ঢাকাকে মসজিদের শহর বলা হয় এরপর বলা হয় রিকশার ।

ফারুক কাকা।কাকা বলেই আসছি সেই ছোট্ট বেলা থেকে।প্রায় ৫ ক্লাশ অব্দি মা আমাকে স্কুলে নিয়ে যেতো।আর আমাদের প্রধান বাহন ছিলো রিকশা।
ফারুক কাকাই আমাদের নিয়ে আসতো আর যেতো।
এখনো কোথাও গেলে কাকাই আমাদের ভ্রমণ সঙ্গি।
মা লোকাল বাসে উঠতে পারে না।জ্যামে পড়ে থাকা অসহ্য করা ভ্যাপসা গন্ধ মা সহ্য করতে পারে না।
তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই ফারুক কাকাকে জাগিয়ে তুলি ভোর কিংবা গভীর রাত।
ফারুক কাকার তিনটি কন্য সন্তান।বড় জনের সবেই বিয়ে হয়েছে ফরিদপুর। ছোটো দুটি স্কুলে যায়।কাকিমা কয়েকটি বাড়ির আয়ার কাজ করে।দুজনের এই আয় নিয়ে দু সন্তানকে নিয়ে কোনপ্রকার বেঁচে আছে এই লোহার শহরে। লোহার শহরই বটে।এ শহরের হর্তাকর্তারা আজ লোহা দ্বারা গঠিত। তা না হলে ফারুক কাকার মতন একজন খেটে খাওয়া মানুষের চোখে জল আসতো না!
চোখ ভাঙা ঘুম কাটিয়ে চলে এলাকার হোটেলে।এসে দেখি ফারুক কাকা মুখ কালো করে গালে হাত দিয়ে বসে আছে এক কোণায়। বল্লাম নাস্তা খেয়েছেন!
– না কাকা
ক্যান কাকা কী হয়েছে?
– নাস্তা খাওয়ার টাকা নেই রে কাকা!
কাকা কিছু হয়েছে আপনার,আমাকে বলেন?
– ৭ তারিখ থেকে আর রিকশা চালাতে পারবো না।
কাকা এখন রিকশা চালায় বাড্ডা থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত। কিন্তু সরকারের নবগঠিত আইনে রাজধানীর তিন গুরুত্বপূর্ন সড়কে আসছে রোব থেকে রিকশা চলাচল বন্ধ।ফলে যাত্রিরা সহ নিম্ন আয়ের রিকশা চালকেরা পড়ছে মারাত্মক বিপদে ও বিপাকে।
সড়কে গণপরিবহন না বাড়িয়ে যদি এমন অনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে তাহলে ভোগান্তির শেষ হবে না বলে মনে করি।
হঠাৎ করে এই আইন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য আমাই একটাই বুঝি সেটা হলো ফারুক কাকাদের মতন লক্ষ কাকাদের নিশ্বেস করার জন্যই এই আয়েজন।

আমি এই আইনকে তখনই শ্রদ্ধা করবো যখন ফারুক কাকদের জন্য সরকার আলাদা তথা রিকশা, ভ্যান চলাচলের জন্য সড়কে আলাদা লেন তৈরি না করবে।

এর আগে এই আইন বাস্তবায়ন করলে আমি তার তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই।
ঢাকা দক্ষিন সিটি ও ঢাকা ট্রাফিক কন্ট্রোল অথরিটির পরিকল্পনাকে আমি কোন যৌক্তিক কারণ বলে গণ্য করি না। তারা গাবতলি থেকে আজিমপুর(মিরপুর রোড) সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ ও কুড়িল থেকে খিলগাঁও হয়ে সায়দাবাদ পর্যন্ত সড়কে রিকশা চলার নিষেধাজ্ঞা জারি করে ফারুক কাকাদের মারার পরিকল্পনা করেছে।

গতকাল বাড়ি ফেরার পথে দেখেছি সুবিধা বঞ্চিত প্রতিবন্ধীদের একাংশ প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রেসক্লাবে সামনে বিক্ষোভ করছে।সেখানে বলছে- রিকশা হলো বর্তমান সময়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীরা চাইলেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে যেতে পারে না, সেখানে রিকশায় চাইলেই সুন্দরভাবে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু রিকশা বন্ধ হলে আমাদের আরও বিপাকে পড়তে হবে।

যদিও রিকশা বন্ধ হবার ঘোষণা শুনেই অনেকেই খুশি হবেন,বাহবাহ অনেকেই দেবেন। হুজুগে বাঙালি বলে কথা। বলবেন, খুবই ভালো উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত। কিন্তু সবকিছুরই ভালো-খারাপ দুটি দিক থাকে। মূল সড়কে অযান্ত্রিক যানবাহন চলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত বটে। তবে কথা থাকে। যে কথা কেবল দুর্ভোগে পড়া ভুক্তভোগীরাই ভালো জানে। ৭ জুলাই থেকে যা স্পষ্ট হবে।

যাহোক বেশি বাড়াবো না,
ঢাকাকে মসজিদের শহর বলা হয়। এরপর বলা শুরু হয় রিকশার শহর। ঢাকায় হরেক রকম রিকশার বাহার আছে বৈকি। ঢাকার রিকশা এখন লন্ডনেও পাওয়া যায়। যে রিকশার লাইসেন্স দেয় সিটি করপোরেশন, সে করপোরেশনই এখন রিকশাকে তার চলার পথ সীমিত করে দিচ্ছে। ব্যাপারটি চালকদের জন্য মড়ার উপর খাড়ার ঘায়ের শামিল।
অথচ, মসজিদ বেড়েই চলছে

অভিজ্ঞম মহলের মতে, ঢাকা সিটিতে অননুমোদিত যে পরিমাণ রিকশা আছে, অবাধে চলাচল করছে তার দশ গুণের বেশি। এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ না করে গরিবের যান হিসেবে পরিচিত সস্তার বাহনগুলোর চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে চালু রাখা জরুরি। বিকল্প ব্যবস্থা না করে সরিয়ে দেওয়া মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এতে রাজধানীর বড় অংশকে বিপাকে ফেলে ক্ষুদ্র অংশকে সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। আর এটাও একপ্রকার পুঁজিবাদী তান্ডব।

রাষ্ট্রের এই বিচ্ছিরি গরিব শোষণ ও বুর্জোয়া তোষনের বিরুদ্ধে আমি সোচ্চার। আপনিও সোচ্চার হোন।
গরিব অসহায় নিম্ন আয়ের লোকেদের উপর এ এক সরকারের সু পরিকল্পিত বীভৎস অত্যাচার। 
অতএব এই অবৈধ নীতি ও গরিব হাটাও কর্মসূচির বিরুদ্ধে আমার প্রিয় বাম সংগঠনের হরতালকে সমর্থন করছি।

ধন্যবাদ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 6 = 1