নাস্তিক ব্লগারদের হত্যার পিছনে কারা দায়ী?

আমি খুব ভীতু, খুব ভয়ে ভয়ে থাকি সবসময়। কখন কালো অন্ধকার নেমে আসে আমার জীবনে, হয়তো সেদিনই হবে আমার জীবনের শেষ দিন। হয়তো সে দিনের পরে আর কখনো সূর্য উঠা দেখতে পারব না। দেখতে পারব না বৃষ্টি, দেখতে পারবো না কুয়াশায় ভেজা সকাল, দেখতে পারবো রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশ। আমি জানি হঠাৎ কোন একদিন আমিও হয়তো হারিয়ে যাবো, যেভাবে হারিয়ে গেছে আমার শত বছর আগে জন্ম নেওয়া সকল মানুষ।

তবে এই পৃথিবী কি আমাকে স্বাভাবিক মৃত্যু দিবে? আমি কি মারা যেতে পারবো এরশাদের মত বয়সের শেষ সন্ধিক্ষণে গিয়ে? আমি কি পৌঁছতে পারব আমার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত, একদম স্বাভাবিক মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে? আমি কি মারা যাবো নিজের ঘরে, যখন আমার চারোপাশে আমার আত্মীয় সজন ঘিরে ধরবে আমাকে। আমি কি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করব প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে?

পৃথিবীর কোন মানুষই অস্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করে না। কেউ চায়না দুর্ঘটনায় মারা যেতে, যেমন পানিতে ডুবে, আগুনে পুড়ে, গাড়ির নিচে চাপা পড়ে। পৃথিবীতে কোন মানুষই চায়না, কোন সন্ত্রাসীর হাতে সে মারা যাক। তবুও অনেক মানুষকেই মরতে হয়, অন্য এক হিংস্র মানুষের আঘাতে। মানুষ অবলীলায় মানুষকে হত্যা করে, একজন মানুষের হাতে শত মানুষের হত্যা হওয়া বর্তমান বিশ্বে কোন আশ্চর্যের বিষয় নয়। কারন মানুষই বর্তমানে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণীতে পরিণত হয়েছে।

তবে আমি খুবই তুচ্ছ একজন মানুষ, আমি অতটা পরিচিত নই, আমাকে তেমন কেউ চিনে না, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে চিনে এরকম মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তাই আমি নিজের জীবন নিয়ে কিছুটা নিরাপদ বোধ করি। তবে আমার ভয় হয় আমার সমমনা ভাইদের জন্য, তারা হয়তো বিপদে পড়তে পারে, তারা হয়তো নিজেদের জীবন নিয়ে তেমন শঙ্কিত নয় তবে তাদের বিপদ সবচেয়ে বেশি। তারা নিজেরাও জানেনা কে কখন তাদের পিছন দিয়ে এসে, তাদের ওপর আঘাত করে বসবে।

আমার সহযোদ্ধারা অনেকেই দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। অনেকেই নিজের দেশে চোরের মত লুকিয়ে লুকিয়ে থাকে। অনেকেই ইতিমধ্যে চাপাতির শক্ত আঘাতে পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে।তবে যারা বেঁচে আছে তাদের জীবন নিয়ে আমরা শঙ্কিত, কে দিবে তাদের নিরাপত্তা? সরকার? না, সরকার তাদের নিরাপত্তা দিবে না, মোল্লারা লিস্ট করে করে সরকারের হাতে এনে দিয়েছিলো, অতঃপর সরকার তাদের আশ্বাস দিয়েছে নাস্তিকদের থামানোর। এবং ধীরে ধীরে সেই লিস্ট ধরে ধরে কোপানো হয়েছে একের পর এক নাস্তিককে। সরকার নির্বিকার একের পর এক নাস্তিকের লাশ দেখেছে।

সরকার তাদের অবস্থান থেকে নাস্তিক হত্যার বিচার না করে উল্টো নাস্তিক ব্লগারদের দমন করার চেষ্টা চালিয়েছে। যারা লিস্ট তৈরি করে সরকারের হাতে দিয়েছে, পরবর্তীতে সরকার তাদের সাথে হাত মিলিয়ে একের পর এক তাদের দাবি মেনে নিয়েছে। সরকার তাদের দাবীর মুখে পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করেছে, সরকার তাদের সার্টিফিকেটকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাদেরকে রেলওয়ের জমি দিয়েছে, তাদেরকে হেলিকপ্টারে করে সারা দেশ ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে। বিনা পয়সায় তাদেরকে হজ্বে নিয়ে গিয়েছে হাজীদের দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য।

আর উল্টো একের পর এক নাস্তিককে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে, অসংখ্য নাস্তিককে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে। আর এটাই হচ্ছে জঙ্গিদের উপর আমাদের সরকারের অবস্থান।

কি হাস্যকর নির্বোধ এক অগণতান্ত্রিক দেশে আমরা বসবাস করি, বাংলাদেশের কোন সরকারই মুক্তচিন্তা এবং মুক্তবুদ্ধির পক্ষে কাজ করেনি, বরাবরই সরকাররা ছিল মুক্তচিন্তা এবং প্রগতিশীলদের বিরুদ্ধে। ২০০৪ সালে সরকারের ছত্রছায়ায় হামলা চালানো হয় হুমায়ুন আজাদের উপরে। তখন কার সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সরাসরি এই হত্যায় উস্কানি দিয়েছে। সংসদে দাঁড়িয়ে নাস্তিকদের দেখে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

একজন মানুষের ক্ষত কতটা গভীরে গেলে, মানুষ পুলিশের কাছে নিজের জীবন অনিরাপদ বোধ করে। হুমায়ুন আজাদ রক্তাক্ত দেহ নিয়ে যখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল, তখন কয়েকজন পুলিশ তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে। তখন হুমায়ুন আজাদ পুলিশের সাহায্য নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তিনি জানিয়ে দেয়, সরকারের কোন প্রকার সাহায্য তার দরকার নেই। কারণ তার হামলার পেছনে সরকারই দায়ী। তিনি নিশ্চিত ছিলেন, পুলিশ যদি তাকে হসপিটালে নিয়ে যায়, হসপিটালে যাওয়ার আগেই পুলিশ তাকে হত্যা করবে। একটা দেশের সবচেয়ে বড় প্রগতিশীল লেখকের যখন এইরকম দুরবস্থা, রাষ্ট্র যখন তার নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টো তাকে হত্যা করার পাঁয়তারা করে। তখন খুব সহজেই বোঝা যায় এই হতভাগা দেশের ভাগ্য কতটা তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্লগার নাস্তিকের হত্যার পিছনে সরাসরি অনলাইনে মডারেট ধার্মিকরাই জড়িত। তারাই জঙ্গিদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে। তারা খুব নীরবে নাস্তিকদের সাথে লুকিয়ে থেকে, নাস্তিকদের তথ্য সংগ্রহ করেছে। ফারাবী নামের একজন অভিজিৎ রায়ের হত্যার বিষয়ে জড়িত, ফারাবীই সরাসরি জঙ্গিদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে। অনলাইনে মডারেট ধর্মিক আর জঙ্গিদের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই, তারা দুজনেই জঙ্গি। একদল তথ্য দেয়, আরেকদল চাপাতি দিয়ে কোপায়।

আমাদের মতো ক্ষুদ্র অনলাইন ব্লগারদের ভয়ের কারণ সেটাই, এরা আমাদের তথ্য নিয়ে জঙ্গিদের কাছে দিয়ে দিবে, তারপর জঙ্গীরা সুকৌশলে ধারালো চাপাতি দিয়ে আঘাত করবে নাস্তিকদের। আমাদের পিতা-মাতা আমাদের জঙ্গিদের চাপাতির আঘাতে নিহত হওয়ার জন্য জন্ম দেয়নাই। নষ্ট রাজনীতির নষ্ট দেশে আমরা অসহায়ের মত বসবাস করতেছি। আমাদের বেঁচে থাকাই সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের কারণ। তাই মডারেট ধার্মিক এবং জঙ্গিরা আমাদের হত্যা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তারা জানে নাস্তিকদের হত্যা করা ফরজ, আর কোরআনে জিহাদকে ফরজ করা হয়েছে।

আপনাদের কি মনে হয়? অনলাইনে মডারেট ধার্মিকরা আমাদের তথ্য নিয়ে কি করবে? তারা আমাদেরকে বন্ধু বানাবে? তারা আমাদের সাথে মুক্তআকাশে ঘুরে বেড়াবে? তারা আমাদের সাথে মুক্তভাবে আলোচনা করবে? কিন্তু না তারা সেগুলা কিছুই করবে না, তাদের উদ্দেশ্য একটাই আমাদের থামিয়ে দেওয়া, আমাদের ধরিয়ে দেওয়ার মধ্যেই তাদের সার্থকতা। আমাদের থামিয়ে দিতে পারলেই তারা জান্নাতুল ফেরদৌস পেয়ে যাবে।

এইরকম অনলাইনে মডারেট ধার্মিক একজন দুজন নয়, হাজারে হাজারে আছে, আর সবার একটাই উদ্দেশ্য, নাস্তিকদের কলমকে থামিয়ে দেওয়া। তবে তারা জানে এটা এত সহজ নয়, একজন হুমায়ুন আজাদের হত্যার পর হাজারো হুমায়ুন আজাদের জন্ম হয়েছে, একজন অভিজিৎ রায়ের হত্যার পর হাজারো অভিজিৎ এর জন্ম হয়েছে। একজন তসলিমাকে দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে, আর বাংলাদেশ হাজারো তসলিমা গর্জে উঠেছে।

ধার্মিক জঙ্গিরা এটা ভালভাবেই জানে, তার পরেও তারা থেমে নেই, সরাসরি তারা অনলাইনে উস্কানি দিচ্ছে, বিভিন্ন কৌশলে নাস্তিকদের তথ্য নিয়ে সেগুলো প্রচার করতেছে। আর তাদের উদ্দেশ্যে একটা ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। এই মডারেট জঙ্গিরা কেন এই ভয়াবহ রাস্তা বেছে নিয়েছে? এটার আসল কারণ কি? কারা এদের ইন্ধন দিচ্ছে? এরা আসলে চাচ্ছেটা কি? আসুন এদের ভয়ঙ্কর হওয়ার রহস্যটা খুঁজে বেরকরি। নিচে উল্লেখিত আয়াত গুলোর দিকে লক্ষ্য করুন।

————————————

– হে নবী! কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জেহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন| তাদের ঠিকানা জাহান্নাম| সেটা কতই না নিকৃষ্ট স্খান|
আল কোরআন – সূরা আত তাহরির, আয়াত – ৯

– আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে| বস্তুত: ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ| আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে| অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই করে| তাহলে তাদেরকে হত্যা কর। এই হল কাফেরদের শাস্তি। কোরআন – সূরা বাকারা আয়াত – ১৯১

-আর তারা যদি বিরত থাকে, তাহলে আল্লাহ্ অত্যন্ত দয়ালু। কোরআন – সূরা বাকারা আয়াত – ১৯২

-আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহ্র দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়| অত:পর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা) কোরআন – সূরা বাকারা আয়াত ১৯৩

– তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়| পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর| আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর| বস্তুত: আল্লাহ্ই জানেন, তোমরা জান না। কোরান সূরা বাকারা আয়াত – ২১৬

-আল্লাহ্র পথে লড়াই কর এবং জেনে রাখ, নি:সন্দেহে আল্লাহ্ সবকিছু জানেন, সবকিছু শুনেন। সূরা বাকারা আয়াত – ২৪৪

-অতএব যারা কাফের হয়েছে, তাদেরকে আমি কঠিন শাস্তি দেবো দুনিয়াতে এবং আখেরাতে-তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। সূরা আলে ইমরান – আয়াত ৫৬

-খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো| কারণ, ওরা আল্লাহ্র সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি| আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন| বস্তুত: জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট। সূরা আলে ইমরান – আয়াত ১৫১

-তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও| অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহ্র পথে হিজরত করে চলে আসে| অত:পর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর| তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না। কোরান – সূরা আন নিসা ৮৯

-গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহ্র পথে জেহাদ করে,-সমান নয়| যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ্ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ্ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন| আল্লাহ্ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন। কোরান সূরা আন নিসা – ৯৫

-যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে| এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। কোরআন সূরা আল মায়িদাহ – ৩৩

-যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্খির করে রাখ| আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব| কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়। কোরান সূরা আনফাল – ১২

-হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে মুখোমুখী হবে, তখন পশ্চাদপসরণ করবে না। কোরান সূরা আনফাল – ১৫

-আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহ্র সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়| তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ্ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন|কোরান – সূরা আনফাল – ৩৯

-সুতরাং যদি কখনো তুমি তাদেরকে যুদ্ধে পেয়ে যাও, তবে তাদের এমন শাস্তি দাও, যেন তাদের উত্তরসূরিরা তাই দেখে পালিয়ে যায়; তাদেরও যেন শিক্ষা হয় কোরান সূরা আনফাল – ৫৭

-আর কাফেররা যেন একা যা মনে না করে যে, তারা বেঁচে গেছে; কখনও এরা আমাকে পরিশ্রান্ত করতে পারবে না। কোরান সূরা আনফাল – ৫৯

-আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যরে মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহ্র শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপর ও যাদেরকে তোমরা জান না; আল্লাহ্ তাদেরকে চেনেন| বস্তুত: যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহ্র রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না। কোরান সূরা আনফাল – ৬০

-অত:পর যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের গর্দার মার, অবশেষে যখন তাদেরকে পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল| অত:পর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ লও| তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে যে পর্যন্ত না শত্রুপক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করবে! একথা শুনলে| আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন| কিন্তু তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান| যারা আল্লাহ্র পথে শহীদ হয়, আল্লাহ্ কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না। আল কোরআন, সূরা মুহাম্মদ আয়াত – ৪

-তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ্ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে| কোরান সূরা তওবাহ – ২৯

-ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহ্র পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহ্র পুত্র’| এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা| এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে| আল্লাহ্ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে। কোরান সূরা তওবাহ – ৩০

-হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহ্র পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প। কোরান সূরা তওবাহ – ৩৮

-যদি বের না হও, তবে আল্লাহ্ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্খলাভিষিক্ত করবেন| তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে শক্তিমান। কোরান সূরা তওবাহ – ৩৯

-তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার। কোরান সূরা তওবাহ ৪১

-হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং মুনাফেকদের সাথে তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন| তাদের ঠিকানা হল দোযখ এবং তাহল নিকৃষ্ট ঠিকানা৷ কোরান সূরা তওবাহ – ৭৩

-কিন্তু রসূল এবং সেসব লোক যারা ঈমান এনেছে, তাঁর সাথে তারা যুদ্ধ করেছে নিজেদের জান ও মালের দ্বারা| তাদেরই জন্য নির্ধারিত রয়েছে কল্যাণসমূহ এবং তারাই মুক্তির লক্ষ্যে উপনীত হয়েছে। কোরান সূরা তওবাহ – ৮৮

– আল্লাহ্ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত| তারা যুদ্ধ করে আল্লাহ্র রাহে: অত:পর মারে ও মরে| তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল| আর আল্লাহ্র চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে| আর এ হল মহান সাফল্য। কোরান সূরা তওবাহ – ১১১

—————————–

এখানে আমি কোরানের মাত্র ২৬ টি আয়াত আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। উপরের আয়াত থেকে আমরা যা পাই তা হলো ইসলামের নামে, ইসলাম প্রতিষ্টার নামে অমুসলিম মানুষদের কতল করা পুরোটাই কোরান কর্ত্বক আদেশিত। এইরকম অসংখ্য আয়াতে ভরপুর মুসলিমদের পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআন।

আয়াতগুলো আপনাকে আমাকে কি শিক্ষা দেয়, যেখানে স্রষ্টা নিজেই মানুষ হত্যা করতে বলতেছে, আর মুসলমান জঙ্গিরা কুরআনের আয়াতকে স্রষ্টার বাণী মনে করে একের পর এক নাস্তিক হত্যা করতেছে। আসলেই কি কোরআন স্রষ্টার বাণী? নাকি কোন এক গোষ্ঠী তাদের নিজ স্বার্থে পৌরাণিক গল্প কাহিনীকে স্রষ্টার বাণী বলে প্রচার করতেছে? সেই বিষয়ে না হয় আরেকদিন বলবো।

ধর্মীয় অন্ধকার জালে আবদ্ধ হয়ে মানুষের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার গল্পটা একদিন দুই দিনের নয়। এটার পিছনে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিশাল স্বার্থ জড়িত, এটার পিছনে আছে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ক্ষমতায় টিকে থাকার এক ভয়ানক খেলা, রাজনীতি পৃথিবীর সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে, এমন কি ধর্মেরও, সবচেয়ে বড় কথা ধর্মটাও এক ধরনের রাজনীতি।

ধর্মীয় অন্ধকার জালে আবদ্ধ হয়ে মানুষ গুলোর নষ্ট হওয়ার সূত্রটা ছোটবেলা থেকেই শুরু হয়। ছোটবেলা থেকেই মানুষ পরিবার থেকে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে, তারপরে সমাজ এবং রাষ্ট্র তাকে ধীরে ধীরে ধর্মীয় শিক্ষায় বড় করে তোলে। আস্তে আস্তে মানুষটি পরিণত হয় ধর্মান্ধ এবং উগ্র। এবং ধীরে ধীরে তার চিন্তার জগত অন্ধকারে ডেকে যায়। সে হয়ে ওঠে মানসিকভাবে অসুস্থ একজন মানুষ, হুমায়ুন আজাদ বলেছেন প্রবল ধার্মিক মানুষ প্রকৃত অসুস্থ মানুষ, মানুষ বেশিক্ষণ সময় ধর্মের মধ্যে বাঁচতে পারে না। কোন সুস্থ মানুষের পক্ষেই ধর্মের মধ্যে বেশিক্ষণ টিকে থাকা সম্ভব না।

এদের থামাবে কে? কারা বন্ধ করবে এই উগ্রতা? কারা মানুষের পক্ষে কথা বলবে, কারা তৈরি করবে এক মানবিক পৃথিবী? কারা ভালোবাসা দিয়ে পরিপূর্ণ করে তুলবে বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলকে। নাকি অচিরেই বাংলাদেশ হয়ে উঠবে আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন।

আমরা আমাদের দেশকে বড্ড বেশি ভালোবাসি, ভালবাসি দেশের মানুষকে। তাইতো আমাদের দেশকে আঁকড়ে ধরে আমরা বেঁচে আছি। আর যতদিন বাঁচি দেশ এবং দেশের মানুষকে ভালবেসে বাঁচব। কোন একদিন হয়তো বাংলাদেশের আকাশ থেকে কালো অন্ধকার কেটে যাবে। আলো আর ভালোবাসায় ভরে উঠবে আমাদের সোনার বাংলাদেশ। একজন নাস্তিক হিসেবে এর বেশি কিছু প্রত্যাশা করি না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

47 + = 57