দি ভলান্টিয়ার্স অব রাঙামাটি

ইফতারের পূর্ব মুহূর্ত।
গত দুইদিন মুষলধারে বৃষ্টির কারণে ঘর হতে বের হওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই, আজ বৃষ্টি একটু কমতেই সবাই ছুটে এসেছে। নিত্যদিনের মতো বৈকালিক আড্ডা চলছে। সবার কথাবার্তার বেশীরভাগই ল্যান্ড স্লাইড আর হতাহত কেন্দ্রিক।

সবাই যার যার মতো করে নিজস্ব অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে। অনেক লাশ এসেছে শুনে, প্রায় সবাই একমত হলো যে, শহরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয় –ক্ষতি দেখতে গেলেও হাসপাতালে যাওয়া যাবে না। এরকম এক সময়ে, তাদেরই এক ছোট ভাই, ফাহিম, একটা ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে আচমকা জোবায়েরের উপর বাইক উঠিয়ে দেয়।

কি আর করা?
তৎক্ষণাৎ সবাই রওয়ানা হয়ে যায় হাসপাতালের উদ্দেশ্যে।
তাঁরা ছিল কাপ্তাই রোডে। সেখান থেকে বনরুপা হয়ে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে পৌঁছাতে বেশিক্ষণ লাগে না । প্রতি মুহূর্তে একের পরে এক আহত আর নিহত মানুষ আসছে হাসপাতালের ইমারজেন্সি ওয়ার্ডে। জোবায়েরকেও তেমনি একজন ল্যান্ড স্লাইড ভিক্টিম মনে করে, অন্যান্যদের পাশেই তাকে শুইয়ে রাখা হয়। ঐ মুহূর্তে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ টা লাশ জুয়েলের চারপাশে। মধ্যে সে একা জীবিত একজন মানুষ।

সাথে থাকা বন্ধুরা ততক্ষণে মজা করতে শুরু করেছে, তাকে নিয়ে।
বলছে, “নাম লিখায়া ফেল, ত্রাণ পাবি।”
অবশ্য কিছুক্ষনের মধ্যেই হাসপাতালের স্টাফরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে দ্রুতই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে ফেলে। রক্ত পড়া বন্ধ করে, ব্যান্ডেজ শেষ করতে দক্ষ স্টাফদের বেশিক্ষণ লাগে না। জুয়েলকে নিয়ে বের হওয়ার সময়ই একটা ট্রাক এসে থামে হাসপাতালের প্রবেশ্মুখে। চোখের সামনে অনেকগুলো লাশ নামানো হয়। তারমধ্যে, তিনটা শিশুর লাশ। বিমর্ষ ও হতবিহবল এক পরিস্থিতিতেই তারা হাসপাতাল ছেড়ে চলে আসে।

ফেসবুকের কল্যাণে তাদের অনেকেই ভূমিধ্বসের ভয়াবহতাঁর সংবাদ পেয়ে গেছে ততক্ষণে।
তার উপরে, নিত্যকার বৈকালিক আড্ডা দিতে গিয়ে চেনা শহরটাই এই তরুণদের চোখে অচেনা ঠেকে। মুষলধারে একটানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের সাথে অভাবনীয় ভয়ংকর বজ্রপাতের কারণে রাঙামাটি শহরের অনেক স্থানেই ছোটবড় ভূমিধ্বস হয়েছে। আর ভূমিধ্বস পরবর্তী ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা দেখে নিজেরাই ঠিক করে যে তাদের কিছু একটা করা উচিৎ। এই প্রিয় শহরের জন্য।

দুই দিন পরে রাঙ্গামাটির সতেরটি সামাজিক সংগঠনের তরুণেরা একত্রে বসলো রেইনবো রেস্টুরেন্টে। অনেক আলোচনার পরে মোটামুটি সিদ্ধান্ত হলো যে, এই দুর্যোগের সময় কিছু না কিছু করা উচিৎ। আর, আলাদা আলাদাভাবে কিছু না করে সবাই মিলে একত্রে কাজ করলে ভালো হবে। আরো সিদ্ধান্ত হলো যে, তাঁরা আগে তাদের পরিকল্পনা ডিসিকে জানাবে। কারণ, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে অনেকগুলো আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাঁরা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে সামিল হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষদের সহায়তা করতে চায়।

ঐদিন সন্ধ্যায় তাদের মধ্যে থেকে শাফিন আর পাভেল গেল ডিসি অফিসে।
একজন পিয়ন তাদেরকে ডিসির সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে, ডিসি’র রুমে নিয়ে গেল।
রুমের ভিতরে তখন অনেক মানুষ। মেয়র, বিভিন্ন ওয়ার্ডের কমিশনার, রেড ক্রিসেন্টের লোকজন ইত্যাদিসহ আরো অনেক লোক। ডিসি’র সাথে কথা বলার সুযোগ মিলছিল না।

এরকম এক সময়ে জোন কমান্ডার (সেনাবাহিনীর স্থানীয় এক কর্মকর্তা) অফিসে প্রবেশ করে।
অবশ্য তখন পর্যন্ত জোন কমান্ডারের সাথে এই তরুণ দলটির পরিচয় ছিল না। এতগুলো বয়স্ক লোকের মাঝে ২-৩ টা তরুণকে দেখে তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়ে তাদের পরিচয় এবং আগমনের উদ্দেশ্য জানতে চাইলেন। তাঁরা জানালো যে, তাঁরা স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত এবং ল্যান্ড স্লাইডে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্যে কিছু একটা করতে চায়। জোন কমান্ডারের সাথে কথা বলার সময়ই ডিসি জানতে চাইলেন ,

  • “তোমরা কি করবে?”
  • “স্যার, যেভাবে আমাদেরকে কাজে লাগান, আমরা কাজ করতে রাজী আছি।”

কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন, তারপরে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন,

  • “তোমরা আসলে কি করতে চাও?”
  • “আমরা রাঙামাটির সামাজিক সংগঠনের সবাই মিলে বসেছিলাম আজকে, স্যার। আমরা কন্ট্রিবিউট করতে চাই। আমরা চাই, আমরা যেভাবে চিন্তা করি, আরকি – টাকা তুলবো, কাপড়চোপড়, চাল-ডাল এগুলো তুলবো। তুলে আপনাকে দিবো। বা, আপনার মাধ্যমে বিতরন করবো, আরকি। বা অন্য কারো মাধ্যমে বিতরন করবো।”
  • “তোমাদের এই ২০০-২৫০ কেজি চাল দিয়ে তো আমরা এক বেলাও খাওয়াইতে পারবো না। এগুলো দিয়ে আমার কি হবে?”
  • “স্যার, আমরা যেকোন ভাবে কন্ট্রিবিউট করতে চাই।”

বাস্তবে, তরুণদের প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কাছে তেমন মনোপুত হয়নি।
এদেরকে কোনোভাবে কাজে লাগানোর উপায় ঐ মুহূর্তে তার হাতে হয়ত ছিল না। অচেনা-অজানা, অনভিজ্ঞ এই তরুণদের পরিবর্তে জনপ্রতিনিধি এবং অফিসিয়াল স্টাফ চ্যানেল অনুসরণ করে কাজ করাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করাটাই স্বাভাবিক।

মোটামুটি এই রকম কথা বার্তা শেষে বেড়িয়ে যাওয়ার মুহূর্তে জোন কমান্ডার তাদেরকে বললেন,

“তোমরা বাইরে অপেক্ষা করো।
আমি ডিসির সাথে কথা বলে বের হয়ে তোমাদের সাথে কথা বলবো।”

কিছুক্ষণ পরে জোন কমান্ডার রুমের বাইরে এসে তাদের কাছে জানতে চাইলেন,

  • “তোমরা কোথায় থাকো?”

শাফিন জবাব দিলো,

  • “আমরা রাঙামাটি থাকি।”
  • “তোমরা আমাকে চিনো?”
  • “না, আমরা তো আপনাকে চিনি না।”
  • “আমি রাঙ্গামাটির জোন কমান্ডার। তোমরা কয়জন হবে?”
  • “আমরা মিনিমাম ৪০-৫০ জনতো হবোই।”
  • “এখানে আমার মিটিং চলবে প্রায় রাত ১০ টা পর্যন্ত। এমনকি, মিটিং শেষ হতে হতে সাড়ে দশ – এগারটা বাজতে পারে। তোমরা আমার জোন সদরে যাও। গিয়ে আমার নাম বলবে। আমি তোমাদের সাথে একটা মিটিং করবো।”
  • “ঠিক আছে, স্যার। আমরা ১০ টার দিকে তাহলে যাবো।”
  • “তোমাদের নাম্বার আর নামটা দাও। আমি তোমাদেরকে ফোন দিবো। তোমরা জোনে চলে এসো, আমি তোমাদের সাথে একটা মিটিঙয়ে বসবো।”

রাত ৮ টার দিকে তারা ডিসি অফিস থেকে চলে এলো।
তারপরে রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে গেলো জোন হেডকোয়ার্টারে।
শাফিন, পাভেল, মিকি, নোয়েল মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ জন। জোনের অফিসে জোন কমান্ডার ছাড়াও তার টু আই সি এবং আরো কয়েকজন উপস্থিত। তাদের সাথে বসে জোন কমান্ডার তাদের পরিকল্পনা জানতে চাইলেন। তাঁরা জানালো যে, তাঁরা স্থানীয় বেশ কয়েকটি সংগঠনের সাথে জড়িত। সব মিলিয়ে ৬০-৭০ জন ভলান্টিয়ার্স তাঁরা জোগাড় করতে পারবে। বেশীরভাগই ছেলে, অল্প কয়েকটি মেয়েও আছে। যেভাবে দায়িত্ব দেয়া হবে, তাঁরা ঐভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। মূলত তারা কিছু একটা করতে চায়।

জোন কমান্ডার চিন্তা করে দেখলো যে, তার ঐ মুহূর্তে প্রতিদিন প্রায় ১০০-১২০ জন লোক বিভিন্ন জায়গায় মৃতদেহ খোঁজা এবং উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্যে বিভিন্ন উপদলে ভাগ হয়ে কাজ করছে। আরো প্রায় ৯০ জন লোক শুধুমাত্র আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেই নিয়োজিত থাকবে। এর বাইরে, খাবার প্রস্তুতি, খাবার পৌঁছে দেয়া, ইত্যাদি কাজ মিলিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রেই প্রায় ১৫০ জন লোক দরকার হবে।

এদেরকে যদি ৫-৬ জনের উপদল করে প্রতি আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়োজিত করা হয়, তাহলে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার পাশাপাশি অন্যান্য কিছু কাজ করা সহজ হবে। তারমধ্যে একটা কাজ ছিল, ডাটা বেইজ তৈরি করা। আশ্রয়কেন্দ্রে কতজন লোক আশ্রয় নিয়েছে? এদের বাড়ি ঘর কোথায়?  কি কি ক্ষতি হয়েছে? এদের হাইজিন ঠিকমতো মেইনটেইন হচ্ছে কিনা ? খাবার হয়ত সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু আশ্রয়প্রার্থীরা ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে কিনা ? এরকম অনেক ধরনের প্রশাসনিক চাহিদা পুরনের কাজে এই ছেলেগুলো কাজে আসবে।

ভাবনা-চিন্তা শেষে, জোন কমান্ডার জানতে চাইলেন,

  • “আমাদের সাথে কাজ করতে পারবে, এমন কয়জন  ভলান্টিয়ারস কালকের মধ্যে তোমরা ম্যানেজ করতে পারবে?”

প্রত্যুত্তরে, তাঁরা জানতে চাইল,

-“স্যার, আপনার কতজন লাগবে?”
-“সেনাবাহিনীর হাতে ৮ টি আশ্রয় কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিটাতে ৫ জন করে মোট ৪০ জন ভলান্টিয়ার্স দরকার। ৭ টার মধ্যে নাম দিতে হবে, ৯ টার মধ্যে রিপোর্ট করতে হবে।”

  • “আমরা পারবো। কিন্তু এখনতো নাম দেয়া সম্ভব না। সকালে যখন রিপোর্ট করতে যাবো, তখন আপনাকে নাম দিয়ে যাবো।”

তিনি আরো জানালেন, মেয়েদেরকে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে। আর, যেহেতু কাজগুলো প্রায় সারাদিন এমনকি রাতেও চলবে, তাই তাঁরা নিজেদের মধ্যেই শিফট ভাগ করে নিবে।  তিনি এও বলে দিলেন যে, তাদের জন্য কোনো গাড়ি দিতে পারবে না। তারা সম্মতি জানিয়ে বললো যে, তাঁরা তাদের বাইকে করে, কিংবা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সময় মতো হাজির হয়ে যাবে।

তরুণের দলটি জোন কমান্ডারের অফিস থেকে যখন বের হচ্ছিল, তখন রাত প্রায় পৌনে বারোটা বাজে। সেখান থেকে বের হয়ে রাঙামাটি কলেজে গেল। এখন তাদের একটা জায়গা দরকার যেখানে বসে সবাইকে খবর দিতে হবে এবং ভলান্টিয়ার্স যোগাড় করতে হবে। নিজেদের কলেজ বলে, রাঙামাটি কলেজই তাদের পছন্দ। গিয়ে বসে শুরু হলো দুপুরে যে সব সামাজিক সংগঠনের সাথে মিটিং হয়েছিল, তাদেরকে ফোন দেয়া।

একে একে প্রতিটা সামাজিক সংগঠনকে নক করা হয়। ১৬-১৭ টা সংগঠনের সবাইকে এক এক করে জানানো হয় যে, জোন কমান্ডারের সাথে মিটিং হয়েছে এবং জোন কমান্ডার এই রকম ভলান্টিয়ার্স চেয়ে জানতে চেয়েছে যে আমরা পারবো কিনা?  অন্তত প্রতিটা সামাজিক সংগঠন থেকে আমরা ৫ জন করে দিতে পারি কিনা ?

দুইটা সামাজিক সংগঠন ছাড়া সবাই একত্রে তাদের সাথে কাজ করতে সম্মতি জানায়।
তাঁরা টিমের মধ্যে না এসে নিজেদের মতো করে কাজ করবে বলে জানায়। অবশ্য এখানে জোন কমান্ডারের আরেকটা শর্ত ছিল – কোন সংগঠনের ব্যানারে কাজ করা যাবে না। নিজেদের ব্যানার ছাড়া সম্মিলিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাজে অংশ নিতে হবে। যারা রাজী হয়, যে সংগঠনেরই হোক না কেন, এটা মেনে নিয়েই ভলান্টিয়ার্স হিসেবে অংশ নিতে রাজী হয়। তাদের মুলমন্ত্র – যে কোন উপায়ে কন্ট্রিবিউট করা, ব্যানার (স্বীকৃতি) লাগবে না। এভাবে, রাতের ঐ সময়ের মধ্যে প্রায় ৪৬-৪৭ জনের সম্মতি পাওয়া যায়।

পরদিন সকাল থেকেই মুষলধারে বিরামহীন  বৃষ্টি হচ্ছে।
গতরাতের বোঝাপড়া অনুযায়ী সকাল ৯ টার মধ্যে ৪০ জন ভলান্টিয়ার্সের ৮ টি আশ্রয়কেন্দ্রে হাজির থাকার কথা। জোন কমান্ডারের মনে সন্দেহ হল যে, এরা বোধ হয় সময়মতো আসতে পারবে না। খোঁজ নিতে শুরু করলেন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে, ভলান্টিয়ার্সরা এসেছে কিনা? কিন্তু অবাক হয়ে গেলেন যখন জানতে পারলেন যে, সবাই শুধু সময়মতো উপস্থিত হয়েছে, তাই নয়। বরং কিছু কেন্দ্রে সৈনিক পৌঁছানোর আগেই তারা এসে হাজির। ছেলেরা বাইকে চড়েই ভিজতে ভিজতে চলে আসে। অন্যদিকে, মেয়েরা এসেছে সিএনজি ভাড়া করে।

বাপ্পি আর জুয়েলের জন্য নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্র ছিল কাপ্তাই রোডে – ভোয়াল্লা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। তারা এটা চিনতোই না। আসামবস্তি ব্রিজ থেকেও আরো কমপক্ষে ১০ মিনিটের রাস্তা। ঐ ঘন বৃষ্টির মধ্যেই পাভেল তাদেরকে তার বাইকে করে ঐখানে নামিয়ে দিয়ে আসে। তারপরে শাফিনকে নিয়ে যায় জোন সদরে। বৃষ্টি তখনো চলছে। মুষলধারেই বৃষ্টির মধ্যেই তাঁরা নাম জমা দিয়ে যে যার যার আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যায়। শাফিন চলে যায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে। সেখানেই তার দায়িত্ব পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিক্টিম ছিল এখানেই– প্রায় সাড়ে তিন শ’র মতো।

রাঙ্গামাটির এই ভলান্টিয়ার্সদের একত্রিত হওয়ার গল্প কম দুঃসাহসিক ছিল না।
এদের কেউ ছিল রাঙামাটি, কেউ চট্টগ্রাম, কেউ ঢাকা, কেউ কুমিল্লাতে।
বহু জায়গাতেই ব্যাপক ভুমিধ্বসের ফলে চট্টগ্রামের সাথে রাঙ্গামটির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যাতায়াতের একমাত্র উপায় – চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে কাপ্তাই। তারপর নৌপথে কাপ্তাই থেকে রাঙ্গামটি। যে যাত্রাপথের পদে পদে বাধাবিঘ্নের কমতি নেই। তাই, কতটা ঝক্কি মাথায় নিয়ে কয়েকজনকে এই পথ পার হতে হয়েছে, সেটা শুধুমাত্র ভুক্তভুগীর পক্ষেই অনুমান করা সম্ভব। আশ্রয়কেন্দ্রে হাজির হওয়ার পর থেকে  সকল ভলান্টিয়ার্সের পরবর্তী সকল কর্মকাণ্ড প্রায় একই হয়ে যায়। একই ধরনের রুটিনে বাধা। যা চলে কয়েক সপ্তাহ ধরে। এমনকি ঈদের দিনও বাদ যায়নি।

(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

38 − 37 =