অসাম্প্রদায়িক দেশে হিন্দুরা কেনো অনিরাপদ

বাঙলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ! এখানে মুসলমানেরা সব ধর্মের মানুষদের এতো বেশি সম্মান ও শ্রদ্ধা করে থাকে যা নজিরবিহীন। পৃথিবীর সকল দেশের মানুষের কাছে বাঙলাদেশের মুসলমানেরা সবচে’ বেশি প্রশংসিত। বাঙলাদেশের মুসলমানেরা উগ্র নয়, তারা শান্তিপ্রিয়। তারা কোন দিনই হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, ইহুদীদের বিরুদ্ধে কোন কটু বাক্য ব্যবহার করে না।

আমরা কোন কালই শুনে আসি নি যে, হিন্দুরা লাল পিঁপড়া, হিন্দু মেয়েদের খেয়ে ছেড়ে দিতে হয়, হিন্দুদের শরীরে বিদঘুটে গন্ধ, হিন্দু বাড়িতে যাওয়া ও খাওয়া ঠিক নয়– আরও কতো কী!

বাঙলাদেশ চরম মাত্রায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, এ কারণে ’৭৫ পরবর্তী থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে ও অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায় থেকে শুরু করে বৌদ্ধদের আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নানা ধরণের আপ্যায়নের কার্যক্রমকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিশেবে চিহ্নিত করে থাকে সুবিধাবাদী দলকেন্দ্রিক ব্যক্তিবর্গ।

Image result for হিন্দুদের মন্দির ভাংচুরের পরিসংখ্যান

বাঙলাদেশের শান্তিপ্রিয় মুসলমানেরা এতটাই শান্তিপ্রিয় যে গত ২০১১ থেকে (২০১৮) প্রতিবছর ফেসবুকে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের/ বৌদ্ধ- নাম ব্যবহার করে ফেইক আইডি খুলে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে বাড়িঘর, প্রতিমা, মূর্তি, মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে থাকে। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরা শিশুর থেকেও অবুঝ হওয়ার কারণে নির্বাচনে পরাজয়ের বেদনা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য হিন্দু নারীদের ধর্ষণ ও বাড়িঘর অগ্নিসংযোগ করে শান্তির ঘুম দিতে পারে।

বাঙলাদেশের মুসলমানেরা কতোটা নিষ্পাপ? কতটা অবুঝ? কতটা অযৌক্তিক? বাঙলাদেশের বিশাল অংকের মুসলমানেরা বিশ্বাস করে ২০১৩  সালে শাপলা চত্বরে গভীর রাতে ৫০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু, এই অবুঝ মুসলমানেরাই আবার বিশ্বাস করতে পারে না যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়েছিল! এটাকে কি নিষ্পাপ বা অবুঝ বলা যাবে নাকি সুবিধাবাদী, চতুর বা কারো ও কোন বিশেষ স্বার্থের জন্যেই তাদের অবস্থান!

বাঙলাদেশের সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী আসলেই কি সংখ্যালঘু ও অনিরাপদ?

১৯৪১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল শতকরা ২৮ ভাগ।
১৯৪৭ সালের পরে তা শতকরা ২২ ভাগে এসে দাঁড়ায়।
১৯৬১ সালে ১৮.৫%,
১৯৭৪ সালে কমে দাঁড়ায় ১৩.৫%, 
৯৮১ সালে ১২.১%, এবং
১৯৯১ সালে ১০%-এ এসে দাঁড়ায়।
২০১১ সালে নেমে এসেছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশে। 

সাম্প্রতিক এই শতকরা হার আরও কমেছে।

অর্থাৎ, আগামী দুই দশকের মধ্যে কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সংখ্যাও হিন্দুদের সংখ্যার থেকে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন জন্ম নিচ্ছে ৯২ শিশু। আমাদের দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিশ্বাসীদের কাছে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীর মানুষেরা হচ্ছে শিশুর হাতের খেলনা। যে যেভাবে ইচ্ছে খেলতে পারে, মারতে পারে, ভাঙতে পারে, মোচড়াতে পারে।

এমন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ পাকিস্তানও নয়! কিন্তু, দেশপ্রেম আমাদের শিখিয়েছে মিথ্যে উচ্চস্বরে বলতে এবং সত্য লুকিয়ে রাখতে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 − 3 =