ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ববাদ নিপাত যাক

সম্প্রতি ভারতের পূর্বাঞ্চলের প্রদেশ ঝাড়খন্ডে তাবরেজ আনসারি নামে একটি যুবককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এমন নয় যে, এই হত্যাকাণ্ডটি লুকিয়েচুকিয়ে করা হয়েছে! জনসম্মুখে বহু মানুষ মিলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। সারারাত তার উপর অত্যাচার ও নিপীড়ন করেই ক্ষান্ত হয় নি, তার কণ্ঠনালী থেকে সন্ত্রাসের শ্লোগান ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জয় হনুমান’ বলতে বাধ্য করেছে। তাবরেজ অসংখ্যবার প্রাণের ভিক্ষা চেয়েছে কিন্তু হিন্দু মৌলবাদীদের মস্তিষ্ক ভগবানের কাছে গচ্ছিত থাকার কারণে শেষরক্ষাটুকুও জোটে নি।

কোন দেশে এই ঘটনাটি ঘটেছিলো? ভারতে। ভারত নাকি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র! একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাউকে কি এভাবে প্রকাশ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈদ্যুতিক খুটিতে বেঁধে রেখে হত্যা করা সম্ভব? পুলিশ প্রশাসন কি ভারতে নেই? তবে কি এই রাষ্ট্র মুসলমান ও ধর্মনিরপেক্ষ মানুষদের মারার রাষ্ট্র? যে দেশের প্রায় প্রতিটি গলিতে একটি করে ছোট্ট মন্দির খুঁজে পাওয়া যায়, সেই দেশ কখনোই ধর্মনিরপেক্ষ হতে পারে না। এবং যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, তারাই যখন ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ববাদকে কট্টরভাবে সমর্থন করে সনাতন ধর্মব্যবসাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে, এবং মুসলমানবিদ্বেষ যাদের শিরায় শিরায়, সেই সরকার কখনোই ধর্মনিরপেক্ষতা সমর্থন করতে পারে না।

হিন্দু মৌলবাদীরা খুব আনন্দ ও উৎফুল্লের সাথে তাবরেজ আনসারিকে মারধর করেছিল। তাবরেজের বিরুদ্ধে মোটর সাইকেল চুরির অভিযোগ উঠেছিল। সে আদৌ চুরি করেছিলো কি না তাতেও সন্দেহ প্রকাশ করা যেতেই পারে। যেহেতু চুরির থেকেও সন্ত্রাসের শ্লোগান ‘জয় শ্রীরাম’ উচ্চারণ করা মুখ্য হয়ে উঠেছিল। নিশ্চয়ই চোরের মুখ থেকে ধর্মীয় শ্লোগান জোরপূর্বক বলানোতে ভগবান কোনভাবেই উপকৃত হবে না। আবার সে যদি চোর হয়েও থাকে, তাহলেও তাকে মুসলমান হওয়ার কারণেই আক্রমণ, অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন, হত্যা করা হয়েছিল। যেহেতু তাকে বাধ্য করা হয়েছিল ‘শ্রীরাম’ ও ‘হনুমান’ বলার ক্ষেত্রে।

বলিউডের সিনেমার মতই বাস্তবেও পুলিশের আগমন ঘটে শেষে। সেখানকার পুলিশও আমাদের পুলিশের মতই পক্ষপাতদূষ্টে আক্রান্ত ও রোগীর মতই মুমূর্ষু। আমাদের দেশে যেমন মুসলমানদের দ্বারা হিন্দু, বৌদ্ধ, নাস্তিক আক্রান্ত, নিপীড়িত এবং পুলিশের সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া প্রায় অকল্পনীয় বিষয়, তেমনই ভারতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পুলিশ তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে জেলহাজতে ঢুকিয়েছে। তারপরও ভারতকে নাকি বলতে হবে ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র! আমাদের দেশে যেমন পরিস্থিতি শান্ত অর্থাৎ মানুষকে বোকা বানানোর জন্য দুইতিনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তেমনই ভারতেও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মানুষজনকে বেক্কল বানানো হয়।

পৃথিবী কোন মানুষের উপরই কারো আঘাত করা গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে না। যারা সভ্য ও গণতান্ত্রিক এবং মানবিক রাষ্ট্রের দাবি করে বা চর্চা করে থাকে, তারা কখনোই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। তেমনই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডও কারো কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে না। ধর্মীয় সন্ত্রাস ও ক্রসফায়ার অসভ্য ও বর্বর আর অমানবিক রাষ্ট্রের উদাহরণ ছাড়া আর কিছু নয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 14 = 20