টাইটানিক রহস্যে মমির হাত

টাইটানিক মুভিটা দেখেনি এমন মানুষ পাওয়া সত্যিই দুষ্কর! শেষ দৃশ্যে জ্যাকের মৃত্যুতে কেদে বুক ভাসিয়েছেন ও অনেকে। মুভিটা না দেখলেও টাইটানিক ডোবার কাহিনী শোনেননি এমন কাউকে সত্যিই হয়ত পাওয়া যাবেনা। আচ্ছা কেমন হয় যদি কেউ দাবী করে যে টাইটানিক ডুবেছিল কোন মমির অভিশাপের জন্য?
চলুন জেনে আসি এমনই কিছু গল্প:

মমি ও টাইটানিক: বিংশ শতকের প্রথমদিকে ডুবেছিল টাইটানিক! ডুবে ইতিহাস হয়েছে! টাইটানিকের ডোবার সাথে মমির অভিশাপের গল্প খুবই আলোচিত! গল্পটি এমন : মিশর থেকে চোরাচালান করে এক রাজার মমি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল আমেরিকায়! উদ্দেশ্য ছিল এক মার্কিন জাদুঘরে বিক্রি করা! এবং এর মূল্য ধরা হয়েছিল ৫ লাখ মার্কিন ডলার! শুধু তাই নয় তারা রাজার সমাধিস্থল থেকে মূল্যবান মালামাল ও চুরি করেছিল! এতে করে দেবতা আনুবিস(মৃতের জগৎের অধিকর্তা দেবতা) ক্ষিপ্ত হন অভিশাপ দেন যার ফলে টাইটানিক চলে যায় সমুদ্রের অতলে সাথে মমিও!

আরেকটি গল্পে উল্লেখ আছে মমি টি উদ্ধার করে নিউইয়র্ক নিয়ে আসা হয়েছিল! কিন্তু যে ই মমির কাছে যেত তার উপর ই অভিশাপ নেমে আসত!
আরেকটি গল্পে বলা হয়েছে মমি টি মিশরে ফিরিয়ে নেয়ার ও ব্যাবস্থা করা হয়েছিল! এবং যে জাহাজ ফিরিয়ে আনতে ব্যাবহৃত হয়েছিল সেটির নাম ছিল দ্যা অ্যামপ্রেস অব আয়ারল্যান্ড! দুর্ভাগ্যবশত সে জাহাজ টি ও ডুবেছিল!
কোনো কোনো গল্পে প্রচলিত আছে মমি টি কোনো রাজার নয়! মমি টি কোনো মহিলা পুরোহিত বা রাজকন্যার এবং তার নাম ছিল আমেন রা!

১৯৭৩ সালে ফিলিপ ভ্যান্ডেনবার্গ এর লেখা “দা কার্স অব দা ফারাওস” গ্রন্থের ১৮৬ পৃষ্ঠায় দেখি যে তিনি লিখেছেন ” টাইটানিক জাহাজে ছিল ২২০০ জন যাত্রী, ৪০ টন আলু, ১২ হাজার বোতল মিনারেল ওয়াটার, ৭ হাজার বস্তা কফি, ৩৫ হাজার ডিম এ একটি মিশরীয় মমি! লর্ড ক্যান্টল ভাইল মিশর থেকে নিউইয়র্ক এ নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন এই মমি! মমিটি ছিল রাজা চতুর্থ আমেনহোটেপের সময়কার এক নারী পুরোহিতের! এই পুরোহিতের সমাধি আবিষ্কৃত হয়েছিল টেল এল আমারনায়! এবং তার জন্য নির্মান করা হয়েছিল টেম্পল অব আইজ নামে ছোট্ট এক মন্দির! যথানিয়মে তার মমির সাথে দেয়া হয়েছিল মূল্যবান সামগ্রী! একটি কাঠের বাক্সে রাখা হয়েছিল মমি টি! বাক্সটি জাহাজের হোল্ডে রাখা হয়নি! রাখা হয়েছিল কমান্ড ব্রিজের পিছনে! এই মমি নিয়ে কাজ করেছেন এমন বহু বিজ্ঞানী মানসিক ভারসাম্যহীন হয়েছেন বলে কথিত আছে!
চার্লস প্রেরিগ্রানো কর্তৃক ১৯১১ সালে লিখিত “আনআর্থিং আটলান্টিস” নামক বইয়ের ২৯৮ ও ২৯৯ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন: ১৯১০ সালে ব্রিটিশ মিশরতত্ত্ববিদ ডগলাস মারিকে বলা হয় পরবর্তী অভিশাপের শিকার! রানি হাতশেপসুত এর অভিশাপ! একজন আমেরিকান চোরাকারবারি মারির কাছে রানীর মমির দামী বাক্স বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করেছিলেন। আমেরিকান কে চেক দ্বারা মূল্য পরিশোধ করেছিলেন মারি! কিন্তু চেক ভাঙানোর পূর্বেই চোরাকারবারির মৃত্যু হয়। এর তিনদিন পর বন্দুকবিস্ফোরনে মারির ডানহাতের সিংহভাগ উড়ে যায়। ইংল্যান্ড যাওয়ার পথে মারি শুনলেন তার দুইজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও দুইজন চাকর হঠাৎ মৃত্যু বরন করেছেন। ইংল্যান্ড পৌছে মারি হাতশেপসুতের মমি এক নারীর বাড়িতে রাখলেন। মহিলা এই ব্যাপারে খুবই উৎসাহী ছিলেন। কয়েকদিনের মধ্যে মহিলা কঠিন রোগে পড়লেন এবং হঠাৎ ই তার মা মারা গেল। মহিলার আইনজীবি তারপর মমিটি মারিকে ফিরিয়ে দিলেন। মারি আর দেরী না করে মমিটি ব্রিটিশ মিউজিয়াম এ হস্তান্তর করলেন! কিন্তু ব্রিটিশ মিউজিয়ামে প্রয়জনের তুলনায় বেশি শবাধার ছিল। এ শবাধার আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতেও নেই। তাই মন্টানায় এই শবাধার পাঠিয়ে কিছু ব্যাবসা করার চিন্তা করল ব্রিটিশ মিউজিয়াম। কিন্তু তার আগেই ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মিশরতত্ত্ববিদ পরিচালক মৃত্যুবরন করেন। রানী হাতশেপসুত সৌন্দর্য হারাতে শুরু করেন। কিউরেটর একটি বড় বাক্সে শবাধার টি ভরে তুলে দিলেন জাহাজে। ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল জাহাজ যাত্রা শুরু করল। সাউদাম্পন থেকে নিউইয়র্ক যাবে টাইটানিক। সাথে যাচ্ছেন রানী হাতশেপসুত। কিন্তু শেষরক্ষা আর হলনা! মাঝপথেই ডুবে গেল টাইটানিক।
কোনে কোনো উৎস থেকে পাওয়া যায় টাইটানিক ডুবে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই এই বিশ্বাস চালু হয়ে যায় যে মমির অভিশাপের জন্যই টাইটানিক ডুবেছে। এ সময় পত্র পত্রিকায় ও তা ছাপানো হয়। টাইটানিকের এক যাত্রী ছিলেন উইলিয়াম থমাস স্টিড। পেশায় একজন সাংবাদিক ও অতীয়ন্দ্রবাদে বিশ্বাসী। তার ভাষ্যমতে যাত্রার আগে তার একজন আধ্যাত্নিক বন্ধু তাকে সাবধান করেছিলেন! পেনি নামের ওই বন্ধুটির ধারনা ছিল জাহাজটি ডুববে! তাই তিনি স্টিডকে যেতে বারন করেছিলেন। স্টিড টাইটানিকে বসে তৃতীয় দিনের ডিনারে অনেক কে এই কথা বলেছিলেন। এই প্রসঙ্গে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে মমিটি প্রদর্শনের বিষয়ে সংঘটিত ঘটনার কথা বলেন।
টাইটানিক হারিয়ে যাওয়ার সাথে স্টিড ও হারিয়ে গিয়েছিলেন।যারা ওই ডিনারে উপস্থিত ছিলেন এবং বেচে ফিরেছিলেন তাদের একজন পরবর্তীতে এই বিষয়ে বলেছেন।
তথাকথিত এই অভিশাপ মমির বাক্স আসলে “মমি বোর্ড”। মমি বোর্ড হচ্ছে কোনো কফিনের ভেতরের অংশের ঢাকনা। এই বস্তুটি এখন রক্ষিত আছে ব্রিটিশ অলংঙ্করন এবং উৎকীর্ন তারিখ দেখে জানা যায় এটি থিবিস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ২১ শতকের শেষ বা ২২ শতকের শুরুর তারিখ এতে লেখা আছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের প্রথম দিকের কিছু প্রকাশনায় উল্লেখ আছে এই মমি বোর্ড ছিল একজন নারী পুরোহিতের অধীনে। অনুমান করা হয় যে একজন এমন পদবির নারীকে মন্দিরে নিয়োগ করা হত। এরা ছিল দেবতার প্রতি উৎসর্গীকৃত। ১৮৮৯। সালের জুলাই মাসের লন্ডনের হল্যান্ড পার্কের মিসেস ওয়ারউইক হান্ট এটি মিউজিয়ামে দান করেন। তার পরের বছর এটি মিউজিয়ামে প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত হয়। নিরাপত্তার জন্য এই মমি বোর্ড ১ম ও ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিরাপদে সরিয়ে রাখা হয়। এই অভিশাপের কাহিনী এখনও প্রচলিত আছে। তবে এর সমর্থনে কোনো সুনির্দিষ্ট যুক্তিপ্রমান পাওয়া যায়নি। প্রাচীন মিশরের শবাধার সম্পর্কিত অনেক গল্পই প্রচলিত আছে। পরে না হয় একদিন সেগুলো জেনে নেয়া যাবে। 😀

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “টাইটানিক রহস্যে মমির হাত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 6 = 4