বাসে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন রাখা কি উচিত?

লোকাল বাস গুলোতে মহিলা দের জন্য সংরক্ষিত আসন রাখা হয়। এটা কি উচিত নাকি উচিত না?

আমি এর পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দিচ্ছি আপনারাই বলেন রাখা উচিত কি না।

লোকাল বাস গুলোতে সাধারনত ৯ টি সিট রাখা হয় সংরক্ষিত , এ গুলো মহিলা শিশু ও প্রতি বন্ধিদের জন্যে। কিন্তু মহিলারা তা নিজদের সম্পত্তি মনে করেন। আমি ছোট এটা হয়ত অনেকেই জানেন না গত বছর ৯ এ পরতাম সো নিয়ম অনুযায়ি আমি শিশু। (১৮বছরের নিচে সকলেই শিশু -বাংলাদেশের সংবিধান) তখন ধানমন্ডি থেকে গুলিস্তান যাচ্ছিলাম । ভুলক্রমে সংরক্ষিত আসনে বসে পরি। কিছু দুর যাবার পর ভর্তি বাসে এক মহিলা যাত্রি



লোকাল বাস গুলোতে মহিলা দের জন্য সংরক্ষিত আসন রাখা হয়। এটা কি উচিত নাকি উচিত না?

আমি এর পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দিচ্ছি আপনারাই বলেন রাখা উচিত কি না।

লোকাল বাস গুলোতে সাধারনত ৯ টি সিট রাখা হয় সংরক্ষিত , এ গুলো মহিলা শিশু ও প্রতি বন্ধিদের জন্যে। কিন্তু মহিলারা তা নিজদের সম্পত্তি মনে করেন। আমি ছোট এটা হয়ত অনেকেই জানেন না গত বছর ৯ এ পরতাম সো নিয়ম অনুযায়ি আমি শিশু। (১৮বছরের নিচে সকলেই শিশু -বাংলাদেশের সংবিধান) তখন ধানমন্ডি থেকে গুলিস্তান যাচ্ছিলাম । ভুলক্রমে সংরক্ষিত আসনে বসে পরি। কিছু দুর যাবার পর ভর্তি বাসে এক মহিলা যাত্রি উঠলো সে উঠতে বলেনি আমাকে কিন্তু আসে পাশের মানুষ চিল্লা চিল্লি লাগালো। তখন মেজাজ হল গরম ভাল করে বললেই উঠে যেতাম কিন্তু আইন দেখাতে আসেছে যখন একটু তর্কই করি।

বলছিল উঠ এটা মহিলা সিট। আমি বললাম ভাল করে পড়ুন তো উনি বলল হ্যা সমস্যা কিমহিলা শিশু ও প্রতি বন্ধিদের সংরক্ষিত আসন।

আমি বললাম আমি কি শিশু না উনি বলে না তুমি বালক বুঝেন তাহলে এই হল আমাদের দেশের মানুষের অবস্থা। আমি বললাম উঠে যাচ্ছি ভাল কিন্তু আপনি যে আইনে আমাকে উঠাতে চাচ্ছেন সেই আইনেই আমি শিশু।

আবার আজ মহাখালী হতে মোহাম্মদ পুরের বাসে উঠলাম। বাসে সিট নেই মহিলা সিট খালি ওখানে বসলাম। কিছুক্ষন পর এক লোক বসল আমার পাশে এর পর মহিলা উঠার পর আমি সিট ছেড়ে দেই উনি ছাড়াতে চাচ্ছিল না পরে ছেড়ে দিলেন বাস খালি হলে উনি আমার পিছনের সিটে বসেন। পাশের ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন কি নিয়ম মহিলাদের আসন উনারা কি ভি আই পি নাকি।
পাশের লোক মহিলাদের পক্ষে কিছু কিথা বললে লোকটি বলে উনারা কি আপনার কিছু হয় নাকি নিজে বসতে পারলেই হল। তার পর কথা বন্ধ।

এই হল দুটি কাহিনী। এখন কিছু যুক্তিতে আসা যাক প্রথমে আইনটির বিপক্ষেই বলি।

•যে হেতু বলা হয় নারী ও পুরুষের অধিকার সমান,এই আইন টির মাধ্যমে নারীরা একটু বেশি সুবিধা পায়।

•বাসের অন্য সিটেও তো মহিলা বসে পুরুষেরা কি তাদের উঠিয়ে দেই???(আজকের ঐ লোকের যুক্তি)

• বৃদ্ধ হোক আর শিশুই হোক লিঙ্গে সে পুরুষ হলেই মাথা নষ্ট তাকে উঠিয়ে দিত্ব হবে। এটা মানবিকতার বিপরিত।

এইবার পক্ষে দেই।

• আমাদের পুরুষদের শারিরিক শক্তি বেশি। তাই মহিলাদের থেকে বেশি কষ্ট করতে পারি। আমরা দাড়িয়ে যেতে পারলেও তারা পারে না।

•আমাদের ও মা বোন আছে এই আইনের মাধ্যমে তারাও তো উপকৃত হন।

• এক জন সবল ব্যক্তি হিসাবে আমাদের প্রত্যেকের ই মানবিকতার জন্য তাদের আসন ছেড়ে দেয়া উচিত। কিন্তু আমাদের মানবিকতা কম তাই তাদের বপদের হাত থেকে বাচাতে এই আইনটি দরকার্।

এবার আপনারাই বলুন এই আইন টি রাখা উচিত নাকি উচিত নয়।
উভয় ক্ষেত্রেই আপনার যুক্তিটি দিবেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২১ thoughts on “বাসে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন রাখা কি উচিত?

  1. বাসে একজন দাড়িয়ে থাকা মহিলা
    বাসে একজন দাড়িয়ে থাকা মহিলা দেখলেই আমার মনে হয় আমার মা, আমার বোন কিংবা আমার প্রেয়সী হয়ত এমন ভাবে কষ্ট করে তাই নিজের অজান্তেই জায়গা ছেড়ে দেই হয়ত কোন এক পুরুষ আমার কাছে মানুষগুলোর জন্য জায়গা ছেড়ে দেবে। এ ক্ষেত্রে আপনার লাস্ট পয়েন্ট টাই হল আসল কথা

    • এক জন সবল ব্যক্তি হিসাবে আমাদের প্রত্যেকের ই মানবিকতার জন্য তাদের আসন ছেড়ে দেয়া উচিত। কিন্তু আমাদের মানবিকতা কম তাই তাদের বপদের হাত থেকে বাচাতে এই আইনটি দরকার্।

  2. বাসে আসন নির্দিষ্ট করা উচিত।
    বাসে আসন নির্দিষ্ট করা উচিত। তবে যদি খালি থাকে তাহলে যে কেউ বসতে বাধা থাকা উচিত নয়। অতঃপর যদি নির্দিষ্ট আসনের যাত্রী উঠেন তাহলে অবশ্যই সেটা ছেড়ে দিতে হবে.

  3. আলাদা কোনো সিট ই রাখা
    আলাদা কোনো সিট ই রাখা উচিত না, একটু খেয়াল কর …

    ১_ নারীদের সম অধিকারের ভিত্তিতে তাদের এটা প্রাপ্য ।

    ২_তাদের কে তুলনা করা হচ্ছে শিশু ও প্রতিবন্ধিদের সাথে যা নারীর মর্যাদায় আঘাত করার জন্য যথেষ্ট ।

    ৩_ বাসে কি শুধু মাত্র খারাপ ছেলেরাই ওঠে? খারাপ মেয়েরা কি ওঠে না ?

    ৪_ নিরাপত্তাহীনতার যে বিষয়টি সামনে এসে দাড়ায়, সেটি মেয়েদের ই দূর করতে হবে । কেননা সম অধিকার পাওয়ার আগে নিজের সামর্থ অনুযায়ী নিজের নিরাপত্তা নিজেরই নিশ্চিত করতে হবে।

    ৫_ সভ্যতা যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া পেতে শুরু করেছে ,সেখানে কে ছেলে আর কে মেয়ে সেটা দেখার সময় এখন আর নেই ।

    সময়কে পরিবর্তন করার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের সবার , আশা করা যায় সেটা খুব বেশি দূরে নয় ।।

    1. :তালিয়া:
      তবে ২নং পয়েন্টে

      :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :ফুল:
      তবে ২নং পয়েন্টে কিঞ্চিত দ্বিমত আছে।
      এভাবে বিবেচনা করলে নারীকে মর্যাদা দেয়া আসলেই কঠিন! আমি মনে করি একজন মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করা উচিৎ। নারী/পুরুষ/হিজরা বিবেচনা করে নয়! সবাই সম্মান পাবার অধিকার রাখে।
      আপনার মন্তব্য অনুসারে আমি যদি বলি- “আপনি “প্রতিবন্দি”দের অসম্মান করছেন”!!!

      আসলে সম্মানবোধটা খুবই আপেক্ষিক; বিবেকবোধই একমাত্র সমাধান…

  4. “•যেহেতু বলা হয় নারী ও
    “•যেহেতু বলা হয় নারী ও পুরুষের অধিকার সমান,এই আইন টির মাধ্যমে নারীরা একটু বেশি সুবিধা পায়।”এইটাকে বেশী সুবিধা বলার সুযোগ নেই! আমাদের সংবিধানের সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্যে আলাদা আইন করার বিধান আছে।। আজ এই পুরুষতান্ত্রিক কূপমণ্ডুক সমাজে এইটা করতে আইন রাষ্ট্রকে তাই নিবৃত করে না!!

    •বাসের অন্য সিটেও তো মহিলা বসে পুরুষেরা কি তাদের উঠিয়ে দেই???(আজকের ঐ লোকের যুক্তি)না! কেননা ওইখানে পুরুষ সিট লিখা নাই! আপনি মুক্তিযুদ্ধা বা পাহাড়ি কোটার ব্যাবহারটা দেখলেই বুঝতে পারবেন। ব্যাপারটা হচ্ছে এই যদি কোন মুক্তিযুদ্ধা নিজ গুনে কোথাও টিকে তবে এমনিতেই সে চান্স পাবে। অর্থাৎ ধরেন একটা ভর্তি পরীক্ষায় ১৫% আধিবাসি কোটা আছে। এখন প্রথমে ৮৫% আপনার ভর্তিপরীক্ষার রেজাল্ট থেকে ফলাফল প্রকাশিত হবে। সে যেই হোক, তার অর্থ কোন আধিবাসি যদি ১০০ জনের সেরা ৮৫ জনের মধ্যে থাকে তবে সে এমনিতেই চান্স পাবে। এইবার ১৫% কোটার জন্যে বাকি পরীক্ষার্থীর মধ্যে আধিবাসিদের ১৫ জন চান্স পাবে আর যদি ১৫ জন না থাকে তবে আবার ঐ লিস্ট থেকে টানতে হবে। এখন মহিলারা যদি কেউ একা বা তার স্বামী-বা ছেলে সহ বাসে অসংরিক্ষত আসনে বসে কোন প্রবলেম নাই কিন্তু এর পর কোন মহিলা বাসে উঠলে যদি সংরক্ষিত আসনে শিশু-মহিলা বা প্রতিবন্ধী ভিন্ন কেউ থাকে তবে অবশ্যয়ই তাকে সিট ছারতে হবে।

    • বৃদ্ধ হোক আর শিশুই হোক লিঙ্গে সে পুরুষ হলেই মাথা নষ্ট তাকে উঠিয়ে দিত্ব হবে। এটা মানবিকতার বিপরিত।এই মানবিকতার বললে আপনাকে একটা কথা বলি। আপনি বাসে আপনার বোন ও-বাবাকে নিয়ে উঠে দেখলেন একটা সিট খালি আপনি কাকে বসতে দিবেন? যেখানে আপনি শিশু-আপনার বাবা বৃদ্ধ আর বোন তরুণী? আমি নিশ্চিত আপনার বাবা বলবেন মেয়েকে বসতে আর মেয়ে বলবেন বাবাকে বসতে। যদি বাবা শক্ত সামর্থ্য হন তবে মেয়ে বসবেন আর বিপরীত হলে বাবা বসবেন। একটু মাথা ঠাণ্ডা করে ভাবলেই বুঝতে পারবেন…

    1. হ্যা কিন্তু আমি দেখেছি শক্ত
      হ্যা কিন্তু আমি দেখেছি শক্ত সামর্থ না হলেও সেই বৃদ্ধ বাবা দের উঠিতে হয় এই নিয়মের জন্য।

      সবাই এক না। ব্যতিক্রম আছেই।

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ উরবর্তিতে বাক যুদ্ধে দৃষ্টান্ত দিতে পারব আপনাই এই যুক্তি টুকু

      1. যুক্তি আমলে নেয়ার জন্যে
        যুক্তি আমলে নেয়ার জন্যে :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
        মনে রাখবেন যুক্তিতেই মানবতার মুক্তি…

  5. মহিলাদের জন্য অবশ্যই সংরক্ষিত
    মহিলাদের জন্য অবশ্যই সংরক্ষিত আসন রাখা উচিত এবং তার যথাযথ ব্যবহার করাও উচিত কিন্তু কয়জনে বা করে ………!!!

  6. মহিলা সিটে বসি না, একবার
    মহিলা সিটে বসি না, একবার ঘারানি খাইসি, আর খাইতে চাই না, আমার জন্যে বাসের একদম পিছনের সিট আমি ফিক্সড কইরা রাখছি, পিছনে খালি পাইলে বসি, নাইলে বসি না 😛

  7. হুম… পোস্ট এবং মন্তব্য
    হুম… পোস্ট এবং মন্তব্য সবগুলোই পড়লাম। ভালো লাগলো…

    আসলে, আইন কখনও কোন সমস্যার সমাধান নয়। খুনের জন্য মৃত্যুদন্ডের শাস্তি থাকা সত্যেও প্রতিদিন মানুষ কারণে-অকারণে খুন হচ্ছে…
    হ্যাঁ, আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয়তো সমস্যা কিছুটা লাঘব করে। কিন্তু আসল ব্যাপার হচ্ছে সচেতনতা। আমরা যদি প্রত্যেকের বিবেকটাকে সামনে নিয়ে এসে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই তাহলে সমাজে এমন অনেক সমস্যার জন্মই হতো না।
    🙂

    https://istishon.blog/node/3018

  8. সিট নিয়ে অনেকেই যুক্তিবিদ্যার
    সিট নিয়ে অনেকেই যুক্তিবিদ্যার প্রয়োগ করে! তাই হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে মহিলাদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 80 = 84