জামাত-শিবির-বিএনপি ও সরকারের নাস্তিকভীতি : ব্লগারদের মৃত্যুপরোয়ানা !

নাস্তিক এবং আস্তিকের মাঝে মৌলিক পার্থক্য কি ? যারা সকল কিছুর পেছনেই একটি বিশেষ অলৌকিক শক্তির অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে তারা আস্তিক । আর যারা বিশ্বসৃষ্টির কাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনার পেছনে যৌক্তিক কারণ অনুসন্ধান করে এবং প্রমাণসাপেক্ষে তা প্রতিষ্ঠিত করে তাদেরকে বলা হয় নাস্তিক ।
**
এখানে সমস্যা হল প্রথম দলটিকে নিয়ে । তারা মনে করে নিজেরা অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বাস করে বলে সকলকেই তা বিশ্বাস করতে হবে । তারা প্রশ্নহীন আত্মসমর্পন করে বলে সকলকেই তা করতে হবে । তারা অলৌকিক উপায়ে প্রাপ্ত পুস্তককে সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান করে বলে সবাইকে তা করতে হবে । তারা সেই পুস্তকসমূহের দোহাই দিয়ে যুদ্ধ , খুন , ধর্ষণ , বহুবিবাহ , বাল্যবিবাহ চালিয়ে যায় সেটা নির্বিচারে করতে পারবে এবং সবাইকেই করতে হবে । নারী সবসময় ভোগের সামগ্রী হিসাবে গৃহবন্দী থাকবে । পুরুষ তাদের ইচ্ছামতো ভোগ করবে , এক্সপেরিমেন্ট করবে , যা ইচ্ছা তাই করবে । অন্য ধর্মের লোককে জোর করে হলেও নিজ ধর্মে বিশ্বাস করাতেই হবে । বিজ্ঞানকে ব্যবহার করা যাবে কিন্তু বিশ্বাস করা যাবে না । কখনই সেই অলৌকিক শক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা যাবে না । নির্দিষ্ট গন্ডির বাইরে কোন কিছু জানা বা জানতে চাওয়া যাবে না । সকলকে একটি মতবাদই ধারণ করতে হবে , সেই মতবাদ সম্পর্কিত পূস্তক পাঠ করতে হব ,এবং এর বাইরে অন্য কোন মতবাদ জানা ও গ্রহণ করা যাবে না । এইরুপ মহত্‍ মতবাদ যারা ধারণ করে এবং জোরপূর্বক প্রচার করে তারাই আস্তিক ।
**
নাস্তিকগন এইসবের ই তীব্র বিরোধিতা করে । তীব্র প্রতিবাদ জানায় । নারী-পুরুষে ,মানুষে-মানুষে বিভেদকে অস্বীকার করে । নাস্তিকরা ধর্মযুদ্ধের মহাশ্মশান চায় না , ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ খুনের প্রতিবাদ করে । নাস্তিকরা কখনই তথাকথিত সম্মান রক্ষার জন্য কোন পরিবারের একমাত্র বোনটিকে হিল্লা বিয়ে , দোররা মারা কিংবা পাথর ছুঁড়ে হত্যার মত নৃশংস কাজের পক্ষাবলম্বন করে না । নাস্তিকরা বলে না যে ছয় বছরের শিশুকে বিবাহ করো । সেই বুড়ো ভাম বর মরার পর কিশোরী মেয়েটিকে চিতায় পুড়িয়ে মারো । নাস্তিকরা জোরপূর্বক কারো উপর নিজেদের প্রগতিশীল মতবাদ চাপিয়ে দেয় না । মতবাদ প্রচারে কোন বিশেষ ভবন নির্মাণ করে না । কেউ গ্রহণ না করলে তাকে খুন করে না । নাস্তিকরা বলে সকল কিছু আপেক্ষিক । আস্তিকদের মত সকল কিছুকে একটি বিন্দুতে স্থায়ী ভাবলে পৃথিবীর আজ এত উন্নতি হতো না । নাস্তিকরা বলে তুমি সবকিছু জান । তারপর সেখান থেকে তোমার পছন্দমত গ্রহণ কর । আস্তিকরা বলে বিজ্ঞানমনস্ক হও । বিজ্ঞানকে ধারণ কর । বিশ্বের অজানা সম্পর্কে জান । নতুন নতুন আবিস্কার কর । সমাজ , দেশ ও গোটা পৃথিবীকে বদলে দাও । এই ধরণের ভীষণ অন্যায় (!) কথা যারা বলে তারাই হলেন নাস্তিক ।
**
এইসব গুটিকয়েক নিরস্ত্র, মুক্তমনা মানুষগুলো আজ সকল আস্তিকদের ত্রাস ? আজ মাত্র ৮৫ জন ব্লগারকে হত্যার জন্য মৌলবাদী থেকে শুরু করে সরকার পর্যন্ত উঠেপড়ে লেগেছে । যারা জীবনে কোনদিন ব্লগিং করেনি , ব্লগ কি সেটাও জানে না , তারা আজ ব্লগারদের লিস্ট করে ! বাহ্ বাহ্ ! একদিকে সরকার অন্যদিকে মৌলবাদ ! উভয়ের হাতেই ব্লগারদের মৃত্যুপরোয়ানা ! তারা কি ভাবছে যে বাংলা ব্লগ থেকে মুক্তমনারা এবার পালাবে ? ভুল ভাবছে । ভীষণ ভুল ।
**
নাস্তিকরা বেঁচে থাকলে সকলের ভোগ উন্মাদনা ধ্বংস হয়ে যাবে । তাই এদের বিচার কর ! এদের হত্যা কর ! কেন ভাই এত ভয় আপনাদের ? মৌলবাদীদের বলছি , আপনাদের মতবাদ যদি সঠিক হয় তবে তো গুটিকয়েক নাস্তিকদের দ্বারা নিশ্চয় সেটা মিথ্যা প্রমাণিত হবে না । কিন্তু আপনারা জানেন যে আপনাদের মতবাদ মিথ্যা । তাই নাস্তিকদের কাপুরুষের মত হত্যা করেন । তাদের মুরতাদ বলেন । তাদের নিষিদ্ধ করেন । রাষ্ট্রযন্ত্র পর্যন্ত উঠে পড়ে লেগেছে নাস্তিকদের পাকড়াও করতে ! এই ব্লগাররা যখন শাহবাগ আন্দোলন শুরু করল তখন তো সরকার খুশিতে বাহাবা দিল । কিন্তু যখনই জামাত শিবির চক্র ব্লগারদের নাস্তিক আখ্যা দিল ঠিক তখন জামাত শিবির নিষিদ্ধ করা ভুলে গিয়ে সরকার নাস্তিক ধরা অভিযান শুরু করল । উঠেপড়ে লাগল নিজেদের ধার্মিক প্রমাণ করতে । সামনে যে নির্বাচন !!
**
শেষ করব হুমায়ুন আজাদ স্যারের একটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে…..

“মসজিদ ভাঙ্গে আস্তিকরা , মন্দির ভাঙ্গে আস্তিকরা , আর যারা কোন ভাঙ্গাভাঙ্গিতে নেই তারাই নাস্তিক ।”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “জামাত-শিবির-বিএনপি ও সরকারের নাস্তিকভীতি : ব্লগারদের মৃত্যুপরোয়ানা !

  1. এই ব্লগাররা যখন শাহবাগ

    এই ব্লগাররা যখন শাহবাগ আন্দোলন শুরু করল তখন তো সরকার খুশিতে বাহাবা দিল । কিন্তু যখনই জামাত শিবির চক্র ব্লগারদের নাস্তিক আখ্যা দিল ঠিক তখন জামাত শিবির নিষিদ্ধ করা ভুলে গিয়ে সরকার নাস্তিক ধরা অভিযান শুরু করল । উঠেপড়ে লাগল নিজেদের ধার্মিক প্রমাণ করতে । সামনে যে নির্বাচন !!

    ক্ষমতার কি মোহ ! তথাকথিত কাঠ মোল্লারা যখন দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে ফতোয়া দিয়ে নিরীহ গ্রামের মানুষদের নির্যাতন করে তখন সরকার চুপ ! অথচ ব্লগাররা যখন সেই কাঠ মোল্লা তথা যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে মাঠে নামলো, তখন তারা হয়ে গেল নাস্তিক !! ভূলে যাবেন না, এই জামাতকে যত তেলই দেন সরকারের ক্ষতি ছাড়া উপকার হবে না। বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর পিছনে এই ব্লগার তথা তরুন প্রজন্ম বিরাট ভুমিকা রেখেছিল। কাকে খুশি করার জন্য ব্লগারদের পিছনে লেগেছে সরকার, আরও একবার নতুন করে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাবো সরকারকে….

  2. কাল বৈশাখী ঝড়কে টর্নেডোতে
    কাল বৈশাখী ঝড়কে টর্নেডোতে রুপান্তরের সময় এসে গেছে । ধর্মান্ধদের উপর টর্নেডো হয়ে আঘাত হানবো আমরা ব্লগাররা। আমরা সত্যের পথের সৈনিক ধর্মান্ধদের হারিয়ে জয়ী আমরাই হবো…

  3. যুগে যুগে সংস্কারবাদীরা আতংক
    যুগে যুগে সংস্কারবাদীরা আতংক হয়ে আর্বিভুত হয়েছে অচলায়তন ভেঙ্গে নতুন সমাজের জয়গান করার জন্য। শুরুতে সংস্কারবাদীদের সংখ্যা কমই থাকত। যখন তাদের উপর নিপীড়ন শুরু হত তখন মানুষের বিবেচনাবোধ জাগ্রত হত। সংস্কাবাদী ও তাদের সংস্কার নিয়ে উৎসাহী হয়ে উঠত জনপথ। নতুনের বার্তা এভাবেই ছড়িয়ে পড়ত সর্বমহলে। মানুষ স্বভাবগতভাবেই যে কোন পরিবর্তনকে সহজেই আকড়ে ধরে। এখন ঠিক সেই সময়টা আমরা অতিক্রম করছি।

  4. আজ পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের
    আজ পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মি. ফকরুলের মঞ্চস্থ নাটক, রাজশাহীতে পুলিশের উপর শিবিরের হামলা দৃশ্য, খুলনাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় জামাত-শিবিরের কান্ড দেখার পরও কি জামাত-শিবির নিষিদ্ধ না করে সরকারের চুপ করে বসে থাকা উচিত?

  5. পাকিরা কি চুম্বনে ভাল? নাকি
    পাকিরা কি চুম্বনে ভাল? নাকি চোদনে?
    গোলাপী গেল, মাইনা নিলাম।
    এখন হাচুরেও হারাইলাম।
    খুজতে গিয়া দেহি,
    পাকি দরজায় পাহারাদার
    জ্বাতির পিতার লাশ।

    এবার বাংলাদেশের সকল নাস্তিকদের এক প্লাটফরমে দাড়াতেই হবে।
    নয়ত সামনের প্রজন্মের জন্য অপেক্ষা করছে এক সুবিশাল বাংলাস্তান।

  6. যুদ্ধাপরাধের বিচার চাইতে আর
    যুদ্ধাপরাধের বিচার চাইতে আর জামাত-শিবিরের যুদ্ধাপরাধের বিচার আর নিষিদ্ধ হওয়া চাইতে নাস্তিক হওয়া লাগেনা। এই জামাতী-রাজাকারেরা ১৯৭১’এ লক্ষ লক্ষ আমার মত সাধারণ আস্তিকের মা-বাবা-ভাইদের হত্যা করেছিল আর বোনদের করছিল ধর্ষন! তাই আমরা তাঁর বিচার চাচ্ছি। সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, ছদ্মবেশী জামাতীরা ঢুকে নিজেদের নাস্তিক দাবী করে জামাতের নিষিদ্ধতা দাবী করে আমাদের কোটি কোটি মানুষের দাবীকে অজনপ্রিয় করার চেষ্টা চালাতে পারে।বন্ধুরা সাবধান!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 2 =