মুসলমানদের ঠাই নেই

২০১৩ সালে বাঙলাদেশে একটা আন্দোলন হয়েছিলো। রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে গর্জে উঠেছিল বাঙলার মানুষ। ঐ আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য জামায়াতে ইসলামি, তথাকথিত অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম এবং জামাতের রক্ষীতা বিএনপি– ইসলাম ধর্মের অপপ্রচার চালিয়ে আন্দোলনকে ধূলিসাৎ করার চেষ্টা চালিয়েছিল। সেই প্রচেষ্টায় তারা যে ব্যর্থ হয়েছিলো তা নয় কিন্তু, বাঙলার মানুষ যে কী পরিমাণ অশিক্ষিত, মূর্খ, গোঁয়ার এবং মেরুদণ্ডহীন তা প্রকাশ পেয়েছিল। ইসলাম শুধু একটি ধর্ম নয়, একটি ব্যবসা, লাভজনক ব্যবসা।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে দুনিয়ার সকল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে এই ধর্মের ব্যবসা প্রকাশ্যে হচ্ছে। কিন্তু, প্রতিবাদ করার কেউ নেই। যারা প্রতিবাদ করে থাকে, তাদের নাস্তিক বলা হয়। এবং মুসলমানেরা নাস্তিক শব্দে ভীত। ছোট্টকালে ভূতের গল্প শুনলে বাচ্চারা যেভাবে কেঁপে উঠে, ঠিক একইভাবে মুসলমানেরা সর্বদা আতংকে থাকে যে কবে তাকে মুরতাদ ঘোষণা করবে! মুসলমানেরা কি সকলেই মেরুদণ্ডহীন? না, কখনোই না। তাদের মেরুদণ্ড শক্ত হতে দেয় না। কারা দেয় না? তাদের নিজেদের মানুষই চায় না মেরুদণ্ড শক্ত হোক! কারণ শক্ত হয়ে গেলে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার একটা সম্ভাবনা আসবে। এবং এই ব্যবসাই হচ্ছে মানুষকে নির্বোধ করে ভয়ের মধ্যে রেখে মৃত্যুঅব্দি দুশ্চিন্তায় রাখা।

Image result for হেফাজতে ইসলাম নাস্তিক হত্যা

 

 

২০১৩ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারী, রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ বাঙলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর একটি এলাকার চৌরাস্তায় অবস্থান নেয়। তাদের সকলের হাতে মোমবাতি ছিল। মোমবাতির আলোতে সন্ধ্যা হয়ে উঠেছিল ভোরের সূর্যদয়ের মতো। পদ্মার ঢেউ যেভাবে পাড়ে এসে ধাক্কা দেয়, ঠিক তেমনই শ্লোগানের গর্জনে পুরো দেশ প্রকম্পিত হয়। মোমবাতি প্রজ্জলনের মাধ্যমে মানুষ যখন অন্ধকারাছন্ন থেকে আলোকিত হতে শুরু করেছিলো, ঠিক তখনই কয়েকটি পত্রপত্রিকায়, লিফলেট, ম্যাগাজিনে, মোবাইলে, ইন্টারনেটে, যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রচারিত হয়ে থাকে যে বাঙলাদেশে সবচেয়ে সুন্দর এলাকার চৌরাস্তাটি হিন্দুদের অপসংস্কৃতির দ্বারা কলুষিত। যারা ‘মোমবাতি প্রজ্জলন হিন্দুয়ানী অপসংস্কৃতি’ এই বাক্যটি প্রচার করেছিল তারা কি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিলো? না, তারা আংশিক সফল হয়েছিলো। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর অনেকেই স্থান ত্যাগ করেছিলো। নীতিহীন, বিবেকহীন মুসলমানদের হৃদয় কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য ধর্মের একটি বাক্য কিংবা ধর্মের নামে একটি অপপ্রচারই যথেষ্ট।

মুসলমানদের চিন্তাধারা সবসময়ই ধর্মকেন্দ্রিক। তারা যে ধর্মহীন কর্মকান্ড থেকে মুক্ত তা কিন্তু নয়। যখন তারা ধর্মের নিয়মনীতির বিরুদ্ধে কোন কর্মসম্পাদন করে থাকে, তখন তারা নিজেদের ও আশেপাশের মানুষজনকে সান্ত্বনা পুরষ্কার হিশেবে নতুন এক হাদিসের জন্ম দেয়। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষ যাচাই বাছাই করতে মুসলমানেরা কুখ্যাত।

রাজাকারদের ফাঁসির দাবির আন্দোলনটি নাস্তিকদের আন্দোলন হিশেবে যারা অপপ্রচার চালিয়েছিল, তারা কি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিলো? না, তারা সফল হয়েছিলো। আংশিক সফল নয়। পুরোপুরি সফল। নাস্তিকের আন্দোলন শুনে হাজার হাজার মানুষ দৌড়ে পালিয়েছিল। যেহেতু মুসলমানদের প্রশ্ন করা নিষেধ, সেহেতু আন্দোলনটি প্রশ্নবিদ্ধ করতে তাদের বেশি সময় লাগে নি। মুসলমানেরা যেহেতু চিন্তা সীমাবদ্ধতায় ভুগে, তাই তাদের মাথাতে আসে নি যে, আস্তিকেরা যদি নাস্তিকের থেকে উৎকৃষ্ট ও মহান হয়েই থাকে তাহলে দেশের প্রশ্নে নাস্তিকেরা কীভাবে এতো সোচ্চার?

Image result for হেফাজতে ইসলাম নাস্তিক হত্যা

 

সেই থেকে আজঅব্দি বাঙলাদেশের নিরীহ, সহজসরল, শান্তিপ্রিয় মুসলমানেরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি শুক্রবার দাবি তুলতে থাকে ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে নাস্তিকদের ঠাই নেই। তাদের হয়তো দেশান্তরিত করতে হইবে, নয়তো কুপিয়ে মারতে হইবে। কিন্তু, এই প্রসঙ্গে সাধারণ মুসলিমের কোন প্রতিক্রিয়া নেই।

কারণ নাস্তিক খুবই ভয়ংকর একটি শব্দ।

নিউজিল্যান্ডে ৯২ শতাংশ খ্রিষ্টান ও নাস্তিক। মুসলমানদের সংখ্যা ১.১৮%।

কিন্তু, তারা কেউ বলে না যে ৯২ শতাংশ খ্রিষ্টান ও নাস্তিকের দেশে ১.১৮% মুসলমানদের ঠাই নেই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 1 =