জন মার্শাল (John Marshall) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি

জন মার্শাল(জন্ম ২৪ সেপ্টেম্বর ১৭৫৫ জার্মানটাউন(বর্তমান মিডল্যান্ড) এর নিকটবর্তী স্থানেমৃত্যু ৬ জুলাই ১৮৩৫ ফিলাডেলফিয়াতে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ প্রধান বিচারপতি এবং সাংবিধানিক আইন ব্যবস্থার মূল প্রতিষ্ঠাতা। সুপ্রীম কোর্টের সম্ভবত সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা (judicial power) এবং আমেরিকান যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মূলনীতি উভয়টির গঠন এবং রক্ষণাবেক্ষণ জন মার্শালের তত্ত্বাবধানে হয়। ৩০ বছরের অধিক কর্মজীবনে তার বড় বড় মামলা মধ্যে প্রথমটি ছিল মারবুরি ভি. ম্যাডিসন (১৮০৩) যা সাংবিধানিক আইন ব্যাখ্যা এবং জুডিশিয়াল রিভিও (judicial review) চর্চা করার করার সুপ্রীম কোর্টের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে কিছু সুনির্দিষ্ট আইনকে অসংবিধানিক ঘোষণা করার মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি তার পক্ষাবলম্বনের বিষয়টি উঠে আসে ম্যাককুলোচ ভি. ম্যারিল্যান্ড (১৮১৯) মামলায় যা ব্যাংক অব দ্যা ইউনাইটেড স্টেটস প্রতিষ্ঠায় কংগ্রেসের ক্ষমতাকে পৃষ্ঠপোষকতা দান করে। ম্যাককুলচ মামলায় রুল জারির সময় মার্শাল সংবিধান, সরকারের যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থার ভেতরে সহজাত হিসেবে থাকা অঙ্গরাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের প্রকৃতি, এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও এটার পরিচালনা ব্যবস্থা উভয়টির গণতান্ত্রিক প্রকৃতি ব্যাখ্যা করার কোর্টের অধিকার সুস্পষ্ট করে। প্রধান বিচারপতি হিসেবে তার মেয়াদকালে মার্শাল ১,০০০ এর অধিক সিদ্ধান্ত প্রণয়নে অংশগ্রহণ করে এবং এদের মধ্যকার ৫০০ এর অধিক সিদ্ধান্ত নিজে লেখে।

 

শৈশব

জন মার্শাল লগ কেবিনে (কাঠের তৈরী কুড়ে ঘর) জন্মগ্রহণ করেন। থমাস মার্শাল ও মেরি কেইথ মার্শাল দম্পত্তির ১৫ জন সন্তানের মধ্যে মার্শাল প্রথম। পিতা থমাস মার্শাল একজন শেরিফ, জাস্টিস অব দ্যা পিস, এবং জমি পরিমাপক ( surveyor) যিনি ভার্জিনিয়া এবং কেনটুকিতে ২০০,০০০ একর জমির মালিক বনে যান এবং প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টির একজন নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন । মা মেরি কেইথ মার্শাল ছিলেন একজন পাদ্রীর মেয়ে যার পরিবার দ্যা র্যানডল্ফস এবং দ্যা লিস (ভার্জিনিয়ার সবচেয়ে বিশিষ্ট দুইটি পরিবার) এর সাথে সম্পর্কিত। মার্শালের শৈশব ও যৌবন কাল কাটে ফ্যাকুয়ের কাউন্টির সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং পরবর্তী সময়ে তিনি বসবাস করেন ব্লু রীজ পার্বত্য এলাকায় যেখানে তার বাবা ভূসম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন। শিক্ষায় হাতে খড়ি তার বাবামার হাতেই হয়, এবং তাদের পরিবারের সাথে প্রায় এক বছর বসবাস করা একজন পাদ্রী তার শিক্ষায় কিছুটা সহযোগীতা করে। এবং ওয়েস্টমোরল্যান্ড কাউন্টিতে অবস্থিত একটা একাডেমীতে মাত্র কয়েক মাস আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি

৩৪ বছরের অধিক সময় ধরে মার্শালের নেতৃত্বেযে কোন প্রধান বিচারপতির জন্য সবচেয়ে দীর্ঘ সময়সুপ্রীম কোর্ট সরকারের মূল গঠনপ্রণালী প্রণয়ন করে। প্রাথমিক অবস্থায়, সংবিধান একটি যুক্তরাষ্ট্র তৈরী করেছে নাকি একটি জাতি তৈরী করেছে সে বিষয়ে কোন ঐকমত্য ছিল না। এবং যদিও শুধুমাত্র বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্ত মতামতের ভিন্নতা দূর করতে পার না তবে তারা সুসঙ্গত, প্রামাণিক, এবং নির্লিপ্ত মতবাদের একটা কাঠামো তৈরী করতে পার যার চারপাশে মতামত গঠিত এবং ফলপ্রসূ হয়ে উঠত। মতৈক্যের এরকম একটা ভিত্তি তৈরীর কাজে মার্শাল এমন সব গুনাবলী আমদানী করেছিলেন যেগুলো প্রশংসনীয় ভাবে অভিযোজিত হয়েছিল এটার সম্পাদনের জন্য। তার নিজস্ব চিন্তায় ছিল ফলপ্রসূ সরকার ব্যবস্থার এমন একটা সুস্পষ্ট এবং সুসংগঠিত ধারণা যা সে মনে করত খুবই প্রয়োজনীয় এবং সংবিধান কর্তৃক প্রদত্ত হবে। তার লেখা ছিল প্রাঞ্জলতা, সুস্পষ্টতা এবং প্রানশক্তিতে ভরপুর যা তার বিচারিক অভিমতকে দিত ন্যায়সঙ্গত অপরিহার্যতা যা বিশ্লেষণের নির্ভুলতায় মাঝে মধ্যে যে ঘাটতি থাকত তা দূর করত। তার মেয়াদকাল সাংবিধানিক মতবাদের একটি সমন্বিত কাঠামো গঠনের সুযোগ এনে দেয়। মার্শালের সম্পাদিত কাজের মূল দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যে সে এবং তার নেতৃত্বে পরিচালিত কোর্ট এই সুযোগকে অস্বীকৃত কোন কিছু পার হওয়ার অনুমতি দিত না।

অন্যান্য বিচারকদের পরা টকটকে লাল রঙের এবং পশমী গাউনের বিপরীতে সাদামাটা কালো গাউন পরে মার্শাল তার সহকর্মীদের থেকে নিজেকে আলাদা করত। মার্শালের নিয়োগের আগে, সুপ্রীম কোর্টের একটা প্রথা ছিল যে, ইংল্যান্ডে ঠিক যেমনটা ছিল, প্রত্যেক বিচারপতিকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অভিমত দিতে হবেকোর্ট যেখানে সুসংগঠিত এবং অধিষ্ঠিত একটি আইনগত কাঠামোর সাথে সম্পৃক্ত সেখানে এই প্রক্রিয়া বেশ ফলপ্রসূ তবে একটা নতুন কোর্ট এবং একটা অপরীক্ষিত আইন কাঠামোতে এটা অনিশ্চয়তার প্রতীতি তৈরী করে, অসঙ্গতির প্রতীতি তৈরী না করলেও, যা কোর্ট অথবা এটার ব্যাখ্যা করা আইন কোনটাকেই শক্তিশালী করে না। মার্শালের নিয়োগের মধ্য দিয়েসম্ভবত তার উদ্যোগে এই প্রথার পরিবর্তন ঘটে। অতঃপর কয়েক বছরের জন্য এটা একটা সাধারণ নিয়মে পরিণত হয় যে সুপ্রীম কোর্ট মাত্র একটা অভিমত দিতে পারবে। মার্শালের মেয়াদকালে সত্যিকার অর্থেই কোর্টে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং কোর্ট দাঁড়িয়েছিল দৃঢ় ভিত্তির উপর। পুরো মেয়াদকালের মধ্যে মাত্র একবার মার্শাল আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্নমত পোষণ করে, এবং ১৮১১ সাল থেকে ১৮২৩ সালের ভেতরে সুপ্রীম কোর্টের কর্মকর্তাদের মধ্যে কোন ধরনের পরিবর্তন আসে নিইতিহাসে এরকম সময়ের মধ্যে এটাই সবচেয়ে দীর্ঘতম। প্রথার এই পরিবর্তনই কেবল কোর্টকে একটা অধিকতর ফলপ্রসূ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অবদান রাখেএবং যখন অভিমতগুলো মার্শালের সুস্পষ্ট এবং শক্তিশালী বিবৃতির মধ্যে পড়ে তখন কোর্টের কর্তৃত্ব বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়

মারবুরি ভি ম্যাডিসন (১৮০৩) ছিল মার্শালের গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর মধ্যে প্রথম এবং এটাই সেই মামলা যা যুক্তরাষ্ট্রীয় আইন এবং নিয়ম সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হলে কোর্টকে তা বাতিল করার ক্ষমতা প্রবর্তিত করেমামলাটির ভিত্তি এবং এটার রুল জারির তাৎপর্য সময়ের ঐতিহাসিক এবং কৌশলগত প্রেক্ষাপটে উপলদ্ধি করা যাবে। প্রেসিডেন্ট এডামস এর মেয়াদ শেষ হওয়ার অল্প কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস কিছু যুক্তরাষ্ট্রীয় বিচার বিভাগীয় পদ তৈরী করে এবং এডামস সেগুলো পূরণ করে । বিচারকদের নিয়োগ অনুমোদিত হয় এবং সেক্রেটারী অব স্টেটের কার্যালয়ে (মার্শালের কার্যালয়) চলে আসে। তবে উইলিয়াম মারবুরি সহ বেশ কয়েকজন নিয়োগ প্রাপ্তি থেকে বাদ থেকে যায়। পরিহাসের বিষয় হল, সেক্রেটারী অব স্টেট হিসেবে এসব নিয়োগ প্রদান মার্শালের হাতেই ছিল। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জেফারসন এটাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় কোর্ট প্যাকিং প্ল্যান মনে করে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে এবং তার সেক্রেটারী অব স্টেটকে বাকী থাকা নিয়োগগুলোকে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।

মারবুরি তার নিয়োগের জন্য ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট বরাবর আবেদন করে যা অসফল হয় এবং পরবর্তীতে সুপ্রীম কোর্টে ম্যাডিসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। যদিও ব্যপারটি প্রশ্নের উর্ধ্বে ছিল না, তবে কোর্ট আবিষ্কার করে যে কংগ্রেস অনুমোদন দিয়েছে যে, জুডিসিয়ারি এক্ট অব ১৭৮৯ এর অনুচ্ছেদ ১৩ এর অধীনে, নিম্ন আদালতে নয় বরঞ্চ এই ধরনের মামলা সুপ্রীম কোর্টেই শুরু হবে। কোর্ট অতীত সমন্ধীয় বর্তমান মুহূর্তের(Historic proprtions) এক উভয় সঙ্কটের মুখোমুখি হয়। এটা যদি মানদামুস রিট জারি করে ম্যাডিসনকে এই নিয়োগ প্রদানের নির্দেশ প্রদান করে, তাহলে এটা সুস্পষ্ট যে এই ধরনের নির্দেশ উপেক্ষিত হবে এবং এর ফলে কয়েক প্রজন্মের জন্য কোর্টের প্রভাবকে খাটো হয়ে যাবে। আবার এটা যদি রিটের রুল জারি করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সুপ্রীম কোর্টকে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ভয়ে জড়সড় অবস্থায় দেখা যাবে। মার্শালের নির্দেশে সুপ্রীম কোর্ট সাথে সাথে ইস্যুটি পরিবর্তিত করে এবং মার্শালের মাধ্যমে কোর্ট মনে করে যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩ কোর্টের মূল এক্তিয়ারের এই সম্প্রসারনকে অনুমতি প্রদান করে না এবং কোর্ট এমন কোন সংবিধি মেনে চলতে পারে না যা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এর ফলে এটা নিজের জন্য নিশ্চিত করে এটার সবচেয়ে বিতর্কিত ক্ষমতা জুডিশিয়াল রিভিও এর কার্যাবলী, সংবিধানের আইন খুঁজে বের করা এবং তা ব্যাখ্যা করা।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে মার্শালের পুরো মেয়াদকাল জুড়ে সুপ্রীম কোর্ট প্রত্যেক বছর শুধুমাত্র এক মেয়াদের জন্য বসত, যার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র সাত বা আট সপ্তাহ (১৮২৭ সালের পর সামান্য বেশী)। যাহোক, প্রত্যেক বিচারপতি একটি করে সার্কিট কোর্ট পরিচালনা করতমার্শাল রিচমন্ডে । ১৮০৭ সালে রিচমন্ডে জেফারসন প্রশাসনের সাথে মার্শালের আরো একবার বিরোধের সূত্রপাত হয়, যেখানে মার্শাল সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আরন বুর এর দেশদ্রোহীতার মামলা পরিচালনা করছিলেন, সেখানে তিনি রানওয়ে কনভিকশনের দিকে প্রেসিডেন্ট জেফারসনের প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণরূপে ব্যার্থতায় পর্যবসিত করে; এবং এর ফলে বুর মামলা থেকে খালাস পায়। বছরে মাত্র তিনমাসের সামান্য বেশী সময় বিচারিক দায়িত্ব পালনে নিযুক্ত থাকার ফলে ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত করার জন্য মার্শালের তার হাতে প্রচুর সময় থাকত। ১৮০৭ সালে তিনি পাঁচ খন্ডের দ্যা লাইফ অব জর্জ ওয়াশিংটন লেখে শেষ করেন। পূর্ব ও পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মধ্যে স্থল পথ ও পানি পথ খুঁজে বের করার কাজে নিয়োজিত একটা কমিশনের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এবং ১৮২৯ সালে অনুষ্ঠিত ভার্জিনিয়া স্টেট সাংবিধানিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

*******

জুডিশিয়াল রিভিও এর ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মার্শাল এবং কোর্ট সেই সব সিদ্বান্ত মোতাবেক চলে যেগুলো নিশ্চিত করে যে এটার চর্চা করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনের পুরো কাঠামো সুপ্রীম কোর্ট সহযোগে গঠিত একটি সমন্বিত বিচার ব্যবস্থার মধ্যে নির্ধারিত (Determind) হবে । মার্টিন ভি. হান্টার’স লিসি (১৮১৬) এবং কোহেনস ভি. ভার্জিনিয়া (১৮২১) মামলা যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রশ্নে অঙ্গরাষ্ট্রীয় কোর্টকে (state court) রিভিও এবং আগ্রাহ্য (Overrule) করার সুপ্রীম কোর্টের অধিকার নিশ্চিত করে। এবং ম্যাককুলোচ ভি. ম্যারিল্যান্ড মামলায় সুপ্রীম কোর্ট “উহ্য ক্ষমতা(implied powers)” এর মতবাদ জারি করে যা সংবিধান কর্তৃক কংগ্রেসকে প্রদান করা হয় (এই ক্ষেত্রে কংগ্রেস ব্যাংক অব দ্যা উইনাইটেড স্টেটস প্রতিষ্ঠার অধিকার লাভ করে, এমন কি যদিও এমন ক্ষমতা সংবিধান কর্তৃক সুস্পষ্টভাবে প্রদান করা হয় নি।)

ম্যাককুলোচ ভি. ম্যারিল্যান্ড মামলা প্রকাশ করে যে জুডিসিয়াল রিভিও এর হাসূচক এবং ঠিক তেমনি ভাবে নাবোধক দৃষ্টিভঙ্গী থাকতে পারে; এটা প্রতিযোগীতামূলক সরকারী কার্যক্রমকে(contested government action) উপর কর্তৃত্বপূর্ণ বৈধতা দান করতে পারে যা নিষিদ্ধ অথবা অবৈধ কার্যক্রম থেকে এটার সরে আসা থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই রুল জারি, যা সাংবিধানিক সংকটকে প্রায় ঘনিয়ে তোলে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের কর্তৃত্বকে পৃষ্ঠপোষকতা দান করে এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের উপর অঙ্গরাষ্ট্র সমূহের কর আরোপের অধিকারকে অস্বীকার করে। ব্যাংক প্রতিষ্ঠার কংগ্রেসের কর্তৃত্বের কথা সংবিধানের কোথায় বলা আছে তা ব্যাখ্যা করার কঠিন কাজের সম্মুখীন হয়ে মার্শাল আর্টিকেল ১ এর সেকশন ৮, প্যারাগ্রাফ ১৮ এর দিকে মনোনিবেশ করে যা যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় এবং সঠিক বলে গন্য হবে এমন সব আইন তৈরীর ক্ষমতা প্রণয়ন করে এই সব ক্ষমতাকে বলবৎ করার জন্য এটা সংবিধানে খুব সুস্পষ্টভাবে গৃহীত হয়েছে। এই রুল জারি বিচারক স্পেনসার রাওনে এবং উইলিয়াম ব্রোকেনব্রফ সহ অঙ্গরাষ্ট্র সমূহের অধিকারের পক্ষের শীর্ষস্থানীয় কিছু এডভোকেটকে রোষান্বিত করে এবং তারা সংবাদপত্রের মাধ্যমে মার্শাল এবং কোর্টকে ভর্ৎসনা করে। “সংবিধানের বন্ধু” নাম ধারণ করে মার্শাল অভূতপূর্বভাবে এর প্রতিউত্তর প্রদান করে।

বানিজ্য আইনের ক্ষেত্রে আমেরিকান অর্থনীতির উত্থান এবং এটাকে নিয়ন্ত্রণ করার সরকারী প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় আনীত বেশ কিছু মামলার সিদ্ধান্ত প্রণয়নে মার্শাল কোর্টকে নেতৃত্ব প্রদান করে। ফ্লেচার ভি. পেক (১৮১০) এবং ডার্টমাউথ কলেজ কেস (১৮১৯) এই মামলা দুটি রাষ্ট্রীয় চুক্তির অলঙ্ঘনীয়তা প্রতিষ্ঠা করে। এবং গিবনস ভি. অগডেন (১৮২৪) মামলাটি অান্ত: অঙ্গরাষ্ট্র বানিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার এবং এটা করতে গিয়ে অঙ্গরাষ্ট্রীয় আইনকে আগ্রাহ্য (Override) করার যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের অধিকারকে যথার্থতা দান করে। সরকারের উপর আরোপিত কিছু সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করতে গিয়ে তৈরী হওয়া মার্শালের অনেক সিদ্ধান্ত পরিণত হয়েছে কম স্থায়ী সিদ্ধান্তে, যাহোক, বিশেষ করে পরবর্তী সরকারী কর্মতৎপরতা এবং নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির যুগে; সত্যিকার অর্থে, এই ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল রিভিও এটার সবচেয়ে শক্তিশালী সমালোচকদের খেপিয়ে তুলেছে। *****

কোর্টের বাইরে মার্শাল অধিকাংশ সময় ব্যয় করত তার অসুস্থ স্ত্রীর দেখাশোনার কাজে। সে রিচমন্ডে বন্ধুবান্ধবের সাথে মেশা, মদ্যপান এবং আলাপআলোচনা করে সময় কাটাতে পছন্দ করত। সাধারনভাবে, প্রধান বিচারপতি হিসেবে প্রথম ৩০ বছরের কর্মজীবনে তার পরিতৃপ্তিই ছিল। তবে ১৮৩১ সালের শেষের দিকে ৭৬ বছর বয়সে কিডনির পাথর অপসারনের জন্য তাকে কঠিন অপারেশনের ভেতর দিয়ে যেতে হয় এবং খুব দ্রুত ও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেন। তবে সেই বছর খ্রীস্টমাসে তার স্ত্রীর মৃত্যু তার জন্য ছিল এক বিশাল আঘাত যা থেকে তার মন খুব দ্রুত নিষ্কৃতি পায় নি। ১৮৩৫ সালে তার স্বাস্থ্যের খুব দ্রুত অবনতি হতে থাকে এবং জুলাইয়ের ৬ তারিখে ফিলাডেলফিয়াতে মৃত্যুবরণ করেন। রিচমন্ডের শোকোয়ে কবরস্থানে তার স্ত্রীর পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

62 − = 56