পূর্বপুরুষের রক্ত আর বাংপাক পর্ব – ২

বাংপাকি এমন একটি গোষ্ঠী যারা পাকিস্তানের ক্রিকেট দলকে সমর্থন করে, একটু উর্দু গজল-টজল শোনে, কথায় কথায় ভারতের সীমান্ত হত্যা ও নদীশাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশে মরুকরণের উদাহরণ টেনে এনে ভারতকে বর্বর বলে, পাকিস্তানের একাত্তরের গণহত্যা অস্বীকারের সমর্থক হয়। এরা বাংলাদেশকে লুন্ঠনের ক্ষেত্র মনে করে। এক ধরনের হাপিত্যেশ করে থাকে কেন দেশটা ফাকিস্থান হলো না। তারা সব সময় পশ্চিম পাকিস্তানের পুরুষদের ভাই হিসবে গণ্য করে ।

**দুধের মধ্যে পানি মেশানো ।
**ফল-ফলাদিতে ফরমালিন মেশানো ।
**রাজনীতিতে ধর্ম মেশানো ।
**পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকতা মেশানো ।
**রডের সঙ্গে বাঁশ মেশানো ।
**মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অমুক্তিযোদ্ধা মেশানো ।
**নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে সৌদি সংস্কৃতি মেশানো ।
**লুন্ঠনের সঙ্গে দেশপ্রেম মেশানো ।
**শিক্ষার সঙ্গে প্রশ্নফাঁস মেশানো ।
**অযোগ্যতার সঙ্গে তেল মেশানো ।
**ঘৃণাচর্চার সঙ্গে পদ-পদবী-পদক মেশানো ।
**ভোটের সঙ্গে জামাত-হেফাজত মেশানো ।
** দামড়া গরুর সাথে আবাল মেশানো ।
** আম্লিগের সাথে হাইব্রিড মেশানো ।
আর খুঁজে পাচ্ছি না , পেলে কমেন্টে মিশিয়ে দিন ।

আর, আমার সাথে তোমাকে মেশানো❤️

তাই এখন সংগীত, ক্রীড়া, বিজ্ঞানের সঙ্গে রাজনীতি মিশিয়ে ষোলকলা পূর্ণ করতে চলেছে উগ্রমিশ্রজাতীয়তাবাদীরা।

এই বাংপাকি ও উগ্রমিশ্রজাতীয়তাবাদীদের আচার-আচরণ বর্বর। এরা সম্মিলিতভাবে পরিত্যক্ত সম্পত্তি দখল করা লোক। হিন্দুদের উচ্ছেদ করে তাদের বাড়ি দখল করে সেখানে বাংপাকি বসে গজল শোনে, পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলা দেখে। হিন্দুদের উচ্ছেদ করে তাদের বাড়ি দখল করে সেখানে বসে বাঙ্গিন্ডি রবীন্দ্র সংগীত শোনে, ভারতের ক্রিকেট খেলা দেখে।

এই বাংপাকি ও মিশ্রবাদীরা সবসময় “দেশপ্রেম” নিয়ে মাতম তোলে; কারণ এইসব দেশপ্রেমের জিগির, সাধারণ মানুষকে ধরে ধরে দেশপ্রেম করা শেখানো; এগুলোই এদের উপার্জনের উৎস।

বাংপাকিরা প্রত্যেকেই নানা সরকারের সময় “রাজাকারে”র ভূমিকা পালন করে তার বিনিময়ে জীবন নির্বাহ করে। ফলে এদের অর্থনৈতিক অবস্থা শূন্য থেকে ফেঁপে সুইস ব্যাংক উপচে পড়ে।
এরা সাধারণ মানুষের সামনে একটি আদর্শিক লড়াই তুলে ধরে তাদের মাতৃদলগুলোর প্রতিদিনের আদর্শচ্যুতি লুকিয়ে রাখা। দুর্নীতি, লুন্ঠন, আইন শাসনের অভাব, মানবাধিকারের মানবেতর অবস্থা এইসব জরুরি বিষয়ে জনবিতর্কের গতিপথ সরিয়ে বাঙ্গিন্ডি বনাম বাংপাকিতে নিয়ে যাওয়া এইসব গণপ্রতারকের পেশা।

এই গণপ্রতারকদের আদর্শের পার্থক্য যে একেবারেই নেই; তা বোঝা যায়. কারণ ব্যক্তিস্বার্থের প্রয়োজনে সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান হামলার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো আগ্রহ তাদের মাঝে লক্ষ্য করা যায়নি। পাঠ্যপুস্তকের যখন মুসলমানি করা হয় তখন এই বাংপাকি ও মিশ্রবাদীরা চুপচাপ সমর্থন দেয় ও মদিনা সনদের দিকে দেশ এগিয়ে নিয়ে যায়।
হাইকোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরানোর সময় বাংপাকিদের আসল রূপ দেখা যায় আর মিশ্রদের সাথে আমে-দুধে মিশে যায়।

বাংপাকির আছে জামাত সঙ্গী আর আর মিশ্রদের আছে সুবিধা সঙ্গী। আর আমি মনে করি এই দুই সঙ্গীই যথেষ্ট এদেশ মরুর দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ।

ধন্যবাদ
— টিটপ হালদার

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 5