আমি ও বস বিষয়ক স্বাপ্নিক গল্প !

আজ দিনটাই খারাপ! অফিসে বেশ কবার বসের ঝাড়ি খেয়ে মনটা দারুন খারাপ! এ নিয়ে ৩-বার চোখ রাঙালো বস আমাক! অতএব সহ্যের সীমা ছেড়ে প্রতিজবাব দিলাম বসকে! এবং বসের সাথে বেশ ঝগড়া করে বাড়িতে চলে এসেছি। বসটা কখনো ভাল আবার কখনো বদরাগি। বুঝতে পারছি না লোকটি কেমন মানুষ। চাকুরীটা আর কন্টুন্যু করবো কিনা চিন্তা করতে করতে গভীর রাতে চোখের পাতা দুটো জড়িয়ে এলো। আকস্মিক “ঋষি বৈশম্পায়ন” সামনে এসে দাঁড়ালেন জ্ঞান বিষয়ক নানাবিধ পুস্তকসহ। তাকে দেখে বললাম
– “হে মহর্ষি, আপনি প্রাচীন পুঁথি পুস্তকে কহিলেন যে, কলিযুগে বেসরকারি সংস্থাগুলিতে বস্ নামক এক প্রকার মনুষ্যপুঙ্গব আবির্ভূত হইবেন। তাঁহাদের আকার-প্রকার কেমন হইবে এবং পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া তাঁহারা কোন কার্য্য সম্পাদন করিবেন, শুনিতে বড় কৌতুহল হইতেছে। আপনি অনুগ্রহ করিয়া সবিস্তারে বর্ণনা করিবেন কি মান্যবর?”
:
তখন তার প্রজ্ঞাসুলভ মনোভাবে বৈশম্পায়ন বলতে শুরু করলেন
— “হে নরবর, আমি সেই বহুবুদ্ধি ও মাল্টিটাস্ক্কুশলী বস্দিগকে আখ্যাত করিব, আপনি শ্রবণ করুন।
 
আমাকে “নরবর” বলাতে খুশিতে গদগদ হলো মনটা। বললাম —
“বলুন ঋষিবর বৈশম্পায়ন”!
– “হে রাজন্! যাঁহারা স্যুটপরিহিত, টাইসজ্জিত, রোলেক্সহস্ত এবং বিরলকেশ, তাঁহারাই বস্।
 
বললাম – “বাহ”!
– “নরাধিপ্! যাঁহার শৈশব তথা কৈশোর পাবলিক স্কুলে, যৌবন ম্যানেজমেন্ট স্কুলে, পরবর্ত্তী পঞ্চত্রিংশ বৎসর দপ্তরে এবং বার্দ্ধক্য বৃদ্ধাশ্রমে অতিবাহিত হইবে, জানিবেন তিনিই বস্।
 
– বাহ বাহ, তারপর?
– যিনি লাভের আশায় লগ্নি করিবেন, লগ্নির জন্য উপার্জন করিবেন, উপার্জনের নিমিত্ত কার্য্য করিবেন, কার্য্য পাইবার জন্য বিচিত্র বিদ্যাধ্যায়ন করিবেন, এবং অবশেষে যাঁর লাভের গুড় সন্তান ও উপপত্নী দ্বারা বিনষ্ট হইবে, নিঃসন্দেহে তিনিই বস্।
 
– আর কিছু?
– “হে রাজন্, যিনি ঊর্ধতনকে তৈলমর্দন, অধস্তনকে মুহুর্মুহু শাসন, নিজেকে স্বান্ত্বনাপ্রদান ও বৃদ্ধ পিতামাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে প্রেরণ করেন, তিনিই বস্।
 
– এবং তারপর ?
– “মহারাজ! যাঁহাকে নিজগৃহে করোলার রস, দপ্তরে গ্ৰিন টি , বন্ধুগৃহে স্কচ্ এবং অফিস পার্টিতে রেড ওয়াইন পান করিতে দেখা যাইবে, বুঝিবেন তিনিই বস্।
 
– খুবই খুশী হইলাম বৈশম্পায়ন। আর কিছু বিশেষণ?
“হে নৃপতি! যিনি স্হূলাঙ্গী সহধর্মিনীর সহিত ইওরোপ, ক্ষীণাঙ্গী দুহিতার সহিত ইউনিসেক্স পার্লার, গুরুনিতম্বী পিএ-র সহিত একান্তে ব্যাঙ্কক-পাতায়া গমন করিবেন, জানিবেন তিনিই বস্।
 
মনের কষ্ট সব ধুয়ে গেল। বললাম তারপর?
– “হে নরশ্রেষ্ঠ! যাঁহার নিতম্ব প্রত্যূষে কমোডের, দিবসে ঊর্দ্ধতনের, গৃহে স্ত্রীর ও বেনামী ফ্ল্যাটে সঙ্গিনীর অধীন, সন্দেহ নাই যে তিনিই বস্।”
 
এবার খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করলো আমার। তাই গদ গদ হয়ে বললাম
 
– “মুনিপ্রবর! আমি বস্দিগের চরিত্র সম্যক অবগত হইয়া তাজ্জব ও শ্বাসরুদ্ধ হইয়াছি, শীঘ্র আপনি অন্য প্রসঙ্গ উত্থাপন করুন।”
:
আকস্মিক ঘুম ভেঙে গেলো। পূব আকাশে সূর্য উঁকি দিচ্ছে। সারারাত বৈশম্পায়নের “বস” বিষয়ক এসব বিশেষণ শেষে কার সাধ্য থাকে অফিসে না গিয়ে বিছানাই পরে থাকে! অতএব অফিসমুখে যাত্রা!
 
 
ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

73 + = 78