রক্ত মাখা যোনি নিয়ে যে মানুষটি ঘুমিয়ে আছে পৃথিবীর মাটিতে,তার নামই বাঙলাদেশ

চিন্তা করেছি আর পত্রিকা পড়বো না। পত্রিকার পাতা উল্টালেই প্রতিনিয়ত আঁতকে উঠতে হয়। এমন কোন দিন পাচ্ছি না বিচ্ছিরি নৃশংস খবরের থাবা থেকে। দেখা যাচ্ছে ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার নতুন করে ভরে উঠছে হত্যা,গুম আর ধর্ষণের খবর।লালা অক্ষরে ফুঁটে উঠছে পত্রিকার প্রথম পাতা বা গণমাধ্যমের হেড লাইনে। শুনেছি নারী ও শিশু সুরক্ষায় দেশে আইনি কাঠামো অধিকতর শক্তিশালী হয়েছে।

গুরুজনেরা বলেছিলেন শোনা কথায় কান দেয় অধমেরা।ঠিক সেটার শিকার আজ এ বাঙলা। চোখ খুললেই দেখা যায় নারী শিশুর প্রতি সহিংসতার দৃশ্যমান কোন প্রকার পরিবর্তন ঘটেনি। বরং ভয়াবহতা ও নেক্কার জনক পৈশাচিকতা বেড়েছে।ঘরে-বাইরে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আলেম,মাওলানা, মুয়াজ্জিন থেকে শুরুকরে শিক্ষকদের দ্বারা পর্যন্ত নানাভাবে শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতন ও পাশবিক ভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেই চলছে।

সেদিন শুক্রবার রাজধানীর ওয়ারীর একটি বাসায় শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে ধর্ষনের পর শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়।ঠিক একই দিন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল খায়ের বেলালী দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করতে চায়।সে সময় মেয়েটির চিৎকারে হাতেনাতে ধরা খায় এলাকাবাসীর কাছে।লক্ষ করে দেখুন তার কয়েকদিন আগেয় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার ঘটনা। মুমিন চেহারা অধিকারী এক মাদ্রাসা শিক্ষক ১২ জনকে ধর্ষণ করে।এবং তার স্বীকারোক্তি প্রদান করে।তা আপনারা সবাই অবগত। চলিত বছরের জানুয়ারি থেকে হিসেব করলে যে তথ্য পাওয়া যায় তা শুনলে যেকোন সুস্থ্য মানুষ অসুস্থ হতে বাধ্য বলে আশাকরি। জানুয়ারি থেকে এখন অবধি নারী ও শিশুর সংখ্যা৭৫০ এর অধিক আর মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের।

অধিক আঘাতের হলেও বলতে কষ্ট হয় যে আজকের শিশুরা প্রতিবেশী, উত্ত্যক্তকারী,বন্ধু শিক্ষক, আত্মীয়স্বজন সহ নিজের পিশাচ পিতার কাছ থেকেও রক্ষা পায় না।সুতরাং শুধু ঘরের বাহিরের নয়,পরিবার ও পরিচিত গণ্ডিতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে আজই সচেতন হোন।চোখের আড়াল থেকে যেনো রক্ষা না পায় কোন আপন নামক কালপিট।

“তাই বলেছিলাম রক্ত মাখা যোনি নিয়ে যে মানুষটি ঘুমিয়ে আছে পৃথিবীর মাটিতে,তার নামই বাঙলাদেশ”

ধন্যবাদ (টিটপ হালদার)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

72 − = 66