আমরা জাগছি, আপনারাও জেগে উঠুন

ভারতে কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া ধর্ষনের ঘটনায় রীতিমত ঝড় বয়ে গেলো।
আন্দোলনের মুখে সরকার আইন পরিবর্তন করতে বাধ্য হলো।

অথচ,
বাংলাদেশে ১১ বছরের মেয়েকে একটানা ৫৫ দিন ধর্ষন করার পরও জাতী নিশ্চুপ।
শুধু কিছু ফেসবুক স্ট্যাটাস আর ব্লগ লিখেই আমাদের কাজ শেষ।

ভাই,
জাতি আজ নিজে থেকে কিছু করতে চায় না। গনমানুষ তাদের সকল কাজের ভার দিয়ে রেখেছে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে। আর রাজনৈতিক দলগুলো দেশের উন্নয়ন তো দুরে থাক, নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত।

এরপরও
মিছিল, মিটিং , হরতালে যে দল রাজপথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় টিকে থাকে তাদেরই বাহবা দেয়, ভোট দেয়। প্রতিরোধ ভুলে গেছে।

এরই মাঝে,
যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবীতে তৈরী হয় আরেকটি শক্তির, সে শক্তির নাম “ব্লগার ও অনলাইন একটিভিস্ট” । জাতি এখন মনে করে, ব্লগাররাও জাতীয় ইস্যুগুলোতে আন্দোলন করবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের বিরাট একটা অংশ মনে করে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বজনীন স্বার্থ (যেমন দূর্নীতি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে) জড়িত বিষয়গুলোতে ব্লগাররা আন্দোলন করবে এবং সে আন্দোলনে তারাও অংশ নেবে। তারা মনে করে, ব্লগাররা যে ইস্যুতে আন্দোলন করবে তা একমাত্র দেশেরই স্বার্থে করবে। তারাও এতে অংশ নিয়ে জাতীর কাছে দেশপ্রেমের স্বাক্ষর রাখতে চায়।

তাই,
আমরা যারা অনলাইনে দেশের অসঙ্গতি নিয়ে কথা বলছি, তাদের আর বসে থাকার সময় নেই। গুটা দেশ ও জনমানুষের জীবন আজ দুর্বিষহ। খুন-হত্যা , ধর্ষনের মত ঘটনা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। বিশেষ মহলগুলো তাদের স্বার্থে এমন অপরাধুগুলো হয় চেপে যাচ্ছে, নয় একে বৈধতা দানের চেষ্টায় লিপ্ত হচ্ছে। ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষনের ন্যক্কারজনক ঘটনাকে বৈধ করার জন্য একে ধর্মান্তর ও বিয়ে নামক মোড়কে আবৃত করার চেষ্টা চলছে।

হ্যা,
আমি ও আমরা কয়েকজন বন্ধু আজ রাতে একসাথে মিলিত হবো। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ ও দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানব বন্ধন করার চিন্তাভাবনা করছি। সময় ও কার্যক্রমের ব্যপারে সিদ্ধন্ত নেবো। আপনারাও শুরু করতে পারেন।

অনেকে,
আমাকে ইনবক্স করেন যে, ভাই আপনার লেখা ভাল লাগে। আমি আপনার একজন ভক্ত, খুব ভাল লিখেন আপনি। যারা আমার লিখা ভাল বলেন, তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সাথে অনুরোধ করবো, আপনারা আপনাদের আশেপাশের লোকজনকে নিয়ে শুরু করেন। আর বসে থাকা যায় না। একবার শুরু করুন, তাহলে দেখবেন, আপনার পাশে সহযোদ্ধার অভাব হবে না।

দীপ্ত প্রতিবাদে ফেটে উঠুন।

দেরী নয়,
মিলিত হোন, জেগে উঠুন। প্রতিবাদ করতে শিখুন। মনে রাখবেন, কাল আপনার বোনটিও এর শিকার হতে পারে।

আমরা জাগছি, আপনারাও জেগে উঠুন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৫ thoughts on “আমরা জাগছি, আপনারাও জেগে উঠুন

  1. ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার
    ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার প্রতিবাদে সবারই যার যার অবস্থান থেকে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। আপডেট জানায়েন কর্মসূচীর।

  2. স্পষ্ট লেখাটার জন্য ধন্যবাদ।
    স্পষ্ট লেখাটার জন্য ধন্যবাদ। গোড়া স্বার্থান্ধ সরকার ও প্রশাসনের ঢিলেমীতে বাংলাদেশ না আবার হেরেম হয়ে যায়। তাই আমাদের জাগতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে,যার যার অবস্থান থেকে এবং মিলিতভাবে।

  3. বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের পুরো
    বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় জেলেছিলেন অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতে পারে নি।
    কিন্তু তার সহযোদ্ধারা করেছে। তার ডাকে সকলেই অনুপ্রানিত হয় তার আহব্বানে সককেই এগিয়ে এসেছিলেন।

    আমাদের সেই বঙ্গবন্ধুর দরকার যে আমাদের আহব্বান জানাবে। আমরা তার সহযোদ্ধারা প্রস্তুত আছি।

    আর “””” রাজনৈতিক দলগুলো দেশের উন্নয়ন তো দুরে থাক, নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত।””” এই টুকু এর জন্যে :তালিয়া:

    1. পরশুদিন সকাল এগারটায় স্থানীয়
      পরশুদিন সকাল এগারটায় স্থানীয় ট্রাফিক পয়েন্টে মানব-মন্ধন করবো আমরা।

  4. ডাক দিয়ে পাবলিক পাবেন না !
    ডাক দিয়ে পাবলিক পাবেন না ! কারণ এ প্রতিবাদ করে তো রাজনীতি করা যাবে না, আবার ক্ষমতায়ও যাওয়া যাবে না, তাই পাবলিক খুব একটা সাড়া দিবে না….

    1. ভাল বলেছেন। । ।
      তবে আমরা আসব

      ভাল বলেছেন। । ।

      তবে আমরা আসব সেই বজ্র কন্ঠি কোন এক ব্যক্তিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মত নেতৃত্ব দিতে হবে

  5. “তবে আমরা আসব সেই বজ্র কন্ঠি
    “তবে আমরা আসব সেই বজ্র কন্ঠি কোন এক ব্যক্তিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মত নেতৃত্ব দিতে হবে”—ভাল বলেছেন!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

28 − 18 =