পায়ে পড়ি, কষ্ট দেবেননা কোনো চেতনাকে

আপনার প্ল্যান ছিল দুটি সন্তান হবে, একটি মেয়ে, একটি ছেলে । হয়েওছিল ঠিক ঠাক । কিন্তু… আরও একটা চলে এল । আপনার কোন গোপন সুড়সুড়ির কারনে গর্ভপাতও ঘটালেন না । নিয়ে এলেন ব্যাটাকে দুনিয়ায় । এসেছে যখন, থাক । এক মুঠো করে ভাত সকলে রাখলেই ভরে যাবে পাকস্থলী । দারুণ চিন্তা ! খুব সম্ভবত আপনারও এমন একটি সন্তান আছে । ঠিক আমার মতন একটি সন্তান, যে প্রতি রাতে মৃত্যুর কথা ভাবে । আত্মহত্যার চেষ্টা করেও মরতে পারেনা, বেঁচেই থাকে । গরিব ঘরের কুকুরটার মত । হ্যাঁ, আমি কুকুরের মতই বেঁচে আছি ।

আমার মত অবাঞ্ছিত সন্তানদের জীবন এরকমই হয় । তথাকথিত হাউস ওয়াইফ মা হলে মায়ের ভালবাসা একটু আধটু মিললেও, বাবার ভালবাসা মিলেনা । বাবার ভালবাসা মানে শুধু ভালবাসা নয়, সবকিছুই । শুধু বেঁচে থাকা যায় । এইসব সন্তান সামাজিক ভাবেও রিজেক্টেড হয়, কেননা, সামগ্রিক পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার তুলনায় এইসব সন্তানদের অর্থনৈতিক অবস্থা হয় শোচনীয় । জীবনে জীবন নামের আর কিছু বাকি থাকেনা ।
আমি সেইসব অবাঞ্ছিতদের একজন, যাদেরকে কলেজ ড্রপ-আউট হতে হয় । অন্ধকার ঘরে বসে বসে ধুঁকতে হয় । মরণরে তুহু মম শ্যাম সমান আমাদের কাছেই ।
তারপরেও একদল মানুষ বলে, পিতামাতা নিজের সন্তানদের সমান ভাবে ভালোবাসেন । কনডম ফেটে যাদের জন্ম হয়, তাদেরকে কেউ ভালবাসেনা । ভালবাসতে পারেনা । মানুষ ততটাও মানবিক নয় দাদা ।
দুঃখের কথা বলার ইচ্ছা আমার নেই । শুধু একটা অনুরোধ সবার কাছে । বিশেষ করে সন্তান ধারনে সক্ষম এমন মানুষদের কাছে । আপনার পেটে অবাঞ্ছিত বাচ্ছা আসতেই পারে । কারন যাই হোক, দয়া করে দায়িত্ব সহকারে গর্ভপাত করান । কঠোর এই পৃথিবীতে তাকে ভূমিষ্ঠ করে কষ্ট দেবেন না । খুব কষ্ট হয় । এইসব সন্তানদের জীবনে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই কাম্য থাকেনা । পায়ে পড়ি, কষ্ট দেবেননা কোনো চেতনাকে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 5