ক্রসফায়ার এর ‘আমজনতা ভার্সন’

সত্য এক:
‘একজন ছেলেধরা-নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে’ এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের ৯৯.৯৯৯৯৯৯ শতাংশ মানুষ খুশি, আনন্দিত এবং কেউ কেউ গর্বিত এই ভেবে যে বাংলাদেশের আমজনতা প্রতিবাদ করতে জানে৷ এই আনন্দ এর ধরন একইরকম যখন নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হলো কিংবা অন্যান্য বিচারবর্হিভূত খুনগুলোর মতোই৷

সত্য দুই:
‘ছেলেধরা নয় দুইসন্তানের মাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে’ এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের ৯৯.৯৯৯৯৯৯ শতাংশ মানুষ কষ্ট পায়, স্তব্ধ হয়ে যায়, ‘আইনকে নিজের হাতে তুলে না নিতে’ আহ্বান জানায়৷ বাচ্চা মেয়ে তুবার ফ্যাল ফ্যাল চোখের চাহনিতে চোখ ভিজায়৷

উপরে উল্লেখিত দুইটি ঘটনার যে ঘটনাই ঘটুকনা কেনো, আসল সত্য কি? আসল নির্মম বাস্তবতা কি?
সত্য হচ্ছে একজন মানুষকে রাস্তার একদল উৎসুক আক্রমনাত্মক মানুষ পিটিয়ে মেরে ফেলেছে৷ সত্য হচ্ছে একজন ৪০ বছরের নারীকে হত্যা করা হয়েছে৷ সত্য হচ্ছে তুবা এবং তার ভাই তাদের মাকে হারিয়েছে৷

সে ”ছেলেধরা” কিংবা দুর্ধর্ষ খুনি এই ভাবনায় যদি আপনার অবচেতন মন আপনাকে স্বস্তি দেয় তাহলে আপনিও একজন সম্ভাব্য খুনি৷ কারন ওই জনতা জানে যে আপনারা এই খুনকে সাপোর্ট করবেন তাই একেকজন হিরোইক মুডে ঐভাবে পিটিই পিটিয়ে খুন করেছে৷

প্রশাসন দ্বারা ‘ক্রসফায়ার’ নামে বিচারবর্হিভূত খুন গুলোকে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সাপোর্ট করে৷ রাষ্ট্র আপনাদের শিখিয়েছে কিভাবে বর্বর নাটকের মাধ্যমে আসামির মৃত্যুতে খুশি হতে হয়৷ তারই ‘আমজনতা ভার্সন’ হচ্ছে এই দলবদ্ধ হয়ে কাউকে পিটিয়ে মেরে ফেলা৷

রেনু যদি আজ সত্যিই ছেলেধরা হতো তাতেও আমি ওই একইরকম কষ্ট পেতাম যেমনটা এখন পাচ্ছি৷ একজন মানুষকে একদল মানুষ পিটিয়ে মেরে ফেলেছে ছিঃ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =