জয়িঃ ০১

বাসাটায়জয়ি উঠেছে প্রায় বছরখানেকহয়ে গেলো। শিমা মাসীর মাধ্যমেএই বাসাটার খোজ পেয়েছিল। একাএকটা মেয়ের জন্য পেয়িং গেস্টহিসেবে এমন বাসা পাওয়া আসলেইখুব কষ্টকর। কিন্তু মাসীরসাথে পরিচয়ের সুবাধে পেয়েযায়। দুতলায় ১৪ বাই ১৬ একটারুম, লাগোয়াএকটা দখিনা ঝুল বারান্দা,ভাড়াবাবদ মাসে ২০০০ টাকা আর খাবারেরজন্য আরো ২০০০ টাকায় ব্যবস্থাটাএক কথায় অস্বাধারন। হ্যা,অস্বাধারনইবলতে হবে,পূর্নিমাররাতগুলোতে যখন একাকীত্ব পেয়েবসে, তখনবারান্দাটার প্লাস্টিকেরচেয়ারটা নিয়ে বসলে পৃথিবীরবাইরে চলে যায় জয়ী,এর কাছেমাসে মাসে চার হাজার টাকাকিছুই না। একটা ইজি চেয়ারকিনতে হবে সামনের মাসে,তাহলেবেশ হবে এখানটায় বসতে। দুলতেদুলতে ভেসে বেড়ানো যাবে আকাশেরনিচে। কল্পনার রাজ্যে ঘুরেআসা যাবে নির্দিধায়। শালার সামনের মাসটা আর আসে না।প্রত্যেক মাসে একটা না একটাঝামেলা লেগেই থাকে।

এইতো গেল মাসে হটাত করে মায়েরজ্বর, সেকি ভীষন জ্বর। ডাক্তার,টেস্ট,ঔষধ করেবের হয়ে গেলো দুই হাজার টাকা।তারপর মায়ের জন্য একটা শাড়িওকিনে ফেললো জয়ি। মা দুদিনছিলেন জয়ির এখানে। দুটি দিনমিতুদেরকে রান্না করতে বারণকরে দিয়েছিলো। মায়ের পছন্দেরসব খাবার নিজ হাতে রান্নাকরছিল দুটি দিন। মা মেয়ের দুটিদিন যেনো হুট করে চলে গেলো।বিদায়ের সময় মাকে শাড়িটা দেয়ারসময় জয়িকে ধরে রেখেছিলেন প্রায়দশমিনিট, মায়েরশরীরের উত্তাপটা জয়িকে ঘুমপাড়িয়ে দিয়েছিল,মায়েরচোখের পানিতে জয়ির পিঠের একপাশটা ভিজে গেছিল সে সময়।গাড়িতে তোলে দেয়ার সময় মা আবারো বলেছিলেন,দেখিস চিন্তা করে,জীবন তো সবটাই বাকী রয়ে গেছে।

সেই চিন্তাটা অনেক আগেই বাদ দিয়ে দিয়েছে জয়ী। গানের অনুষ্ঠান থেকে যে চিন্তার শুরু হয়েছিল,আর শেষ হয়েছিল একটা নিদারুণ চপেটাঘাতে, সেই চিন্তাটাকে ঝেড়ে ফেলে এখন নির্জন পেচার মতো একা, নিশাচর।মাঝে মাঝে ছেলেটার জন্য মায়া হয়, গোলগাল মুখ, পুতুলের মত নাক, ভরাট চিবুক, প্রসস্থ বুক। হ্যা,অস্বীকার করে না জয়ী, এমন একটা পুরুষকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতো। সেদিন একটা গানের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিল জয়ী, হটাত একটা ছেলে পথ রোধ করে, সরাসরি বলে ফেলে এই যে শুনুন, আমি আপনার প্রেমে পরে গেছি। এমন হটাত প্রস্তাবে জয়ী রেগে না গিয়ে হেসে ফেলেছিল।

এমন হুটহাট প্রেমে পড়ে যান কেন মশায়?

দেখুন, আমি আপনার সাথে পরিচিত হয়ে, ধীরে ধীরে ছলচাতুরী করে প্রম নিবেদন করতে পারতাম।

হুম, তার জন্য আপনি একটা ধন্যবাদ পেতে পারেন।

শুধু কি ধন্যবাদ? আর কিছু কি পেতে পারি না?

আমি তো মশায় আপনার মত না, আমাকে তো ভাবতে হবে।

রাতে বাসায় ফিরে ছেলেটাকে নিয়ে ভেবেছে জয়ি, ছেলেটা মন্দ না। সবচেয়ে ভাল লাগলো তার স্পষ্টবাদী তা। সত্যিই তো সে কি পারতো না ধীরে ধীরে পরিচয় পর্ব সেরে ভালবাসার নাটক সাজাতে? এমন একটা ছেলেকে জয়ি আশাই করে বলা যায়। তবে এখনো এক সপ্তাহ হাতে আছে। আবার এক সপ্তাহ পরে দেখা করবে বলেছে মিঠুন। পাগলের মত তাকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়ে ফেলেছে।বিয়ের কথা শুনে তো জয়ির অজ্ঞাণ হবার যোগার। বলেছে, ভেবে দেখবেন রাজী থাকলে সরাসরি বিয়ে। অদ্ভুত এমন মানুষও পাওয়াযায় আজকাল!

অবশেষে জয়ি রাজীই হয়েছে। মোটামোটি ধুমধাম করেই বিয়ে। ছেলে ব্যবসা করে, রাজনীতির সাথেও জড়িত। মানুষ হিসেবেও মন্দ না। প্রথম রাতে শুধু কথাবার্তা আর মাঝে মাঝে জয়ির ঠোট। বলে, আমি আসলে তোমার ঠোট দুটোর প্রেমে পড়েছি, আমার আর কিছু চাই না। হেসেছিল জয়ি।পরের রাতেও একই কথা। তৃতীয় রাতে, হ্যা, তৃতীয়রাতে জয়িকে কৌমার্যের অভিশাপথেকে মুক্তি দিয়েছিল মিঠুন। মানুষের থাকে প্রথম রাতের স্মৃতি, আর জয়ির টানা তিন রাতের । মিঠুনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধটা বেড়ে গেছিল বৈকি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “জয়িঃ ০১

  1. পৃথু-দা! ফাটিয়ে
    পৃথু-দা! ফাটিয়ে দিয়েছেন…
    আমার চরম লেগেছে! কিছু বর্ণনায় সাবলীলতা আর নতুনত্ব আছে!! :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

45 − = 38