটারির পদ দেন, বাকিটা করে খাব কোন সমস্যা নেই। যদি বলেন প্রবাসী দালাল লীগও গঠন করে ফেলতে পারি। আপনার কাছাকাছি হতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনার কাছাকাছি একবার হতে পারলে, ধরাকে সরা করে ফেলবো। আপা সৎ, ভালো পরোপকারী, দেশপ্রেমিক নিঃস্বার্থ এইগুলা চলে না। দেখেন না, যত বদনাম তত পপুলার, যত বড় অন্যায়কারী তত ক্ষমতাধর।

আপা, আপনি তো আমাদের সবার আপা, দেখেন বাপের টাকায় পড়াশোনা করে, নিজের যোগ্যতায় পাওয়া ইন্ট্যারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনে চাকরি করে। আমরা বিজনেস ক্লাসে বিদেশ ভ্রমন করতে পারি না। কষ্টের পয়সাতে ইকোনমি ক্লাসে কষ্টে শিস্টে বিদেশে যায়, নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে থাকা খাওয়া লাগে, বাচ্চা ও পরিবারের জন্য গিফটের জন্য পকেটের পয়সা খরচ করতে হয়। ইয়ে আপা দলের একটা পদ টদ থাকলে, ফ্রি টিকিটে পরিবারসহ বিদেশ ভ্রমন, দলের আরো ছোটপদের লোকজন পুরা পরিবারের গিফট কিনে দিত। গিফটের এক্সট্রা ল্যাগেজগুলি নিতে বাড়তি পয়সাও দিয়ে দিত। আপা মজাই মজা।

আপা, অভয় দিলে তেল মারা শিখে নেব, তোষামোদি শিখে নেব সব সেলিব্রেটি তেলবাজদের কাছ থেকে। তেলের বদলে চাইলে ঘি চপচপের তোষামদ করব আপা। আপনার চারপাশের তোষামদিদের দেখে আন্দাজ করে ফেলেছি। তাই দরকার হয়, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতার এম এ করা বাদ দিয়ে, তেল দেয়ার উপর এম এ ও পিএইচডি করে ফেলবো। আপা, প্লিজ একটা পদ দেন আগামী ইলেকশনের পর নতুন সরকার গঠনকালে। আপা পুরানোরা তো অনেক অনেক অনেক উপার্জন করেছে, সুইস ব্যাংকে নতুন কারো একাউন্ট খোলার সুযোগ তো আমাদেরও পাওয়া উচিত।

আপা ভোটের সময় নিজের পয়সা খরচ করে দেশে যায়, নৌকায় ভোটদিতে, ভোট প্রার্থী যতই অযোগ্য হোক, শুধু বঙ্গবন্ধু ও আপনার কারণে আওয়ামী লীগে ভোট দিয়ে থাকি। আপা লোকে বলাবলি করছে এবছর নাকি আমাদের কষ্ট করে ভোট দেয়া লাগবে না, সব সিস্টেম করে ফেলে হয়েছে, কারো নাকি ক্ষমতা নেই ভোটে সরকারকে হারানো। চিন্তায় পরে গেলাম টিকিট বুকিং দেব কিনা, আগে আগে টিকিট কিনলে কম পরে আপা।

আপা এক সভায় বক্তব্য রাখার সময় আপনি বললেন, আওয়ামী লীগ ভোটের জন্য রাজনীতি করে না, আপা মানে বুঝিনি, আমি তো জানতাম, রাজনীতিবিদরা ভোটের জন্য রাজনীতি করে, ভোট না দিলে আপনারা নির্বাচিত হবেন কি করে, সারা বছরের ভালো কাজের বিনিময়ে জনগণ আপনাদের ভোট দিবে। আপনাদের ভালো কাজের ফল আমাদের ভোট। যে ভালো কাজ করবে সেই ভোট পাবে। তারমানে কি আমাদের ভোট আর কি আওয়ামীলীগের লাগবে না? আপা, খুব কষ্টে আছি এ চিন্তা নিয়ে, ডিসেম্বরে দেশে যাওয়ার টিকিট কাটবো কি কাটবো না?

আপা সরকারী চাকরি না দেন, পদ দেন আর পদ না দিলে স্থায়ী চাটুকারের চাকরি দেন। এইগুলা সম্ভব না হলে কিছু একটা দেন। আপা আরেকটা উপায় আছে, সাপ মরবে লাঠি ভাংবে না, আপা বেয়াইন বানায় নেন, আপনার নাতিনাতনি তো আছে। ওদের একজনের সাথে আমাদের সন্তানের একজনের সাথে বিয়ে দিয়ে দেন। তাইলে আপা আর কিছুই লাগে না। বেয়াই বেয়াইন হইলে তো সাতখুন মাপ। এইটা ঠিক আমাদের স্ট্যাটাস মানে টাকা পয়সা ধন-সম্পত্তি কম কিন্তু বেয়াইন হইলে আপা ছয় মাসের মধ্যে সব ঠিক করে ফেলতে পারবো। দেশে এখনও অনেক হিন্দু সম্পত্তি আছে, দখল নেব। সরকারী জমি আর প্লট বরাদ্দ চলছে তা নিজে নেব ও বিরোধীদলে বন্ধুকেও দেব যাতে, এক্সিডেন্টলি (আল্লাহ না করুক) আপনি ক্ষমতায় না আসলে বিরোধী দলের বন্ধু আমাকে দেখে রাখে। আপনা দুই একটা ব্যাংক লুঠ করে নেব। শেয়ার বাজারে কারসাজি করবো। মধ্যস্থতা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে ফেলবো, বিভিন্ন নিয়োগের জন্য প্রার্থীর কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেব, চাকরি বদলিতে টু পাইস কামিয়ে নেব। আপনার সফর সঙ্গী নির্বাচন করেও অনেক টাকা কামাবো। চিন্তা করবেন না। যোগ্য ফ্যামিলি হয়েই যাব। আপা, আমাদের একমাত্র আসল যোগ্যতা আমাদের শিক্ষাদিক্ষা, আমরা সবাই উচ্চশিক্ষিত, দেশবিদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে, পারিবারিকভাবে আমরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত, সার্টিফিকেট জালটাল করা লাগেনি, আর আমাদের বংশ উচ্চবংশ, বাপ-মা দুই দিক থেকে। চিকিৎসক পিতার উচ্চশিক্ষিত সন্তান। আপা এতে কিন্তু আপনাদের ইমেজও আরো বাড়বে তা হল, আমজনতার পরিবারের সন্তানের সাথে রাজপরিবারের সন্তানের বিবাহ। বিরাট হৈ চৈ হবে, সারা পৃথিবীতে সারা পরবে, প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের বিয়ের মত।

আপা আপনি তো কাউকে ফেরান না। দেন আপা একটা কিছু, প্লিজ দেন। চাকরি, পদ, চাটুকার কিছু না দে্‌ শুধু বেয়াইন পদ দেন। আর কিছু চাই না আপা, শুধু বেয়াইন পদ চাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

28 − 23 =