প্রেমঃ জয় বাঙলা

শাহবাগের ফুটপাত দিয়ে হন্টনকালে একটি পুচকা তরুণীর সাথে ধাক্কা লাগে। তরুণী ভ্রু কুঁচকে এমনভাবে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে যেন মনে হয় রাবিনার উদ্দেশ্যে রিয়াজের বিখ্যাত ‘পড়েনা চোখের পলক’ গানটির নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করে যাচ্ছে।

কিছুক্ষণ পর টিএসসিতে রুবেলের চায়ের দোকানে আবারও সেই পুচকা তরুণীর সাথে চোখাচুখি হয়। ধীরে ধীরে ‘পড়েনা চোখের পলক’এর মতই আমাদের দূরত্ব চুইংগামের মতো টানাটানি-কাছাকাছি-গুঁতোগুঁতি-দৌড়াদৌড়ি-প্রেমপ্রেমে রূপ নিতে থাকে।

পরবর্তীতে জানতে পারি তিনি বিশাল বড় এক নেত্রী। নেত্রী আমাকে বলে, তুমি তো আমার থেকে বয়সে এক বছরের ছোট। আমি মিষ্টি করে জবাব দেই, ছোট্টকাল থেকেই আমি বড়দের প্রতি দুর্বল আর তুমি তো ছোট ও বড়র সমাহার ..।। নেত্রীর গাল লাল হয়ে যায়; বলে, যা দুষ্টু।

নেত্রী একদিন গোস্বা করে বলে, তুমি আজ থেকে শুধু নারীবাদ নিয়েই লিখবে। আওয়ামীলীগের সমালোচনা আমার সহ্য হয় না।

আমি বললাম, আমি কি কখনো তোমার কর্মকান্ড থামানোর চেষ্টা করেছি? তাহলে তুমি কেনো আমাকে থামিয়ে দিতে চাচ্ছো!

নেত্রী খুব বিরক্তির সাথে বলে, ভুলে গেলে চলবে না যে এই ইন্টারনেট মাননীয় জননেত্রী দেশরত্ন গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার দেওয়া।

আমি বললাম, নেত্রী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা উল্লেখ করেও তুমি আমার বাকস্বাধীনতা কেঁড়ে নিতে চাইছ?
নেত্রী বিরক্ত, অশান্ত। নেত্রী বলে, তুমি আমার থেকে ছোট হলে কী হবে পাকনা বেশি।

যখনই আমরা ফোনে একটু ন্যাকা ন্যাকা আহ্লাদী করতে শুরু করি তখনই নেত্রীর সামনে কেউ না কেউ আসে আর নেত্রী জয় বাঙলা বলে ফোনের লাইন কেটে দেয়।

একদিন নেত্রী আমাকে বলল, তোমার আশেপাশে এতো মেয়ে থাকে কেনো? আমি অবাক হয়ে নেত্রীকে উত্তর দিলাম, নেত্রী তোমার সাথে তো সারাদিন ছেলেরা থাকে, আমি কি তাতে কখনো আপত্তি জানিয়েছি?
নেত্রী বলে, চুপ। পুচকা মানুষ আবার পকপক বেশি! তারা আমার সহযোদ্ধা।
আমি বললাম, সেই সকল নারীরাও আমার সহযোদ্ধা, সহপাঠী।
নেত্রী চুল বাঁধতে বাঁধতে বলল, খুব চালাকি হচ্ছে তাই না? পুরুষ মানুষকে বিশ্বাস করা বড্ড কঠিন!
আমি ক্লোজ আপ তারকার মতন ২৮টি দাঁত বের করে হাসি দিলাম।

বৃষ্টি পড়ছিল। নেত্রীকে ফোন করে প্রেমের কবিতা শুনিয়ে একটু আবদার করে বললাম, এই জীবনে খুব ইচ্ছে ছিল বৃষ্টির দিনে পছন্দের মানুষের সাথে হাতে হাত রেখে হেঁটে চলার।
নেত্রী বলল, এই জীবনে এই সংলাপ কয়জনকে শুনিয়েছ?
ভ্রু কুঁচকে বললাম, উফ, মানুষ এত নীরস হয় কীভাবে?
সত্যি করে বল- জিজ্ঞেস করল নেত্রী।
অনেকের নাম মনে পড়ছে না। তাই হিশেব করতে কষ্ট হচ্ছে। – আমি বললাম।
তোমার কি একটুও লজ্জা শরম নেই? মুখের উপর বলে দিতে পারলে?- নেত্রী বলল।
আমি বললাম, শেখ হাসিনার বাঙলাদেশে সত্যের কি কোন মূল্য নেই?
নেত্রী ক্ষেপে গেলো। বলল, চুপ শয়তান।

কিছুক্ষণ পর আমরা দুজন রমনা পার্কে দেখা করি। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর ঠাণ্ডা হাওয়া আমাদের মধ্যবর্তী দূরত্বকে অনেকটাই লাঘব করে। অনেকদিন পর আমরা সময় বের করতে পেরেছি। অনেক উত্তেজনা। দুজনের শরীরে ১০,০০০ ওয়াট বিদ্যুৎ। যখনই আমি নেত্রীর হাত ধরে হাঁটতে যাব তখনই নেত্রী জয় বাঙলা বলে উঠল। বুঝলাম, আশেপাশে পরিচিত কেউ আছে। ১০,০০০ ওয়াট ৫,০০০ ওয়াটে নেমে আসে।

কিছুক্ষণ পর বৃষ্টির তীব্রতা আমাদের শরীরের ১০,০০০ ওয়াটের তীব্রতার মতই বেড়ে যাচ্ছিল। বৃষ্টি চাচ্ছিল আমরা যেন মিশে যাই। আমরাও চাচ্ছিলাম দুজন দুজনের মধ্যে হারিয়ে যাই। একটি বট গাছের নিচে আমরা যখন দুজন দুজনের মধ্যে উষ্ণতা পেতে যাচ্ছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে নেত্রী আবারও জয় বাঙলা বলে চিৎকার দিল।

৫,০০০ ওয়াটের বিদ্যুৎ ৫০০ ওয়াটে নেমে এলো। বৃষ্টিও থেমে গেলো। আমাদের কামনা বাসনা আকাঙ্ক্ষাও শেষ হল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 27 = 34