মাদ্রাসা শিক্ষা: মানব জীবনের অপচয়, অর্থের অপচয়, সময়ের অপচয়।

ওরাও মানুষ। হ্যাঁ ওরাও আপনার আমার মতোই ঘুম পেলে হাই তোলে, হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে পড়ে, গোসল করে চুল আঁচড়াতে ভুলে যায়, নখ কাটতে গিয়ে চামড়া কেটে ফেলে, প্রেমে ছেঁকা খেয়ে নেশা করে। স্লিপিং পিল পকেটে নিয়ে ঘোরে, কিন্তু খায় না।

ওরাই, এইতো ৪০০ বছর আগে প্রথম অণুবীক্ষণযন্ত্র বানালো। তার আগে খালি চোখে যা দেখা যেতো তাই। খালি চোখে দেখা যায় না, যাকে অনুজীব বলে, এদের সংখ্যা খালি চোখে যেসব উদ্ভিদ প্রাণী দেখা যায়, তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি।  ওরা অণুবীক্ষণযন্ত্র দিয়ে খালি চোখের বাইরে কোটি কোটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উদ্ভিদ, প্রাণী এমনকি ব্যাটেরিয়া, ভাইরাসের সাথে পরিচিত হলো। যে কোনো রোগব্যাধিতে আমাদের মৃত্যু তখন আর শুধু “সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছে” হয়ে থাকলো না। হাজার হাজার ড্রাগস, শ’ শ’ এন্টিবায়োটিক বানিয়ে মৃত্যুকে দূরে ঠেলে দিলো। এখন সে সব গল্প পুরোনো। এখন ন্যানো স্কেল পার্টিকেলস, মানে জীবের যে কৌটার ভিতরে প্রাণভোমরা লুকানো আছে, রাজপুত্রের মতো ডুব দিয়ে সেই ভোমরার সাথে পরিচিত হওয়ার ভুত ঘাড়ে চেপেছে। এক ফোঁটা রক্ত থেকে আস্ত মানুষের জেনেটিক সিকুয়েন্স বের করে ফেলতে চাইছে। আবিষ্কার করতে পারলে ভুমিষ্ঠ হবার আগেই শিশুর ডিএনএর সিকুয়েন্স জেনে ভবিষ্যত রোগ নির্বংশ করা যাবে। টার্গেটেড মেডিসিন ব্যবহার করে স্টেজ ফোরের ক্যানসার সারিয়ে তোলা যাবে। কৃত্রিম প্রাণ, এমনকি কৃত্রিম মানুষ এখন আর সাইন্স ফিকশন না। হয়তো লুকিয়ে লুকিয়ে এখনি কোনো ল্যাবে, কোনো মফিজ তা করে ফেলেছে। জেনে ফেললে বন্ধুরা ট্রিট চাইবে, তাই বেমালুম চেপে আছে।

ঠিক এই মুহূর্তে যে ডিভাইস ব্যবহার করে আপনি এই লেখা পড়ছেন,তাতে ন্যানো টেকনোলজির চিপস বসানো আছে। সেমি কন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে যুগের পর যুগ হাজার হাজার ওরা রাতদিন হারাম করে চুলের চেয়ে ছোটো দেখতে সেই সি্পস বানিয়েছে। যা আছে বলেই আপনি একটু ইন্টারনেট আর হাজার টাকার একটা যন্ত্র দিয়ে মহাবিশ্বকে হাতের মুঠোয় আনতে পারছেন। জ্ঞান অর্জনের জন্য আর সুদূর চীনে না গিয়ে পাশের ফ্লেক্সিলোডের দোকানদার পর্যন্ত গেলেই চলছে। ওরা চুলের চেয়ে ছোটো সিলিকন বেজড সিপসেও সন্তুষ্ট না। ওরা কার্বন বেজড সিপস, যা হবে একটা কোষের চাইতে ছোটো, তা দিয়ে আস্ত মোবাইলের থেকে বেশী এবং দ্রুততর কাজ করাতে চাইছে। গুগল, নাসা, সার্ন, জিবিজি এরকম হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ ওরা আছে যারা কোটি কোটি বছরের অতীত, কোটি কোটি বছরের ভবিষ্যত দেখায় মগ্ন। ফেসবুকের পাসওয়ার্ডের মতো ওরা আস্ত মানুষকেও হ্যাক করার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আপনার বর্ষার দিন দুপুর বেলা গান শুনতে শুনতে যখন খিঁচুড়ি আর ইলিশ মাছের ভাজা খেতে ইচ্ছে করবে, গুগলের ওরা তা আগে থেকেই জেনে, ঠিক সময় মতো খিচুড়ি আর ইলিশ ভাজা নিয়ে কলিং বেল বাজাবে। বেহেস্তের মতো লাগছে না শুনতে? আমার কথা বিশ্বাস করতে হবে না। পৃথিবীর তথ্য আহরণ, সংরক্ষণ, প্রকৃয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ কারবার সম্পর্কে একটু খোঁজ খবর নিন। দেখবেন আমি বরং কমই বলছি।

ওরা যখন এইসব কাজ করছে, আমরা তখন কী করছি? গলার শির ফুলিয়ে, হাতপা ছুঁড়ে হাজার বছর আগে কি না কি হয়েছে তা-ই একমাত্র জীবন বিধান এইসব ফালতু হাস্যকর বিষয়ে চিল্লাপাল্লা করে কান ঝালাপালা করছি। কোটি কোটি টাকা নষ্ট করে হাজারে হাজারে বিশ্বাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বানাতে সরকারকে বাধ্য করছি। অগাধ সম্ভাবনাময় কোটি কোটি মানব জীবনকে নষ্ট করছি। নিজের জন্ম দেয়া সন্তানকে নষ্ট করছি। অথচ ওই টাকাগুলো যদি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও গবেষণায় কাজে লাগানো যেতো, এই কোটি কোটি মানুষ ঠিক ওদের মতো হতে পারতো। কেমন হতো সেই বাংলাদেশ, কেমন হতো সেদিনের সেই পৃথিবী?

এতকিছুর পরেও আমি সেই পৃথিবীতে সেই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। জয় বাংলা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “মাদ্রাসা শিক্ষা: মানব জীবনের অপচয়, অর্থের অপচয়, সময়ের অপচয়।

    1. ওনার চিন্তাধারা কি পৃথিবীর জন্য মঙ্গলকর নয়? আমিও চেষ্টা করেছিলাম মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা, হুজুর, এবং সমাজের মডারেট মুসলিমদের মাঝে একটা তুলনামূলক সমালোচনা করতে। ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করেছিলাম, একটি মানবিক পৃথিবীর জন্য কারা বেশি চিন্তাশীল! লেখাটি পড়ে দেখতে পারেনঃ https://istishon.blog/node/28176

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

83 − 76 =