আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় স্ত্রী মিন্নিকে নিয়ে এলোমেলো ভাবনা

বরগুনায় প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে খুন হওয়া রিফাত শরীফ হত্যায় স্ত্রী মিন্নির দোষ অবশ্যই আছে।ভিডিও ফুটেজ দেখে অনেকেরই মাথা ঘুরান্টি দিছে।কিন্তু আমার এখানে মনে হয় এখনো একটা কিন্তু লুকিয়ে আছ।যা আমরা ভাবতে পারছিনা ভিডিও ফুটেজ দেখার পর এবং রিফাত শরীফের বাবার বক্তব্য শুনে। হয়তো নিজের উপরেই আমরা অনেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছি রিফাতের উপর হামলার আগে এবং শুরুতে মিন্নির বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে।

যাই হোক, মিন্নি দোষী হওয়ায় যেভাবে আপনারা প্রতিবাদ করছেন তার সিকি ভাগও খুনীদের বিরুদ্ধে না!অনেকেই শুরু থেকেই মিন্নি খারাপ এবং মিন্নির চরিত্র নিয়ে টানাটানি শুরু করে দিছেন।এলাকাবাসীসহ তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছে।অবশ্যই এটা ভালো দিক।অপরাধীর শাস্তি হওয়া উচিত।

কিন্তু খুনতো আরও হয়।প্রকাশ্যেই হয়।সেগুলা নিয়ে এতো প্রতিবাদওতো দেখি না।বরং মানুষ এইসব থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে।দেখেও না দেখার ভান করে থাকে।মানুষ যদি এতোটাই সচেতন হতো তাহলে নয়ন বন্ডদের মতো সন্ত্রাসীর জন্ম হতো না। এখন যতোটা মিন্নিকে নিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা হচ্ছে তার আগে কেন নয়ন বন্ডের মতো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জনগন এমন সোচ্চার কিংবা সচেতন হয় নাই।এখনতো পুরা বাংলাদেশই লেগে গেছে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা খোঁজার জন্য! আপনার এলাকার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে কি এতোটা সোচ্চার আপনারা? আজ রিফাত শরীফ না হয় একটা মেয়ের জন্য খুন হইছে।কিন্তু আপনার এলাকাতেও এমন অনেক ছোট খাটো বিষয়ে খুন হয়ে যাচ্ছে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে।কিন্তু খুনে কার হাত রয়েছে কিংবা থাকতে পারে তা আমরা সকলেই অনুমান করে নিতে পারি।যেমনটা অনুমান করেই মিন্নিকে দোষী বানিয়ে এখন সে সত্যি সত্যি তার সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।এটা অবশ্যই ভালো দিক যে, সমালোচনার কারণেই হয়তো মিন্নির অপরাধ সামনে আসতাছে ধীরে ধীরে।কিন্তু অন্য কোন অপরাধের সময় এমন আমরা হতে পারি না! আমরা কেন তখন ভয়ে মুখ খুলি না! নাকি এখানে মিন্নির কোন ক্ষমতা নাই এবং মিন্নির লিঙ্গ পরিচয়টার কারনেই?

নাকি এই প্রথম খুন হইছে এইভাবে আমাদের দেশে তাও আবার একটা মেয়ের প্ররোচনায় তাই এতো প্রতিবাদ?

যেখানে আবার, স্থানীয় এমপি শম্ভু দেবনাথের ছেলে সুনাম দেবনাথ শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক স্ট্যাটাস, পোস্ট ও ছবি প্রকাশ করেছেন। একটি পোস্টে তিনি রিফাত হত্যায় স্ত্রী মিন্নিকে ‘মূল ভিলেন’ হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বিভিন্ন খবর ও মিডিয়াতে যাকে এখন হিরো বানানো হচ্ছে মূল ভিলেন সে নিজেও হতে পারে, রিফাত শরিফের বন্ধুদের থেকে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে তাতে এটাই বুঝা যায়।’

অপর একটি স্ট্যাটাসে স্থানীয় আইনজীবীদের রিফাত হত্যায় জড়িতদের পক্ষে না দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।সত্যি বলতে এখন মিন্নির পক্ষে কোন উকিল পাওয়া যাচ্ছে না। মিন্নির বাবা দাবী করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালতে আমার মেয়ের পক্ষে অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন, অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার নাসির ও অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদেরের দাঁড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু কী কারণে দাঁড়াননি আমি বলতে পারবো না।’

রিফাতের স্ত্রী মিন্নি খুনি কিনা এটা এখনও প্রমাণ হয়নি। প্রমাণ হবে যেখানে সেই আদালতে তাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার মত কেউ নাই। বরগুনার আইনজীবীদের কেউ তার হয়ে লড়তে চাননি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিন্নিকে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার করতে পারেন, আদালত রিমান্ডে পাঠাতেও পারেন; কিন্তু তাই বলে কোন আইনজীবী তার পক্ষে দাঁড়াবেন না- এ কেমন কথা!

অন্যদিকে আলোচিত ধর্ষনের পর নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার আসামীদের পক্ষে সম্ভবত ১৬ অথবা ১৮ জন উকিল দাঁড়িয়ে যায়। এই দেশে আলোচিত ধর্ষক খুনিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে উকিল দাঁড়িয়ে যেতে পারে।কিন্তু অপরাধী নারী এবং ক্ষমতা না থাকায় তার হয়ে উকিল দাঁড়ানোর সাহস নাই। এই সাহসটা কেন নাই তা আর ব্যাখ্যা করতে হবে না।আবার অপরাধীর পক্ষে এতো এতো উকিল দাঁড়িয়ে যায় কেমনে এটা নিয়েও আমাদের চিন্তা করতে হবে না।কারণ আমরা সবই জানি বুঝি।কিন্তু আমরা কোন কোন ক্ষেত্রে বধি এবং অন্ধ এবং কিছু ক্ষেত্রে আবেগী।

যাই হোক, এমপি পুত্রের কথা আবার উকিলদের না লড়ার পিছনের কারণটা কেমন করে যেন মিলে যাচ্ছে না?

মিন্নির দোষ থাকলে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।কিন্তু মিন্নিকে শাস্তি কিংবা ফাসিয়ে দিয়েতো আবার খুনিদের অপরাধ হালকা করে দেওয়া হচ্ছে না কিংবা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে না কৌশলে?

কারণ অনেকেই দাবী করছে, মিন্নির জন্যই নাকি ১৪ ছেলের জীবন নষ্ট!আরে ১৪ জন ছেলে আজকে নষ্ট না।এরাতো আগের থেকেই মাদক,ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলো।যেটা কেউ অস্বীকার করতে পারবেনা।তাহলে মিন্নির জন্য কেন তাদের জীবন নষ্ট হবে মহামান্য জ্ঞানী ভাইয়েরা একটু বুঝিয়ে বলুন।

এখানে রিফাত শরীফ খুন হলেও সেও দোষী।কারণ সেও ভালো ছিলো না বলেই আমার ধারণা। যদি ভালোই হতো তাহলে রিফাত শরীফ নয়ন বন্ডের বন্ধু হয় কি করে?

খুনি নয়ন বন্ডের সাথে প্রেম বিয়ের কথা সবাই জানে।সেহেতু রিফাত শরীফও জানে এটা অবশ্যই বলা যায়।কারণ,

১/ নয়ন বন্ড এবং রিফাত দুইজনেই এক অপরের পরিচিত এবং বন্ধু।

২/ নয়ন বন্ড ও মিন্নি এবং রিফাত শরীফ একই এলাকার মানে কাছাকাছি সবাই থাকতো।

সেহেতু মিন্নির সাথে নয়নের সম্পর্কের কথা রিফাত কিংবা তার পরিবার জানতোনা এটা অস্বীকার করার মতো না। রিফাত শরীফের পরিবার এবং রিফাত জেনেই মিন্নিকে বিয়ে করেছে।এখন যত অস্বীকার করুক তারা কিছু জানতোনা কিংবা মিন্নির পরিবার লুকাইছে এটা মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই না বলেই আমার বিশ্বাস এবং অনুমান।সেহেতু শুধু মিন্নির চরিত্র নিয়ে টানাটানির আগে আর একটু সাবধানতা অবলম্বন করি।

লিখাটা ছোট করতে চাচ্ছিলাম কিন্তু কোনভাবেই হচ্ছে না।কারণ কোন না কোনভাবেই মাথায় অনেকগুলা প্রসঙ্গ চলে আসে। এই যেমন ধরুন মিন্নির একটা স্ট্যাটাসের স্ক্রীনশট এবং নয়নের সাথে মিন্নির কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে।যেখানে স্ক্রীনশটের কমেন্টে মিন্নি প্রকাশ্যেই নয়ন বন্ডকে সরি জান বলে সম্বোধন করে।

এবং এরই সূত্র ধরে মিন্নিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় যোগাযোগ সামাজিক মাধ্যম গুলাতে।তাদের কথার যুক্তি ছিলো এবং রিফাত শরীফ হত্যায় মিন্নিরই হাত রয়েছে বলে দাবী।এটা অবশ্য তখন উড়িয়ে দেওয়া গেলেও ভিডিও ফুটেজ এবং আসামিদের জবানবন্দি,কললিস্ট চেক করে সংশ্লিষ্টতার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।কিন্তু এখানে যে, কোন ষড়যন্ত্র নাই তা যেমন বলা যাবেনা, ঠিক তেমনি এখনো অনেক কিছুই আমাদের না দেখা কিংবা না জানার মাঝেই রয়ে গেছে।তাছাড়া নিজ স্বামীকে কেন সে খুন কিংবা মারতে চাইবে?আমি আমার নিজস্ব চিন্তাধারা থেকে যা বুঝতে পারি এবং এই হত্যা মামলা সম্পর্কে গত কয়েকদিনে যতো কথা নড়াচাড়া হইছে তার প্রেক্ষিতেই আমার অনুমান নির্ভর কিছু কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

দোষ সবারই আছে।

কিন্তু আমরা শুধু মিন্নিকেই কেন দোষ দিচ্ছি?

নিজের স্বামীকে কেন মিন্নি অন্যকে দিয়ে মারার প্ল্যান করলো?

রিফাত শরীফ কি কোন না কোন ভাবে মিন্নিকে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করছে?

নয়ন বন্ড এবং মিন্নির প্রেম এবং তারা বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও কেন রিফাতকে কোন ঝামেলা ছাড়া এবং নয়ন বন্ডের মতো উঠতি সন্ত্রাসীও বাধা দিলো না বিয়েতে?

রিফাত শরীফ এবং নয়ন বন্ড বন্ধু হয়েও কেন বন্ধুর বিবাহিত বউ কিংবা প্রেমিকাকেই বিয়ে করলো রিফাত শরীফ?

মিন্নির মা এবং নয়ন বন্ডের মা জানতো নয়ন এবং মিন্নি বিবাহিত তাহলে তারাও কেন আগে মুখ খুললো না কিংবা তাদের মাঝে ডিভোর্স না করিয়েই বিয়ে দিলো?

মিন্নি বিয়ের পরেও কেন নয়ন বন্ডের সাথে যোগাযোগ রেখেই গেলো?

তাহলে কি রিফাত শরীফ মিন্নি এবং তার পরিবারকেও ব্ল্যাক মেইল করতো?

যার কারণেই কি মিন্নি এবং নয়ন বন্ড মুখ খুলতে পারে নাই এবং নিরবে বিয়েটা করে নিয়েছিলো?

মিন্নির জবানবন্দী অনুযায়ী, সে খুন না নয়নকে দিয়ে শাসানোর কথা ছিলো কেন?

মিন্নি কেন নয়নের কাছে চলে গেলো না রিফাতকে ছেড়ে কিংবা নয়নই কেনই মিন্নিকে নয়নের কাছ থেকে ফিরিয়ে নিলো না?

তাহলে নয়ন মিন্নি এবং রিফাত শরীফের মধ্যে এমন কোন শত্রুতা ছিলো যার কারণে বন্ধুর স্ক্রীকে রিফাত বিয়ে করে নেয় এবং মিন্নির সাথে স্নায়ু যুদ্ধে লিপ্ত হয়?

তাহলে এই কারণেই কি রিফাতকে শাসানোর জন্য নয়ন বন্ডের সাথে হাত মিলানো?

কিন্তু মিন্নির প্ল্যান যদি কেবল শাসানোই থাকে তাহলে কেন তাকে কুপিয়ে খুন করে ফেললো?

নয়ন বন্ডকেও কেন পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধের নাটক সাজিয়ে খুন করা হলো?

রিফাত ফরাজী এবং তার ছোট ভাই রিশাত ফরাজী কেন এই হত্যায় সরাসরি জড়িত?

এইখানে কি শুধু প্রেম নাকি অন্য কোন কিছুও রয়েছে?

এরকম বহু প্রশ্নের উদয় হয়।এই মামলাটা এতো সহজ না।কারণ প্রধান আসামী/ খুনি নয়ন বন্ড পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে খুন এবং রিফাত শরীফ নয়নের হাতে খুন হয়েছে।

তবে এটা পরিষ্কার,মিন্নি রিফাতকে চাইতোনা। কিন্তু এমন কোন কারণ আছে বা ছিলো যার কারণে মিন্নি নয়নের কাছে কিংবা নয়ন মিন্নিকে তার কাছে নিতে পারতেছিলোনা।আবার নয়নকে পাওয়ার জন্যে বা তার কাছে ফিরে যাওয়ার জন্যে রিফাত কোনো বিশাল বাঁধা বা প্রতিবন্ধকতার কারণ ছিলেন না।যার কারণে তাকে খুন করতে হবে।তাদের মাঝে এমন কোন ঝামেলা ছিলো বলেই তাকে শাসানোর কথা বলেছে নয়নকে।।কিন্তু তাকে খুন করে ফেলা হবে এমন প্ল্যান মিন্নির ছিলো না বলেই আমার ধারনা।এই ঝামেলাটা এতো সহজ না।অনেক কিছুই সামনে এসে যায়।এইখানে খুন করা হবে রিফাতকে বা তাকে চিরতরে সরিয়ে ফেলার প্ল্যানে মনে হয় না মিন্নির ছিলো।বড় জোর তাকে লাথি ঘুষি শাসানোর এইসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ প্ল্যান থাকতে পারে।

আবার আমার এটাও ধারণা হয়, মিন্নিও কোন না কোন ভাবে রিফাত শরীফ দ্বারা ম্যান্টাললি চাপে ছিল।যা কেউ বুঝতে পারে নাই।অন্যদিকে রিফাত শরীফকে খুন করা হবে এটা সে নিজেও বুঝে নাই অথবা সে এতোটা বিরক্ত থাকতে পারে রিফাত শরীফের উপর যার কারণে তাকে খুন করে ফেলার প্ল্যানে থাকতে নিজের চিন্তা বাদ দিয়ে।অনেক সময় এমন হয় না, যা হবার হবে শালা তকেই আগে দেখে নিবো।জেলের ভাত ফাসি সব কিছুই মেনে নিবে কিন্তু তকে দুনিয়ায় রাখবোনা।এমনটা হলেও হতে পারে।অন্যদিকে নয়নের সাথে রিফাতেরও শত্রুতা। যার কারণে মিন্নি ডাবল রুল প্লে করতে পারে।কিন্তু এটা ঠিক, মিন্নি রিফাতকে খুন করে নয়নের সাথে থাকবে এমন চিন্তা ভুলেও করে নাই।

এইখানে এমন কিছু ঘটনা বা কারণ রয়েছে যা আমরা বুঝতেছিনা।দিন দুপুরে মানুষের সামনে নয়নের দ্বারা স্বামীকে খুন করিয়ে আবার পুলিশের কাছে নয়নের নাম বলে দিয়ে আবার খুনি নয়নের কাছে চলে যাবে এমন স্বপ্ন দেখার মত বোকা মেয়ে বলে আমার মনে হয় না মিন্নিকে।

 

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 3 =