কেবল নারীরাই না, পুরুষের হাতে বলাৎকারের শিকার হয় ছেলেরাও!

পুরুষ এবং নারী দুটোই মানুষ, তবে পুরুষ এবং নারী চারিত্রিক দিক থেকে দুটোই আলাদা। নারীরা পুরুষদের ভয় পায়, কখনো কখনো হিংস্র জন্তু জানোয়ারের চেয়েও অনেক বেশি। জন্তু-জানোয়ার কাউকে ধর্ষণ করে না, কিন্তু পুরুষরা করে।

তবে পুরুষরা নারীদেরকে ভয়ের চোখে দেখেনা, ভয়ের চোখে দেখার কোন কারণও নেই। নারীদের মধ্যে পুরুষের ভিতরে থাকা হিংসাত্মক মনোভাবের ছিটেফোঁটাও নেই। নারীরা ভালোবাসতে জানে, নারীরাই ভালোবাসা দিয়ে সমাজকে আগলে রেখেছে। টিকিয়ে রেখেছে মানবসভ্যতা।

এটার সবচেয়ে বড় উদাহরণ, পাঁচজন নারী রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে, সেই পথ দিয়ে একজন পুরুষ মনের আনন্দে আসা-যাওয়া করতে পারবে। কোন প্রকার ভয়-ভীতি ছাড়াই। এমন কি একাই মেয়েদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে পারবে, সেখানে ৫ জন নারী একসাথে দাঁড়িয়ে আছে, সেই বিষয়টা কখনই তার মাথায় আসবে না।

কিন্তু যদি পাঁচ জন পুরুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে, দিনে অথবা রাতে যেকোন সময়। একটা নারী সেই পথ দিয়ে হেঁটে যেতে সংকোচ বোধ করবে, ভয়ে তার বুক কেঁপে উঠবে। পুরুষের মুখে কুৎসিত কথা শোনার ভয়, শারীরিক হেনস্তা হওয়ার ভয়, সবচেয়ে বড় কথা গণধর্ষণ হওয়ার ভয়। যে ঘটনাগুলো এখন প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে।

পার্থক্যটা এখানেই। পুরুষরা কেবলমাত্র নারীদের জন্য ভয়ঙ্কর নয়, পুরুষের জন্যেও ভয়ঙ্কর। মাদ্রাসায় পড়তে আসা ছোট্ট শিশুদের যারা বলাৎকার করে তারাও কিন্তু পুরুষ।

আমাদের মসজিদের মোয়াজ্জেন, হাফেজ সেলিম ধর্ষণ করেছে ছোট্ট একটা বাচ্চা মেয়েকে। তারপর হাফেজ সেলিমকে মসজিদ থেকে মাথা ন্যাড়া করে বের করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগেও আমাদের মসজিদে এরকম ঘটনা অসংখ্যবার ঘটেছে। মসজিদের পিছনেই আমাদের ঘর, তাই ছোটবেলা থেকে তার বেশিরভাগ খবরই আমার জানা। আমার বয়সী একজন মুয়াজ্জিনও একই ঘটনার সাথে জড়িত, তাকেও আমরা সবাই মিলে মসজিদ থেকে বের করে দিয়েছি।

আমাদের পাশের বাজারে একটি বড় মাদ্রাসা আছে, সেখানে শিশু বলাৎকার ঘটনা প্রায়ই ঘটতো, মাদ্রাসার বেশির ভাগ শিক্ষক ছাত্রের সেই ঘটনাগুলো জানা। রাতের আধারে ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চা ছেলেদের হুজুররা তাদের রুমে নিয়ে যেত। অনেক সময় রাতেই হইচই কাণ্ড ঘটে যেত।

একবার এক ছেলে অনেক সাহস করে, এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিল, পরে সবাই মিলে ওই হুজুরকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়।

২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হওয়ার মোট ৩৪৫টি সংবাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৩৫৬, যার মধ্যে মারা গেছে ২২ জন এবং আহত হয়েছে ৩৩৪ জন। এর মধ্যে উত্যক্তকারী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১০ জন আর প্রতিবেশী দ্বারা ১০২ জন। গণধর্ষণের শিকার ৩৭ জন, শিক্ষক দ্বারা সতের জন।

এইরকম আরো অসংখ্য ঘটনা সমাজ এবং নারীর মান সম্মানের ভয়ে ধামাচাপা পড়ে আছে। নারীদের প্রতি পুরুষের এই হিংসাত্মক মনোভাব দূর করার সবচেয়ে বড় উপায়, নারী-পুরুষের সমঅধিকার। সমতাই পারে নারীকে মানুষের মত বেঁচে থাকার অধিকার দিতে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “কেবল নারীরাই না, পুরুষের হাতে বলাৎকারের শিকার হয় ছেলেরাও!

  1. পুরুষের, নারী অধিকার নিয়ে কথা বলা, নারীর উপর অন্যায়, অত্যাচার, নারী স্বাধীনতা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলা দেখলে, গর্বে আমার বুকটা ভরে যায়। আমার ৩২ ইঞ্চির বুকের ছাতিটা, ৫৬ ইঞ্চিতে গিয়ে ঠেকে। ভয়ে থাকি, ফেটে না যায়। আথচ এই আমি, যখন আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াই, যে প্রতিরূপটা পাই, ‘শেয়াল’। তবে, ‘পণ্ডিত’।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 53 = 60