সৌদিতে সত্যিই যদি শয়তানকে ঢিল মারা হত, তবে সৌদিতে পুরুষ বিলুপ্ত হয়ে যেত ৷

সৌদিতে গিয়ে যদি সত্যিই ঢিল মারা হত তবে সৌদি হতে পুরুষ বিলুপ্ত হতো, সঙ্গে কিছু নারী ও কমত ৷ কিন্তু শয়তান গিয়ে শয়তানকে ঢিল মারবেনা, তারা অন্ধকারে ঢিল মারবে আর মনে মনে শান্ত্বনা শয়তানকে মেরেছি ৷ আসলে শয়তানকে মেরেছি নয়, শয়তানি করেছি ৷ এই শয়তানির একটা খেতাব আছে আর তা হলো হাজী ৷ হজ্ব করলেই হাজী ৷ সারাজীবন টাকা জমিয়ে শয়তানি করে সৌদি সরকারকে দেয়ার আরেক নাম হাজী ৷ ইহুদির তৈরী বিমানে চড়ে হজ্ব করলে কি হজ্ব কবুল হবে ? এই প্রশ্নে গেলাম না ৷

আমাদের ইয়াবা সম্রাট বদির কথাই ধরা যাক ৷ যখন ইয়াবা নিয়ে প্রশাসনের খেলা শুরু হলো ঠিক তখনই শোনা গেলো বদি সৌদিতে হজ্বে গেছেন ৷ তারতো সব গুনা মাফ ৷ একটু যদি খেয়াল করি যখন ইয়াবা দমন শুরু, তখন বদি সৌদি, যখন প্রসাশন দমে গেলো সে বাংলাদেশ ৷ কথায় আছে চোরকে চুরি করতে বলে গেরস্তকে বলে সজাগ থাকো ৷ ২০১৪ সালের অক্টোবরের দিকে যদি তাকাই তবে আওয়ামির মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে সব হারাতে হয় তাবলিক জামাত এবং হজ্ব নিয়ে বলার কারণে, যার জন্য বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বড় ভাইয়ের হয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন ৷ ২০১৮ তে এসে মার্চ মাসের দিকে মোশাররফ করিমকে ক্ষমা চাইতে হয় পোষাক ধর্ষণের কারণ নয় বলায় ৷ পোষাক যারা খুলে নেন তাদের কাছেই এই ক্ষমা প্রার্থনা ৷ যেমন সৌদিতে আমাদের মেয়েরা শালিন পোষাকই পরেন কিন্তু নবীর দেশের লোকেরা দিনের পর দিন কাপড় খুলে ধর্ষণ করেন ৷ একই ঘরে দাদা, বাবা, নাতি একই মেয়েকে ধর্ষণ করে ৷ পোষাক খুলে ধর্ষণ করে পোষাক শালিনতার নজির যেমন নবীর দেশের লোকের তেমনি সারা বিশ্বে নবীর অনুসারিগণের ও ৷ ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবরের দিকে যদি তাকাই তবে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় বাউল শামছুল হক চিস্তীকে মেরে ক্ষমা চাইয়েছেন নবীর অনুসারীরা ৷ মাহফিলের দিকে যদি যাই তবে বলার বাকী নেই, তারাতো কোপাবে বলেন, দেশ হতে তাড়াবেন বলেন ৷ নমিনেশন নিয়ে শোনা গেলো চিত্র নায়ক ফারুকের নমিনেশন বাতিল হয়েছে শুধুমাত্র “ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরা দেশ স্বাধীন করিনি” বলার কারণে ৷ দেশ প্রধানের দিকে যদি তাকাই তবে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে যখন চ্যালেঞ্জ করেন ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে পারলে পদত্যাগ করবেন, ঠিক ২০১৮ সালের শেষদিকে ভোটের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেন- নবী নিয়ে কথা বললে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না ৷ অসম্প্রদায়িক যদি হতেন তবে হিন্দু বৌদ্ধ সবার কথা আসত, কিন্তু তিনি সাচ্চা মুসলমান ৷ ২০১৭ সালের মার্চে শিক্ষাগুরু শ্যামল কান্তিকে ছাত্র/ছাত্রীর সামনে কান ধরে উঠবস করান সেলিম ওসমান, অপরাধ ঐ একই যদিও শিক্ষা এ দেশে কান ধরে খত দিয়েছে অনেক আগে ৷ এই যে এতসব কিছু, তাহলে আসল শয়তান কে ? শয়তানের অনুসারিরা কি হয় ?

একটা কথা মনে পড়ে গেলো ৷ আমি একদিন কিছু মোমিনার সাথে তর্ক করছিলাম পোষাক স্বাধীনতা নিয়ে ৷ তারা বার বার বলছিলো নারীর সম্মানের কথা যা তাদের ইসলামই দিয়েছে একমাত্র ৷ তারা বোরকা নেকাপ হিজাবের পক্ষে ৷ তর্কের ফাঁকে তারা গালাগালি করছিলো তাও আমাকে না! আমার মা বোনকে ৷ আমার মাকে মাগি বেশ্যা বলছে আর আমাকে বলছে ছেলে বাচ্চা ৷ তারা বুঝতেই পারছে না যা নিয়ে তর্ক ! তারা তাকে এবং স্ববিরোধী হয়ে নিজেরা নিজেদের অপমান করছে ৷ আমি এক ফাঁকে তাদের আইডিগুলো দেখছিলাম ৷ হাসলাম খুব ৷ যারা আমার সাথে বোরকা হিজাব নেকাপ এসব নিয়ে তর্ক করছে সেই তারাই আইডিতে টি শার্ট জিন্স পরা ছবি, চুস পেন্ট পরা ছবি দিয়েছে ৷ একটাও হিজাবি না ৷ অন্যদিকে যেখানে ইসলামে ছবি তোলাটাই হারাম সেখানে তারা আরামে ছবি দিচ্ছেন ৷ ভাবলাম এই আমি কাদের সাথে তর্ক করছি ? এজন্যই প্রথমে বলতে গিয়ে পুরুষ বিলুপ্তির পাশাপাশি নারী টানতে হলো ৷

২০১৮ সালের ১৯ জুন খবরের পাতায় ভেসে উঠে, সৌদি আরবে নারী ধর্ষণ নির্যাতন নিয়ে যেসব অভিযোগ তা মিথ্যে, এসবের কিছুই বৈদেশিক ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি জানেন না, এসব তার কানে আসেনি ৷ ওনার কানে আসার কথা ও নয় ৷ উনার কানে আসবে চট্টগ্রামের ব্যবসা, বাহির সিগন্যালের অপজিটে এক চোখের বিশাল আবাসিক গড়ার জমি, চন্দনাইশের দোহাজারির পূর্ব দিকে লালটিয়ায় কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জমি, বাগান, রেডক্রো ফার্ম, শিপ সহ দেশে বৈদেশের হাজারো ব্যবসার খবর, জবর দখল এসব ৷ ২০১৮ এর জুলাইয়ে তিনি আবার বললেন সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীরা সুখেই আছেন, অথচ প্রায়ই নারীরা এসে তাদের নির্যাতনের কথা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন ৷ প্রশ্ন এখানেই হয়, আসলেই কি শয়তানকে ঢিল মারা হয় ? নাকি শয়তানরাই সব সময় ঢিল মেরে গেলো ?

একজন মুসলমান এটা কখনোই স্বীকার করতে রাজী হয়না যে সৌদি একটা নোংরার আঁতুরঘর পাছে ধর্মে আঘাত লাগে বলে ৷ তারা অপবিত্র বলতে পারেন না কারণ কোরান তাদের চোখে, মুখে, কানে সীলমোহর মেরে দিয়েছে আর শক্ত করে দাড় করিয়েছে লিঙ্গ, যে লিঙ্গের উপর দাড়িয়ে পুরুষ ৷ যাদের নিচে দন্ড, দন্ডের মাথায় মগজ ৷ সরকার যেহেতু শুধু নবীর কথায় বলেছেন সেহেতু হুজুরের বয়ানে অন্য ধর্মের মূর্তি ভাঙা, মন্দির ভাঙা, উচ্ছেদে আর কোন প্রতিবন্ধকতা রইলো না এবং সেটাই হয়ে আসছে ৷ মুক্ত ভাবে মাইকে বয়ান দিচ্ছে কোন সমস্যা নেই, প্রসাশন কিংবা সরকারের ৷ যত সমস্যা নাস্তিকরা বললে, হিন্দুরা বললে, বৌদ্ধরা বললে, পাহাড়িরা বললে ৷ মাইকে না বললেও সরকারের ৫৭ এর কান পাতলা ৷ এ পর্যন্ত সরকার ধর্ষণে কোন কঠিন হুশিয়ারি দেয়নি, কঠোর বয়ান ঝাড়েনি, জোরালো কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি কিন্তু বড় গলায় নবীরটা ঠিকই বলেছে ৷ প্রতিটাদিন ধর্ষণ লেগে আছে কিন্তু সরকারের মুখে হাসি আর বিটিভির শান্তি ৷ এই যে সবাই মা মা করে, আমার প্রশ্ন এটাই কি মায়ের বৈশিষ্ট্য ? এই কি সেই মা যার ক্ষমতা থাকতে সন্তানকে প্রতিদিন ধর্ষিত হতে হয় ?

সৌদিতে নারী ধর্ষণের কথা যদি হুজুরদের বলা হয়, তবে প্রথমত স্বীকার করবে না ৷ যদি স্বীকার করতে বাধ্য হতে হয় প্রমাণের কারণে, তবে তারা বলবে নারী বাইরে গেলো কেনো ? নারী ঘরে থাকবে এবং এরা এটাই বলে আসছে যেখানে সম্মতি থাকে ধর্ষণের নারী বাইরে গেলে ৷ ঘরে কি রেহায় পায় ? তারা সৌদিকে পবিত্র রাখতে ধর্ষণের তালিকা বের করেন ৷ তখন ইউরোপের দেশগুলোকে এগিয়ে রাখেন, আর শরিয়া আইনের কথা বলে সৌদিকে রাখেন পাক-পবিত্র ৷ ইউরোপে নারীর যে বাক স্বাধীনতা, মুখ খোলার অধিকার, শুধু লিঙ্গ যোনিতে ধ্বসানোর নাম সেখানে ধর্ষণ নয় এগুলো তারা তুলেন না ৷যেখানে ধর্ষিত হলে বলা যায়না, মামলা করা যায়না, গুম করে ফেলে, হুমকি দিয়ে বোবা করে দেয়, বলতে গেলে মা মেয়ে সব এক সাথে ধর্ষণ করে আবার তাদেরই দোষি বানায়, সে দেশের সাথে তুলনা করে ঐ দেশগুলোর ৷ আমি জানিনা “যৌন হয়রানি” প্রথমে কে বলেছিলো ৷ যৌন, যৌনতা এসব কি আসলেই ধর্ষণ, পীড়ন, শোষণ, নিপীড়ন, জোর, হয়রানি এগুলোর সাথে যায় ? যদি না যায় তবে যৌন হয়রানি বলার কারণ কী!? যাই হোক আমাদের দেশে যখন পেটের দায়ে সৌদি গিয়ে একটু সুখের আশায় অসুখ নিয়ে সৌদি হতে নির্যাতিত হয়ে প্রেগন্যান্ট হয়ে আসেন তখন অনেক নারী মুখের উপর সেই মেয়েকেই তুচ্ছ করেন আরাম কেদারায় বসে ৷ সৌদি যেতে পুরুষ ব্যবহার করেন নারী দালালদের যারা বুঝিয়ে সুজিয়ে পাঠায় আর ঐ সৌদি নামক আর্বজনায় নিক্ষেপ করে ৷ এরা সবাই সুখে আছে ৷ তাহলে সৌদিতে গিয়ে ঢিল কি সত্যিই শয়তানকে মারা হচ্ছে ? না! সত্য এটাই শয়তানরা ঢিল মারছে সুস্থ্য সমাজকে, অসহায় দূর্বলকে, মানুষের উন্নয়ন সহ উন্নতিকে, সর্বোপরি মানুষকে ৷ ইয়াবা বাবা, ধর্ষক, খুনি, দখলদার, চোর, ডাকাত, লুটতরাজ, অত্যাচারি, শোষক সবাই ওখানে গিয়ে হাজী , সবার সাধু আস্তানা ওটাই ৷ শয়তান সব এক সাথে জুটলে পাথরতো ছুড়বেই ৷ শয়তানির বাই কোথায় যাবে ? ৯০ দশকে ও ধর্ষণের বেলায় বাংলাদেশে শরিয়া আইন বিরোধী নাটক হত ৷ যেখানে বলা হত শরিয়া আইনে গেলে এই বদমাইশের বিচার হবেনা, চারজন সাক্ষি কই পাবো ? সাক্ষি রেখেতো কেউ ধর্ষণ করে না! সেদিন কেউ প্রতিবাদ করেনি ঐ নাটকের বিরুদ্ধে কিন্তু আজ হলে ঐ নাটক গায়েব করেতো দিবেই তার উপর ক্ষমা চাইতে হবে নয়তো গলা কাটবে অথবা মেরে রক্তাক্ত করবে, ক্ষমা চািতে হবে প্রাণের জন্য ৷ মোট কথা শয়তানরাই শয়তানি করতে যায়, ওখানে শয়তানকে ঢিল মারা হয় না বরং শয়তানকেই মুকুট করা হয় ৷ নইলে কি আর শয়তান গিয়ে হাজি হয়ে ফিরে আসে ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 66 = 71