পা’বৃত্তান্ত -জাতীয় পতাকা পা এর স্পর্শে অবমানিত হয় না

অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতই পা শরীরের একটি অঙ্গ। পা এর সহায়তায় আমরা হাঁটি, দৌড়াই, নাচি, লাফাই মানে সবকিছুই। পা ছাড়া আমরা অচল। শরীরে যে কোন অঙ্গেরেই প্রয়োজনীয় ভুমিকা আছে, কোন একটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যদি শরীরে অনুপস্থিত থাকে তাহলে কোন না কোনভাবে অচল কিংবা স্বাভাবিক গতিতে সাধারণত শরীর কাজ করতে পারে না। এই পায়ের যত্নের জন্য আমরা জুতা ব্যবহার করি। যাতে আমাদের চলাফেরা আরো সহজ এবং স্বাস্থ্যকর  হয়। 

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক এই যে, এই পায়ের সামাজিক অবস্থান নেই। এরা নিপীড়িত, নির্যাতিত এবং অসম্মানের প্রতীক।

আপনি যদি কাউকে পা তুলে কিছু দেখান সেইটা অসম্মানজনক, আপনি যদি পা দিয়ে কোন বই  বা আপনার প্রিয় বস্তু স্পর্শ করেন সেইটা অসম্মানজনক, আপনি যদি কাউকে জুতা তুলে কিছু দেখান সেইটা একরকম অপমানজনক, আপনার পা যদি কারো শরীর স্পর্শ করে তাহলে আপনি হাত দিয়ে সালাম দেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। ‘ওমুকের অবস্থান আমার পায়ের নিচে’ এইরকম কথা আছে প্রচলিত, মানে ‘ওমুকের অবস্থান খুবই শোচনীয় জায়গায়’ সেইটা বোঝানোর জন্য। 

পা হচ্ছে আমাদের দেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের মত।যাদের ছাড়া দেশের অর্থনীতি অচল,  কিন্তু এদেরকে তাদের প্রাপ্ত বেতন দেয়া হয় না, সম্মান দেয়া হয় না। যাদের শ্রমে দেশ টিকে আছে তাদের সমাজে সম্মানের জায়গা নেই। ‘পা’ হচ্ছে ওইরকম, যেই পা শরীরকে এই জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যায়, যে পায়ের মাধ্যমে এত অর্জন এত কিছু সেই পা দিয়ে কিছু স্পর্শ করলে হয়ে যায় অসম্মান, অবমাননা।

 

এইসব কোথা থেকে এসেছে? আমরা তো জাতি হিসেবে খুব বেশি সভ্য না, আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বর্বরতার শেষ নেই, তাহলে এত ‘অতি সভ্য’ টাইপ আচরণের  উৎস কোথায়? পায়ের উপর পা তুলে বসলে অসম্মান, পা দিয়ে ছুঁলে  অসম্মান, জুতা অসম্মানের।

এত সম্মান আপনার ঠ্যাং এ না রেখে মস্তিষ্কে রাখেন। জাতীয় পতাকায় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দাঁড়ালে বা পা স্পর্শ করলে সেটা অবমাননা হওয়া উচিৎ না। 

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “পা’বৃত্তান্ত -জাতীয় পতাকা পা এর স্পর্শে অবমানিত হয় না

  1. প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমান দাম আছে। আলাদা আলাদা কাজে। পায়ের ইশারা যা বুঝায় হাতের ইশারা একই টা বুঝায় না। বিস্তারিত বুঝালে আলোচনা নোংরা হবে।
    এছাড়া আছে সংস্কৃতি ভেদে এশিয়া এবং অন্যান্য মহাদেশে এক না। আপনি যদি সংস্কৃতি বিরোধী হয়ে থাকেন সেটা ভিন্ন কথা।

    1. পায়ের ইশারায় যা বোঝায় সেটা কে নির্ধারণ করছে? নির্ধারণ করে থাকলে তার যৌক্তিকতা কি?
      এ প্রসঙ্গে ইশপের একটি গল্প মনে পড়ে-

      এক হরিণ সবসময় তার মনোহরি শিং নিয়ে গর্ববোধ করত। অপরদিকে তার পাকে খুব অপছন্দ করতো। একদিন তাকে এক সিংহ তাড়া করলো। সে অনেকক্ষণ দৌড়ে দৌড়ে বাঁচল কিন্তু একসময় নুইয়ে থাকা গাছের দালে তার সুন্দর শিংটা আটকে যাওয়ার কারণে সে পড়ে গেল। তখন সিংহ তাকে ধরে খেয়ে ফেলল। সিংহ তার থাবা বসানোর আগে হরিণটি ভাবলো- যে পাকে আমি এতদিন অসুন্দর, বিশ্রি ভেবেছি তাই আমাকে এতক্ষণ রক্ষা করলো কিন্তু যেই শিং নিয়ে আমি গর্ববোধ করতাম তাই আমার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ালো।

      আপনি বলেছেন , “এছাড়া আছে সংস্কৃতি ভেদে এশিয়া এবং অন্যান্য মহাদেশে এক না। আপনি যদি সংস্কৃতি বিরোধী হয়ে থাকেন সেটা ভিন্ন কথা।”

      কোনো কিছু সমাজে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসলেই সেটা যে গ্রহণযোগ্য হবে তেমন নয়। সতীদাহ প্রথা একসময় সংস্কৃতির অংশ ছিল। এই প্রথায় বিধবাদের পুড়িয়ে মারা হত। এছাড়া অনেক কুসংস্কারও যুগ যুগ ধরে সমাজে চলে আসছে। সংস্কৃতির যে অংশ অযৌক্তিক, ভিত্তিহীন এবং অমঙ্গলজনক তা আঁকড়ে ধরে থাকায় কোনো গৌরব নেই।

      1. আমি সংস্কৃতির বিরোধী। আর পা নিয়ে আমার একটু ও হরিণী এনার্জি নেই। কারো গায়ে হাত লাগা যে কথা পা লাগাও একই কথা। আমি যেটা বলতে চাইছি তা জাতীয় পতাকা প্রসঙ্গে। যেহেতু সেটা সমসাময়ীক আলোচনার বিষয়।

    2. আলোচনা বা সংলাপ কখনো নোংরা হয় না, পায়ের যে কাজ সেই কাজ এর জন্য পা-কে অসম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখার বিরোধী আমি

  2. বেশ কিছুদিন ধরেই এই বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়াতে খুব ঘুরপাক খাচ্ছে দেখেছি, কিন্তু একটিবারের জন্যও অবাক হয়নি। কারণ, এতটুকু ধারনা নিশ্চয় আছে যে বাঙালি এবং তাদের আচরণ কেমন হতে পারে। ইংরেজিতে একটি কথা আছে trigger যার বাংলা আসে (বন্দুক ছুড়িবার জন্য কল, বন্দুকাদির ঘোড়া, ঘোড়া, বন্দুকের ঘোড়া) ইত্যাদি। এই শব্দটি আবার মনোবিজ্ঞানীরা ব্যবহার করে থাকে অন্য ভাবে। তাদের ভাষায় এই ট্রিগারের বাংলা দাড়া করালে হবে হচ্ছে তাৎক্ষনিক টান। হঠাৎ করে জাগ্রত হওয়া কোন আবেগকে আমরা এই তাৎক্ষনিক টান বা trigger বলতে পারি যেটা বাঙালির মধ্যে প্রচন্ডভাবে কাজ করে। এরকম আবেগপ্রবণ জাতি আপনি দ্বিতীয়টি খুজে পাবেন কিনা সন্দেহ আছে। তবে এখানেও আমার অবাক হবার মতো একটি বিষয় কাজ করেছিলো যখন দেখছিলাম প্রগতিশীল পরিচয় দেওয়া একটি শ্রেনী এই বিষয়ে খুবই আগ্রহ প্রকাশ করছে দেখে। এখনও ভাবছি এরা কিভাবে প্রগতিশীল হতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

78 + = 79