পুলিশ

কলেজ গেটে দাঁড়িয়ে আছি, সামনের পুলিশ ভ্যান থেকে এক মহিলা কনস্টেবল নেমে রিকশাওয়ালাকে বলল জোড়াগেট যাবে। রিকশাওয়ালা ২০ টাকা চাচ্ছে, পুলিশ পনের টাকায় যেতে চায়। ভ্যানের ভেতর থেকে আরেক কন্সটেবল চেঁচায়- দশ টাকা ভাড়া, তুই দশ টাকায়ই যাবি। রিকশাওয়ালা গা করে না হয়তো, বলে আপনি অন্য রিকশায় যান।
এদিকে পুলিশ ভ্যানের ড্রাইভার নামে হাতে একখান রুল নিয়ে, কনস্টেবল গালি দিতে দিতে নামে- “এক্ষনই মেডিকেল থেকে বের হয়ে যাবি- তোরে আর মেডিকেল এলাকায় যেন না দেখি। রিক্সাসহ থানায় নিয়া যাবো,তোর হাড্ডি চামড়া”- বলতে বলতে চড় বাগিয়ে আসে।
এতোক্ষনে আমি ফোন কল ছেড়ে রিকশাচালককে ডাক দিই,
আমি মধ্য দিয়ে বাধ সাধায় কনস্টেবলদ্বয় বিশেষ বিরক্ত -বোঝা যায়, হয়তো হাতে এপ্রোন দেখেই কিছু বলে না, পিঁপড়ের ডেরায়ও পিঁপড়েকে সমীহ করাই সমীচীন।
আমি উঠে বললাম,”মামা, কোয়ার্টারের দিকে চলেন।”
পেছন থেকে শোনা যায় – “দ্বিতীয় বার এই রাস্তায় আসলি চামড়া থাকবি না।”
কোয়ার্টারে গেটের সামনে আসি, রিক্সাওয়ালা মামাকে থামাই বলি,”ফিরে চলেন, আবার পুলিশের গাড়ির ওইখানে, ফেরেন।”
একটু বিস্ময়গেলা চোখে রিকশাওয়ালা বলে,”ফেলে আইছেন কিছু?”
উত্তর করি না। আবার যথারীতি রিক্সা ফরেনসিক বিভাগের সামনে দাঁড়ায়, অদূরেই পুলিশ ভ্যান, কনস্টেবলদ্বয় তাকিয়ে আছে, মহিলা পুলিশ নেই অন্য রিক্সা ধরে হয়তো চলে গ্যাছে, নরমশরম ধরনের রিকশাওয়ালা হয়তো, অথবা হেঁটেই।

রিক্সাওয়ালাকে আবার বলি,”হলের দিকে চলেন।”
এবার হয়তো রিকশাচালক ব্যাপারটা বোঝে, কিছুটা মজা পায়, ফুলের মতো খুলে যায়,আলাপি হয়ে ওঠে। সে জানায় ডিসি, এডিসি, এডিসনাল আইজি পর্যন্ত তার যোগাযোগ আছে, এসব তার কাছে কিছু না। নেহাৎ রিকশাখানা তার না বলেই……ব্লা ব্লা।
যাহোক দুবার একই কাজের পুনরাবৃত্তি করে আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্রে’র সামনে নামি। রবিনসের একটা বই ধার নিতে হবে অমিতাভ অরণ্য এর কাছে। সিনিয়রের রুমে যেতেই প্রশ্ন-
“কি ব্যাপার!ফোনে শুনলাম গ্যাঞ্জাম।”
আমি যথারীতি,”আরে সাউয়া কইয়েন না মিয়া…..”
আশ্চর্যজনকভাবে ঠিক তখনই পাশ থেকে অন্য সিনিয়রের কিঞ্চিৎ ভ্রূকুটি ও গলা খুকখুকানি হয়।
বই নিয়ে নেমে আসি, দেখি লোকটা রিকশার সিটে পা তুলে পেয়ারা খায়।
আমি নামতেই উঠে বসে- চলেন মামা আপনারে বাসায় নামাইয়া দি। আমি বিরক্ত হই, ভাবভঙ্গিতে প্রকাশ পায় না। পকেটের অবস্থা সুখকর নয়, এমন সময় ঘনঘন রিকশাযাত্রা অনিরাপদ। তাই উত্তর করি না, হাঁটি।
-আসেন, যা খুশি দিয়েন। জোরাজুরি নাই।
শেষমেশ উঠলাম।
-“দ্যাখলেন এই যে হলের সামনে দাঁড়াই ছিলাম, আপনাগো একজন পেয়ারা দিয়া গ্যালো, আমি বেয়াদব হইলে কি দিতো! ওই মাদারটেক আমারে কয় বেয়াদব, ঠ্যাং ভাঙবে, মেডিকেল কি ওর বাপের?”
রিকশা থামে আমার বাসার সামনে। “মামা, আমারে চিনছেন? ”
রিকশাচালকের মুখে তাকাই, নাহ, স্মৃতি হাতড়ে বিশেষ কোনো কিছু খুঁজে পাই না।
– “আমার বাপের ক্যান্সার ছিলো, ওই যে একবার, আপনার লগে হাসপাতালে বইসা….
কোন ক্যান্সার, কবে কোনবার, বিশেষ কোনো ক্যান্সারের কথা আমার মনে আসে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “পুলিশ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

66 − 62 =