কলেমা শাহাদাত এবং বিভিন্ন বিশ্বাসীদের সামাজিক সহাবস্থান প্রসঙ্গে

শ্রদ্ধার সাথে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার অবতারণা করতে চাই।

বিভিন্ন সভা সমিতিতে ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসাবে উপস্থাপনের সময় মুসলিম ভাইবোনদের বলতে শোনা যায়, ইসলাম অন্যান্য বিশ্বাসীদের সাথে সামাজিক সহাবস্থানকে সম্মান করেন। অথচ ইসলামের ভিত্তি কালিমা শাহাদাতের শুরুটি হয়েছে অন্য সব বিশ্বাসীদের সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকারের ভিতর দিয়ে। তাঁরা কালিমায় স্বাক্ষ্য দিচ্ছেন: আল্লাহ ছাড়া কোন সৃষ্টিকর্তা নেই এবং হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর পাঠানো বিশেষ মানুষ। এখানে ‘আল্লাহ ছাড়া কোন সৃষ্টিকর্তা নেই’ কথাটির মাধ্যমে অন্যান্য বিশ্বাসীদের সৃষ্টিকর্তাকে নাকচ করা হয়েছে। মুসলিম হিসাবে আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা হিসাবে মানতেই হবে। কিন্তু যাঁরা মুসলিম নয়, তাঁদের সৃষ্টিকর্তাকে নাকচ করতে হচ্ছে কেন? তাহলে তো সহাবস্থানের উদ্দেশ্যকে আঘাত করা হচ্ছে, তাই না?  তাহলে একজন মুসলিম কিভাবে সমাজে বিভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের সাথে সামাজিক সহাবস্থানকে সমর্থন করতে পারেন? অন্যান্য বিশ্বাসীদের সাথে সহাবস্থানকে সমর্থন করার কথা বলতে গিয়ে কি পরোক্ষভাবে তাঁরা এটাই স্বীকার করে নিচ্ছেন যে: অন্যান্য বিশ্বাসীদের সৃষ্টিকর্তার মতো আল্লাহও একজন সৃষ্টিকর্তা এবং হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহ’র পেরিত বিশেষ ব্যক্তি? কথাটি কলেমা শাহাদাতের বক্তব্যের সাথে সাংঘার্ষিক নয়?

 

যে কোন বিশ্বাসী মুসলিম তাঁর ধর্ম ইসলামকে সমর্থন করতে গিয়ে তথ্যের জন্যে কুরআন, হাদিস এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোকে অবিকৃত অবস্থায় তুলে ধরে থাকেন। সেক্ষেত্রে বর্তমান সমাজে অন্যান্য ধর্ম এবং ধর্মহীন মানুষগুলোর সাথে সহাবস্থানকে সমর্থন করতে গিয়ে কি কলেমা শাহাদাতের ব্যাখ্যাটি হালকা গুলিয়ে ফেলছেন না? তত্ত্বের সাথে বাস্তবতার এই পার্থক্যকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? সুচিন্তিত মতামত দিলে ভালো হয়।

 

বি: দ্র: ঘৃণা বা ভয় ছড়িয়ে কোন লাভ হয় না। মানুষ তাঁর বুদ্ধিমত্তার জোরে টিকবে। এমনকি বিশ্বাস, তাও বুদ্ধিমত্তা স্ফুরিত যুক্তির উপরে ভর করেই টিকে থাকে। ফলে আসুন চিন্তা করি এবং সম্মানের সাথে আলোচনা করি। ধন্যবাদ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 1 =