কিরন। ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব – ১৬। অন্তিম পর্ব।

হঠাৎ মোবাইলে অ্যালারম বেজে ওঠে। কিরণ যেন অন্য এক পৃথিবীতে পৌঁছে গেছিলো এতক্ষণে। সম্বিত ফেরে। সৌম্যরও ঘুম ভেঙে গেছে। সৌম্য উঠে বসেছে।

 

কিরণ – সুপ্রভাত।

সৌম্য – শুভ সকাল কি রণ। একি! তুমি তো তৈরি! কটা বাজে!

কিরণ – সোয়া সাতটা। তুমি তৈরি হয়ে নাও তাড়াতাড়ি। চোখে, মুখে জল দিয়ে জামা, কাপড় বদলে নাও।

সৌম্য – এতো দেরি হয়ে গেলো! উঠে পড়েছ। আগে ডাকো নি কেন!

কিরণ – একটু দেরি করে গেলে কিছু অসুবিধা হত না।

 

কিরণ তাড়াতাড়ি গতকালের কেনা খাবারগুলি বের করে প্লেটে নিয়ে নেয়। সৌম্য তৈরি হয়ে নেয়। সৌম্য শার্টের ওপরে কিরণের দেওয়া পশমের ব্লেজারটি পরে তাতে একটি বোতাম ক্যামেরা এবং পকেটে একটি পেন ক্যামেরা নিয়ে নেয়। হাতে রিষ্ট ওয়াচ ফোনটি পরে নেয়। এরপর দ্রুত দুজনে খাবার খেয়ে তাঁবু গুটিয়ে ফেলে।

 

সৌম্য – লেটস গো কি রণ।

কিরণ – হুম। চলো।

 

মিনিট কুড়ি হাঁটার পর এনএইচ ফাইভ রোডে দুজন এসে পৌঁছে একটি টাটা সুমো ভাড়া করে একদম চিতকুল পর্যন্ত। ড্রাইভার বলে, “ন ঘণ্টা লগ যায়ে গা স্যার চিতকুল পৌঁছতে পৌঁছতে। আভি সুভা সাড়ে আট, করিব করিব সাম সাড়ে পাঁচ বাজেতাক হাম পৌঁছ যায়েঙ্গে।”

 

দুপাশে জানালার কাঁচ খোলা। বাইরে থেকে ঠাণ্ডা হাওয়া এসে কিরণ ও সৌম্যর শরীর, মন, প্রাণ চনমনিয়ে দিচ্ছে। হাওয়ার ঝাঁপটায় কিরণের চুল এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। সৌম্য কিরণের চুলগুলি সরিয়ে কিরণের মাথাটি বুকে নিতে যায়। কিরণ সৌম্যর থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় জোর করে!

 

সৌম্য – কিরণের মুখটি হাত দিয়ে তুলে, কি হয়েছে বাবুটার!

কিরণ – থাক। আমাকে বাবু বলতে হবে না। সুরশ্রী পালকেই বাবু বোলো।

সৌম্য – একটু চমকে, সুরশ্রী পাল! হাহাহা .. (এবার সৌম্য জোরে করে হেসে ওঠে)।

কিরণ – তা কে এই মেয়েটি!

সৌম্য – তা আছে একজন। বেএএএএশ সুন্দরী।

কিরণ – কি! সুন্দরী .. বেএএএএশ সুন্দরী! এই সত্যি করে বলো তোমার সাথে ওর কিসের সম্পর্ক! নাহলে কিন্তু .. (হাত মুঠো করে সৌম্যর দিকে উঁচিয়ে ..)

সৌম্য – ক্ষমা ক্ষমা ক্ষমা। আমাকে মেরো না। সত্যি বলছি। আচ্ছা সব বলবো। মেরো না। বাচ্চাকে কেউ মারে নাকি! মরে যাবো তো ওই ঘুসি খেলে! (এরপর ঘুসিতেই একটি চুমু বসায় সৌম্য)। সুরশ্রী একটি বাচ্চা মেয়ে। ক্লাস ইলেভেনে পড়ে। খুব আদরের। একদম আমার পপি দিদির মতন দেখতে! কাল তোমাকে পপি দিদির কথা বললাম তো “অগ্নিগর্ভ থেকে উঠে আসা নাম তসলিমা নাসরিন” গল্পটি বলতে বলতে! পপি দিদি এখন বেঁচে নেই। ২০০৯ এর ১৭ই সেপ্টেম্বর একটি দুর্ঘটনায় মারা গেছে। এই সুরশ্রী মেয়েটিকে যখন দেখলাম, আমি ভীষণ চমকে উঠেছিলাম।

 

কিরণ – সেসব তো বুঝলাম। স্যরি সৌম্য। কিন্তু কতোটা আদরের? কেমন আদরের?

 

সৌম্য – (কিরণের দিকে তাকিয়ে হেসে) যে আদর সবাইকে করা গেলেও, তোমায় করা যায় না, যে আদর তোমায় করা আদরের মতো একদমই হয় না, তেমন আদর।

কিরণ – ঠিক আছে ঠিক আছে। আর বলতে হবে না। বুঝেছি। তোমার বই থেকে সকালে ন’টি কবিতা পড়েছি। প্রিভিউ, রিভিউ সবগুলো পড়েছি।

সৌম্য – আরে বাহ! এতকিছু পড়েছ সকালে! আর আমাকে ডেকে দাওনি! রাতে ঘুমাওনি নাকি ঠিক করে!

কিরণ – ঘুমিয়েছি ঠিক করে। তুমিই ঠিক করে ঘুমাও নি। বসেছিলে সারারাত। আর দেরিতে পৌঁছলে অসুবিধা নেই। তাই আর ডেকে দিইনি। বরং আমি ওগুলো পড়ছিলাম তৈরি হয়ে নিয়ে। তুমি তো পুরো মশাল জ্বালিয়েছ লেখালেখিতে! আমাকে পরের গল্প শোনাবে না!

 

সৌম্য – কোন গল্প!

কিরণ – আমি শুনেছিলাম, ২০১১তেও বইমেলাতে কিসব গণ্ডগোল হয়েছিল তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে!

সৌম্য – তসলিমা নাসরিনের লেখা আত্মজীবনী “নির্বাসন” বইটি নিয়ে।

কিরণ – হ্যাঁ হ্যাঁ। কি হয়েছিল সেদিন!

 

সৌম্য কিরণের মাথায় আস্তে করে একটি চুমু খেয়ে, কিরণের মাথাটি বুকের মধ্যে নিয়ে বলতে শুরু করে –

 

“সেদিন যখন আত্মজীবনীর সপ্তম খণ্ড ‘নির্বাসন’ প্রকাশ পেতে চলেছে বইমেলার এসি হলে দুপুর তিনটের সময়, হঠাৎ করেই পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় এসে ঘোষণা করেন একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংগঠনের তরফ থেকে তার কাছে ফোন যায় যে তসলিমা নাসরিনের বই প্রকাশ পেলে, বইমেলাতে তীব্র ঝামেলার সৃষ্টি করবে তারা, তাই লেখক তসলিমা নাসরিনের বই প্রকাশ সম্ভব নয়। ওই সংগঠন সেদিন প্রথমে লালবাজার পুলিশকে হুমকি দেয় ঝামেলা করবে বলে, তারপর গিল্ডের সাথে ফোনে কথা বলে। লালবাজার কর্তৃকও গিল্ডের কাছে ফোন করে ‘নির্বাসন’ বইটির প্রকাশ বন্ধ করতে বলা হয়। এরপর নির্বাসনকে আর এসি হলে প্রকাশ করা সম্ভব হয় নি। যদিও পিপলস বুক সোসাইটির উদ্যোগে সাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্য বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন বইমেলায় খোলা আকাশতলে। আবারও নৈতিক জয় হয় সত্যের, নৈতিক জয় হয় বইমেলার, নৈতিক জয় হয় বইপ্রেমীদের। নৈতিক জয় পান লেখক তসলিমা নাসরিন। কিন্তু কিছু সংখ্যালঘু গুণ্ডার ভয়ে কলকাতা পুলিশের এতো বড় বাহিনী সেদিন চুপ হয়ে গেছিলো, – এ মানা যায় না। আসলে সংখ্যালঘুর ভয়ে শুধু পুলিশ কেন, সরকারও তটস্থ থাকে। যতো যাইহোক, তসলিমা নাসরিন তো আর সরকারকে ভোট এনে দিতে পারতেন না। আর সংখ্যালঘুদের ভোট হারানোর মতো ভুল মুখ্যমন্ত্রী কখনো করতেনও না। আদর্শ, সত্য চুলোয় যাক। মানুষ রাজনীতিবিদদের কাছে একটি ভোট গণনার সংখ্যা মাত্র, যেটা ওদের জিততে হবে।”

 

কিরণ – সবাই কিন্তু তোমার বইটির জন্য ভালো ভালো রিভিউ লিখেছে। আর তোমার নিজের লেখা প্রিভিউটিও অনবদ্য।

সৌম্য – হ্যাঁ। বিশেষ করে মেয়েমার লেখাটি বড্ড “ভালোবাসা।”

কিরণ – কখনো দেখা করেছো?

সৌম্য – মেয়েমার সাথে! নাহ। সেই সুযোগ হয় নি এখনও। তবে মেয়েমা বেশ কয়েকবার দেখা করতে বলেছে দিল্লিতে। কিন্তু এতো বড় মাপের একজন মানুষের সাথে আমি এমনি এমনিই দেখা করতে চলে যাবো! আমি মেয়েমাকে বলেছি, “একদিন যখন আমার একটি পরিচয় হবে, আমি তোমার সাথে দেখা করবো মেয়েমা।”

কিরণ – তুমি শুধু লেখালেখিই করো! না অন্যকিছুও করো!

সৌম্য – পড়াশোনা চলছে। গবেষণা করি। ফাইনাইট অটোমাটা জিওমেট্রিতে।

কিরণ – বাহ! তাহলে আমি একজন লেখক কাম গবেষকের পাল্লায় পড়েছি! আমায় সময় দিতে পারবে তো!

সৌম্য – পাগলি তুমি। তুমি কাছে না থেকেও সবসময় আমার কাছেই থেকেছ। আর এখন তো সশরীরে কাছে আছো। তোমায় ছাড়া আমার চলে না কি রণ। কখনো চলে নি। রোজ – প্রতিমুহূর্তে তুমি আমার সাথে আছো।

 

কিরণ তৃপ্তির হাসি হেসে সৌম্যকে শক্ত করে চেপে জড়িয়ে ধরে। পাহাড়ি অঞ্চলে, ঠাণ্ডায় যেন এই প্রেম একদম আদর্শ প্রেম। দুজন ভালোবাসার মানুষ যেভাবে ইচ্ছা নিজদের ভালবাসছে। ভালোবাসার মানুষদের কাছে এর থেকে সুখের আর কিই বা হতে পারে!

“মালতির একটা খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন কি রণ।” – সৌম্য বলে।

 

কিরণ – আমি ইনস্পেক্টরকে সকালে ফোন করে খোঁজ নিয়েছি। মালতি এখন সুস্থ আছে। ওকে অ্যান্টিডট দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল থেকে বাড়িতেও এসে গেছে। এখনই মালতিকে ফোন করবো না। ও এখন বিশ্রাম নিক। একটু পর ফোন করবো।

 

সৌম্য – আচ্ছা।

 

গাড়ি ছুটে চলেছে বেশ দ্রুত। স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি স্পীডে চলছে।

 

কিরণ – গাড়িটা ভীষণই জোরে চলছে।

সৌম্য – হ্যাঁ, একেতে পাহাড়ি রাস্তা, তার ওপর গাড়ির গতি প্রায় ৬০ – ৭০ কি.মি. / ঘণ্টা! দুর্ঘটনা প্রবণ রাস্তা এগুলি।

(ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে) ভাইয়া থোড়া ধিরে চালাইয়ে না ..

 

ড্রাইভার কোনো কথা না বলে গাড়ির গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়। কিরণ মোবাইলটি বের করে হোয়াটসঅ্যাপ চেক করে। ইনস্পেক্টর দুটি ফোন নম্বর পাঠিয়েছে। একটি কিন্নুরের এসপির, এবং আরেকটি চিতকুলের ডিএসপির। কিরণ দুজনকেই একটি মেসেজ লিখে পাঠায় – “স্টার্টেড ফর চিতকুল। অ্যারাইভিং অ্যারাউন্ড ফাইভ থার্টি পিএম। উই আর টু। মি কিরণ বিশ্বাস, অ্যান্ড মাই ফ্রেন্ড সৌম্যজিৎ দত্ত। উইল কল ইউ আফটার রিচিং চিতকুল। হোপ ইনস্পেক্টর ফ্রম বরানগর, কলকাতা হ্যাজ গিভেন ইউ অল দ্য ইনফরমেশনস।”

 

এরপর আরও কিছুটা যাওয়ার পর কিরণ মালতিকে ফোন করতে যাচ্ছে, এমন সময় হঠাৎ একটি স্করপিও গাড়ি ভীষণ জোরে পিছন থেকে এসে অভারটেক করে কিরণদের গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। ভীষণই সরু রাস্তা। একপাশে পাহাড়, একপাশে খাদ। এভাবে গাড়ি নিয়ে অভারটেক করা ভীষণই ঝুঁকিপূর্ণ। যখন তখন যাকিছু ঘটে যেতে পারে।

  • কিন্তু এভাবে গাড়ির সামনে গাড়ি দাঁড় করানোর মানেটা কি!

 

গাড়ি থেকে পাঁচজন কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা বন্দুক নিয়ে বেরিয়ে এসেছে কিরণদের গাড়ির দিকে। একি! কিরণদের গাড়ির ড্রাইভার বন্দুক উঁচিয়ে ধরেছে কিরণের দিকে। দুজনের ফোন চাইছে। সৌম্য কিছু একটা করতে যাচ্ছিল, ড্রাইভার হুমড়ি খেয়ে এসে কিরণের কপালে বন্দুক ধরে বলে, “কই চালাকি নেহি। কুছ ইধার উধার হুয়া তো লড়কি জান সে হাত ধো ব্যাঠেগি।”

 

কিরণ কিন্তু এখনও চুপ। বিপদের মুখে কিরণের স্নায়ু ভীষণই ঠাণ্ডা থাকে। কিন্তু এমন বিপদে! সৌম্য কিন্তু খানিকটা অসহায় বোধ করছে এবার। কিরণ সৌম্যর প্রাণভোমরা। প্রাণভোমরা যখন বিপদে, তখন যে কেউই অসহায় হয়ে ওঠে।

 

ড্রাইভার – মোবাইল দে দো।

 

তবে কি এরা নিছকই ছিন্তাইকারী! কিন্ত ছিন্তাইকারী হলে শুধু মোবাইল কেন চাইবে! – কিরণ ভাবতে থাকে। কিরণের হাত সকলের অলক্ষ্যেই চলে গেছে মোবাইলের স্ক্রিনে। মেসেজ বক্সে রেডিমেট মেসেজ “হেল্প” পাঠিয়ে দেয় শেষ কল করা নম্বরে। শেষ কল তো সকালে ইনস্পেক্টরকে করেছিল কিরণ! ড্রাইভার মোবাইল কেড়ে নেয় দুজনেরই। কালো কাপড়ে ঢাকা মুখের তিনজন লোক গেট খুলে গাড়িতে ঢুকে আসে। দুজন সামনের গাড়িতে আবার চলে যায়। ঘড়িতে দুপুর সাড়ে বারোটা।

 

সৌম্য – হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট? পুট ইওর গান ডাউন। ডু ইউ ওয়ান্ট মানি?

ওরা সবাই হো হো করে হেসে ওঠে। ড্রাইভার মোবাইল স্যুইচ অফ করে খাদে ফেলে দেয়। কিরণ বুঝতে পেরেছে, এরা কোনো ছিন্তাইকারী নয়। ছিন্তাইকারী হলে এতো দামি দুটো ফোন ওভাবে ফেলে দিতো না। কিরণ আস্তে করে সকলের অলক্ষ্যেই সৌম্যর হাতে দুবার হাতটি ঠেকিয়ে ইশারা করে দেয়, “শান্ত হও।” এমন সময়ে কোনো ভুল যেকোনো রকমের ক্ষতি করে দিতে পারে। কিরণ একেবারেই শান্ত হয়ে আছে। ওরা কিরণ ও সৌম্যর মাথা ও মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। কিরণ, সৌম্য আর কিছুই দেখতে পারে না। সৌম্য যদিওবা একটু ছটফট করছে, কিরণ একেবারেই স্থির।

 

এদিকে ইনস্পেক্টর কিরণের মেসেজ পেয়েই কিরণকে ফোন করতে গিয়ে যখন স্যুইচ অফ পায়, বুঝে যায় কিরণ বিপদে। তাড়াতাড়ি ইনস্পেক্টর কিরণের ফোন নম্বর ট্রেস করতে শুরু করে। শেষ টাওয়ারের লোকেশন অনুযায়ী কিরণের ফোন রামপুর বুশাহরে দেখা যাচ্ছে। তার মানে যা হওয়ার ওখানেই কিছু হয়েছে! মেসেজ কুড়ি মিনিট আগে এসেছে। ইনস্পেক্টর দ্রুত হিমাচলের এসপিকে ফোন করে সমস্ত ঘটনা জানিয়ে দেয়। এসপি রামপুর বুশাহরের আশেপাশে সমস্ত পুলিশ স্টেশনে খবর দিয়ে দেয় চেকপোস্ট বসিয়ে সমস্ত গাড়ি চেক করার জন্য এবং ওই লোকেটেড জায়গায় গিয়ে তদন্ত করার জন্য। রহরু, জুব্বাল, দেয়গ, ঢালি, সাঞ্জাওলি কুফরি থেকে কিন্নুরের পথে সমস্ত পুলিশ স্টেশনের পুলিশ অ্যালারট হয়ে যায়।

 

হয়্যার আর ইউ টেকিং আস? হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট? – সৌম্য আবারও জিজ্ঞাসা করে।

 

ওদের একজন বলে, “ডোন্ট শাউট। আদারওয়াইজ ইউ ডোন্ট নো হোয়াট উই ক্যান ডু উইথ ইউ টু। হেয়ার নো ওয়ান উইল কাম টু সেভ ইউ।”

 

এবার কিরণ বলে ওঠে, “সৌম্য কি হচ্ছেটা কি! প্লিজ কথা বোলো না। আমি ঠিক আছি।”

 

সৌম্যর ভীষণ রাগ হতে থাকে মনে মনে। ওরা কিরণের দিকে বন্দুক তাক করেছিল। একটা সুযোগের অপেক্ষা। সৌম্য ওদের এর পরিণতি ঠিকই টের পাইয়ে দেবে।

 

হঠাৎ ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে দেয়। সঙ্গীদের বলে, “সামনে তো বহত চেকিং চল রাহা হে! লেকিন কিস লিয়ে! ইয়ে দোনো কই চালাকি তো নেহি কিয়া! লেকিন ইয়ে কিয়া করভি সকতে হে! সড় ঢাকা হে। হাম লোক ঘেরে হুয়ে হে .. তো ফির ইয়ে চেকিং!

 

আরেকজন বলে ওঠে, “ফির ভি, সাবধানী কা কই মার নেহি। গাড়ি পিছে লো। পিছে এক জঙ্গল হে। হাম ওহাসে নিকল যায়েঙ্গে।”

 

কিরণ আসলে বুঝতে পারে ব্যাপারটি কি হয়েছে। কেন হয়েছে। ড্রাইভার গাড়ি আস্তে আস্তে পিছনে নিয়ে যেতে গেলে এক পুলিশ দেখে ফেলে, গাড়ি থামাতে বলে।

 

“অউর কুছ কর নেহি সকতে। গাড়ি পিছে লেকে জঙ্গলকে ঔর ভাগাও।” – একজন বলে ওঠে।

 

ড্রাইভার গাড়ি পুলিশের কথা না মেনে গাড়ি পিছনে ঘুরিয়ে দ্রুত জঙ্গলের দিকে যায়। ঠিক তখনই পুলিশের গাড়ি পিছু নেয়।

 

ড্রাইভার – পুলিশ ভাগা র‍্যাহে হে গাড়ি কি পিছে।

আরেকজন – ভাগা র‍্যাহে হে তো গাড়ি ভাগাও। যব তক ইয়ে দো জিন্দা হে, পুলিশ গোলি নেহি চালায়ে গা গাড়ি পে। তু গাড়ি ভাগা।

 

ড্রাইভার দ্রুত গাড়ি নিয়ে চলতে থাকে। আরও কয়েকটি পুলিশের গাড়ি তাড়া করতে থাকে। পুলিশ যেমন জানে গাড়িতে কিরণ, সৌম্য যতক্ষণ আছে, ততক্ষণ আক্রমণ করা যাবে না, জঙ্গল, পাহাড়ি রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তেমনই আততায়ীরাও জানে, যতক্ষণ কিরণ ও সৌম্য বেঁচে আছে, ততক্ষণ ওরাও বেঁচে আছে।

 

একজন আততায়ী বলে, “কুছ দেখ নে কা নেহি। গাড়ি ভাগা। জলদি বর্ডার পে পৌঁছ না হে। হামে সিরফ ইয়ে মালুম নেহি হো রাহা হে কি পুলিশ কো ক্যাইসে পাতা চলা!”

 

কিরণ মনে মনে হাসতে থাকে। একের পর এক পুলিশের গাড়ি ওদের গাড়িকে ধরার চেষ্টা করছে কোনো প্রকার গোলাগুলি না চালিয়েই, আর ওদের গাড়িও ভীষণ জোরে ছুটে চলেছে, প্রাণপণে ছুটে চলেছে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে। না পুলিশ কোনো অ্যাকশন নিতে পারছে, না আততায়ীরা কোনো রিয়কশন দেখাতে পারছে। শুধু এখন প্রাণের তাগিদে ছুটে চলেছে আততায়ীরা। সত্যিই কিরণের জবাব নেই। বিপদের মুখে, যখন বন্দুক তাক করা ওর দিকে, তখন স্নায়ু ঠাণ্ডা রেখে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাঁচার আশা পাওয়া যায় সেই একটি কাজ করে ফেলেছিল মেসেজটি পাঠিয়ে। কিরণ নিশ্চিত, ওই মেসেজটি ইনস্পেক্টরের কাছেই পৌঁছে ছিল। কারণ শেষ ডায়াল করা নম্বর ইনস্পেক্টরের ছিল। মালতিকে কল করতে গিয়েও সে কল করতে পেরেছিল না। নম্বর ডায়াল করার আগেই আশ্চর্যের ঘটনাটি তখন ঘটে গেছিলো।

 

গাড়ি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একের পর এক পুলিশ চেক পোস্ট ভেঙে দিয়ে ছুটতে শুরু করেছে। যেভাবেই হোক ওই জঙ্গি আততায়ীদের বর্ডারে পৌঁছতে হবে। ওখানে পৌঁছলে হয়তো ওরা আরও শক্তি পেয়ে যাবে লড়াই করার। এদিকে আরও অনেক অনেক পুলিশের গাড়ি ওদের একেবারে পিছু নিয়েছে। কখনো পুলিশ আততায়ীদের গাড়িকে রেঞ্জের বাইরে হতে দিচ্ছে না। কিন্তু এতে তো সমূহ বিপদ আততায়ীদের। এতো পুলিশ যদি পিছু নেয়, তাহলে তো ওরা ঘাঁটির কাছে পৌঁছে যাবে। সব পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে যাবে জঙ্গি আততায়ীদের! আবার যদি এই কজন আততায়ী এখনই আত্মসমর্পণ করে, তবে পুলিশ ওদের টর্চার করে মুখ খুলিয়ে নেবে ঠিক। এর চেয়ে ভালো, ঘাঁটিতে পৌঁছলে ওদের কিছুটা প্রাণের আশা আছে, বাঁচার আশা আছে পাল্টা লড়াই লড়ে বা বর্ডার পার করে পালিয়ে গিয়ে!

 

গাড়ি যেভাবে ছুটছে তাতে দুঘণ্টার রাস্তা আধ ঘণ্টায় পেরিয়ে যাওয়া যায়। ওরা কিন্নুরে ঢুকে গেছে গাড়ি নিয়ে। আর কিছুক্ষণ। আর কিছুক্ষণেই গাড়ি চিতকুলে ঢুকে যাবে। কিরণ কিন্তু এখনও স্থির। সৌম্য এখনও মনে মনে ভীষণই অস্থির হয়ে আছে। সৌম্যর মাথায় শুধু ঘুরছে কিভাবে ওদের উচিৎ শিক্ষা দেওয়া যায়!

 

গাড়ি চিতকুলে বর্ডারের কাছে ঢুকতেই আততায়ীরা দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে কিরণ ও সৌম্যকে গাড়ি থেকে ধরে নিয়ে বর্ডারে ঘাঁটির দিকে ছুটতে থাকে। সবাইকে সাবধান করে দিতে হবে এখনই। ওরা যেন পাল্টা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। কিরণ ও সৌম্যই এখন ওদের বাঁচার ট্রামকার্ড। যতক্ষণ ওরা জীবিত, পুলিশ কোনোভাবেই আক্রমণ করবে না।

 

পুলিশ মাইকে অ্যানাউন্স করছে, জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলছে। চারিদিকে পুলিশ ও বিএসএফ ঘিরে ফেলেছে ওদের। জঙ্গিরা ঘেরাটোপের মাঝখানে, কিরণ ও সৌম্যর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে পুলিশ – বিএসএফদের বলছে, “হাম লোগো কো যানে দিজিয়ে .. নেহি তো ইয়ে দো জান সে হাত ধো ব্যাঠে গি .. ”

 

পুলিশ আবারও সতর্ক করছে, কিরণ ও সৌম্যকে ছেড়ে দিয়ে আত্মসমর্পণ করতে। এমন সময় কিরণ উপলব্ধি করতে পারে ওর সামনে, খুব কাছেই একজন আততায়ী আছে। কিরণ অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই সোজা একটা লাথি মেরে দ্রুত তড়িৎ বেগে নিজের মুখের ঢাকা খুলে ফেলে। এতক্ষণে সৌম্যও আততায়ীর আর্তনাদের আওয়াজ শুনে ওকে ধরে থাকা আততায়ীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে নিজের মুখের ঢাকা খুলে ফেলে।

 

ওখানে থাকা আরও ছয়জন আততায়ীদের সাথে কিরণ ও সৌম্যর তুমুল ধ্বস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। কিরণ ক্যারাটে শিখেছিল, দ্রুত দুজনকে ধরাশায়ী করে। ওদিকে সৌম্যও প্রাণপণে লড়ে যাচ্ছে আততায়ীদের সাথে। কিন্তু চারজন আততায়ী সৌম্যকে একসাথে চেপে ধরায় সৌম্য হাঁসফাঁস করছে। কিরণ ওদের মধ্যে দুজনকে আক্রমণ করে, সৌম্যও একটু মুক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে থাকা ইট তুলে একজন আততায়ীর মাথায় চাপিয়ে দেয়। তৎক্ষণাৎ সে ভুলুটিত হয়। পুলিশ দ্রুত ছুটে এসে কিরণ ও সৌম্যর সাথে লড়াই করা তিনজনকে ধরে ফেলে।

 

ওদিকে একের পর এক বোমা পড়তে শুরু হয়েছে পুলিশ – বিএসএফের দিকে। ছকেট, গ্রেনেড। পুলিশ – বিএসএফও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু সময় পর যখন আততায়ীরা লড়াই লড়তে লড়তে দুর্বল হয়ে পড়েছে, তখন বাঁচার শেষ আশার জন্য ওরা কিরণের দিকে বন্দুক তাক করে ছুটে আসতে শুরু করে। এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে, ঠিক তখনই সৌম্য ছুটে গিয়ে কিরণকে জড়িয়ে ধরে। ঘিরে ধরে সৌম্য কিরণকে। এলোপাথাড়ি গুলি চলে সৌম্যর কাঁধে ও পিঠে।

 

নাহ। সৌম্য এখনও কিরণকে ছাড়ে না। শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে করতে যতক্ষণ না জঙ্গিরা হেরে যায়, প্রায় আরও দু মিনিট! সৌম্য কিরণকে ছাড়ে না। চেপে জড়িয়ে ধরে রাখে।

 

এক ভয়ঙ্কর বিভীষিকাময় যুদ্ধের অবসান হয়। আটজন জঙ্গি নিহত ও চারজন জঙ্গি পুলিশ এবং বিএসএফের হেফাজতে।

 

কিরণ সৌম্য বলে ডেকে ওঠে। সৌম্য উত্তর দেয় না। কিরণ আবারও চিৎকার করে সৌম্য বলে ডাকে। সৌম্য এবার একটু নড়ে ওঠে। সেই অস্ফুট উচ্চারণে বলে, “কি রণ .. ”

 

সৌম্য – কি রণ .. (কিরণকে জড়িয়ে ধরে, কম্পিত ধুলোমাখা হাতে কিরণের গাল, মাথা, মুখ ছুঁয়ে, যন্ত্রণাময় হাসি মুখে) আমি, আমি যে বলে ছি লা ম, তোমা য় ছেড়ে যা বো না কোথাও! কি রণ আ মি, তোমার সা থে বাঁচতে চা ই। (যন্ত্রণায় বিকৃত মুখ থেকে রক্ত বেরিয়ে আসে)।

 

কিরণ – সৌম্য, তুমি বাঁচবে সৌম্য। তুমি আমাকে কথা দিয়েছ তুমি আমার সাথে সবসময় থাকবে। কিচ্ছু হবে না তোমার সৌম্য। আমাকে ভালবাসতে তুমি বাঁচবে। (কেঁদে ওঠে কিরণ)।

 

সৌম্য – পা গলি। আমি তো মা র সাথেই তো আছি। তো মা র সা থেই থাক বো। (সৌম্যর চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছে)।

 

কিরণ – হ্যাঁ হ্যাঁ তুমি আমার সাথেই থাকবে। (কাঁদতে কাঁদতে) অফিসার ওকে এখনই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। ওর গুলি লেগেছে তো। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন না! অন্ধ হয়ে গেছেন নাকি সবাই! প্লিজ অফিসার। ওকে হাসপাতালে নিয়ে চলুন। এখনই গুলি বের করে ফেলতে হবে।

 

সৌম্য – কি রণ। আ মার আর শক্তি নেই। অন্ধ কার হয়ে আসছে সব। আ মায় এক টু ভালো বাসো। আ র উ পন্যাস টি তো মায় দিয়ে যাচ্ছি। ও টা সম পূর্ণ কোরো। ওটা কে প্র কাশ কোরো। ব ন্দে মা ত রম ..

 

কিরণ – ওটা তুমি সম্পূর্ণ করবে সৌম্য। আমি পারবো না। তুমি আমার সাথে থাকবে।

 

সৌম্য জ্ঞান হারায়। কিরণ চিৎকার করে ওঠে। পুলিশ নার্ভ চেক করে দেখে এখনও বেঁচে আছে। দ্রুত সৌম্যকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

যে চারজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, ওরা স্বীকার করে, “ওদের কেউ কন্ট্র্যাক্ট দিয়েছিল বর্ডারে এসে, প্রথমে কলকাতা ও পরে দিল্লি, হায়দ্রাবাদ, চেন্নাইতে ফেন্টানিল হাইড্র – ক্লোরাইডের একটি গ্যাসিও যৌগ বেলুনে ভরে এই শহরগুলিতে বেলুন ছড়িয়ে দিতে, সাথে আটটি সিলিন্ডার দিয়েছিল। এবং চারটি শহরে এই মারণ যৌগ ছড়িয়ে দেওয়ার পর যখন অ্যান্টিডটের চাহিদা বাড়বে, তখন আটটি সিলিন্ডার মোট চারশ কোটি টাকায় বিক্রি করতে অ্যান্টিডট হিসেবে। ওই সিলিন্ডারগুলির ভিতরে থাকা গ্যাসই আবার পরিবেশকে স্বাভাবিক করে তুলবে। কাজ ঠিকভাবে করলে সিলিন্ডার পিছু আরও এক কোটি পচিশ লক্ষ টাকা করে পাওয়া যেতো।” কে বা কারা এই কন্ট্র্যাক্ট দিয়েছিল, সেসব সম্পর্কে এখনও জানা যায় নি। ওরা সেই ব্যক্তিকে চোখে দেখে নি। রাতের অন্ধকারে ওদের এক কোটি টাকা দিয়ে এই কন্ট্র্যাক্ট দিয়েছিল।

 

হাসপাতালে আইসিইউতে সৌম্য এখনও জীবন – মরণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কিরণ ঠাই বসে আছে দরজার বাইরে। ডাক্তাররা তিনটি গুলি বার করতে পেরেছে সৌম্যর শরীর থেকে। একটি গুলি অনেক গভীরে গেঁথে গেছে, প্রায় ফুসফুসের কাছে পর্যন্ত চলে গেছে। ওই গুলিটি বের করা ভীষণই জটিল। গুলিটি থাকলেও সৌম্য মৃত্যুর দিকে এগোবে, বের করতে গেলেও যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে! তাই গুলিটি বের করতেই হবে। অন্তত তাতে এক শতাংশ বাঁচার সম্ভাবনা তো আছে! কিরণ চুপ হয়ে রয়েছে।

 

এদিকে কলকাতায় দুটি সিলিন্ডারের গ্যাস বেলুনে ভরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাতে কলকাতার আকাশ মুক্ত ও স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। মানুষজন দ্রুত আরোগ্যলাভ করছে। প্রশাসন কিরণ ও সৌম্যর সাহসিকতার জন্য অর্জুন রত্ন ঘোষণা করেছে।

 

এসবকিছুতেই কিছু এসে যায় না এখন কিরণের, সৌম্যর। ওদিকে সৌম্য এখনও লড়ে চলেছে মৃত্যুর সাথে। কিরণ প্রতীক্ষায় বসে আছে সৌম্য আবার কখন ওকে “কি রণ” ডাকবে! ওই ডাকটিই কিরণের কাছে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। ভালোবাসা। ভালোবাসাই কিরণ ও সৌম্যর কাছে সবথেকে বড় পুরস্কার।

 

কিরণ সৌম্যর লেখা উপন্যাসের নীল খাতাটি খোলে। পাতায় পাতায় শুধু কিরণ কিরণ আর কিরণ .. পাতা ওলটাতে ওলটাতে কিরণ দেখতে পায় একটি জায়গায় লেখা “৪ই এপ্রিল – শুভ জন্মদিন কি রণ। সুস্থ সুন্দর বেঁচে থেকো ভালোবাসায়, প্রেমে। তোমার সাথে আমার যা হয়, তা ইশক। আমার ইশকে বেঁচে থেকো।” কিরণের চোখ থেকে জলের ফোঁটা উপন্যাসের পাতাটিতে এসে পড়ে। সাংবাদিকের একদল হাসপাতালেই কিরণকে ঘিরে ধরে। শুভেচ্ছা জানায়। প্রশ্ন করতে যায়। কিরণ কোনো কথা না বলে উপন্যাসটি এবং একটি পেন ক্যামেরা ওদের হাতে তুলে দেয়। হাত জোর করে নমস্কার করে কিরণ সরে যায় ভিড় থেকে।

 

উপন্যাসটি এবং ওই পেন ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে যাওয়া ভিডিও গোটা দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করে সাংবাদিক, মিডিয়া। গোটা দেশ সাক্ষী হয় কিরণ – সৌম্যর ভালোবাসার, ওদের দেশপ্রেমের। গোটা দেশ প্রার্থনা করতে থাকে সৌম্যর সুস্থতার জন্য, কিরণ – সৌম্যর ভালোবাসার জন্য। গোটা দেশের সামনে কিরণ – সৌম্যর প্রেমের একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। এই প্রেম সকলের মন ছুঁয়ে যায়। এই প্রেম মানুষকে ভালবাসতে শেখায় নতুন করে। এই প্রেম ভালোবাসার মানুষদের প্রেরণা যোগায়। এই প্রেম মানুষের হৃদয়ে তোলপাড় করে তোলে। মানুষ হিংসা ভুলে নতুন করে প্রেমে মিশে যায়, ভেসে যায়।

 

কিরণ, সৌম্যর প্রেম মানুষের মনে অমরত্ব পায়। অমরত্ব পায় উপন্যাসটি। যতদিন বন্দে মাতরম কথাটি মানুষের হৃদয় থেকে উচ্চারিত হবে, কিরণ – সৌম্যর প্রেমও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে ততদিন।

 

কিরণ একটিও কথা বলে না। কিরণ শুধু চেয়ে থাকে আইসিইউতে শুয়ে থাকা সৌম্যর দিকে। কিরণ শুধু অপেক্ষা করে কখন সৌম্য জেগে উঠবে, কখন উচ্চারণ করবে ‘কি রণ’!

কিরণের মনে পড়ে সৌম্যর ওকে বলা একটি কথা, ছোটবেলায় বলেছিল, চলে যাওয়ার আগে বলেছিল –

“তু যাহা যায়ে, মাহফুজ হো,

দিল মেরা মাঙ্গে –

বাস ইয়ে দুয়া ..”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 1