সেই বিতর্কিত তসলিমা নাসরিন!!

শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্ব জুড়ে বেশ বিতর্কিত নারী চরিত্র ‘তসলিমা নাসরিন’৷ ব্যক্তিগতভাবে তাকে আমি চিনি না আর চেনার কোন প্রশ্নও উঠতে পারেনা, কেননা তিনি দেশ-ত্যাগী হন ১৯৯৪ সনে যখন আমি মাত্র তিন বছরের শিশু৷৷ লোক মুখে তার সম্পর্কে অনেক মন্তব্যই শুনেছি যার সব কয়টি ছিল তার বিপক্ষে৷৷ উনার সম্পর্কে জানতে বেশ আগ্রহী হয়ে পড়েছিলাম৷৷

কাকতালীয়ভাবে একটা সময়ের সম্মুখিন হয়ছিলাম আর সেটি ময়মনসিংহে আমার কলেজ জীবন৷৷ আমি যে মেসে উঠেছিলাম তার পিছনেই ছিল তসলিমা নাসরিনের প্রাক্তণ নিবাস৷৷ বর্তমানে সেখানে তার আত্মীয়-পরিজন থাকেন তবে তারা তসলিমার পরিচয় প্রকাশে নারাজ, বিষয়টা তার (তসলিমা) সম্পর্কে জানতে আমাকে আরো আগ্রহী করে তুলেছিল৷৷

ময়মনসিংহে আমার মামার বাড়ি থাকার সুবাদে বেশ কিছু মুরব্বিদের সাথে দাদু’র পরিচয়ে পরিচিত হয়েছিলাম, আর অন-লাইনে তসলিমা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিলাম৷৷ মোটামুটি আজ পর্যন্ত এতটুকুই জানতে পেরেছি,
》ব্যক্তি জীবনে উনি একজন ডক্টর (ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস)৷
》সাহিত্য চর্চা স্কুল জীবনে শুরু৷
》তিনবার তিন পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ এবং বিচ্ছেদ৷
》বেশকিছু কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস লিখেছেন তিনি৷

কথিত রয়েছে, তিনি কোরাণ ও হাদিস অবমাননা করে কথা বলতেন৷ লোক মুখে প্রচলিত, তার আলোচিত মন্তব্য ‘পুরুষরা দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে পারলে নারিরা পারবে না কেন’৷ নানাভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনায় তার বিরুদ্ধে মামলা এবং মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া হয়৷ পরবর্তিতে তিনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে কলকাতা এবং বর্তমানে সুইডিশ এ স্থায়ীভাবে আছেন৷৷

তৃতীয় বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি আর বিয়ে করেন নি৷ তার কোন সন্তান নেই৷ তার বেশ আলোচিত একটি আত্মজৈবীনিক রচনা ‘ফরাসী প্রেমীক’ এ প্যারিসে অবস্থানকালে একজন ফরাসী নারীর সাথে তার সমকামিতা প্রকাশ করেন৷ তার বেশ আলোচিত রচনার মধ্যে লজ্জা, নারীর কোন দেশ নেই, আমার মেয়েবেলা ইত্যাদি কাম যুক্ত৷৷ এছাড়াও অনেক বই প্রকাশিত হয়ছে৷৷
সর্বশেষ তিনি আবারো সমালোচনায় এসেছেন হজ্জ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে……..

“ভারতের এলাহাবাদে ধর্মীয় উৎসব কুম্ভ মেলায় পদদলিত হয়ে দুইজনের
প্রাণহানির ঘটনায় সত্যহারিয়ুম নামের এক টুইটার ব্যবহারকারী তার টুইট
বার্তায় লেখেন, ‘দেবতা কেন তাদের জীবন বাঁচাতে পারলো না?’
এর জবাবে তসলিমা নাসরিন টুইট বার্তায় লেখেন, ‘ আমারও একই প্রশ্ন-
হজ্জের সময়ও অনেক মানুষ পদদলিত হয়ে মারা যায়। তখন আল্লাহ তাদের জীবন বাঁচায় না কেন?”

হজ্জ নিয়ে এমন কথা বলেন বিতর্কিত এই লেখিকা। এর আগে একই
দিনে ফ্রি থট ব্লগ নামের একটি সাইটে তসলিমা নাসরিন বলেন, ‘২১
শতকে বিশ্বে ধর্মের কোনো স্থান নেই।’
তিনি এতে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রীজের ছাত্ররা কি বিশ্বাস করেন
২১ শতকে ধর্মের কেনো স্থান আছে? না কী তারা বিশপ রোয়ান
উইলিয়ামসকে সমর্থন দেয় শুধুমাত্র তিনি সুন্দর ও নরম ভাষায় কথা বলেন
বলে।
সম্প্রতি রোয়ান উইলিয়ামস ও রিচার্ড ডকিনস কেমব্রিজ ইউনিয়নে ‘২১
শতকে ধর্ম’ শিরোনামে একটি বিতর্কে অংশ নেন। রিচার্ড ডকিনস
বিতর্কে পরাজিত হন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘যেহেতু সময় এগুচ্ছে, ধর্মের টিকে থাকার স্থান ক্রমশ
সংকুচিত হচ্ছে। এখন উপযুক্ত সময় একে বাক্সবন্দি করা।’তিনি আরো বলেন,
তোমার বিজয়ের কোনো দাম নেই, যদি তুমি বিতর্কে সত্যকে অস্বীকার করে জিতে থাকো।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২০ thoughts on “সেই বিতর্কিত তসলিমা নাসরিন!!

  1. যিনি যতটুকু তার ততটুকুই
    যিনি যতটুকু তার ততটুকুই প্রকাশ করতে হয়৷ কিছু বাদ পরলে তাকে ভুলবশতঃ হয়েছে বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় কিন্তু অতিরিক্ত প্রকাশ করলে, বুঝেনই তো!!!!
    যাহোক, আমি তসলিমা পক্ষপাতি কিংবা বিরোধী নই…..

    আর চরিত্র ভাই, একটু কাছেই আসা যাক…..

  2. যেহেতু সময় এগুচ্ছে, ধর্মের

    যেহেতু সময় এগুচ্ছে, ধর্মের টিকে থাকার স্থান ক্রমশ
    সংকুচিত হচ্ছে। এখন উপযুক্ত সময় একে বাক্সবন্দি করা।’তিনি আরো বলেন,
    তোমার বিজয়ের কোনো দাম নেই, যদি তুমি বিতর্কে সত্যকে অস্বীকার করে জিতে থাকো…

    I to die you to live but what is better only future knows…

  3. পোস্ট টা পড়লাম জানা ছিল
    পোস্ট টা পড়লাম জানা ছিল কথাগুলা ।আপনি উপস্থাপন করলেন । কিন্তু তার মতবাদ এর পক্ষে বিপক্ষে আপনার অবস্থান ক্লিয়ার নাহ !! :ভাবতেছি: :ভাবতেছি:

  4. তসলিমা নাসরিন নিজেকে বিতর্কিত
    তসলিমা নাসরিন নিজেকে বিতর্কিত দেখতে পছন্দ করেন। এই পথেই খ্যাতি কুড়োতে গিয়ে একটি মেধার অপমৃত্যু হয়েছে। সেটা তসলিমা নিজেও স্বীকার করেছেন তার সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে। তবে বিতর্কিত লেখার কারনে দেশ থেকে তাড়ানো হবে এটাও মানতে পারিনা। রাজাকারদের চেয়েও বড় অপরাধী নিশ্চয়ই তসলিমা নাসরিন নন?

    1. সহমত… কিন্তু ডঃ সাব
      সহমত… কিন্তু ডঃ সাব রাজাকারদের কিছু অস্ত্র আছে যা গরীবদের কুপোকাত করে! যেমন ধর্ম আর অনুভূতি!! কিন্তু রুশদি-নারসিন’রা ঐ অস্ত্রটাকেই আঘাত করে বলে তাদের সাথে আলো ছাড়া কোন জনবল নাই…… আফসোস… তবে আশাবাদী!!

      1. মোল্লাদের আশকারা তো দেয়
        মোল্লাদের আশকারা তো দেয় শাসকশ্রেণীই। রাজনীতি আর ধর্মের মিশ্রন বড় শক্তিশালী মিশ্রন।

      1. এই দেশে রাজাকাররা গাড়িতে
        এই দেশে রাজাকাররা গাড়িতে পতাকা লাগায়ে ঘুরে। আর তসলিমা নির্বাসনে থাকেন। তাই বলছি তসলিমা কি রাজাকারদের চেয়েও বড় অপরাধী? এইবার বুঝা গেছে? :হয়রান:

  5. পড়লাম কিন্তু মিলাইতে পারতেছি
    পড়লাম কিন্তু মিলাইতে পারতেছি না। শিরোনাম আর লেখা কেমন জানি। হয়তো আমার বোঝার ভুল, সীমিত জ্ঞানের কারণ ইত্যাদি।

  6. সত্যি বলতে আমি চেয়েছি তসলিমা
    সত্যি বলতে আমি চেয়েছি তসলিমা সম্পর্কে একটু তথ্য তুলে ধরতে…… তসলিমার অপরাধ আমার দৃষ্টিতে অতিশয় তুচ্ছ৷ আমার মন্তব্যটা পোস্টে করিনি কেননা আমি আপনাদের মন্তব্য জানতে চেয়েছি৷ মানুষ চোখ থাকতেও কতটা অন্ধ্য হতে পারে, ধর্মীয় ফতোয়া না থাকলে জানাই হতো না৷
    তসলিমা নবী-হাদিস সম্পর্কে নিজের মন্তব্য প্রকাশ করেছিলেন, রাজাকার কিংবা ধর্মীয় দালালদের মত ধর্মকে উলঙ্গ করে পথে টেনে আনেনি৷৷

  7. তসলিমা নসরিন নাম উঠলেই
    তসলিমা নসরিন নাম উঠলেই তর্ক-বিতর্কের ঝর উঠে…এখানেও তাই হয়েছে…যাই হক কিছু বিশেষ তথ্য জানা গেলো…চালিয়ে যান

  8. মানুষের ভালো খারাপ থাকে। আমার
    মানুষের ভালো খারাপ থাকে। আমার বড় ভাইয়ের কারণে তসলিমার অনেক বই পরতে পেরেছি। হয়ত সব মন্তব্য আমার ভালো লাগেনি। তবে উনি দারুণ আত্মবিশ্বাসী মহিলা। এবং কোন স্পর্শকাতর বিষয় উনি খুব সহজভাবে তুলে ধরেন। তসলিমা সবসময় অনুপ্রেরণার।

  9. তসলিমা নাস্রিন যতটা জানেন
    তসলিমা নাস্রিন যতটা জানেন বুঝেন লিখেন করেন এবং যতটা প্রগতিশীল তারচেয়ে বেশি নিজেকে বিতর্কিত করতে ভালবাসেন। এটাই সমস্যা।

    1. দারুন বলেছেন স্বপ্নচারী!
      আমার

      :থাম্বসআপ: দারুন বলেছেন স্বপ্নচারী!

      আমার কাছে আরো একটা বিষয় মনে হয়- উনি অতি মাত্রায় পুরুষ বিদ্বেষী!
      সমাজে নারী বিদ্বষীরা যেমন গ্রহণীয় নয়, পুরুষ বিদ্বষীরাও নয়।
      ওনার ফর্মূলায় চললে আগামী একশ’ বছর পর আবারও লিঙ্গ বৈষম্য দেখা দিবে… হয়তো শুধু পক্ষ পরিবর্তন হবে!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 85 = 90