একটি সাম্প্রাদায়িক রাষ্ট্র ও সংখ্যালঘুর রাষ্ট্রদ্রোহিতা

আপনারা কি ফেসবুক, লোকাল পত্রিকা আর বিটিভি ছাড়া (বাংলাদেশী সব চ্যানেলই বিটিভি গোত্রের) অন্য কিছু দেখেন? যদি না দেখেন তবে চমৎকার একটা তথ্য দেই আপনাদের

এবছরই, মানে ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আলজাজিরা চ্যানেলের নিয়মিত অনুষ্ঠানহেড টু হেডযা মেহেদি হাসান নামের এক ভদ্রলোক উপস্থাপনা করেন; সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে গওর রিজভীকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছিলো। সে অনুষ্ঠানটা আপনারা দেখেছেন? যারা দেখেছেন তারা দেখেছেন, কিভাবে এই ভদ্রলোকের (গওর রিজভীর) মুখ বন্ধ হয়ে ফ্যাকাশ রং ধারন করেছে।

আপনারা যারা মনে করছেন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ার সককিছু অজানা; দেশের মধ্যে নিরবেপ্রকাশেউৎসবের মাধ্যমে দিনের পর দিন আপনারা সংখ্যালঘুদের যেভাবে নির্যাতন করেছেন, তাদের সম্পদ কেড়ে নিয়েছেন এবং তার ইতিহাসও মুছে ফেলতে পেরেছেন তারা হয়ত অনেকটাই সফল হয়েছেন; তাই বলে পুরোটা নয়দেশভাগের দাঙ্গার পর পূর্ব পাকিস্তানে ঘটা ৫০, ৬৪, ৬৫, ৭১, ৯০ সালের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলা নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণকে চাপা দিয়ে ফেলেছেন সুকৌশলেই।

শুধুমাত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যানুসারে ২০১৮ সালে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৮০৬টি৷ হত্যার শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ২৩ জন৷ হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন ১০ জন৷ হত্যার হুমকি পেয়েছেন ১৭ জন এবং শারীরিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন ১৮৮ জন৷ ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন জন এবং সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন জন৷ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাড়ি ঘরে লুটতরাজের ঘটনা ঘটেছে ৩১টি, বাড়ি ঘর জমি জমা থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন ১৬২ জন, দেশত্যাগের হুমকি পেয়েছেন ১৭ জন৷ ১০৪ জন ধর্মান্তরিত হয়েছেন, ২৯টি মন্দির মঠে হামলা হয়েছে, ৪৩টি মুর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জবর দখলের ঘটনা ঘটেছে ৩৮টি৷ এর বাইরে অপহরণ, ধর্মস্থান দখল, মূর্তি চুরির মতো ঘটনাও রয়েছে

২০১৯ সালের গত আড়াই মাসেই সারা দেশে খুন হয়েছেন ২৭ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। খুনের চেষ্টা করে আহত করা হয়েছে ৫৮ জনকে। বসত বাড়ী ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নি সংযোগ হয়েছে ২৫৪ টি। জমি দখল এর ঘটনা ঘটেছে ১৪৩ টি। শতাধিক মন্দির প্রতিমা ভাংচুর হয়েছে। ধর্ষন গণ ধর্ষন শ্লিলতাহানীর শিকার হয়েছে ৩৭ জন। অপহরন নিখোজ ১৩ জন। ফেসবুকে তথাকথিত ধর্মাবমাননার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একেকটি সংখ্যালঘু অঞ্চলকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও মুক্তিপন চাঁদা দাবী, দেশত্যাগের হুমকী, পাবনার বেরা উপজেলায় শতাধিক মানুষের চলচলের রাস্তা বন্ধ করে দেশত্যাগের হুমকী, কিশোরী অপহরন হয়েছে

আচ্ছা, এর কতগুলোর বিচার হয়েছে?

আলজাজিরার সে অনুষ্ঠানটিতে গওর রিজভী, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী আর এই দেশের যে নাস্তানাবুদ অবস্থা করেছিলো আলজাজিরা চ্যানেল তা নিয়ে কিন্তু সরকারআপনাদের মত প্রগতিশীল মানুষ, মিডিয়া কাউকেই কোন টু শব্দটি করতে শোনা যায়নি। তবে প্রিয়া সাহাকে নিয়েই কেন?

দাড়ান! উত্তর আছে এর; কারন তিনি মালাউন। এতদিন আপনারা ইসলামপন্থিদের উগ্র সাম্প্রদায়িকতার আগ্রাসব ভোগ করতে করতে বড্ড বোর হয়েছেন; এবার আসুন প্রগতিশীল মুসলমানদের সাম্প্রদায়িকতা দেখে ভিন্ন স্বাদ নিয়ে নিন! এরকম সুযোগ অনেকদিন বাদে আসে। মালাউনরা এদেশের নিয়ম মেনে চলে না, তারা রাষ্ট্রদ্রোহী; এ জাতীয় কথাবার্তা এদেশের প্রগতিশীলদের মগজেও অনেকদিন আগে থেকেই জেঁকে বসেছে।

একজন নির্যাতিত হিন্দু ট্রাম্পের দরবারে গিয়ে নতুন কিছু বলেন নাই তো, গত কয়েক যুগ ধরেই বাংলাদেশ ভুখন্ড থেকে হিন্দু জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করা হচ্ছিলো। আলজাজিরাও সেদিন তথ্য উপাত্ত দিয়েছিলো আপনাদের সততার, সাম্প্রদায়িকতার উত্থানে আপনাদের অবদানের…. সবকিছুর।

খুব খারাপ লাগছে, যখন এদেশের প্রগতিশীল আর সংখ্যালঘুদের এই মেয়েটির পাশে দাড়ানোর কথা; তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এই মেয়েটির বিরুদ্ধে দেদ্রোহের অপরাধ উঠানো হচ্ছে। অথচ এই মেয়েটি কিন্তু আপনাদের পক্ষেই কথা বলেছেনআপনাদের উপর নির্যাতনে তথ্য দিয়েছে, তার প্রতিকার আর সাহায্য চেয়েছেন; সেটাই কি অপরাধ তাঁর।

কি মেরুদন্ডহীন প্রানীতে পরিনত হয়েছেন আপনারা। এই মেয়েটাও একটা মানবাধিকার কর্মী। কদিন আগে তার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এগুলো অসত্য সয়। আপনারাও জানেন। এখন ভয় পাচ্ছেন আপনারা? ভাবছেন যদি অন্যায়কে সাপোর্ট না করেন– “তবে এদেশে থাকতে পারবেন না?” লিখে রাখুনএদেশে আপনি আর এমনিতেই থাকতে পারছেন না; কোন ভাবেই না। দালালী করে শেষ রক্ষা হচ্ছে না আপনার। তার থেকে সত্যকে স্বীকার করেই দেশত্যাগ করুন।

জানি পারবেন না। এমন একটা দিন আসবে তখন সত্যিই আপনার আর করার কিছুই থাকবে না।

কারন, আপনারা সব দানবের দাস

https://www.youtube.com/watch?v=ZlRObEeuuJM

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “একটি সাম্প্রাদায়িক রাষ্ট্র ও সংখ্যালঘুর রাষ্ট্রদ্রোহিতা

  1. one thing I certainly can claim that after 100 years or so Bangladesh will attain Islamic saturation ( 100% muslim). there are many examples in history. For example once Turkey (prior name Anatolia) was a 100% Christian land ( 12 century) now it is 100% Islamic. Islamization is a very slow and gradual process. but it works and successful.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

82 − 74 =