পূর্বপুরুষের রক্ত আর বাংপাক !

“বাঙালী যে ভারতকে কতটা ঘৃণা করে তা প্রকাশ পায় শুধু ক্রিকেটেই”

অধিকাংশ বাঙালিদের কাছে গতকাল ভারত হারেনি।হেরেছে মালুরা। তারা ভারতকে তথা পুরো দলকে মালু বলেই অভ্যস্ত। সম্ভবত এই শ্রী এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি ভারতীয় হাই কমিশনের।
গতকাল বাঙলাদেশের একটি চায়ের দোকানে বসে খেলা দেখছিলাম। কিন্তু মজার বিষয় হলো আমি ভুলে গিয়েছিলাম এটা বাঙলাদেশ! আমি লজ্জা ভরে ক্ষানিকটা সময় অনুভব করলাম আমি এখন বসে আছি পূর্ব পাকিস্তানের বিহারিদের কোন দোকানে।
ইস কী বিচ্ছিরি, বিচ্ছিরি গালি!! বমি হয়ে যাবার মতন।
– ধোনি বেশ্যার পোলা।
– খানকির পোলা আউট হয় না ক্যান।
-ইন্ডিয়ার হোগার ভিত্রে ঢুইকা গ্যাছে ম্যাচ।
-বাইনচোদ ইন্ডিয়ার এমন হওয়াই উচিৎ।
– কোহলি মুইতা দিছে।
ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি!!
নিশ্চয়ই উপরোক্ত বাণী সমূহ প্রকৃত পাক প্রেমী তথা বাংপাকিদের মুখো বচন। একজন প্রকৃত বাঙালি কাল সে দোকানে ছিলো না।
আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি।কাল বাংপাকিদের এই সব নোংরা কথার প্রতিউত্তর দিতাম তাহলে আমার পিঠের ছাল থাকতো না। আমাকে মেরে ওখানেই পুতে ফেলতে পারতো। অথচ,খেলা চলেছিলো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
একবার চিন্তা করুন। তারা নিউজিল্যান্ডের পক্ষে রইলো তবুও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পক্ষে রইলো না।
কারণ কী?
ধর্ম//শত্রুতা!!!
★ধর্ম- বাঙলাদেশে মুসলিম ১৭ কোটি
ভারতে মুসলিম ২০ কোটির বেশি।
আর নিউজিল্যান্ডে মুসলিম বাস করে কয়েক হাজার বোধহয়। ধর্মের দিক থেকেও যদি বিবেচনা করা হয় তাহলে কোন আক্কেলে তারা নিউজিল্যান্ডের পক্ষ নিলো!
★বাঙলাদেশে মুসলিমের হাতে প্রতিবছর যে পরিমাণ হিন্দু সহ সংখ্যালঘুরা নির্যাতনে দেশ ছাড়ে তা আর পৃথিবীতে কোথাও নেই। কই সে তূলনায় তো দেখি না, ভারত থেকে কোন মুসলিম বাঙলাদেশে এসছে!
বরং নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রতিদিন দেশান্তরিত হচ্ছে ৬০ জন।
এছাড়া বাঙলাদেশে মুসলিমদের চেয়ে ভারতীয় মুসলিমরা আরও ভালো সুবিধা পায়।
পশ্চিম বঙ্গে মমতা যে সুযোগ করে দিছে মুসলিমদের তাতে বেশি সময় লাগবে না বঙ্গের মোসলমানী করাতে।
ভারত ইমাম ভাতা দিচ্ছে। চিন্তা করে দেখুন হে বাংপাকি মালুরা ইমাম দের ভাতা দেয়! আর আপনারা সেটা হাত পেতে নিয়ে ব্যাগ ভর্তি বাজার করে খেয়ে মালু বলে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন।
কত জঘন্য আপনারা! আপনারা আসলে সা পৃথিবীর জন্য হুমকি। যদি তাই না হয়, তাহলে কেউ পশ্চিম পাকিস্তানকে বুকে টানে! নতুন প্রজন্মের বাংপাকিদের সংখ্যা কাল বেশি ছিলো। এরা একেবারে নবীন পাক প্রেমী।পাক প্রেম শুরু সবে পরিবার থেকে। আমি জানি এরা দুঃখি বাঙলার ইতিহাস জানে না।এরা দেশ প্রেমের থেকে গুরুত্ব দেয় ধর্মকে। পাকিস্তানের প্লেয়ার সব মুসলিম।তারা তাদের ভাই।কিন্তু ভারতের প্লেয়ার অধিকাংশ হিন্দু।হিন্দুরা মানুষ না ওরা মালু।
মূলত এই শিক্ষাটাই পরিবার থেকে শিখে নেয় একজন নবীন বাংপাকি সন্তান।
বাংপাকিরা ভারতের কাছ থেকে সব সুযোগ নিবে আর সুযোগ পেলে কায়দা মত পোঁদ মারবে।
যেমন ধরুন,
★মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯০ লাখ মুসলিম (আজকের রোহিঙ্গাদের মতন) আর ভারতের পোঁদ মারবে।
★ কম দামে পেঁয়াজ, রসুন,মশলা থেকে শুরু করে কুরবানির গরু খাবে আর ভারতের পোঁদ মারবে।
★ভারতীয় বিনোদন সারাদিন রাত উপভোগ করবে আর পোঁদ মারবে।
★পোষাকাষাক ভারতের গুলো ফলো করে জীবন চালাবে আর ভারতের পোঁদ মারবে।
★সারারাত বৌ কে নিয়ে ভারতের ডি জে গান শুনবে আর ভারতের পোঁদ মারবে।
এটাই হলো বাঙলাদেশের বাংপাকিদের অভ্যন্তরীণ অভ্যেস।
অথচ সব কিছু বন্ধ করে দিলেই বুঝতে পারবে কত ধানে কত চাল হয়।
গতকাল পরিচিত এক বাংপাকিকে জিজ্ঞেস করলাম।
কাকা আপনি আজ কেন ভারতের বিপক্ষে বসলেন।
সে এক বাক্যের বলতে নারাজ আমি পাকিস্তানের সাচ্চা সাপোর্টার। তাই সে ঘুরিয়ে বল্লো –
ভারত সেদিন আমাদের হারিয়েছে তাই আজ নিউজিল্যান্ডের পক্ষে।
আমি মুচকি হেসে ঘৃনা ভরে বল্ললাম-
কাকা বাঙলাদেশ তো নিউজিল্যান্ডের সাথেও হেরেছে।বরং ভারতের সাথে বাঙলাদেশ ফাইট করেছে।যা নিউজিল্যান্ডের সাথে পারেনি।
কাকা থতমত খেয়ে বলতে বাধ্য হলো ভারতীয়রা সবাই মালু।
মালু শব্দটা আমি সেই ছোটো বেলা থেকেই অভ্যস্ত। একটু বড় হয়ে জানতে পেরেছি মালু শব্দটা কুরান থেকে এসছে। যাহোক সে কথা।
মূল কথা হলো ভারত সেদিন ইংল্যান্ডকে জিতিয়ে দিয়ে অধিকাংশ কথিত বাঙালির বাবা পাকিস্তানকে সেমিফাইনালে ওঠাকে বানচাল করেছে।
সে শোকে কাটাবার জন্যই বাংপাকিদের এই বীভৎস উৎসব।
বাংপাকিদের আসলে কোন ধর্মীয় নীতিও নেই।
যদি তাও থাকতো তাহলে অন্তত গতকালের ভারত নিউজিল্যান্ডের ম্যাচে কখনোই নিউজিল্যান্ডের সাপোর্ট করতো না।শত কষ্ট হলেও ভারতের সাপোর্ট করতো।
কারণ ধর্মীয় দিক থেকে সবার আগে ঘৃণা আসার কথা নিউজিল্যান্ডের প্রতি।কারণ কদিন আগেই নিউজিল্যান্ডের মসজিদে প্রাণ হারিয়েছে বহু বাঙালি।
অল্পের জন্য বেঁচে গেছে সাকিব, তামিম,মাশরাফিরা।
অথচ, পাক বীজের অতিমাত্রার বিস্ফোরণে পাক প্রেমের জয় এখনো এ বাঙলায়।

 

বাবা বলেছিলো –

‘৯৯ এর বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারানোর পরদিন সকালে রঙ খেলার পাশাপাশি পেপারে দেখেছিলাম কয়েকজন বাংপাকি আবেগে আত্মহত্যাও করেছে। ওয়াকার, আকরাম, শোয়েবের আমলে প্রায় কাউকেই পাকিস্তান বাদে অন্য কোন দলকে সমর্থন করতে দেখা যায়নি।

এইতো সেদিন ফেসবুক এলো আমরা সুশীল হলাম। সেসময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটেরও উন্নতি হল। আমরা ভোল পাল্টে সম্মানজনক পরাজয়ের আমল থেকে ‘ধরে দিবানি’ আমলে প্রবেশ করলাম।

সাথে সাথে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রধারী পাকিস্তানি সাপোর্টাররা তাদের পাকিস্তানি জার্সি তুলে রেখে সৌম্য, লিটন সংখ্যালঘু কোটায় দলে চান্স পায় কিনা তার হিসেব কষতে থাকলো সুশীলদের আতুরঘর ফেসবুকে আর অনলাইন নিউজ পোর্টালের কমেন্ট সেকশনে।


দিন আবার বদলালো মূলতঃ গত বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। ভারতের ক্রিকেটীয় কূটনীতির শুভঙ্করের ফাঁকির স্বীকার হলাম । যদিও তা এবারের আসরে পাকি আম্পায়ার আলিমদ্বার পালটে দিলো ধারণা। এবার খুব লক্ষ্য করে দেখেছি লিটন, সৌম্যকে এই আলিমদ্বারই ইচ্ছে করে আউট দিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনাই মূলত সাহয্য করে অতীতের ভারত বাংলাদেশের বিতর্কের প্রধান কারন । স্মৃতিচারণ করুন দেখতে পাবেন সেদিনের মাঠেও ছিলেন পাকিস্তানের কুলাঙ্গার আলিমদ্বার।

তারপর প্রায় জোর করেই পাকিস্তান-ভারত, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মত বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট রাইভালরি জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করা হল। তবে তা যতটা না মাঠে তার চেয়ে অনেক বেশি অর্ধমুন্ডন করা ভারতীয়দের ক্রিকেটারদের মাথা বা মওকা মওকা ভিডিওতেই বেশি সীমাবদ্ধ ছিল। 


এর ফায়দা উঠালো সেই পাকিস্তানের জার্সি লুকানো বাংলাদেশের সুশীল সমাজ। যারা পাকিস্তানকে সাপোর্ট করার সময় ‘খেলার সাথে রাজনীতি মিশাবেন না’ বলত তারাই আজ পাকিস্তানের জয়ে উল্লাস করে তিস্তার পানি, ফেলানী হত্যা, গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের অন্যায়, কোহলির জিহ্বা বের করা – সব অপরাধের প্রতিশোধ নিয়ে ফেলল।


ভারত আমাদেরকে যথাযথ ক্রিকেটীয় সম্মান দেয় না – এর জন্য আমরা ভারতীয় ক্রিকেটকে ঘৃণা করব। কিন্তু তা কখনই পাকিস্তানের সাফল্যে উল্লসিত হয়ে নয়।
দয়া করে বাবা দিবসে ভারতের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে পাকিস্তানের সাফল্যে নিজের অনুরাগ প্রকাশ করে নিজের পূর্বপুরুষের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না।

সর্বপরি যা বললাম,ভারতের দালাল যদি বলেন তাহলে বলব আরও বলেন।কারণ ওদের দালালী করলেও নিজেকে বুঝ দিতে পারি ওদের জন্য হলে কিছু একটা করতে পারছি।
আজকের লাল সবুজের বাঙলা গড়ার ওদের যে কৃতকর্ম তা আপনাদেএ মত বাংপাকিদের মননে নেই।

ধন্যবাদ
টিটপ হালদার 

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “পূর্বপুরুষের রক্ত আর বাংপাক !

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

96 − = 94