এ দেশে একজন ধর্ষককে বাঁচাবার জন্য আইনজীবীর ব্যবস্থা আছে কিন্তু একজন মিন্নির জন্য নেই !

বরগুনা শহরে কোন উকিল নেই,নেই কোন অকালকুষ্মাণ্ড মানবতবাদী পাতি বাল নেতা!

মিন্নির মামলাটা পিবিআই এর কাছে হস্তান্তর করা ছাড়া কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছি না। তাই অনতিবিলম্বে মিন্নির মামলাটি পিবিয়াই এর কাছে হস্তান্তর করার দাবী জানাচ্ছি।

— কী আশ্চর্য নয়ন বন্ডকে যারা তৈরী করল তারাই রয়ে গেল ধরা ছোঁয়ার নাগালের বাইরে! যে মিন্নি খুনের সাক্ষী তাকেই এখন আসামী বানিয়ে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। হা হা হা আর এতেই দুর্বল হয়ে যাবে মামলা।
আসেন গান করি- কত রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়!!

এখন মিন্নিকে টর্চার করে স্বীকার করিয়ে নেয়া হবে সে খুনের সাথে জড়িত। মূল কথা হলো পর্দার আড়ালে চলছে অন্য খেলা। তা না হলে মিন্নির পাশে কোন আইনজীবী দাঁড়ালো না কেন? এদেশে ধর্ষকের পক্ষে হাজারো আইনজীবী ওঁৎ পেতে থাকে,কিন্তু এই সুষ্ঠু বিচার সম্পাদন করার জন্য মিন্নির পাশে কোন আইনজীবী নেই। সত্যিই বিষয়টি ভীষণ ভাবাচ্ছে।রিফাত হত্যা নিয়ে আমি এতদিন মুখ বুঝেই ছিলাম। কিন্তু যখনই দেখলাম মিন্নির পক্ষে বরগুনায় উকিল সংকট। তখনই আমার মাথায় নতুন চিন্তা উদয় হলো। এখানে নিশ্চয়ই এলাকার গডফাদারদের ভয়ে কিংবা অর্থের কাছে বিক্রি হয়ে মুখ বন্ধ করে আছে উকিল সমাজ।
যেহেতু মিন্নির পক্ষে কোন আইনজীবী নেই সেহেতু মিন্নি জড়িত না হলেও জড়িত হিসেবে গণ্য করা হবে। আর তার চেয়ে বড় কথা সে ন্যায় বিচার পাবে বলে মনে হয় না আমার!

যে দেশে ডিয়াইজি ঘুষ খায়, বিচারক ঘুষ খায় সেখানে ন্যায় বিচার কিভাবে হবে ? নয়ন বন্ড ছিল ০০৭ বন্ড বাহিনীর সুনাম দেবনাথ এর ডানহাত, সুনাম হল নয়ন বন্ডের গডফাদার।

একজন ক্ষমতাশালী সুনাম যখন মামলার উপর প্রভাব খাটায়, মানব বন্ধন করে তখন এই মামলা সঠিক পথে যাবে বলে মনে হয় না।
সুনামকে গ্রেফতার করা হোক। তাকে গ্রেফতার করলেই বেড়িয়ে আসবে মুল ঘটনা। নয়নকে ক্রসফায়ারে দিয়ে পথ পরিস্কার করেছে সে। না হয় সে ফেসে যেত সেটা সে ভাল করেই জানত। যেখানে ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে রিফাত, রিসান নয়ন কুপাইছে সেখানে
তাদের রিমান্ডে না নিয়ে নিচ্ছে মিন্নিকে। নয়ন বন্ড থাকলে অনেকেই ফেঁসে যেত। যা মনে হচ্ছে তাকে ক্রস ফায়ারে দেয়া মানে গডফাদারদের আড়াল করা। যদি ও প্রথমে মনে হয় হয়নি। এখন তাই মনে হচ্ছে। আর পুলিশ এত তৎপর অথচ রিসাত ফরাজী এখনো গ্রেফতার হয় নাই। মিন্নির বাবার ক্ষমতা নাই, প্রভাবশালী না তারা দুর্বল , আর দুর্বলের উপর খুব সহজেই প্রভাব খাটানো যায়। আমরা কোন নাটক দেখতে চাই না ন্যায় বিচার চাই।

আমি অবাক হয়ে যাই তখন
যখন দেখি মানবতাবাদীদের জীবন্ত মানুষের শ্রাদ্ধ হয় আর তখন পালন করে হা করে। তারা ধর্ষকের পক্ষে রুখে দাঁড়ায় শক্ত যুক্তি আর শক্তিশালী আইনজীবী নিয়ে হ। 
অথচ,মৃত  মানবতা তখনই করে প্রকাশ যখন বিচারের দাবীতে হাজার মিন্নি উকিলহীনতায় ভোগে। 
ধিক মানবাধিকার! 

রিফাত খুন হলো আজ ২৩ দিন। রিফাত খুনের ১৮ দিন পরে রিফাতের বাবা সংবাদ সম্মেলন করে ,তাঁর ছেলে খুনের পিছনে রিফাতের স্ত্রী মিন্নি জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেন। এবং মিন্নিকে গ্রেফতার করার দাবী ও জানান তিনি।

১৩ জুলাই রিফাতের বাবার সংবাদ সম্মেলন এবং ১৪ জুলাই কথিত ‘সর্ব সাধারণ ‘ মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে মানববন্ধন করে।

আমার প্রশ্ন হলো-

** ১৮ দিন পরে রিফাতের বাবার কেন মনে হলো, তার ছেলে হত্যার পিছনে, ছেলের স্ত্রী জড়িত?

** ১৯ দিন পরে সাধারণ মানুষের কেন মনে হলো একটা মানববন্ধন করে মিন্নিকে গ্রেফতার করার দাবী জানাই। মিন্নি এ খুনের সাথে জড়িত।

** ২৩ দিন পরে পুলিশের কেন মনে হলো মিন্নিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করি? এবং পরবর্তী এখন তারা মিন্নিকে রিমান্ডে নিয়েছে।

এই প্রশ্ন গুলোর জবাব আমার জানা নেই।

তবে যেটা এ মুহুর্তে মনে হচ্ছে,, তা হলো, মিন্নির শ্বশুর,স্থানীয় জনগণ ভাবছে, মিন্নি স্বামী হারিয়েছে। সে আপাতত স্বামী শোক পালন করুক। পরে আস্তেধীরে আমরা অভিযোগ করবো তার বিরুদ্ধে। পুলিশ ও তাই ভাবছে শোক কাটিয়ে উঠুক মিন্নি তারপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। (জোকস) 😛

*যদি মিন্নি রিফাত খুনে জড়িত থাকে। তাহলে পুলিশ,তদন্ত কর্মকর্তার জন্য করুনা। তারা ২২ দিনেও কেন বুঝলো না মিন্নির জড়িত থাকার বিষয়ে। তদন্তে নিশ্চিত গাফলতি হয়েছে।

তাই আবার বলছি , রিফাত হত্যার পুরো তদন্তের পুনরায় দায়িত্ব পিবিআই কে দেওয়া হোক।

–টিটপ হালদার

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

70 − = 67