আসুন, ধর্ষণের খবর গোপন রাখি!

ফেসবুকে বন্ধু তালিকার বহু কাছের মানুষদের অভিযোগ প্রতিদিন আমি তাদের সকাল নষ্ট করি। প্রতিদিন সকালে তারা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে দেশের উন্নয়নের খবর দেখতে চায়— দেখতে চায় বিনোদন বিভাগের নানা খবর। কিংবা কখনো আবার চায় সেফুদা, হিরো আলমের মত দেশের খ্যাতিমান কমেডিয়ানদের ভিডিও আপডেট। কিন্তু আমার ফেসবুক একাউন্টটা তাদের সকাল নষ্ট করে। সকালের শুরুতেই দেখতে হয় আমার একাউন্ট থেকে শেয়ার করা ভয়াবহ কিছু ধর্ষণের খবর। অনেকের ভাষ্যমতে আমি আমার ফেসবুক একাউন্টটা ধর্ষণের খবরের পেইজ হিসেবে ব্যবহার করি। বহুবার শুনতে শুনতে বেশ বিরক্ত হয়ে গেছি। আজ আমি একটা সুন্দর সকাল শুরু করব, সবার সকাল আজ সুন্দর কাটবে, সাথে আমারও। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে সকাল সকাল চা আর সিগারেট নিয়ে যুগান্তরে চোখ রাখলাম। দেখি কোন উন্নয়নের খবর পাওয়া যায় কি না যা ফেসবুকে প্রকাশ করে বন্ধু তালিকার অনেকের সকাল সুন্দর করে তুলব। মনোযোগ দিয়ে চোখ রাখলাম পত্রিকার পাতায়।

প্রথম পাতার প্রথম খবর বড় বড় অক্ষরে লিখা “তৈরি হচ্ছে কর্ম পরিকল্পনা, লক্ষ্য নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন”। এসব খবর আসলে আমার পূর্ব পরিচিত। বারবার দেখতে দেখতে পাবলিকও অভ্যস্ত, বাস্তবায়নের আগে প্রচারণা চালিয়ে লাভ নেই— হাইলাইট হয় বেশী, বাস্তবায়ন হয় কম। আছে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির সংবাদ। এসব কোটি টাকার দুর্নীতির খবর কোটি টাকায় রফা হয়ে যাবে, কেউ জানতেও পারবে না। কিছু জঙ্গি আটকের খবর আছে তবে জঙ্গিদের নিয়ে লিখতে গেলে জঙ্গিবাদ বা জঙ্গি কেন হয় এসব নিয়ে আলোচনা করতে মন চায়। কিন্তু এসব ব্যাপার নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে গেলে এমন কিছু কথা মাঝেমধ্যে উঠে আসে যা আমার মুমিন ভাইদের অপছন্দ। তাছাড়া আমার মুমিন ভাইদের অপছন্দের কথা লিখলে কবে আবার আমাকে জঙ্গি বানিয়ে চালান করে দেয় বলা মুশকিল— দূরে থাকি। দ্বিতীয় পাতায় আসতেই শুরুতে শেয়ার কেলেঙ্কারির দায়ে কার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে দুদক, সে বিষয়ক সংবাদ। এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে মানা, সরকার প্রশাসন, দুদক আমি বাপু এসবের ধারে কাছে নাই। এসব নিয়ে সমালোচনা মানে রাষ্ট্রদ্রোহীতা, নমঃ নমঃ । তারপর আছে বিভিন্ন দলের নামে ছাত্রদের কুপাকুপির খবর, ওদিকে তাকাতেও বড্ড ভয় লাগে। এরপর দুটো লিখা দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম, “অপহরণের তিনদিন পর শিশুর লাশ উদ্ধার” এবং “বাকী না দেয়ায় শিশুর গায়ে গরম পানি”। তারপর আরেকটি খবর, “পরীগঞ্জে স্কুল ছাত্রীকে ৫ দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ”। প্রথমত খবরটা ইগনোর করতে চাইলাম, কি দরকার বাপু, দেখলেই মনে হবে ব্যাপারটা শেয়ার করি, হয়তো কোনভাবে আরেকটু সচেতন হবে পাবলিক। তাছাড়া অনেক বিশিষ্ট মহাজ্ঞানীর ভাষ্যমতে ১৭-১৮ কোটি মানুষের দেশে দুই একটা ধর্ষণ তো স্বাভাবিক— বাদ দিই না! পাতা উল্টাতে উল্টাতে মনে হল, নাহ থাক আমি নিজে দেখি, ফেসবুকে শেয়ার না করলেই তো হল! পড়তে শুরু করলাম।

গণধর্ষণের শিকার মেয়েটি ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে রাস্তার পাশের একটি বাসায় ঢুকে শৌচাগার ব্যবহার করতে। তারপর তাকে কৌশলে আটকে রাখা হয় ৫ দিন এবং গণধর্ষণ চালায় নরপিশাচরা। অবাক করা ব্যাপার হল মেয়েটিকে আটকে রাখতে সহায়তা করে ওই বাসায় থাকা আরও দুই নারী!

এই মুহূর্তে ইচ্ছে করছে ফেসবুকে ঘটনাটা শেয়ার করতে, অন্তত কিছু নারী যদি এতটুকু সচেতন হয় যে, শৌচাগার ব্যবহারের জন্যও অপরিচিত কারও বাসায় যাওয়া ঠিক হবে না। কিন্তু নাহ, থাক— আজ আমি কারও সকাল নষ্ট করব না।

তারপর কয়েকটি পাতা কেটে গেল বিএনপির এতশত ভুল সিদ্ধান্ত, বিশিষ্টজনদের বয়ান, কখনো আছে কক্সবাজারে ইয়াবা সম্রাট খুঁজে পাওয়ার তথ্য। মাদক নিয়ে অবশ্য এদেশে আমাদের আর ভাবনা চিন্তার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। আমাদের শ্রদ্ধেয় জন দরদী নেতা সাবেক সংসদ সদস্য বদি ভাই যেহেতু নিজে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ধরার চেষ্টা চালাচ্ছেন, সেখানে বলাই যায় শীঘ্রই দেশ ইয়াবামুক্ত হবে, ইনশাল্লাহ। এরপর আরও কয়েক পাতা কাটল বিভিন্ন বিজ্ঞাপন, কখনো কবিরাজের হালুয়ার ক্ষতিকর দিক (কবিরাজের নয়), কখনো পায়ুপথের রোগ নিয়ে উপদেশ, কখনো আবার বিলেতের সংবাদ। বিনোদন বিভাগে (আনন্দ নগর) দেখলাম বিভিন্ন তারকাদের লাইফস্টাইল, বক্তব্য নিয়ে অনেক কিছু লিখা। প্রথমত তারকাদের লাইফস্টাইল নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নাই। উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও সেলিব্রিটিদের লাইফস্টাইল ফলো করে চলার মত অবস্থা বা ইচ্ছা কখনো ছিল না। তাছাড়া সেলিব্রেটিদের একটা ধরো একটা ছাড়ো এবং এসব নিয়ে মাতামাতি মার্কা কাজ-কারবারের জন্য তাদের অধ্যায়টা খুব একটা দেখি না, পছন্দ হয় না। আরও কয়েক পাতায় খেলার সংবাদ, নানা রকম শব্দ খেলা, কৌতুক, রং বেরং এর ছবি— আরও কত কী!

দেখতে দেখতে আবার চোখে পড়ল একটি ধর্ষণের ঘটনা। এই নিয়ে দুটি হল! নাহ এটা ব্যাপার নাহ কোন। পড়ে দেখি, শেয়ার করব না।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা করে নাজমুল নামের এক যুবক। ছোট মেয়েটিকে ২০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ইয়াবা ও গাঁজা আসক্ত পিশাচ তাকে নিজ বাড়ির স্টোর রুমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের খবর যাতে প্রকাশ না হয় তাই শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
ইচ্ছে করছে ঘটনাটা শেয়ার করি ফেসবুকে, অন্তত কিছু মা কিছু বাবা তো সাবধান হবে, তাদের মেয়ে শিশুটিকে সবসময় নজরে রাখবে, আগের চাইতে আরেকটু সচেতন হবে। কিন্তু নাহ থাক, এমন সংবাদে কারও কারও সকাল নষ্ট হবে।

পরের পাতায় রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় ৪৫ বছরের পিশাচ কর্তৃক ২ বছরের শিশু ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনা নিয়ে কিছু আপডেট আছে। কিন্তু এটা তো পুরাতন ইস্যু, প্রায় ১৫ দিন হয়ে গেছে ঘটনার, এসব খবর এখন আবার নতুন করে উল্লেখ করে কারও বিরক্তির কারও হওয়া ঠিক হবে না।

মধ্যে একটা পাতায় পাত্র পাত্রীর বিজ্ঞাপন পেলাম। দারুন দারুন সব অফার! কেউ সৎ ধার্মিক পাত্র চায়, কেউ পাত্রী। কোন কোন ডিভোর্সি/ বন্ধ্যা ইউরোপ আমেরিকা নিয়ে যাওয়ার এবং মোটা টাকা দানের আশ্বাস দিয়েও পাত্র চায়। কেউ বয়ষ্ক পাত্র চায় কেউ চায় কচি! এগুলো অবশ্য ফেসবুকে শেয়ার করা যায়। একাউন্টে বহু কাঙ্গাল আছে, ভেবেছি সামনের দিনগুলোতে এসব খবর প্রকাশ করব। এই শীতে আমার প্রচারণার বদৌলতে কিছু কাঙ্গাল যদি বউ পায়, তো ক্ষতি কি! আইডিয়াটা দারুন না?

পরের পাতায় আবার একটা খবর আমাকে থামতে বাধ্য করল। টাইটেলে লিখা, “ফেনীতে শিশু ধর্ষণ”। আচ্ছা পড়ি আমি, কোথাও শেয়ার করব না।
ফেনীর জয়লস্করে ৪ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর! মেয়ে শিশুটি তার মায়ের সাথে নানার বাড়িতে বেড়াতে যায়, এবং তখন ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর তাকে গান শোনানোর কথা বলে দূরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে!

এই খবরটা অন্তত শেয়ার করা উচিত। অনেক মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না যে ১৫ বছর বয়সী একটা কিশোরও ধর্ষণ করবে! ঘটনাটা শেয়ার করলে অন্তত কিছু মানুষ বুঝতে পারবে, একটি অল্প বয়সী কিশোরের কাছেও আপনার শিশুটি নিরাপদ নয়, একটু সচেতন হবে, সাবধান হবে। কিন্তু নাহ, আজ আর কারও সকাল নষ্ট করব না।
পরবর্তী পৃষ্ঠায় যেতেই আবার একটা কলামে আটকে গেলাম। টাইটেল, “মুলাদীতে শিশু ছাত্রী ধর্ষণ”। আচ্ছা পড়ি, গোপন রাখলেই হল।
মুলাদীতে ৩য় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে দুই যুবক, দুই পিশাচ। পিশাচদের পরিবার আবার ব্যাপক প্রভাবশালী, ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা।
নাহ নাহ, ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী, এমন ঘটনা মানুষ শেয়ার করে! থাক, সকালটা নষ্ট না করি।

দেখতে দেখতে শেষের পাতার আগের পাতায় চলে এলাম। কিন্তু এখনও থামতে হচ্ছে! একই পৃষ্ঠায় আরও দুটি ধর্ষণের খবর! পড়ি, গোপন করে ফেলব, সমস্যা নেই।
শ্রীমঙ্গলের আশিদ্রোন ইউনিয়নের বিলাসেরপার এলাকায় ৩য় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে তার আপন ফুফা ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণ করে মেয়েটির হাতে ৫১০টাকা ধরিয়ে দিয়ে কাউকে না বলতে হুমকি দেয়।
এই নিউজটা শেয়ার করা জরুরী! কিছু মানুষ সাবধান হবে, বুঝতে পারবে যে আপন রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়টির কাছেও তার শিশুটি নিরাপদ না। কিন্তু নাহ, আমি আর কারও দিন নষ্ট করতে চাই না।

তারপরের ঘটনাটিতে চোখ রাখলাম-
আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বাক-প্রতিবন্ধী এক সাঁওতাল নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। রাতে বাড়ি ফেরার পথে ওই পিশাচ মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।
এই ঘটনাটা শেয়ার করব না, লজ্জা লাগছে এই ভেবে যে আমিও একজন পুরুষ।

অবশিষ্ট রইল শেষের পাতা। এতক্ষণের সব খবর মাথায় ঘুরছে, চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। আর কোন ধর্ষণের খবর থাকার কথা নয়। আর নিতেও পারব না— খারাপ লাগছে ভীষণ। শেষ পাতায় গেলাম, কিন্তু হায়! যন্ত্রনাগুলো দিল না মোরে পলায়নে অবকাশ! আবার একটি ধর্ষণের খবর! পড়তে শুরু করলাম।
মাদ্রাসার শিক্ষক কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ! মাদ্রাসার শিক্ষক মেয়েটিকে গাইড বই দেয়ার কথা বলে নিয়ে যায় মাদ্রাসা সংলগ্ন নিজ বাড়িতে এবং সেখানে তাকে মুখ চেপে ধর্ষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে দিয়ে যায়। মুমিন ভাইরা তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার আগেই বলছি, বরগুনার সদর উপজেলার সাহেবের হাওলা রাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক সে, চাইলে খোঁজ নিন।

মোট আটটা ধর্ষণের খবর উঠে এসেছে আজকের যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণ ই-পেপারে। একটা পেপারে সব জায়গার সব সংবাদ কাভার করা সম্ভব বলে আমি মনে করি না। তাহলে এই কমন ঘটনাগুলো বাদ দিয়ে বাকী সব সংবাদ মাধ্যম খুঁজলে এর সংখ্যা কত দাঁড়াতে পারে পাঠকরা নিশ্চই এতক্ষণে ধারণা করতে পারছেন। নতুন বছরের সাথে সাথে দেশে যেন ধর্ষণের মহা উৎসব লেগে গেছে। যা সংবাদ পাচ্ছি তার মাঝে বেশীরভাগই শিশু ধর্ষণের ঘটনা। কিন্তু এসব ঘটনা শেয়ার করা যাবে না। শান্তিপ্রিয় বাঙালি সকালে উঠে চায়ের সাথে উন্নয়ন গিলতে চায়, তারা চায় বলিউড হিটস নিয়ে মেতে থাকতে। তার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনাগুলো এড়িয়ে চলাই ভাল। আশ্চর্য হবার মত কথা হল, আমাকে আজ অবধি যারা ধর্ষণের ঘটনাগুলো শেয়ার করতে নিষেধ করেছে তাদের মধ্যে বেশীরভাগ নারী! আমি সত্যি অবাক, তারা কিভাবে পারে! বাঙালি নারী আজ শুধু নিজেকে চিনে। তার পাশের বাড়ির মেয়েটার কি হল সেটা ভাবার সময় নেই। নিজে তো ভাল আছে আর কি লাগে!

মানুষ যে বর্তমানে খবরের পাতার চাইতে ফেসবুকের পাতায় বেশী চোখ রাখে এতে কোন সন্দেহ নেই। হ্যাঁ, আমি মানছি আমি সহ যারা ধর্ষণের ঘটনাগুলোকে ফেসবুকের মাধ্যমে হাইলাইট করার চেষ্টা করে, আমাদের একটা পোষ্টে হয়তো সেই ধর্ষিতা নারীর কিছুই যাবে আসবে না। কিন্তু আমাদের পোষ্ট দেখে শান্তিপ্রিয় বাঙালি যারা সকালটা শুরু করতে চায় এক কাপ চা আর উন্নয়নের চিত্র দেখে, তারা আসলেই বুঝতে পারবে যে এদেশে কি চলছে। পোষ্টটা দেখে রাতে বাড়ি ফেরা মেয়েটা আর একটু সতর্ক হবে। আমাদের এই বিরক্তিকর পোষ্টটা দেখে একটি মা তার মেয়ে শিশুকে স্কুলে কিংবা প্রাইভেটে পড়তে দিয়ে কাছে বসে থাকবে। আমাদের এই পোষ্টটা দেখে একজন স্বামী কাজ শেষে নিজের স্ত্রীকে তার অফিস থেকে নিয়ে আসতে যাবে। আমার এই জঘন্য পোষ্টগুলো দেখে কিছু মেয়ে আত্মরক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা নিবে। কিছু বিবেকবান ছেলে, বুড়ো চোখ কান খোলা রাখবে আশেপাশের ঘটতে যাওয়া একটা ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে। অনলাইন এক্টিভিস্ট হিসেবে এই মুহূর্তে ন্যূনতম প্রতিরোধের জন্য হলেও এই খবরগুলো প্রচার করা আমি দায়িত্ব মনে করি। তাই এই সংবাদগুলো গোপন করে ফেসবুকে আনন্দ করতে আসা অন্তত লেখক, ব্লগার, অনলাইন এক্টিভিস্টদের পক্ষে সম্ভব না। তাতে কতিপয় ব্যক্তিবর্গের সকাল নষ্ট হলে কিছু করার নেই।

জানেন, ভাবতে অবাক লাগে এই কি ৭১-এর বাঙালি! পাকিস্তানিদের এত বর্বর ধর্ষণেও কি শেষ হয় নি এই ধর্ষণ নামক আর্তনাদের অধ্যায়! আজ নারী শিশু ঘরে বাইরে কেউ নিরাপদ নয়। রাতে অফিস শেষ করে বাড়ি ফেরা সংসারের হাল ধরা মেয়েটি আজ নিরাপদ নয়। আমাদের আশেপাশের ছোট মেয়ে শিশুগুলোর বেড়ে উঠার কোন নিশ্চয়তা আজ নেই। চায়ের দোকানে কাজ করতে থাকা ছোট্ট মেয়ে শিশুটিকে দেখে মনের অজান্তেই হঠাৎ একটা ভয় কাজ করে, সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে তো ও?
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কতটা খারাপ, এটা জেনেও যারা চুপ থাকে, যারা চুপ থাকতে বলে, যারা চায় এসব সংবাদ প্রকাশ না করে আমরা হিরো আলম, সেফুদার মত পাবলিকদের নিয়ে মাতামাতি করি, তাদের জন্ম পরিচয় নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। এদেশে একটা প্রতিবন্ধী নারীরও মুক্তি নেই! হায় মানবতা! হায় মানুষ!!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 21 = 28