চিন্তা ভাবনা নাকি সৌন্দর্য


(A different analysis under soft psychology)
সামান্য বিষয় নিয়ে আপনার চিন্তা ভাবনা কেমন,তার উপরেই আপনাকে সম্পূর্ণ বিবেচনা করা না গেলেও আংশিক বিবেচনা ঠিকি করা যায়।
আপনার পারিপার্শ্বিক বিষয়ের প্রতি মনভাব,আপনার ব্যক্তিত্বের একটি প্রতিফলন।
আপনি নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে কিভাবে চিন্তা করেন,তার পরিপ্রেক্ষিতে আপনার ভবিষ্যৎ চিন্তা জগত কেমন হতে পারে তা মাত্রই অনুমান করা সম্ভব যদিও ভবিষ্যৎ নির্দিষ্ট নয়,তবুও এটা ব্যক্তিত্ব বিবেচনা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় একজন মানুষের কাছে থাকা বা না থাকার জন্য যথেষ্ট।
বয়সের সাথে আপনার সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে পারে,কিন্তু আপনার চিন্তা ভাবনা হারিয়ে যাবেনা।
এটা যারা বোঝেন তারা সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সৌন্দর্যটাকে তেমন গুরুত্ব দেয়না। তাদের কাছে গুরুত্ববহন করে আপনি কিভাবে ভাবেন,এবং সেই ভাবনার উপর আপনি কতটুকু স্থায়ী।
ভাবনার উপর স্থায়ী কথাটি কনফিউশন তৈরি করতে পারে।একটু খুলে বলতে চাইলে বলা যেতে পারে,আপনি আসলেই তেমনটি ভাবছেন ,ঠিক যেমনটি বলছেন- নাকি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ভাবছেন বা বলছেন। আপনি কারো সাথে সংসার করছেন মানে বলে নিতে পারি- কোনো মেয়ের সাথে সংসার করছেন অথবা ছেলের সাথে সংসার করছেন,
টেকনিক্যালি আপনি আসলে একটা মস্তিষ্কের সাথে সংসার করছেন! আপনার বিপরীত মানুষটিও আপনার মস্তিষ্কের সাথে সংসার করছে!
পাটিগণিত অংকের মত মনে করি,
আপনার ভাবনা চিন্তা ভাল।
তার মানে এই নয় যে আপনি শতভাগ সঠিক। আপনি কোনো বিষয়ে ভুলও থাকতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে কেউ আপনাকে বোঝাতে আসলে আপনি বোঝার পরেও যদি নিজের সিদ্ধান্তে লেগে থাকেন,তার মানে আপনি ইগোর কারনে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। আপনার এতো ভাল ভাবনার জগত থাকা সত্যেও এই সামান্য ইগো বিষয়টির জন্য আপনাকে কেমন ধূসর দেখাচ্ছে তা আপনি বুঝতে না পারলেও আপনার সামনের জন ঠিকি বুঝতে পারছে।মন মানসিকতা যত ভালই হোক, আপনার মধ্যে এক্সেপটেন্স মানসিকতা না থাকলে এর কোনো গুরুত্বই নেই। তবে তার সাথেই কথা বলা উচিৎ যে আপনার ভাবনা নিরপেক্ষ ভাবে চিন্তা করতে সক্ষম,অন্যথায় আপনার বিষয়টি নিয়ে তার সাথে কথা বলার বেপারটি ভুলে যান।
.
দৃষ্টিকোণ,
খুবি পরিচিত একটি শব্দ। আপনার দৃষ্টিকোণ আপনার ভাবনার সাথে কিছুটা সংযুক্ত। আমরা যা দেখি তাই নিয়েই ভাবি এবং তার উপর নিজেদের মতামত প্রদান করে থাকি। আপনি কি জানেন, আপনি যা দেখছেন এবং তার প্রেক্ষিতে যা ভাবছেন এবং ভাবনার ফলাফল হিসেবে যা করবেন বা বলবেন বলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তার প্রায় বেশিরভাগই ভুল থাকতে পারে। আপনার মস্তিষ্ক আসলে এমন ভাবে তৈরি যা আপনাকে সকল কাজে সাপোর্ট করার চেষ্টা করে,এমন কি সেটা ভুল বিষয় হলেও। আপনার মস্তিষ্ক আপনার পক্ষে সবসময় কাজ করে,অর্থাত আপনি কোথাও হেরে যাচ্ছেন এবং এটা আপনি পছন্দ করছেন না সেটা আপনার মস্তিষ্ক জানে আর জানে বলেই আপনার মস্তিষ্ক অদ্ভূত কিছু পদ্ধতি গ্রহন করে যাতে আপনাকে সেই খারাপ অনুভূতিটা অনুভব করতে না হয়।কিন্তু পদ্ধতিটা সঠিক নাকি ভুল সেটা মস্তিষ্ক ভাবছেনা,অর্থাত আপনার সচেতন মন নয় অবচেতন মন- মানে সাবকনসাচ মাইন্ড আপনাকে সাহায্য করছে।তাই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আমরা অনেক সময় নিজেদের কন্ট্রোলের বাহিরে থাকি। যদিও বিষয়টি অনুভূতি বিষয়ক আর এটা মস্তিষ্কের লিমবিক সিস্টেমের মধ্যে পরে তবে লেখাটি মস্তিষ্ক বিষয়ক নয় বলে এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যেতে চাচ্ছিনা। তবে পরবর্তিতে এর উপর আলাদা একটা লেখা লিখতে পারি।
যাইহোক, আপনার দেখার বিষয় এবং তার উপর তৈরিকৃত তথ্য যা মস্তিষ্ক তৈরি করছে আপনাকে পরিচালিত করার জন্য যেমন – সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তৈরিকৃত তথ্য বা ইন্সট্রাকশন। একটু জটিল মনেহলে সহজ উদাহরণ দিচ্ছি- ধরুন আপনি দোতলার একটি ফ্ল্যাটে আটকা পরেছেন এবং তাতে আগুন ধরেছে।আপনি এখন কি করবেন??!
উপরের লেখাটি পড়া মাত্রই আমি জানি আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে বাঁচার একাধিক পদ্ধতি দেখাচ্ছে।তাই নতুন করে ফ্ল্যাট থেকে বাঁচার পদ্ধতি এখানে লেখার দরকার নেই। তবে সবগুলো পদ্ধতি থেকে আপনি একটা পদ্ধতি নির্বাচন করবেন যেটাতে সহজে বাঁচার উপায় রয়েছে ও ঝুঁকি কম রয়েছে অথবা আপনার সক্ষমতা রয়েছে এবং আপনি ঠিক সেটাই ফলো করবেন। বাঁচার পদ্ধতিগুলো তখনি তৈরি হচ্ছে যখন আপনি বিপদের সম্মুখিন হচ্ছেন বা দেখছেন। দৃষ্টিগোচর বিষয় থেকে আপনি প্রয়োজনিয় তথ্য মস্তিষ্কে সংরক্ষণ করছেন যাতে ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনায় তা কাজে লাগে। তার মানে কিন্তু এই নয় যে একই পদ্ধতি আপনি আবার প্রয়োগ করতে পারবেন। কারন স্থান ও পরিস্থিতি ভিন্ন রকম হতে পারে তাই পদ্ধতিও পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু অভিজ্ঞতার পরিবর্তন হয়না আর এটাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আপনার অভিজ্ঞতা আপনাকে সীমাবদ্ধ কাজের মধ্যেই রাখতে চাইবে,একই ভাবে কারো সম্পর্কে ধারণা মূলক অভিজ্ঞতা আপনাকে কারো সাথে থাকা না থাকার বিষটি নিয়ে চিন্তায় ফেলে দিতে পারে।
প্রশ্ন আসতে পারে দৃষ্টিকোণের সাথে এর সম্পর্ক কি?
আপনার যেকোনো ধারণা বা অভিজ্ঞতায় দৃষ্টিগোচর বিষয়ের ভূমিকা অনেক। আপনার পূর্বের খারাপ কোনো অভিজ্ঞতা থাকতে পারে,তার মানে এই নয় যে সেই পূর্বের ঘটনা আবার হলে ফলাফল আপনি আবার একই পেতে চলেছেন। একই ভাবে কোনো কিছু দেখার ক্ষেত্রেও। এই সাধারণ বিষয়টি বুঝতে পেয়ে আপনি অগ্রসর হচ্ছেন মানে আপনার দৃষ্টিকোণ উন্নত। সহজ ভাষায় আপনার দেখা যেকোনো বিষয় আপনি ভিন্নভাবেও দেখতে পারেন। অর্থাত এই মাত্র আপনি যা দেখলেন তার ফলে যা ভাবলেন বা চিন্তা করলেন, তা সরাসরি বিশ্বাস না করেও তা একাধিক ভাবে চিন্তা করছেন। যেমন- আপনি হয়তো নেজেটিভ কিছু লেখলেন বা শুনলেন,কিন্তু ভাবছেন পজেটিভলি এবং অনুমান করছেন আপনার দেখার ভুল থাকতে পারে অথবা যা দেখেছেন- ঠিকি দেখেছেন তবুও পজেটিভ ভাবছেন এটা ভেবে – হয়তো পিছনে কোনো কারণ আছে যেটা আপনার জানা নেই।
তাই দৃষ্টিকোণ শুধু দেখার বিষয়ের সাথেই সংযুক্ত নয়,শোনা, বোঝা বা ভাবনার বিষয়গুলোর সাথেও সংযুক্ত।
অনেকেই আছে যাদেরকে আপনি আপনার জীবনে খুঁজে পাবেন,প্রায় এরা বলে উঠে- আমার এতো অনুভূতি নেই! কেরিয়ারের পিছলে ঘুরতে ঘুরতে কিছু মানুষের সাধারণ অনুভূতি গুলো হারিয়ে যায়। এদের কিছু ঐ অনুভূতিহীনের সদস্যতালিকা রয়েছে।
এরা কেরিয়ার তৈরি করে যে অট্টালিকায় বসবাস করে,
তাতে বেশিরভাগ যান্ত্রিকতাই দেখতে পাবেন।
মানুষ তো আপনি,যন্ত্রতো না! তবুও যান্ত্রিক হলেন কি করে?! এর উত্তর অনেক সময় আপনি খুঁজে পাচ্ছেন না,কারণ আপনার মস্তিষ্ক চাচ্ছেনা এমন কিছু উত্তর দিয়ে আপনাকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে যেটা আপনি অনেক বছর ধরে বিশ্বাস করে আসছেন। তাই আপনি যেমনটি ভাবছেন এবং ঠিক মনে করছেন তার উপর একাধিক যুক্তি দেখিয়ে আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে সাপোর্ট করছে এবং বাকিরা যে ভুল করছে তা জানিয়ে আপনাকে সবার উপরে রাখার চেষ্টা করছে। বিষয়টা ইন্টারেস্টিং তাই না?!! হা হা হা
.
ফিরে আসছি সৌন্দর্যের ব্যাপারটিতে।
প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কেনো সবসময় পার্ফেক্ট মানুষটিকে আপনার জীবনে চাচ্ছেন?!!
এটা একটি বায়োলজিক্যাল ব্যাপার। আপনার মস্তিষ্ক চায় আপনার পরের প্রজন্ম সুস্থ ও সুন্দর হোক। তাই সমসময় সুন্দর,সুস্থ এবং ইন্টেলিজেন্ট ব্যক্তিকে আপনি আপনার জীবনে খুঁজে যাচ্ছেন, কিছু না জেনেই খুঁজে যাচ্ছেন কারণ পরবর্তী প্রজন্মের উন্নত ডিএনএ চরিত্র গঠনে এটা আপনাকে সহায়তা করবে সেটা আপনার মস্তিষ্ক জানে।
উপরে বলেছিলাম- টেকনিক্যালি আপনি একটি মস্তিষ্কের সাথে সংসার করবেন! বায়োলজিক্যাল ব্যাপারটি আসছে তার পরে। এটা সত্যি কোনোটির গুরুত্বই কম নয়,তবে কোনটাকে আপনি বেশি প্রাধান্য দিবেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাপার।
.
* অবশিষ্টঃ
আপনি জীবনে অনেক লেখা পড়েছেন, কিছু হয়তো ভাল লেগেছে কিছু হয়তো খারাপ বা মতের বিপরীত।
এই লেখা বা অন্যকোনো লেখা পড়ার পর আপনার যদি নিজ মতের বিরোধী কিছু মনে হয়,তার প্রেক্ষিতে আপনি যদি নিজের চিন্তা ভাবনায় একাধিক যুক্তি দাঁড় করাতে থাকেন,তার মানে এই নয় যে আপনি অসুস্থ। এটি অতি সাধারণ একটি বিষয় যা মস্তিষ্ক আপনার মতামতকে সাপোর্ট করছে এবং আপনার মতের বিপরীতে না যেয়ে আপনাকে খারাপ লাগার অনুভূতি থেকে রিলিফ দেবার চেষ্টা করছে।
.
.
#সাইকোলজি
#Psychology
#Personal_Opinion
#আরিয়ান_রাইটিং

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “চিন্তা ভাবনা নাকি সৌন্দর্য

  1. খুব সুন্দর একটি বিষয় উপস্থাপন
    খুব সুন্দর একটি বিষয় উপস্থাপন করেছেন। অভিজ্ঞতার পরিবর্তন হয়না এই বিষয়টি অনেকেই জানে কিন্তু এভাবে এর আগে এই বিষয়ে কেউ লেখা দেইনি। ধন্যবাদ আপনাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =