কোরআনের কিছু ভুল এবং আজকের বিজ্ঞান!

মানুষ হিসেবে আমাদের জানার আগ্রহের কোন শেষ নেই। আমরা জানতে চাই, বুঝতে চাই, শিখতে চাই। মানুষ দুনিয়া বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে দাড়িয়েছে। বিশ্ব এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। চাইলেই মিথ্যা দিয়ে সত্যকে আড়াল করে রাখা যায়না। মিথ্যা দিয়ে সত্যকে ঢেকে রাখা মানুষের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। এবং কোরআন সেটাই বলে। বলুন সত্য এসেছে, মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল। আল কুরআন – বনি ইসরাইল – ৮১ অতঃপর সেই কোরানেই যদি ভুল পাওয়া যায়, মানুষ হিসেবে আমাদের কি করনীয়?

কোরআনের শুরুই হয়েছে এমন একটা আয়াত, যেখানে বলা হয়েছে। এটি এমন একটি কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই, এটা সকল মানবের জন্য পথ প্রদর্শন। সূরা বাকারা – ০১

যেখানে কোরআনের প্রথমেই কোন প্রকার সন্দেহ না রেখে এটাকে মানব জাতির জন্য পথ প্রদর্শক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেই কোরানেই যদি অসংখ্য ভুলে ভরা তথ্য দেওয়া থাকে, তাহলে মানুষ হিসেবে আমাদের কি করনীয়?

ধার্মিকরা হয়তো সূক্ষ্মভাবে এই বিষয়টাকে এড়িয়ে যাবে, এড়িয়ে যাওয়াই কি সমাধান? যে ধর্ম এবং ধর্মগ্রন্থ দিয়ে আমাদের হাজার বছর ধরে বন্দি করে রেখেছে, সেই ধর্মগ্রন্থে অসংখ্য মিথ্যা দেখার পরেও যদি আমরা এটাকে সত্য বলে প্রচার করি, সেটা কি মানব জাতির জন্য ক্ষতিকর নয়?

অবশ্যই ক্ষতিকর, সেজন্যই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন মিথ্যারও মহত্ত্ব আছে। হাজার হাজার মানুষকে পাগল করিয়া দিতে পারে মিথ্যার মোহ। চিরকালের জন্যে সত্য হইয়াও থাকিতে পারে মিথ্যা।

কিন্তু মানুষ হিসেবে সেই মিথ্যাকে আরো হাজার বছর চলতে দেওয়া কি উচিত হবে? নাকি সেটা হবে মানব সভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর কাজ?

এবার কুরআনের একটা আয়াতের দিকে লক্ষ্য করা যাক।

যুলকারনাইন তার পথচলা অব্যাহত রাখে এবং) চলতে চলতে সে যখন সূর্যাস্তস্থলে পৌঁছায়, তখন সে সূর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্তগমন করতে দেখে এবং সেখানে সে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পায়। আমি বললাম- হে যুলকারনাইন, তুমি ওদের শাস্তি দিতে পার, কিংবা সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার।” (সূরা কাহাফ ৮৬)

আল্লাহ যুলকারনাইন এর এই বিষয়টা তুলে ধরে বুঝাতে চেয়েছেন, দিন শেষে সূর্য ডুবে যায়, আর সূর্য ডুবে সমুদ্রের মধ্যে। আর আজকে আধুনিক বিজ্ঞান কি বলে? সূর্য কি এবং পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব কত?

– প্রায় ১৫ কোটি কিমি.
আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে কত?
– প্রায় ৩ লাখ মাইল।
পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র কোনটি?
– সূর্য
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে কত?
– ৮ মি. ১৯ সে.
সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র কোনটি?
– প্রক্সিমা সেনটোরাইট
এতে কি প্রমাণ হয় না কোরআন এখানে বিশাল বড় একটি ভুল করে ফেলেছে? কেননা সূর্য সূর্যের জায়গায় অবস্থান করতেছে, এটা ডুবে যাওয়ার কোন প্রশ্নই আসেনা।

মুসলমানদের সৃষ্টির জনক আল্লাহ কুরাআনে বলেছে,
সুরা ইউনুস, আয়াত ৩ :
“নিশ্চয় তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ যিনি তৈরি করেছেন আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন ।

ঠিক এই কথাটি কুরআনে বলা হয়েছে সুরা আরাফ-এর ৫৪ নাম্বার আয়াতে, সুরা সেজদাহ্-এর ৪ নাম্বার আয়াতে, সুরা ফুরকান-এর ৫৯ নাম্বার আয়াতে এবং সুরা হাদীদ-এর ৪ নাম্বার আয়াতে ।

দেখা যাচ্ছে কুরআনের বানী মতে আল্লাহ বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছে ছয় দিনে ।

আবার সুরা ক্বাফ-এর ৩৮ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে,
“আমি আকাশমন্ডলী এবং পৃথিবী ও এগুলোর মধ্যস্থিত সব কিছু সৃষ্টি করেছি
ছয় দিনে; আমাকে কোন ক্লান্তি স্পর্শ করেনি ।”
এই আয়াত অনুযায়ী আল্লাহ বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছে মাত্র ছয় দিনে কিন্তু কোনরুপ ক্লান্তি তাকে স্পর্শ করেনি । অর্থাত আল্লাহ এত শক্তিশালী যে মাত্র ছয় দিনে বিশ্বজগত সৃষ্টি করার পরেও তাকে কোন প্রকার ক্লান্তিই স্পর্শ করেনি ।

আবার আরেকটি আয়াত দেখলে ছয় দিনের ব্যপারটি আরও স্পষ্ট হবে ।
সুরা হা-মীম আসসাজদাহ্, আয়াত ০৯ ও ১০
“বলঃ তোমরা কি তাকে অস্বীকার করবেই যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে এবং তোমরা তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাতে চাও ? তিনি তো জগতসমুহের প্রতিপালক ।”

“তিনি স্থাপন করেছেন (অটল) পর্বতমালা ভূ-পৃষ্টে এবং তাতে রেখেছেন বরকত এবং চার দিনের মধ্যে এতে ব্যবস্থা করেছেন থাদ্যের, সমভাবে (এতে উত্তর) রয়েছে জিজ্ঞাসুদের জন্যে । “

০৯ নাম্বার আয়াত অনুযায়ী আল্লাহ প্রথম ২ দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করেছে । ১০ নাম্বার আয়াত অনুযায়ী এতে পাহাড় স্থাপন করেছে এবং খাদ্যের ব্যবস্থা করেছে বাকী ৪ দিনে । অর্থাত মোট ৬ দিনে সৃষ্টি করা হয়েছে বিশ্বজগত । ( কুরান অনুযায়ী আকাশ তৈরিতে আরও ২ দিন লেগেছে । যেহেতু এটি বিতর্কিত বিষয় তাই ধরে নিলাম প্রথম ২ দিনে আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছে এবং পরের ৪ দিনে পৃথিবীতে পাহাড় ও খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে । অর্থাত মোট ৬ দিনে বিশ্বজগত সৃষ্টি করা হয়েছে ।)

এখন অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারে যে, বিশ্বজগত সৃষ্টির পুর্বে আল্লাহ কোথায় ছিল ?
এর উত্তর আছে নিচের আয়াতে,
সুরা হুদ, আয়াত ০৭
“আর তিনিই আসমান ও যমীনকে সৃষ্টি করেছেন ছ’দিনে এবং সেই সময় তাঁর আরশ পানির উপরে ছিল যেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করে নেন যে, তোমাদের মধ্যে উত্তম আমলকারী কে ? ”

উপরিউক্ত আয়াতগুলো থেকে একথা স্পষ্ট যে আল্লাহ বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছে ৬ দিনে (মোট ৬ দিনে) । এখানে উল্লেখ্য যে, ৬ দিন হচ্ছে বিশ্বজগত সৃষ্টি সহ পৃথিবীতে প্রাণী বসবাসের উপযোগী করা পর্যন্ত মোট সময় (সুরা হা-মীম আসসাজদাহ্, আয়াত ০৯ ও ১০ অনুযায়ী) ।

কিন্তু আমরা জানি যে পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি হয়নি। বিজ্ঞান বলে বিশ্বজগত সৃষ্টি হতে লক্ষ লক্ষ বছর লেগেছে । বিশ্বজগত তৈরী হয়েছে আজ থেকে ১৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে । এবং পৃথিবীতে জীবের আবির্ভাব হয়েছে ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে (আসলে তারও লক্ষ লক্ষ বছর পরে) । তাহলে দেখা যাচ্ছে ৯ বিলিয়ন বছর লেগেছে বিশ্বজগত ও পৃথিবী তৈরী হতে এবং এতে প্রাণীর বসবাসের উপযোগী(খাদ্য তৈরী) হতে ( আসলে আরও বেশী সময় লেগেছে) । কিন্তু কুরআন মতে বিশ্বজগত সৃষ্টি ও পৃথিবীতে খাদ্যের ব্যবস্থা করতে অর্থাত পৃথিবী মানুষের বসবাসের উপযোগী হতে সময় লেগেছে মাত্র ছয় দিন । কিন্তু সত্য হচ্ছে, বিশ্বজগত সৃষ্টির শুরু থেকে পৃথিবী তৈরী হতেই সময় লেগেছে প্রায় ৯ বিলিয়ন বছর । তাহলে এতে খাদ্যের ব্যবস্থা হতে লেগেছে আরও লক্ষ লক্ষ বছর ।
তাহলে কুরআনে কেন বলা হয়েছে বিশ্বজগত মাত্র ৬ দিনে সৃষ্টি হয়েছে ? এটিতো কখনই কোন সৃষ্টিকর্তার কথা হতে পারে না। তাহলে নিশ্চয় কুরআন কোন সুষ্টিকর্তার বাণী নয়।
তবে এই ৬ দিন আসলে কত দিন এটি নিয়ে মুসলমান আস্তিকরা তর্ক করতে পারে; তারা দাবী করতে পারে এই ৬ দিন আসলে মানুষের গণনায় ছয় দিন নয় এটি সৃষ্টি কর্তার ছয় দিন । তাহলে এখন দেখতে হবে সৃষ্টিকর্তার এক দিন মানুষের হিসেবে আসলে কয়দিন !

সুরা হাজ্জ-এর ৪৭ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে,
“…..তোমার প্রতিপালকের একদিন তোমাদের গণনায় সহস্র বছরের সমান ।”

এই আয়াতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে আল্লাহর ১ দিন সমান মানুষের ১০০০ বছর ।
আল্লাহর একদিন সমান ১০০০ বছর নিলে ছয় দিনে হয় ৬০০০ বছর । কিন্তু তবুও বিশ্বজগত সৃষ্টির প্রকৃত সময়ের সাথে কুরানের ছয় দিনে বিশ্বজগত সৃষ্টির ব্যপারটা পুরোই হাস্যকর থেকে যাচ্ছে । অর্থাত ছয় দিনে বিশ্বজগত সৃষ্টির করা হয়েছে এটা সম্পুর্ন মিথ্যে বা ভূল কথা।
ছয় দিনে বিশ্বজগত সৃষ্টির এই ধারনাটা নেওয়া হয়েছে বাইবেল থেকে। বাইবেল অনুযায়ী বিশ্বজগত সৃষ্টি করা হয়েছে ৬ দিনে অর্থাত ৬টি ২৪ ঘন্টার দিনে । আর কুরাআনেও বাইবেলের ধারনাটাই ধার করা হয়েছে । এই ধারনাটি ২০০০-২৫০০ বছর আগের প্রাচীন মানুষের ধারনা। আর এই ধারনাটাই বাইবেলে বলা হয়েছে এবং কুরআনের লেখক বাইবেল থেকে নিয়ে কুরআনে ঢুকিয়ে দিয়েছে।

এখানে পৃথিবীর সৃষ্টির তথ্যকে একেবারেই ভুল ভাবে উপস্থাপন করেছে কোরআন। প্রথমত যখন পৃথিবীই সৃষ্টি হয়নি তখন সময়ের হিসাব আসলো কিভাবে? সেটার গণনা এবং মাপকাঠি কারা করেছে? ফেরেশতারা নিশ্চয়ই না। কেননা এই সব অংকের হিসেব-নিকেশ মানুষের সৃষ্টি, আর সেটাও মানব জাতি সৃষ্টির লক্ষ কোটি বছর পরে।

কেবলমাত্র কোরআনই না, সকল ধর্মগ্রন্থ একইভাবে অসংখ্য ভুলে ভরা, যা সামান্য একটু সচেতন হলেই মানুষ বুঝতে পারবে। সেটা বুঝার জন্য কাউকে লেখক, গবেষক, বিজ্ঞানী হতে হবে না।

দুই হাজার বছর তারও আগের, বা তারও পরের সকল ধর্মগ্রন্থই আজকের এই সভ্য সমাজে একেবারেই অযোগ্য। যার কারনেই মানুষ এখন ধর্মগ্রন্থের বেড়াজাল থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসতে শুরু করেছে। আর একসময় মানব সভ্যতার বিবর্তনে ধর্ম একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে, সেই দিন আর বেশি দূরে নয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

43 − 38 =