মোনালিসার সাথে ফেসবুক প্রেম এবং তারপর !

ফেসবুকে প্রবেশ আমার ২০১২ সনে। এর মধ্যে ৫০০০ ফ্রেন্ডলিস্ট পুরো হয়েছে বেশ কবার। এখনো অনেক রিকোয়েস্ট পেন্ডিং। মাঝে মাঝে নিষ্ক্রিয় ৫-১০ জনকে আনফ্রেন্ড করে আবার এ্যাকটিভ কাউকে কাউকে নতুন ফ্রেন্ড হিসেবে ফ্রেন্ডভুক্ত করি। কদিন আগে সুন্দরী নারী মোনালিসা ইয়াসমিন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় আমাকে। প্রোফাইলে গিয়ে দেখি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ২৮ বছরের চোখধাধানো রূপের মোনালিসার টাইমলাইনে নানাবিধ চিন্তামূলক লেখা আর ছবির সমারোহ। নিজের পোস্ট ছাড়াও চমকপ্রদ সব পোস্ট শেয়ার দিয়েছেন তিনি।
:
একজন মধ্যবয়সী পুরুষ আমি। ফেসবুকে আমার অনেক অনেক ফ্রেন্ড। তার মধ্যে অনেক মেয়ে ফ্রেন্ডও আছে। চ্যাট ট্যাট করে, নানারকম গল্পসল্প করে ভালই দিন কাটে।
অনেক মেয়ে বন্ধুর মধ্যে এরকম একজন হল মোনালিসা! মোনালিসা! বিবাহিত। অসাধারণ সুন্দরী। কি সুন্দর করে কথা বলে ইনবক্সে! কথা বলতে বলতে খেয়ালই থাকে না সময় কোনদিক দিয়ে চলে যায়। মাঝে মাঝে দেখা করতে চায় আমার সঙ্গে। কিন্তু দেখা করার দুয়েক ঘন্টা আগে আবার ক্যানসেল করে প্রোগ্রাম।
:
সম্প্রতি রোমান্টিক কথা বলা শুরু করেছে মোনালিসা! স্বামীর নানাবিধ অপারগতার কথা বলে নির্ধিধায়। আমাকে তার খুব পছন্দ এমন কথা বলতেও মুখ আটকায়না তার। সুযোগ হলে কাছে পেতে চায় সে আমাকে। নিজের কটা খোলামেলা হট ছবিও পাঠিয়েছে সে আমাকে ইনবক্সে। এক বন্ধেরদিন নক দিয়ে বলে –
– ” আমার স্বামী ব্যবসার কাজে কুমিল্লা গেছে, বাসায় কেউ নাই। তুমি আসো।”
– “তোমার স্বামী যদি ফিরে আসে এর মধ্যে?”
– ” আরে আসবে না। আর আকস্মিক যদি এসেই পড়ে তবে তুমি ঘরের কাজ শুরু করবে”!
– “ঘরের কাজ মানে? কি কাজ করবো?”
– “আসলে তুমি একটা ন্যাকড়া নিয়ে দরজা জানালা মুছতে থাকবা। আমি ওকে বলব তুমি ক্লিনিং কোম্পানী থেকে এসেছো, বাসা পরিস্কার করতে। এমনিতেও ঈদ সামনে”!
– “তবে সে আসবেনা, আমি জানি”!
– ” আচ্ছা ঠিকাছে, আমি আসতেছি। “
:
তাড়াতাড়ি দাঁত ব্রাশ করে গোসল করলাম সুবাসিত সাবান দিয়ে। শ্যাম্পু লাগালাম চুলে। মেনস ফেয়ার এন্ড লাভলি মেখে, দুবাই থেকে আনা দামি সেন্ট স্পে করে কালক্ষেপণ না করে কুইক হাজির হলাম স্বপ্নের মোনালিসার খোঁজে। ওহ! খালি হাতে কিভাবে যাই। প্রিমিয়াম মিষ্টির দোকান থেকে দামি মিষ্টি কিনলাম দুকেজি। তাতে খসে গেল ১২০০ টাকা। যাক তাতে কি! মোনালিসার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। বারো – তেরোশ টাকা কোন ব্যাপার না। একবার বুকে নিলে টাকা উশুল!
:
ড্রয়িং রুমে মোনালিসা বসালো আমাকে। মধুর হাসি দিয়ে বললো
– ৫-মিনিট বসো সুইটু। কফি বানিয়ে আনছি। তারপর গল্প করবো!
– ধুর! কফি টফি লাগবে না! তোমাকে ছুঁয়ে দেখি আগে!
– পাবে! পাবে! একটু ধৈর্য ধরো। সবুরের ফল মিঠঠা হোতা হ্যায়!
পাঁচ মিনিট যেন ৫-ঘন্টা। চা কফি কিছু নয়। চোখ টিপে ইশারা দিলো মোনালিসা ভেতরে যেতে। মনে হলো তার বেডরুমে ডাকছে সে আমাকে। আহ কি সুন্দর শাড়ি পরেছে মোনালিসা! যেন সাউথ ইন্ডিয়ান ফিল্মের হিরোইন। যেমন ছবি দেখেছিলাম তার চেয়েও সুন্দরী সে! বাহ! আমার মত মাঝ বয়েসি লোককে শেষতক পছন্দ হলো এ ডানাকাটা পরীর!
:
কে যেন কলিং বেল চাপলো আকস্মিক। ধুর! কে আবার কাবাব মে হাড্ডি এ সময়ে! ভিখিরি নাকি! দৌঁড়ে দরজার কাছে গেল মোনালিসা! লুকিং গ্লাসের ফুটোতে চোখ রেখে বললো
– সর্বনাশ আমার হাজব্যান্ড এসেছে। সম্ভবত কিছু ফেলে গেছে হয়তো। তুমি এ ত্যানাটা নাও। দরজা জানালা মুছতে থাকো। ও এখনই আবার চলে যাবে। সম্ভবত মোবাইল ফেলে গেছে ঘরে! বড়ই ভোলা মন ওর! বোকা একটা! রাবিশ!
:
কি অদ্ভুত! আমি যাওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যেই ওর স্বামী এসে হাজির! কি আর করা! জানালার গ্লাস মুছতে শুরু করলাম, গ্রিল পরিস্কার করলাম, সবগুলা জানালা দরজা পরিস্কার করলাম, রান্নাঘরের চিপাচাপা পরিস্কার করলাম, বাথরুম সাফ করলাম, ফ্যান মুছলাম, ফার্নিচার মুছলাম। কিন্তু স্বামী আর যায়না। মোনালিসার সাথে কি সব ফুসুর ফাসুর করে। বরং স্বামী মিয়া একটা ফ্লোর ক্লিনার আমার হাতে দিয়ে বললো – টাইলসগুলো পরিস্কার করে দাও। এটা খুব ভাল ক্লিনার। ব্যাংকক থেকে এনেছি আমি। তোমরা কি এটা ইউজ করো তোমাদের কোম্পানীতে?
– না করিনা। আগে দেখিনি এটা!
– কি বলো! কি রকম ক্লিনিং কোম্পানী তোমাদের! এটা চেন না?
৪-৫ ঘন্টার মধ্যে তাদের পুরা বাড়ি পরিস্কার ঝকঝকা করে দিলাম। সে আর তার স্বামী মিলে সারাক্ষণ এটা সেটা ইন্সট্রাকশন দিয়ে গেলো। ঘরের কিছুই বাদ গেলনা। এমনটি টয়লেটও!
:
পরিস্কার করা শেষ হলে তার স্বামী জিজ্ঞাসা করলো, “তোমার বিল কত হয়েছে?”
মোনালিসা আগ বাড়িয়ে উত্তর দিল –
– “জানু! আমি তো আগেই বিকাশে পেমেন্ট করে দিছি। তারপর ওরা ওনাকে পাঠাইছে কোম্পানী থেকে! তোমাকে আর পেমেন্ট করতে হবে না।”
“ও আচ্ছা.” বলে ওর স্বামী আমাকে হাতে ১০-টাকা বখশিশ্ দিয়ে দিয়ে বললো
– বাসায় চা করা গেল না। সামনের রাস্তা থেকে চা খেয়ে যেও। আর ক্লিনিংয়ের হাত বেশ ভাল তোমার। মোবাইল নাম্বারটা দিয়ে যাও। আবার যখন দরকার হবে ডাকবো তোমাকে!
– না না! কোম্পানীর নির্দেশ। ব্যক্তিগত নম্বর কাউকে দেয়া যাবেনা!
– বড়ই বদমাশ এসব কোম্পানী। তোমার মত কাজ জানা দক্ষ ক্লিনার। কিন্তু বেতন আর কত দেয় চার পাঁচ হাজার?
– হ্যা, এমনই!
চুক চুক করে সমবেদনা জানালো মোনালিসার হাজব্যান্ড।
– কই আমি বড় অফিসের এক্সিকিউটিভ! আর ভাগ্যগুণে তুমি ক্লিনার!
:
একটা বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাসায় চলে আসলাম আমি। বুঝলাম, ঢাকা শহরে কাজের লোক পাওয়া যে কঠিন আজকাল! তাই মোনালিয়া আর তার হাজব্যান্ড ফাঁদ পেতেছে একটা! তাদের ঘর ক্লিন করার। হয়তো ওর হাজব্যান্ডও কোন নারীকে এভাবে ডেকে আনে ঘরে, রান্না বান্নার কাজে! কি জানি। সমাজটাতে কত টাইপের ধোকা যে ঢুকেছে। ১২০০ টাকার মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে এসেছি মোনালিসাকে। আহ! ওটা ফেরত নিয়ে এলেও খেতে পারতাম। ক্ষুধায় চুকচুক করছে পেট। তপ্ত রোদে আমি হাঁটছি বাসার দিকে একাকি!
 
 
ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 84 = 89