সংখ্যালঘুর রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব

নির্যাতন শোষণ এদেশে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে এই নিয়ে কথা বলাটা আতিশয্য মনে হয়। নিরুদ্বেগে, প্রশান্তিময় আপন ভুবনে বাস করতে পারে এমন মানুষের সংখ্যা এদেশে বোধহয় হাতে গোনা। চারিদিকে এমন অরাজকতা যে সকলেই কোন না কোন সংশয়, আশঙ্কা, উদ্বেগ, অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে। এরউপর যদি কেউ হয় সংখ্যালঘু – ধর্মীয় বা নৃতাত্ত্বিক যেটাই হোক- তার ভয়, অনিরাপত্তার বোধ আরো একটু বেশী। অন্যায়ের বিচার এখানে এমনিতেই কম হয়। এরপর যদি ভিক্টিম হয় নারী, বা সংখ্যালঘু বা দরিদ্র, তাহলে তার বিচার পাবার আশা আরো ক্ষীণ।

সংখ্যালঘুত্ব শুধু সংখ্যার ব্যাপার নয়; ওটা একটা মানসিক এবং সামাজিক অবস্থা। যে অবস্থাটা সৃষ্টি হয় সামাজকাঠামোতে কোন ব্যক্তি বা কোন নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষমতার দিক বিচারে তাদের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে। সংখ্যায় নগন্য, কিন্তু শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে প্রবল বিক্রমে টিকে থেকেছে এমন উদাহরণ অপ্রতুল নয়। উপমহাদেশের ব্রিটিশ শাসন আর দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ শাসন দুটো খুব পরিচিত উদাহরণ। এই সংখ্যায় সামান্য হয়েও শক্তিতে অসামান্য হওয়ার সাথে পুঁজির উপর আধিপত্যের বিষয়টি জড়িত। পুঁজির জোরই গড়ে দেয় আনুষঙ্গিক উপরিকাঠামো; সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান। পুঁজি সঞ্চয় এবং তার প্রভাবেই তৈরী হতে থাকে অর্থনৈতিক দৃঢ়তা, শক্তিশালী সামাজিক অবস্থান, মজবুত রাজনৈতিক বুনিয়াদ আর সোশ্যাল হায়ারার্কিতে উচ্চ এবং কর্তৃত্বপূর্ণ অবস্থান। এই কর্তৃত্ববাদী দল বা গোষ্ঠীর চিন্তাধারা, তাদের মূল্যবোধ আর ধ্যানধারণাটাই সমাজের প্রধান মতাদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। এতে তাকে সাহায্য করে রাজনৈতিক দল, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, মিডিয়াসহ অন্যান্য সকল Ideological State Apparatuses: যেমন শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসন, ধর্ম,পরিবার ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানসমূহ। আর রাষ্ট্রের হাতে থাকে Repressive State Apparatuses যেমন, আইন, আদালত, পুলিশ, মিলিটারি প্রভৃতি। এসবের দ্বারা রাষ্ট্র তার নাগরিকদেরকে বা যাদেরকে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি মনে করে তাদেরকে ভয়ভীতি এবং শাস্তির মাধ্যমে আনুগত্য অর্জনের চেষ্টা করে।

বাংলাদেশে বর্তমানে আইডিওলোজির জগতে কাদের প্রাধান্য? আর কী তাদের আইডিওলোজি? একটা সময় ভাবতাম ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ৪৭ এর দ্বিজাতি তত্ত্বকে বাতিল করে দিয়েছে এবং বাংলার হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলেই বাংলাদেশী আত্মপরিচয় নিয়ে এই জাতিরাষ্ট্রে বসবাস করতে পারবে। কিন্তুু সেটা হয়নি। রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক থেকে বাংলাদেশের জন্মের প্রেরণা গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা হলেও এখানকার গণতন্ত্রকে বলা যায় Partial Democracy, এ্যকাডেমিশিয়ানরা বলেন Flawed Democracy (ত্রুটিপূর্ণ গনতন্ত্র)। এই ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র গত কয়েকবছরে স্বৈরতন্ত্রের দিকে মোড় নিয়েছে। এখানে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম হয়েছে, সে ওআইসিতে যোগ দিয়েছে। এখানে শত্রু সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে পাকিস্তানিরা যে সম্পত্তি দখল করেছে তার সম্পূর্ণ সুরাহা এখনো হয়নি। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি শুরু হয়েছে, এবং তারা যথেষ্ট ক্ষমতা অর্জন করেছে। এদেশের সংখ্যাগুরুরা এখন কথায় কথায় বলে ওঠেন “আমরা নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশ”। এটা বলে তারা কী বোঝাতে চায়? এদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন মদিনা সনদে দেশ চলবে। মৌলবাদী মুসলমানদের চাপে এদেশে নারীনীতি, শিক্ষানীতি, পাঠ্যবই সব পাল্টিয়ে যায়। এগুলো থেকেও অনুমান করা যায় এদেশের রাজনৈতিক মতাদর্শে কোন গোষ্ঠীর প্রাধান্য।

স্বৈরতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে সরকার মেধাভিত্তিক প্রশাসনিক জনবল তৈরী না করে, একে পাশ কাটিয়ে একটা প্যাট্রন-ক্লায়েন্ট (দাতা-গ্রহীতা বা প্রভু- চাটুকার) সম্পর্ক তৈরী করেছে। একেবারেই সামন্তবাদী সমাজের ধরনের। আমলা, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সবাই প্রভু ভৃত্যের সম্পর্কে আবদ্ধ এখন। আর সব সম্পর্কের বেলায় কয়েকটা ইজম কাজ করে আসছে ; নেপুটিজম অথবা রিজিওনালিজম এবং ধর্মীয় সম্পর্ক। গণতন্ত্রের এবং সুশাসনের এমন অনুপস্থিতিতে সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা তো দূরের কথা, যে কোন সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানইতো অসম্ভব।

এককালে এদেশের ধনাঢ্য ব্যক্তি, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক,সমাজসেবক ও সমাজসংস্কারকদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন হিন্দু। সাতচল্লিশ, পঁয়ষট্টি আর একাত্তরের ফলশ্রুতিতে হিন্দুরা শুধু সংখ্যায়ই নয়, শিক্ষা, পুঁজি এবং তৎজাত সকল শক্তি থেকেই ক্রমান্বয়ে দূরে ছিটকে পড়তে থাকে। তাদের সামাজিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে, রাজনৈতিক অবস্থান আরো আগে থেকেই ভালনারেবল।ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই এদেশে হিন্দু মুসলমান সম্পর্কের চরম অবনতি হতে শুরু করে। ওই সময়েই সাম্প্রদায়িকতা ব্যাপারটা সাধারণ গ্রাম্য ঝগড়া বা ক্ষুদ্র সামাজিক সমস্যার গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনীতিতে রূপ নেয়। পাকিস্তান সৃষ্টিতে সেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও সহিংসতার অবদান আছে। পাকিস্তান সৃষ্টির পর এদেশে হিন্দুবিদ্বেষ একটা স্থায়ী রাজনৈতিক আকার ধারণ করে। সেটা এখন প্রায় সংস্কৃতির পর্যায়ে পৌছেছে। হিন্দুবিদ্বেষ এখানে দীর্ঘদিন ধরে চর্চিত একটা বিষয়। শেখ মুজিব আর তাজউদ্দিন আহমদকেও হিন্দু বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যাতে তাদেরকে গালাগাল করলে সেই গালাগালটা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে বৈধতা পায়। আওয়ামীলীগকেও হিন্দুত্বের “অপবাদ” শুনতে হয়েছে। অর্থাৎ হিন্দু ব্যাপারটা এদেশে এমনই একটা কনোটেশন বহন করে যে কাউকে হেয় করতে প্রথমে তাকে হিন্দু বলে সম্বোধন কর, তাহলে তার উপর সব জুলুম বৈধ হয়ে যাবে।

বাড়িঘর ভিটেমাটি দখল, কটূক্তির মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন, মন্দির মূর্তি ভাঙা, গ্রামে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, এবং এসবের বিচার না হওয়া, এগুলো খুবই স্থূল কয়েকটা উদাহরণ মাত্র। এসব কর্মকান্ড প্রতিটা সংখ্যালঘুর মনে যে অভিঘাত সৃষ্টি করে, যে আশঙ্কা, ভয়, সংশয় তৈরী করে, এবং এসবের ফলে তার যে সামগ্রিক মানসিক অবস্থা হয়, তার থেকে সে মুক্তি খোঁজে। কিন্তু তার দুঃখ বোঝার কোন চেষ্টা, দুঃখ এবং ভয় দূর করার কোন চেষ্টা এদেশের রাজনীতিতে, সমাজে হয় কী? সংখ্যালঘুর প্রতিবেশী যে সংখ্যাগুরু আছে, সংখ্যালঘুর সাথে তার আচরণ কীরকম? সৌহার্দ্যপূর্ণ কী? বিশ্বস্ততার কী? আস্থার কী? সংখ্যালঘু তার বিপদে আশ্রয় খুঁজবে কার কাছে? রাষ্ট্র সরকার প্রশাসন এসব তো গ্রামের নিরীহ সংখ্যালঘুর নাগালের বাইরে। তার প্রাথমিক আশ্রয়স্থল তার প্রতিবেশী, তার সমাজ। সেই প্রতিবেশী, সেই সমাজ কী দায়িত্ব পালন করছে সংখ্যালঘুর প্রতি?

তবুও একাত্তরের দেশ স্বাধীনের পর এদেশের হিন্দুরা কী নিজেদের সংখ্যালঘু ভাবতো? আতঙ্কিত রাত জাগতো? ইসলাম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে কখন কোথায় লাঞ্ছিত হতে হয় বা প্রাণ বিসর্জন দিতে হয় এমন ভয়ে ভয়ে দিন পার করতো? সম্ভবত না। কিন্তুু এই আতঙ্কের পরিবেশ এখন বিরাজ করছে। এবং এই পরিবেশ খুব সচেতনভাবে তৈরী করা হয়েছে। “তুমি হিন্দু, তুমি বৌদ্ধ, তুমি খ্রিস্টান, তুমি সংখ্যালঘু” এই বোধ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, বা এমন পরিবেশ তৈরী করা হচ্ছে যাতে এই বোধ তার মধ্যে তৈরী হয়। তারা যে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সমানাধিকার নিয়ে, সমান মর্যাদা নিয়ে বসবাসের যোগ্য, এটাই তাদেরকে ভাবতে দিতে চায়না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকলেই যে সমান নাগরিক, এখানে সংখ্যাগুরু সংখ্যালঘু বিভাজনের কোন ব্যাপার নেই, সেই বোধটাই তৈরী হতে দিতে চায়না। আর যারা আগে থেকেই কোন সুবিধাজনক অবস্থানে আছে তাদেরকেও সেখানে আস্তে আস্তে প্রান্তিক করে তোলা হচ্ছে। তাকে পদে পদে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এখানে তোমার জীবন, মেধা, সম্পদ কোন কিছুর মূল্য নেই। যে সব সংখ্যালঘু এই স্পষ্ট নির্দেশ বুঝছেন না বা বুঝেও দেশ ছাড়ছেন না তাদের জমি দখল, ভিটেমাটি ছাড়া করা বা বাড়ি থেকে মেয়েকে তুলে এনে ধর্ষণের ঘটনা বহু ঘটানো হয়েছে। এর মধ্যে যে মেসেজ ছিলো সংখ্যালঘুদের জন্য, সংখ্যালঘুরা সেটা বোঝেনি, বুঝলেও উপেক্ষা করেছে। আর সত্যি বলতে কী ওই জমি দখল আর ধর্ষণের ঘটনাগুলো ছিলো একান্তই ব্যক্তিপর্যায়ের। কোন একজন দুর্বৃত্ত এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ব্যক্তি হয়তো তার পাশের বাড়ির হিন্দুর জমি,ভিটেমাটি দখল করে নিচ্ছে, মন্দিরের মূর্তি ভাঙা এমনটাই ঘটেছে এতোদিন বেশী।

কিন্তুু এভাবে আর পোষাচ্ছে না। এতে সোরগোলও হয় বেশ। মানুষে নিন্দেবান্দাও করে নীচু স্বরে। সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে তাই দরকার সামাজিক আন্দোলন। তার আবার একটা বৈধতাও দরকার। ঘরের মানুষকে রাস্তায় টেনে এনে উন্মত্ত করতে ধর্মের কোন জুড়ি নেই। তাই এখন সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে যাকে টার্গেট করা হচ্ছে প্রথমে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ বা কটূক্তির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। মাইকে, ফেসবুক, ব্লগ আর অনলাইন নিউজপোর্টালে সেই অভিযোগের প্রচার করা হচ্ছে। ভারতের দালাল এ তো পুরানো অভিযোগ। সাথে আছে ভারতের সম্পদ পাচারের অভিযোগ। এতে করে হিন্দু বিদ্বেষ তৈরী হচ্ছে এবং উন্মত্ত জনতা সেই টার্গেটের ওপর হামলে পড়ছে। এখানে একসাথে তিনটি লক্ষ্যনীয় ঘটনা ঘটছে। প্রথমত, হামলার বৈধতা তৈরি করা হচ্ছে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে। দ্বিতীয়ত, সংখ্যালঘুদের মনে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের মনে হিন্দুবিদ্বেষ বা অন্য ধর্ম বিদ্বেষের বীজ পুতে দেওয়া এবং হিংসার লালন পালন এবং হিংস্রতার চাষাবাদ হচ্ছে।

বেশকিছু অসাম্প্রদায়িক চেতনার লোক যে নেই তা নয়। কিন্তুু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যখন চুপ থাকে,রাষ্ট্রযন্ত্র যখন নির্বিকার থাকে, রাজনৈতিক দলগুলো যখন সাম্প্রদায়িকতার বিষে আক্রান্ত তখন অল্প কিছু সাম্প্রদায়িক লোকের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দ্বারাই পুরো জাতিকে নিস্তব্ধ করে দেওয়া যায়। কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন লোক এর বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায়। তখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কি অবস্থা হয় সেটা অকল্পনীয়। সামাজিক পর্যায়ে ইসলামের ধুয়া তুলে এই নতুন স্টাইলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা তখনই ঘটতে শুরু করেছে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমান সরকার খুব পরিষ্কারভাবে ধর্মপন্থী অশিক্ষিত দলগুলোর সাথে হাত মিলিয়ে নিজেরাও ধর্মরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাফেলায় শরীক হয়েছে। পাহাড়ে আদিবাসী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিধনের প্রক্রিয়া বহুদিন ধরে চালু আছে। ক্রমান্বয়ে বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিয়া, আহমদিয়াদেরকে বিতাড়নের জন্যও ধর্মীয় অনুভূতির কার্ড খেলা চালু হবে। বর্তমানে ধর্মকে ব্যবহার করে সমস্ত মুসলিম সমাজকে হিন্দু বিদ্বেষী একটা ভাবাদর্শে দীক্ষা দেওয়ার নতুন স্রোত চালু হয়েছে। এই স্রোতে আসলেই কোন সামাজিক রাজনৈতিক প্রতিবন্ধক নেই। একমাত্র প্রতিবন্ধক হচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য। আমাদের বহু শতাব্দীর মোটামুটি একটা শান্তিপূর্ণ সহবস্থানে বসবাস করার ঐতিহ্য আছে বলে শুনেছি। আপাতত সেখানেই সংখ্যালঘুদের ভরসার নাড়ি পোতা রইল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − 9 =