আল-কোরান নিয়ে একটু ভাবনা (১ম পর্ব)

আল-কোরান নিয়ে একটু ভাবনা (১ম পর্ব)

মুসলমান মাত্রই কোরান বিশ্বাসী। কোরানের প্রতিটি আয়াত তাদের কাছে অমৃত সূধা। এই কোরানের একটি আয়াতে ভূল তারা আজও কোথাও খুজে পায়নি। কারণ ভুল থাকলেই কোরানের বানীগুলো যার নিকট থেকে এসেছে সেই চরিত্রটি মিথ্যা প্রমাণিত হতে পারে। তারা মনে করে কোরানের বানী হচ্ছে সমগ্র মানব জাতীর জন্য প্রেরিত একেকটা নির্ভুল এবং নির্ভেজাল বানী। মুসলমানরা এই কিতাবের প্রতিটি বানীই যে নিজ নিজ ভাষাতে সঠিক অর্থসহ বুঝে পড়ে এটাকে বিশ্বাস করেন তাও কিন্তু নয়। তারা বাপ দাদার কাছ থেকে পৈত্রিক সুত্রে এই ধর্মটি পেয়ে থাকেন। বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, এবং সাহিত্য জ্ঞান যাদের ভেতরে কম থাকে তাদের মধ্যে বিশেষ করে ধর্মীয় অনুভূতির যায়গাটি একটু প্রকোট থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। আর সেই সাথে দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোতে আজও সেই হাজার বছর আগে সৃষ্ট মানব সভ্যতার ধর্ম গুলো টিকে থাকার কারণ হচ্ছে তাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি।

এসব অঞ্চলে জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চার উপরে সেই পুরাতন ধর্ম গুলোর হস্তক্ষেপই হচ্ছে প্রধানত দায়ী। তবে আমার কাছে সবচেয়ে আশ্চর্যের লাগে যখন দেখি সেই পুরাতন ধর্মের কিতাব গুলোর মধ্যে অনেকেই বিজ্ঞান বা আধুনিকতার ছোয়া পেয়ে থাকেন। শুধু কি আধুনিকতার ছোয়া, সেই সাথে আছে আরো অনেক কিছু। শুধু একটি ধর্মের কথা বলবো না, প্রায় প্রতিটি ধর্মের অনুসারীরাই চেষ্টা করে তাদের ধর্মীয় কিতাব গুলোকে একটু বিজ্ঞানময় করে তুলতে।

আর এই যুগে এসে হিন্দু এবং মুসলমান সম্রদায়ের মধ্যে এই প্রতিযোগীতাটি একটু বেশি দেখা যায়। হিন্দু ধর্মের মানুষেরা তাদের বেদ গীতাকে একদিকে বিজ্ঞান সম্মত প্রমাণ করার জন্য ব্যস্ত থাকলে অন্য দিকে ইসলাম ধর্মের মানুষেরা তাদের কোরানকে বিজ্ঞান সম্মত বানানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে। তারা একবারও চিন্তা করেনা যে আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে লেখা বই গুলোতে কিভাবে আজকের দিনের আধুনিক বিজ্ঞানের সম্পর্ক থাকতে পারে।

এইযে ধর্মীয় কিতাবগুলোকে বিজ্ঞান সম্মত বানাবার আপ্রাণ চেষ্টা এর পেছনের একমাত্র কারণ হচ্ছে নিজেদের ধর্মকে টিকিয়ে রাখা। নিজ নিজ ধর্মের সৃষ্টিকর্তাদের বাঁচিয়ে রাখা। ইসলাম ধর্মের কথা যদি বলতে হয় তাহলে এদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সবার আগে বেরিয়ে আসে। কিন্তু আশ্চর্য হবার মতো বিষয় হচ্ছে এদের মধ্যে কয়েকজন যে একেবারেই গন্ড মুর্খ তা কিন্তু নয়। প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে তারা কি দেখে সেই ১৪০০ বছর আগে লেখা কোরানের মতো এই যুগে একদম অকেজো একটা বইতে বিজ্ঞানের সুত্র খুজে দেখতে যায় ?

এটাই হচ্ছে সেই বিশ্বাসের ভাইরাস। যে ভাইরাসে আক্রন্ত হলে মানুষ কোরানের মতো একটা ফালতু বই এর ভেতরেও খুজে দেখতে যায় বিগ ব্যাং, মহাবিশ্বের প্রসারণ, শ্বেত বামন, ছায়াপথ, কৃষ্ণগহ্বর, অনু-পরমানু, আপেক্ষিক তত্ব, মানব সৃষ্টির ক্রমবিকাশ, সুপার স্ট্রিং তত্ত্ব সহ আরো অনেক কিছুই। মরিস বুকাইলী, কিথ মূর বা ডেন্টিস্ট জাকির নায়েকের মতো বহু আলোচিত এবং পরিচিত মানুষদের কথা না বললে এই লেখার মজাটায় পাওয়া যাবেনা। এরাই হচ্ছে তারা।, যারা ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে এমন ভ্রান্ত ধারনা ঢোকানোর জন্য একমাত্র দায়ী। যারা মনে করেছিলেন আল-কোরান হচ্ছে একটি বিজ্ঞানময় গ্রন্থ।

মরিস বুকাইলি সেই কোরানকে বিজ্ঞানময় প্রমাণ করতে গিয়ে হাজার হাজার পাতা লিখেছেন কিন্তু কোন কাজ হয়নি। তিনি ১৪০০ বছর আগের লেখা কোরানের সূরা আম্বিয়ার ৩০ নাম্বার আয়াতের সাথে নাকি বিগ ব্যাং তত্বের প্রমাণ পেয়েছেন। এমন কথা এই যুগে শুধু শুনতে হাস্যকর লাগার কথা নয়। যে বা যারা এমন চিন্তা ভাবনা করছে তাদের সুস্থ স্বাভাবিক মানুষই বলা চলেনা। যদিও এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। যাই হোক আমার কথা হচ্ছে সেই কোরান যদি এতই বিজ্ঞানময় হবে তাহলে বাজারে হাজার হাজার এস্ট্রো ফিকিক্স এর উপরে লেখা বই গুলোর কাজ কি ?

চলবে…

জার্মান প্রবাসী ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট

রবিউল আলম ডিলার

০৭/০৭/২০১৯

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 5 =