কৌশলে ইজারা নিয়ে হাওরের মৎস্য সম্পদের একচেটিয়া অধিকার ভোগ করছে মুষ্টিমেয় কিছুু মানুষ।

ছয় মাস কৃষিজমি ছয় মাস জলাভূমি এমন বৈশিষ্ট্যপূর্ন সুবিশাল ভূখণ্ডের নাম হাওর,তবে প্রাকৃতিক কারণে এক দেড় মাস এদিক সেদিক হওয়ার ঘটনা ঘটে।হাওরের অধিংকাশ ভূমিই ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্রতি বছর হেমন্তের শুরু থেকে হাওরের পানি শুকিয়ে শুকিয়ে কৃষি জমিতে রুপান্তরিত হয়।সুবিশাল হাওরের কৃষি আবাদযোগ্য ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমি গুলোতে হাওর পাড়ের কৃষকেরা চাষ সেচ বপন রোপনের মাধ্যমে উৎপন্নকৃত ফসল ঘরে তুলে।কৃষিজাত ফসল ঘরে তোলার পরপরই কৃষিজমি গুলো ডুবে গিয়ে সুনীল জলরাশি বা জলাভূমিতে রুপান্তরিত হয়ে যায় হাওর।প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায় বছরই অকালে আগাম বন্যায় ফসল ডুবে;কালেই হোক আর অকালেই হোক সমস্ত হাওর জলরাশি বা জলাভূমি হয়ে গেলে হাওরের ভূমিপুত্রদের কোনও অধিকার থাকে না;কৌশলে লীজ বা ইজারা নিয়ে সমস্ত হাওরের মৎস্য সম্পদের একচেটিয়া অধিকার ভোগ করতে থাকে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ।

মৎস্য ও পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশের সর্ববৃহৎ দুই একটা হাওর রামসার সাইটে পরিণত হয়ে লীজ বা ইজারা মুক্ত হয়েছে ঠিকই তবে বাদবাকি হাওর গুলো লীজ বা ইজারা থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে নাই।

নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য নির্দিষ্ট অংকের অর্থ শর্তানুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা প্রদানের মাধ্যমে নিবন্ধিত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি সংগঠন গুলো জলমহালের মৎস্য সম্পদ আহরণ করার যে অধিকার প্রাপ্ত হয় এটিই মূলত ইজারা ব্যবস্থার মূল কথা।

মোগল শাসন আমলেও ইজারা বা লিজ প্রথা প্রচলিত ছিল পর্তুগিজ বণিকেরা এই উপমহাদেশে ভূমি ইজারা নিয়ে একচেটিয়া সুফল ভোগ করার নজীর আছে।বাঙলাদেশে জলমহাল ইজারা দেওয়া নেওয়ার আইনটি এখন পর্যন্ত বলবৎ আছে এই বিষয়টি আমার মাথা ব্যাথার কারণ নয় তবে সঠিক নিয়ম কানুন অনুযায়ী ইজারা দেওয়া নেওয়া হয় কি না এই বিষয়টি আলোকপাত করাই লেখনীর মূল উদ্দেশ্য।

যে সকল জেলাগুলিতে ইজারা যোগ‌্য জলমহাল রয়েছে সেইসকল জেলার ডিসি অফিস থেকে শর্ত সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জলমহাল লিজ বা ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।সরকারী জলমহাল নীতিমালা ২০০৯ উল্লেখিত সংজ্ঞা ও যোগ্যতা যাচাই শেষে নিবন্ধিত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি সংগঠন গুলো ইজারা লাভ করে।

ইজারাপ্রাপ্ত নিবন্ধিত মৎস্যজীবী সংগঠন গুলোর সদস্য অধিকাংশই ভুয়া,ওরা এলাকার নামকরা দাঙ্গাবাজ বিদায় কাগজে কলমে মৎস্যজীবী বানাইয়া ফায়দা লুটে হাতেগোনা এলিট শ্রেণীর কিছু সংখ্যক মানুষ।হাওর এলাকায় যারা প্রকৃত মৎস্যজীবী তাঁদেরকে এলাকা ভেদে জাইল্যা মাইমল মাছ্ছুয়া জলদাস গোষ্ঠী বলা হয় তাঁদের মধ্যে কেউ জলমহাল ইজারা নিয়ে ইজারাদার হতে পেরেছে হাওরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত এমন নজীর সৃষ্টি হয়নি।

‘জাল যার জল তাঁর’ এই নীতি অনুযায়ী আইনানুগ পদ্ধতিতে নদী হাওর এবং বিলের মালিক এদেশের জেলে সম্প্রদায় অথচ বাস্তবে প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।বর্ষার শুরুতেই নদী ও বিল গুলোতে কড়া শাসন চলতে থাকে টাকার বিনিময়ে শাসন কার্যে ব্যবহৃত হয় সমাজসেবা অফিসের কাগজ কলমে নিবন্ধন প্রাপ্ত কথিত মৎস্যজীবী নামক দালালরা কথিত মৎস্যজীবীগুলো পরজীবী প্রাণী ওরা জলমহাল এলাকার আশপাশের মানুষদের কাছে পাহারাদার ও ফৈরল নামে পরিচিত।

বর্ষাকালে নদী ও হাওর গুলো যখন জলে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে জলাভূমি হয়ে যায় তখন হাওরের প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মাছ ধরা ছাড়া আর অন্য কোনো গত্যন্তর থাকে না।কড়া শাসনের তোয়াক্কা না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জলের মধ্যে রুটি রোজগারের সন্ধান খুঁজে হাওরের জলের মৎস্য সম্পদের প্রকৃত মালিক জেলেরা। কেউ শাসক গোষ্ঠীর গুলি খায় কেউ মামলা খায় কারো জীবন অকালে ঝরে তবুও ঘুম ভাঙ্গে না জেলেদের।

ঘুম পাড়ানির গান শুনতে শুনতে জানি না কবে ঘুমিয়েছিল জেলেরা,শুধু জানি ঘুম ভাঙানোর গানটি গেয়ে তাঁদের ঘুম ভাঙ্গাতে হবে।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of