সন্ধ্যার আড্ডা: বিড়াল সমাচার ও মানব জনম

বাস‌া বা‌ড়ির ‌বিড়ালের ন্যায় সুন্দরব‌নের বাঘ, আফ্রিকার সিংহ এ সব‌ই বিড়াল প্রজা‌তির, এই ব্যাপা‌রে কা‌রো কিন্তু কো‌নো স‌ন্দেহ নাই! অর্থাৎ এদের ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এইরকম : নিয়‌মিত বিড়াল, ডোরাকাটা বড় বিড়াল, কেশরওয়ালা বড় বিড়াল।

তো জে‌নে‌টিক বিজ্ঞান কী ব‌লে? ‌জেনে‌টিক বিজ্ঞান ব‌লে, ‘হুমম… আপনার ধারণা ১০০% কা‌রেক্ট!’

ডি.এন.এ. তে যে জেনেটিক কো‌ডিং আছে তা মূলত চারটা নিউ‌ক্লিওটাইড যৌগের (এডেনিন, গুয়ানিন, থায়ামিন, সাইটোসিন) নানারকমের বি‌চিত্র বিন্যাসমাত্র, যা এক‌টি প্রাণী‌কে বা‌য়োল‌জিক্যা‌লি সংগা‌য়িত ক‌রে। অর্থাৎ প্রাণী‌টি দেখ‌তে কেমন হ‌বে, লোম দেখ‌তে কেমন হ‌বে, উচ্চতা কেমন হ‌বে, চোখের রং দেখতে কেমন হবে, গা‌য়ের রঙ দেখ‌তে কেমন হ‌বে ইত্যা‌দি ব্যাপার ট্যাপার ডি.এন.এর ঐ চার‌টি নিউ‌ক্লিওটাইড এর বহু-বহু বিন্যাস দ্বারা নিয়‌ন্ত্রিত। ক‌ম্পিউটা‌রের তথ্য যেমন কেবলমাত্র ’০’ আর ’১’ দ্বারা সংগায়িত, তেম‌নি প্রাণীজগ‌তের বা‌য়োল‌জিক্যাল তথ্য মাত্র চার‌টি নিউ‌ক্লিওটাই‌ডের বিন্যাস দ্বারা নিয়‌ন্ত্রিত। এই এক একটি বিন্যাস জীবদেহের সুনির্দিষ্ট প্রোটিন উৎপাদনের জৈব্য রাসায়নিক ভাষা হিসেবে কাজ করে। মানবের ডি.এন.এতে এই রকম সুনির্দিষ্ট জৈব্য রাসায়নিক বিন্যাস পাওয়া যায় প্রায় ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০। সুনির্দিষ্ট এই বিন্যাসগুলিকে বায়োলজির ভাষায় বলা হয় জিন।

তো মূল আলোচনায় ফিরে আসি। কথা হচ্ছে, তিন রকমের বিড়ালের মধ্যে যে আন্ত:সম্পর্ক আছে বলে আপনার কাছে অনুভূত হয়, তা শতভাগ সত্যি। কারণ, গ‌বেষণাগা‌রে ব‌সে অক্লান্ত প‌রিশ্রম ক‌রে দেখা গেল, এই তিন প্রজাতির প্রাণীর ম‌ধ্যে ডি.এন.এ. শেয়া‌রিং হয়েছে ৯৫.৭% অর্থাৎ এদের মধ্যে তথ্যগত (বিন্যাস) মিল আছে ৯৫.৭%।

মানব জন‌মের কী খবর? মান‌বেরাও কি ডি.এন.এ শেয়া‌রিং করে কারও সাথে? মানে নিজের বায়োলজিক্যাল তথ্য ভান্ডারের সাথে মিল আছে, এমন কেউ কি আছে? না‌কি হা‌বিজা‌বি ফলটল খে‌য়ে কোন ধর‌ণের রে‌ডি‌য়েশন প্রো‌টেকশন ছাড়াই নগ্ন হ‌য়ে মহাশূ‌ণ্যের অসীম আলোকবর্ষ থে‌কে উড়‌তে উড়‌তে টুপ করে এই গ্যালাক্সির এই সৌরজগতের এই গ্রহে এ‌সে প‌ড়ে‌ছে?

নাহ্! বিদঘুটে রূপকথা এই আধুনিক যুগে একদম অচল। জে‌নে‌টিক বিজ্ঞা‌নের উৎকর্ষ সাধনের যু‌গে আজেবা‌জে গল্প রী‌তিম‌তো বেমানান!

কা‌জের কথা হ‌চ্ছে, তিন বেড়া‌লের ক্ষেত্রে জে‌নে‌টিক বিজ্ঞা‌নের পাওয়া মিলের ম‌তো আমরা এটাও দেখ‌তে পা‌চ্ছি যে, মানব ডি.এন.এ. আর শিম্পা‌ঞ্জির ‌ডি.এন.এ. এর ম‌ধ্যে তথ্যগত মিল আছে ৯৮.৫%! এর মা‌নে দাঁড়া‌চ্ছে, মানব জন‌মের আবির্ভাব আর শিম্পা‌ঞ্জি জীব‌নের আবির্ভা‌বের সূত্র একই উৎস থে‌কে আসা। দুই জীবের এই কমন বা সাধারণ উৎস‌কে ইভ্যুলুশন সা‌য়েন্স বা বিবর্তন বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় “কমন এ‌নসেসটর”।

চার্লস ডারউইন ঠিক এই কথা‌টিই ব‌লে‌ছি‌লেন, অর্থাৎ জীবজগ‌তের প্র‌তি‌টি প্রাণীর ম‌ধ্যে আন্ত:সম্পর্ক বিদ্যমান। দু:খের বিষয় ছিল এটাই যে, ডারউইনের সময় জেনেটিক বিজ্ঞান আলোর মুখ দেখে নি। তাই ডারউইন তাঁর বিবর্তনবাদকে সুপ্রতিষ্ঠিত হিসেবে রেখে যেতে পারেন নি। কিন্তু আজকে আমাদের কাছে মোটামুটি পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ, সবকিছুই বিদ্যমান; এখন শুধু প্রয়োজন বিজ্ঞানের আলোটুকু প্রতিটি আধুনিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।

 

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

70 − = 65