১৮২: নবী মুহাম্মদের সন্ত্রাস: উৎসাহ-প্রলোভন ও হুমকি!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

‘কুরআন’ ও আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণনায় যা আমরা সু-নিশ্চিতরূপে জানি, তা হলো, স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর মদিনায় অবস্থানকালীন সময়ে (৬২২-৬৩২ সাল) পার্থিব গণিমত, জান্নাতের প্রলোভন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হুমকি-শাসানী ও ভীতি প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁর অনুসারীদের তাঁকে নবী হিসাবে অস্বীকারকারী, সমালোচনা-কারী ও বিরুদ্ধবাদীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্ম-কাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করাতেন। মদিনায় স্বেচ্ছা-নির্বাসনের পর, মুহাম্মদ কীভাবে তাঁর বিরুদ্ধবাদীদের বিরুদ্ধে তাঁর অনুসারীদের সহিংসতার আদেশ জারী করেছিলেন, তার আলোচনা গত পর্বে করা হয়েছে। আর সেই আদেশ ও নির্দেশগুলো মুহাম্মদ কীভাবে কার্যকর করতেন, তাও আমরা জানতে পারি মুহাম্মদেরই স্বরচিত জবানবন্দী ‘কুরআন’ ও আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের রচিত ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থের বর্ণনায়। সামান্য কিছু উদাহরণ, মুহাম্মদের ভাষায়: [1]

লুটের মালের হিস্যায় ধনী ও দাস-দাসীর মালিক ও দাসী ভোগের সুবর্ণ সুযোগ:

৮:১ (মদিনায় রচিত দ্বিতীয় সুরা – আল-আনফাল):
“তারা আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, গনীমতের হুকুম। বলে দিন, গণীমতের মাল হল আল্লাহ্‌র এবং রসূলের। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য কর-যদি ঈমানদার হয়ে থাক।”

>> মুহাম্মদ ঘোষণা দিচ্ছেন, “গণীমতের মাল হল আল্লাহ্‌র–।” এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা (যদি থাকে) কী লুঠের মালের ভাগ নেন? সৃষ্টিকর্তা কী এতটা ক্ষুদ্র হতে পারেন?

৮:৪১ – “আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং এতীম-অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য; যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে আল্লাহর উপর এবং সে বিষয়ের উপর যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি ফয়সালার দিনে, যেদিন সম্মুখীন হয়ে যায় উভয় সেনাদল। আর আল্লাহ্‌ সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল।”

>> মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের জন্য হিস্যা এক পঞ্চমাংশ (২০%), আর হামলায় অংশগ্রহণকারী মুমিনদের হিস্যা বাঁকি চার পঞ্চমাংশ! তৎকালীন আরবে অন্যান্য যুদ্ধবাজ দলপতিরা তাদের লুঠের মালের (Khumus) এক চতুর্থাংশ (২৫%) তাদের নিজেদের হিস্যায় রাখতেন। মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের জন্য ঐ সকল যুদ্ধবাজ দলপতিদের চেয়ে অতিরিক্ত আরও পাঁচ শতাংশ বেশী সংরক্ষিত রেখেছিলেন। [2]

৮:৬৯ – “সুতরাং তোমরা খাও গনীমত হিসাবে তোমরা যে পরিচ্ছন্ন ও হালাল বস্তু অর্জন করেছ তা থেকে। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।”

>> মুহাম্মদের শিক্ষা, “লুঠের মাল (গনীমত) হলো পরিচ্ছন্ন ও হালাল বস্তু!’ কাফেরদের ঘর-বাড়ী-সহায়-সম্পত্তি লুট ও বউ-বাচ্চাদের দাস-দাসীতে রূপান্তরিত করে নিজ কর্মে (এমন কি যৌন কর্মে) ব্যবহার অথবা বিক্রয় ও সেই বিক্রয় লব্ধ অর্থের হিস্যায় জীবিকা-বৃতি ও ধনবান হবার প্রলোভন!

৩৩:২৬ (মদিনায় রচিত চতুর্থ সুরা: সূরা আল আহযাব):
“কিতাবীদের মধ্যে যারা কাফেরদের পৃষ্টপোষকতা করেছিল, তাদেরকে তিনি তাদের দূর্গ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করলেন। ফলে তোমরা একদলকে হত্যা করছ এবং একদলকে বন্দী করছ।”

৩৩:২৭ – “তিনি তোমাদেরকে তাদের ভূমির, ঘর-বাড়ীর, ধন-সম্পদের এবং এমন এক ভূ-খন্ডের মালিক করে দিয়েছেন, যেখানে তোমরা অভিযান করনি। আল্লাহ সর্ববিষয়োপরি সর্বশক্তিমান।”

>> খন্দক যুদ্ধে চরম বিপর্যস্ত অবস্থার সম্মুখীন হওয়ার পর, মিত্রবাহিনীর প্রত্যাবর্তনের পর পরই মুহাম্মদ কীভাবে “বানু কুরাইজা” গোত্রের ওপর গণহত্যা ও তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি লুণ্ঠন ও ভাগাভাগি করেছিলেন, তার সাক্ষ্য ধারণ করে আছে মুহাম্মদেরই জবান বন্দি কুরআনের এই বানীগুলো (পর্ব: ৮১ ও ৯৪)। [3]

৫৯:৬- (মদিনায় রচিত পঞ্চদশ সুরা: সূরা আল হাশর):
“আল্লাহ বনু-বনুযায়রের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন, তজ্জন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করনি, কিন্তু আল্লাহ যার উপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে প্রাধান্য দান করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।“

৫৯:৭ – “আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রসূলের, তাঁর আত্নীয়-স্বজনের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে, যাতে ধনৈশ্বর্য্য কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়। রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।”

৫৯:৮- “এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী।”

>> অর্থাৎ, ভীত-সন্ত্রস্ত কাফেররা যদি “বিনা যুদ্ধেই আত্ম-সমর্পণ করেন” তবে সেই কাফেরদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-আত্নীয়-স্বজন এবং মুহাম্মদ অনুসারী ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরদের জন্য; যা মুহাম্মদ ব্যয় করতেন তাঁর মতবাদ প্রচার ও প্রসারের প্রয়োজনে। মুহাম্মদ কীরূপে মদিনার বনি নাদির গোত্রের সমস্ত মানুষ-কে তাঁদের শত শত বছরের আবাস-ভূমি থেকে প্রায় এক বস্ত্রে উচ্ছেদ করেছিলেন, তার সাক্ষ্য ধারণ করে আছে তাঁরই রচিত জবান-বন্দি “কুরআন: ৫৯:২-১৭”- এর বানীগুলো (পর্ব: ৫২ ও ৭৫)! [2] [3]

৪৮:১৮ (মদিনায় রচিত পঁচিশতম সুরা: সূরা আল ফাতহ):
“আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নীচে আপনার কাছে শপথ করল। আল্লাহ অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার দিলেন।”

৪৮:১৯ –“এবং বিপুল পরিমাণে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, যা তারা লাভ করবে। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।”

৪৮:২০ – “আল্লাহ তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ওয়াদা দিয়েছেন, যা তোমরা লাভ করবে। তিনি তা তোমাদের জন্যে ত্বরান্বিত করবেন। তিনি তোমাদের থেকে শত্রুদের স্তব্দ করে দিয়েছেন-যাতে এটা মুমিনদের জন্যে এক নিদর্শন হয় এবং তোমাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।”

>> কুরাইশদের সাথে হুদাইবিয়ার সন্ধি চুক্তির পর, প্রায় ১৩০০ ব্যর্থ মনোরথ অনুসারীদের নিয়ে মদিনায় ফিরে যাবার প্রাক্কালে, অনুসারীদের উদ্দেশ্যে মুহাম্মদের এই প্রলোভন (পর্ব: ১২৩)। অতঃপর, খাইবারের ইহুদি জনপদের উপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অতর্কিত হামলায় লুণ্ঠিত প্রচুর ধন-সম্পত্তি ও দাস-দাসী (গণিমত) হস্তগত করন! চরমতম নৃশংসতায় স্বামী ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের খুন করে মুহাম্মদ সপ্তদশী সুন্দরী ইহুদি কন্যা সাফিয়া বিনতে হুয়েই বিন আখতাব-কে তাঁর শয্যা-সঙ্গিনী করেন (পর্ব: ১৪৩)! [4]

“মুহাম্মদের” প্রলোভন ও হুমকি:

৩:১৪২ (মদিনায় রচিত তৃতীয় সূরা: আল ইমরান):
“তোমাদের কি ধারণা, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ্ এখনও দেখেননি তোমাদের মধ্যে কারা জেহাদ করেছে এবং কারা ধৈর্যশীল।”

৩:১৫৭ – “আর তোমরা যদি আল্লাহর পথে নিহত হও কিংবা মৃত্যুবরণ কর, তোমরা যা কিছু সংগ্রহ করে থাক আল্লাহ্ তা’আলার ক্ষমা ও করুণা সে সবকিছুর চেয়ে উত্তম।”

৩:১৬৯ – “আর যারা আল্লাহর রাহে নিহত হয়, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না। বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।”

৪:৯৫ (মদিনায় রচিত ষষ্ঠ সুরা: সূরা আন নিসা):
“গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে, – সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ্ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ্ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ্ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।”

>> এই সেই “৪:৯৫-বাণী”, যা মুহাম্মদের “আল্লাহ” অমানবিক ও অযৌক্তিক ভাবে নাজিল করার পর, এক অন্ধ ব্যক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৎক্ষণাতই শুদ্ধ করে নিয়েছিলেন!

ইমাম বুখারীর বর্ণনায় ঘটনাটি ছিল নিম্নরূপ: [5]

সহি বুখারি, ভলুম ৬, বই ৬০, হাদিস নম্বর ১১৬:
‘যায়েদ বিন থাবিত হইতে বর্ণিত: আল্লাহর নবী তাকে লিখতে নির্দেশ করেন, ” (গৃহে) উপবিষ্ট মুসলমান – এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে, সমান নয়।”

যায়েদ আরও বলেন: যখন আল্লাহর নবী তাকে এই নির্দেশটি দিচ্ছিলেন তখন ইবনে আম মাকতুম সেখানে আসে ও বলে, “হে আল্লাহর নবী! আল্লাহর কসম, (আল্লাহর পথে) যদি আমার যুদ্ধ করার ক্ষমতা থাকতো, তবে আমি তা করতাম,” আর সে ছিল এক অন্ধ ব্যক্তি। তাই আল্লাহ তার নবীর ওপর নাজিল করেন, সে সময় তাঁর উরুটি ছিল আমার উরুর ওপরে, আর তাঁর উরুটি এত ভারী হয়ে গিয়েছিল যে আমি ভীত হয়েছিলাম এই ভেবে যে তা আমার উরুটি ভেঙ্গে ফেলবে। অতঃপর আল্লাহর নবীর এই অবস্থাটি কেটে যায় ও আল্লাহ নাজিল করেন,”ব্যতিক্রম হলো তারা, যারা বিকলাঙ্গ (আঘাত জনিত কারণে অথবা অন্ধ অথবা পঙ্গু, ইত্যাদি)।”’ – [অনুবাদ: লেখক]

(Narrated By Zaid bin Thabit : That the Prophet dictated to him: “Not equal are those of the believers who sit (at home) and those who strive and fight in the Cause of Allah.”

Zaid added: Ibn Um Maktum came while the Prophet was dictating to me and said, “O Allah’s Apostle! By Allah, if I had the power to fight (in Allah’s Cause), I would,” and he was a blind man. So Allah revealed to his Apostle while his thigh was on my thigh, and his thigh became so heavy that I was afraid it might fracture my thigh. Then that state of the Prophet passed and Allah revealed: “Except those who are disabled (by injury or are blind or lame etc).”)

>> নিশ্চিতরূপেই অন্ধ ও বিকলাঙ্গ ব্যক্তিদের জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ নিরাপদ নয়। তাঁদের জন্য যুদ্ধ অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা, অথবা যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করতে পারার কারণে তাঁদের-কে অংশগ্রহণকারীদের তুলনায় “কম মর্যাদা সম্পন্ন” ঘোষণা করা অমানবিক ও অযৌক্তিক। সেই মুহূর্তে যদি সেখানে এই অন্ধ ব্যক্তিটির আগমন না ঘটতো, কিংবা এই ব্যক্তিটি যদি মুহাম্মদের কাছে তাঁর একান্ত যুক্তিসঙ্গত অভিযোগটি না করতেন; তবে “মুহাম্মদের আল্লাহর” এই অযৌক্তিক বানীটিই হতো কুরআনের অসংখ্য “নো সেন্স ও ননসেন্স (পর্ব: ২২)” বাণীগুলোর আর একটি উদাহরণ! [6]

৪৯:১৫ (মদিনায় রচিত বিশতম সুরা: সূরা আল হুজরাত):
“তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে প্রাণ ও ধন-সম্পদ দ্বারা জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ।”

“আল্লাহর নামে” মুহাম্মদের ধার ভিক্ষা:

৫৭:১১ (মদিনায় রচিত অষ্টম সুরা: সূরা আল হাদীদ):
“কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে উত্তম ধার দিবে, এরপর তিনি তার জন্যে তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্যে রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার।”

৫৭:১৮ – “নিশ্চয় দানশীল ব্যক্তি ও দানশীলা নারী, যারা আল্লাহকে উত্তমরূপে ধার দেয়, তাদেরকে দেয়া হবে বহুগুণ এবং তাদের জন্যে রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।”

>> “বহুগুণে বৃদ্ধির” প্রলোভনের মাধ্যমে মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের জিহাদে পুঁজি খাটানোর আহ্বান জানাচ্ছেন!

৪৭:৭ (মদিনায় রচিত নবম সুরা: সূরা মুহাম্মদ):
“হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন।”

৬৪:১৭ (মদিনায় বাইশতম সুরা: সূরা আত-তাগাবুন):
“যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান কর, তিনি তোমাদের জন্যে তা দ্বিগুণ করে দেবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, সহনশীল।”

৬১:৪ (মদিনায় রচিত তেইশতম সুরা: সূরা আছ-ছফ)
“আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসা গালানো প্রাচীর।

৬১:১০-১১ –“মুমিনগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বানিজ্যের সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে? তা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম; যদি তোমরা বোঝ।”

অতঃপর “বেহেশত” ও আসন্ন বিজয়ের প্রলোভন:
৬১:১২-১৩ – “তিনি তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন এবং এমন জান্নাতে দাখিল করবেন, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং বসবাসের জান্নাতে উত্তম বাসগৃহে। এটা মহাসাফল্য। এবং আরও একটি অনুগ্রহ দিবেন, যা তোমরা পছন্দ কর। আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং আসন্ন বিজয়। মুমিনদেরকে এর সুসংবাদ দান করুন।”

>> কুরআনের অন্যত্র মুহাম্মদ “তাঁর আল্লাহর” শক্তিমত্তার ধারা বিবরণীতে দাবী করেছেন, ‘তিনি (আল্লাহ) যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায় (কুরআন: ৩৬:৮২)।’ কুরআনের এই বানীটিই হলো বহুল প্রচলিত ও প্রচারিত, “কুন ফা ইয়া কুন”। যে আল্লাহ এত ক্ষমতাবান, সেই আল্লাহই যখন মানুষের কাছে “বহুগুণ মুনাফা বৃদ্ধির (সুদ-বাণিজ্য)” প্রলোভন ও হুমকি প্রদানের মাধ্যমে ধার-ভিক্ষা করেন, তখন সহজেই বোঝা যায়, “প্রয়োজনটি মুহাম্মদের!” আর আল্লাহ হলো তাঁর প্রয়োজনের বাহন! যাকে তিনি সৃষ্টি করেছেন! (বিস্তারিত: পর্ব: ১১)! [6]

“অবিশ্বাসীদের” বন্ধুরূপে গ্রহণ না করার কঠোর নির্দেশ:

৫৮:২২ (মদিনায় রচিত উনবিংশ সুরা: সূরা আল মুজাদালাহ):
“যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর অদৃশ্য শক্তি দ্বারা। তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে।”

>> মুহাম্মদ তাঁর এই ঘোষণায় জারী করেছেন, তাঁদের অনুসারীদের কেউ যেন “আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ-কারীদের” সাথে বন্ধুত্ব না করে, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। আর ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মদিনায় রচিত তাঁর সাতাশতম সূরা (সর্বশেষ নির্দেশ-যুক্ত সুরা) আত তাওবাহর চূড়ান্ত নির্দেশ হলো:

৯:২৩ – “হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় পিতা ও ভাইদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরকে ভালবাসে। আর তোমাদের যারা তাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা সীমালংঘনকারী।”

“জিহাদের” চূড়ান্ত নির্দেশ ও অমান্যকারীদের কঠোর হুমকি:

৯:২৪ – “বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।”

প্রলোভন:
৯:৪১ – “তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার।”

হুমকি:
৯:৭৩ – “হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং মুনাফেকদের সাথে তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন। তাদের ঠিকানা হল দোযখ এবং তাহল নিকৃষ্ট ঠিকানা।”

“নিকটবর্তী” অবিশ্বাসীদের সঙ্গে কঠোরতা ও সহিংসতার নির্দেশ:
৯:১২৩ – “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।”

>>> মদিনায় অবস্থানকালীন সময়ের প্রথমাবস্থায় অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদের সহিংসতা ও কর্ম-কাণ্ডের আদেশ-নির্দেশগুলো “কিছুটা” সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর বানী ও কর্ম-কাণ্ডের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমালোচনা-কারী ও বিরুদ্ধবাদী অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তার ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তা ক্রমান্বয়ে বিস্তৃতি লাভ করে পরিবর্তিত হয়, “সকল অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে;” তা তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর মতবাদের সমালোচনা-কারী ও বিরুদ্ধবাদী হোক বা না হোক! শুধু এই অপরাধে যে, তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর মতবাদে অবিশ্বাসী।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] কুরআনের উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। http://www.quraanshareef.org/ কুরআনের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/

নাজিলের ক্রমানুসারে মদিনায় রচিত সুরাগুলো – কৃতজ্ঞতায় ইন্টারনেট:
https://yassarnalquran.files.wordpress.com/2010/07/chronological-order.pdf
https://wikiislam.net/wiki/Chronological_Order_of_the_Qur%27an

[2] লুঠ-মুক্তিপণের আয়ে জীবিকা-বৃত্তি বানু নাদির গোত্র উচ্ছেদের(পর্ব: ৩৭ ও ৫২):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOX01sZ0Q1cGJsSzg/view

[3] বানু কুরাইজা গণহত্যা (পর্ব: ৮১ ও ৯৪) ও বানু নাদির গোত্র উচ্ছেদ (পর্ব: ৭৫):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOT3l5NmpOR3VwWEE/view

[4] সূরা আল ফাতহ ও সাফিয়ার স্বপ্নদর্শন বিবাহ ও দাসত্বমোচন (পর্ব: ১২৩ ও ১৪৩):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOUVBOUnlRUXkxX0E/view

[5] সহি বুখারি, ভলুম ৬, বই ৬০, হাদিস নম্বর ১১৬:
http://hadithcollection.com/sahihbukhari/sahih-bukhari-book-60-prophetic-commentary-on-the-quran-tafseer-of-the-prophet-pbuh/sahih-bukhari-volume-006-book-060-hadith-number-116.html

অনুরূপ হাদিস: সহি বুখারি, ভলুম ৬, বই ৬০, হাদিস নম্বর ১১৭:
http://hadithcollection.com/sahihbukhari/sahih-bukhari-book-60-prophetic-commentary-on-the-quran-tafseer-of-the-prophet-pbuh/sahih-bukhari-volume-006-book-060-hadith-number-117.html

‘আল-বারা হইতে বর্ণিত: যখন এই বানীটি, “(গৃহে) উপবিষ্ট মুসলমান এবং ঐ মুসলমান (৪:৯৫)” নাজিল হয়, আল্লাহর নবী যায়েদ-কে ডেকে পাঠান, যিনি এটি লিপিবদ্ধ করেন। ইতিমধ্যে ইবনে আম মাকতুম সেখানে আসে ও তাঁর অন্ধত্ব বিষয়ে অভিযোগ করে, তাই আল্লাহ নাজিল করে, “ব্যতিক্রম হলো তারা, যারা বিকলাঙ্গ (আঘাত জনিত কারণে অথবা অন্ধ অথবা পঙ্গু, ইত্যাদি)।”’

[6] কুরআনের “নো সেন্স ও ননসেন্স” বাণীগুলোর উদাহরণ (পর্ব: ২২):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOejFmTXhTdk5zNDA/view

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “১৮২: নবী মুহাম্মদের সন্ত্রাস: উৎসাহ-প্রলোভন ও হুমকি!

    1. ভাই নুর নবী দুলাল,
      চেষ্টা করছি বাংলাদেশ সময় প্রতি এক রবিবার পর পরের রবিবার (every other Sunday) দুপর ১২টার আগে নিয়মিত এক একটি পর্ব প্রকাশ করতে। পেশাগত কারণে বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়। সময়ের স্বল্পতা। আপনাদের সাথেই আছি। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 6