নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন কি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন

কয়েক মাস আগে, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নকে একজন মুসলিম পুরুষ ইসলামের ছায়াতলে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মুসলমানদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে তারা চিন্তার সংকীর্ণতায় ভুগে। তাদের এই সংকীর্ণতা থেকেই নানা ধরণের অপরাধ সংগঠিত হয়।

তারা প্রায়ই উচ্চস্বরে জানান দেয় যে, আগামী পঞ্চাশ বছরের মধ্যে মুসলমানেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে এবং এই পৃথিবী মুসলমানদের দখলে হবে। দখলে হবে? অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে জয় লাভে কি সকল সমস্যার সমাধান? মুসলমানেরা জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-অর্থনীতি-সভ্যতা-মানবাধিকার প্রভৃতি বিষয়েই সবার থেকে পিছনে পড়ে আছে। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে পৃথিবীর কি কোন লাভ হবে? মানুষ কি সুখে থাকতে পারবে? পৃথিবীতে যতো মুসলমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, ততো মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। ক্ষতিগ্রস্থ হবে কারা?

সবচে’ বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে মুসলমানদের দ্বারা মুসলমানেরাই। বাঙলাদেশ থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিম প্রধানদেশের চিত্র লক্ষ্য করলেই বোঝা যায় যে, এদের ক্ষতি বা সমস্যা বাইরে থেকে যতোটা হয়, তার থেকে দ্বিগুণ নিজেদের ঘর অর্থাৎ নিজেদের মানুষ বা নিজ গোষ্ঠীর মানুষের দ্বারাই বেশি হয়ে থাকে।

মুসলমানেরা একদমই দূরদর্শী নয়, তবে তারা একটি বিষয়েই পারদর্শী এবং দূরদর্শী; তা হল- বাচ্চা উৎপাদনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে নিজেদের অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। পিতামাতার টাকাপয়সা নেই কিন্তু বাচ্চা উৎপাদনেও কমতি নেই। বাচ্চার ভবিষ্যৎ কী হবে তাতে তাদের কোন দুশ্চিন্তাও নেই। রিযিকের দাতা উপরওয়ালা। উপরওয়ালা কোন জাদু করে না, এবং তাদের অবস্থার পরিবর্তনও হয় না। যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা চাহিদা এবং খুবই জরুরিও বটে কিন্তু তাই বলে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জানা সত্ত্বেও শিশুকে পৃথিবীতে আনার কোন প্রয়োজন নেই। পুরুষের কনডম ব্যবহারে অনীহা আছে বটে, তাই বলে কি নারীকে জন্ম নিয়ন্ত্রন পিল দিতেও আপত্তি থাকতে হবে?

পৃথিবী যতো উন্নত ও আধুনিক হচ্ছে, মুসলমানেরা ততোই পাহাড় পর্বত গুহার কল্পকাহিনীতে বিভোর হচ্ছে। অশিক্ষা, কুশিক্ষা, মূর্খতা, অজ্ঞতা মানুষকে আক্রমণাত্মক ও ধ্বংসাত্মক করে তোলে এবং অদৃশ্য শক্তির অনৈতিক, অযৌক্তিক, হিংসাত্মক রীতিনীতি, নিয়মকানুন পালনে ও অন্যকে পালনে বাধ্য করে সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।

Image result for নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন

 

 

যদি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন মুসলমান হয়ে যান, তাহলে কি তিনি আর মানবতাবাদী হতে পারবেন? একজন মুসলমান (জেসিন্ডা আরডার্ন) কি সমকামীদের পক্ষে দাঁড়াতে পারবেন? মুসলমানেরা তো সমকামীদের হত্যা করা ইসলামি দায়িত্ব মনে করে থাকেন। একজন মুসলমান (জেসিন্ডা আরডার্ন) কি নাস্তিকদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হতে পারবেন? মুসলমানেরা তো ঈদেও এতো খুশি হয় না যতোটা একজন নাস্তিককে হত্যার সংবাদ শুনে খুশি হয়ে থাকে। একজন মুসলমান (জেসিন্ডা আরডার্ন) কি ইহুদীদের বন্ধু ভাবতে পারবেন? মুসলমানেরা তো প্রতিদিনই ইহুদীদের ধ্বংসের স্বপ্ন দেখে থাকেন। একজন মুসলমান (জেসিন্ডা আরডার্ন) কি হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-ইহুদী-নাস্তিককে বিয়ে করতে পারবেন? বিয়ের ক্ষেত্রে নতুন কোন আইন প্রণয়ন করতে পারবেন? মুসলমানেরা তো অমুসলিমের রক্তই দূষিত মনে করে থাকেন, সেখানে বিয়ে কি গ্রহণযোগ্যতা পাবে? একজন মুসলমান (জেসিন্ডা আরডার্ন) কি লিভ টুগেদার বা বিয়ের পূর্বে বাচ্চাগ্রহণ আইনগতভাবে স্বীকৃত করতে পারবেন? 

এরকম হাজার হাজার সীমাবদ্ধতা, প্রতিবন্ধকতা, হিংস্রতা নিয়ে মুসলমানদের থাকতে হয়। তাহলে দরকার কি সবাইকে মুসলমান বানানোর? নিজের ও নিজেদের কমতি সবার মধ্যে দেখার কোন প্রয়োজন আছে কী? যেখানে মানুষকেই ভালোবাসাই সীমাবন্ধতা, সেখানে দুনিয়ার সবাইকে ইসলামের ছায়াতলে আসার প্রস্তাব দেওয়া মূর্খতা ও ভণ্ডামি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

62 − 57 =