বন্ধ হোক ধর্মীয় নিয়মে পশু হত্যা করে উল্লাস করা।

নিষ্ঠুর এই পৃথিবীতে মানুষ হয়ে জন্ম গ্রহণ করাই হচ্ছে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। পৃথিবীর নিষ্ঠুর এবং নিকৃষ্টতম কাজগুলো আমরা মানুষরাই করে থাকি।

সুন্দর ছোট্ট একটা হাসি মাখা মুখ নিয়ে একটা শিশু এই পৃথিবীতে বেড়ে ওঠে, আমরা তার জন্য সুন্দর করেই পৃথিবীকে সাজিয়ে রাখতে চাই। কারণ সে মানুষের বাচ্চা, মানুষ নিজের স্বার্থে এই পৃথিবীটাকে সাজিয়েছে নিজের মত করে। হত্যা করে, বন্দি করে, দমন করেছে নিরীহ পশুপাখিদের। চিড়িয়াখানা তৈরি করে মানুষ তাদের নিয়ে রঙ্গ তামাশা করে, তাদেরকে মুক্ত পৃথিবীতে বাঁচতে দেয় না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আনন্দ উল্লাস এর মধ্য দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

পৃথিবী বড় নিষ্ঠুর, নিষ্ঠুর পৃথিবীর মানুষ গুলো, মানুষ নিজের স্বার্থে প্রতিনিয়ত পশুপাখিদের হত্যা করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় পশু হত্যা করে মানুষ উল্লাস করে। আর সেই হত্যার স্বীকৃতিস্বরূপ মানুষ স্রষ্টার নাম বিক্রি করে। যদিও স্রষ্টা পৃথিবীতে এসে কখনো বলেনি আমার নামে তোমরা প্রাণী হত্যা কর। এগুলো সব মানুষের তৈরি রূপকথা মাত্র।

——————————————

কিভাবে কোরবানি আসলো এবং কবে।

ইসলামের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ ইসলামের রাসুল ইব্রাহীম স্বপ্নযোগে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটি কুরবানি করার নির্দেশ দেনঃ “তুমি তোমার প্রিয় বস্তু আল্লাহর নামে কোরবানি কর”। ইব্রাহীম স্বপ্নে এবম্বিধ আদেশ পেয়ে ১০টি উট কোরবানি করলেন। পুনরায় তিনি আবারো একই স্বপ্ন দেখলেন। অতঃপর ইব্রাহীম এবার ১০০টি উট কোরবানি করেন। এরপরেও তিনি একই স্বপ্ন দেখে ভাবলেন, আমার কাছে তো এ মুহূর্তে প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.) ছাড়া আর কোনো প্রিয় বস্তু নেই। তখন তিনি পুত্রকে কোরবানির উদ্দেশ্যে প্রস্তুতিসহ আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এ সময় শয়তান আল্লাহর আদেশ পালন করা থেকে বিরত করার জন্য ইব্রাহীম ও তার পরিবারকে প্রলুব্ধ করেছিল, এবং ইব্রাহীম শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে মেরেছিলেন। শয়তানকে তার প্রত্যাখ্যানের কথা স্মরণে হজ্জের সময় শয়তানের অবস্থানের চিহ্ন স্বরূপ নির্মিত ৩টি স্তম্ভে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করা হয়।

যখন ইব্রাহীম (আঃ) আরাফাত পর্বতের উপর তাঁর পুত্রকে কোরবানি দেয়ার জন্য গলদেশে ছুরি চালানোর চেষ্টা করেন, তখন তিনি বিস্মিত হয়ে দেখেন যে তাঁর পুত্রের পরিবর্তে একটি প্রাণী কোরবানি হয়েছে এবং তাঁর পুত্রের কোন ক্ষতি হয়নি। ইব্রাহীম (আঃ) আল্লাহ’র আদেশ পালন করার দ্বারা কঠিন পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হন। এটি ছিল ছয় সঙ্গিখ্যক পরীক্ষা। এতে সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ ইব্রাহীম (আঃ) কে তার খলিল (বন্ধু) হিসাবে গ্রহণ করেন।

কোরআনে আল্লাহ বলেন,

১০০। অবশেষে আমি তাহাকে প্রশাশু বালকের (এসমায়িলনামক পুত্রের) সুসংবাদ দান করিলাম।
১০১। পরে যখন সে তাহার সঙ্গে দৌড়িবার বয়ঃপ্রাপ্ত হইল, তখন সে বলিল, “হে আমার নন্দন, নিশ্চয় আমি স্বপ্নে দেখিয়াছি যে, সত্যই আমি তোমাকে বলিদান করিতেছি ; অতএব তুমি কি দেখিতেছ, দেখ। সে বুলিল “হে আমার পিতা, যে বিষয়ে আদিষ্ট হইয়াছ, তাহা কর ; ঈশ্বরেচ্ছায় তুমি আমাকে অবশ্য সহিষ্ণুদিগের অন্তর্গত পাইবে”।
১০২। পরে যখন তাহারা দুই জনে (ঈশ্বরাজ্ঞার) অনুগত হইল, এবং সে তাহাকে (ছেদন করিতে) ললাটের অভিমুখে ফেলিল।
১০৩। এবং আমি তাহাকে ডাকিলাম যে, ‘হে এব্রাহিম, ।
১০৪। সত্যই তুমি স্বপ্নকে সপ্রমাণ করিয়াচ; নিশ্চয় আমি এইরূপে হিতকারী লোকদিগকে বিনিময় দান করিয়া থাকি’ ।
১০৫। নিশ্চয় ইহা সেই স্পষ্ট পরীক্ষা।
১০৬। আমি তাহাকে বৃহৎবলি (শৃঙ্গযুক্ত পুং মেষ) বিনিময় দান করিলাম।
১০৭। এবং তাহার সম্বন্ধে (সৎপ্রশংসা) ভবিষ্যদ্বংশীয়দিগের প্রতি রাখিলাম।
১০৮। এব্রাহিমের প্রতি সেলাম । হৌক।
১০৯। এই রূপে আমি হিতকারীদিগকে বিনিময় দান করি।
১১০। নিশ্চয়ই সে আমার বিশ্বাসী দাসদিগের অন্তর্গত ছিল।
১১১। আমি তাহাকে সাধুদিগের অন্তর্গত এক প্রেরিত পুরুষ এসহাক (পুত্রের) সম্বন্ধে সুসংবাদ দান করিয়াছিলাম।
১১২। এবং তাহার প্রতি ও এসহাকের প্রতি আশীৰ্ব্বাদ করিয়াছিলাম, এবং তাহাদের সস্তানগণের মধ্যে কতক হিতকারী ও কতক আপন জীবনসম্বন্ধে স্পষ্ট অত্যাচারী হয়।

— কোরআন, সূরা ৩৭ (আস-ছাফফাত), আয়াত ১০০-১১২
এই ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি উদযাপন করে। হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসাবে জিলহজ্জ্ব মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ১২ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিন ধরে ঈদুল আজহার কুরবানী চলে। হিজরি চান্দ্র বছরের গণনা অনুযায়ী ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার মাঝে ২ মাস ১০ দিন ব্যবধান থাকে। দিনের হিসেবে যা সবোর্চ্চ ৭০ দিন হতে পারে।

———————————–

যেহেতু কুরআনটাই মানুষের বানানো রূপকথার গল্প, এবং প্রাচীন আরবের বিভিন্ন ধর্ম থেকে চুরি করা গল্প কাহিনী। তাই এই বিষয়ে আলোচনা না করাই ভালো। সকল ধর্মই মিথ্যা এবং অন্ধকার কুসংস্কারে ভর্তি। মানুষের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মগুলো একদিন হারিয়ে যাবে।

তারপরেও যারা অন্ধ বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে, কোরবানির গরু কিনবেন, ঈদের দিন জবাই করবেন, মনের মাধুরী মিশিয়ে পশু হত্যা করে সারাদিন আনন্দ করবেন। কখনো কি ভেবে দেখেছেন আপনার যেরকম বেঁচে থাকার অধিকার আছে, ঠিক পশুপাখিদের ও বেঁচে থাকার অধিকার আছে। দলবেঁধে পশু জবাই করে উল্লাস করা আর যাই হোক, কখনো মানবিক কাজ হতে পারে না।

ঈদের নামাজ পড়ে এসে আনন্দের সাথে, দড়ি দিয়ে বেঁধে ৬/৭ জন মানুষে চেপে ধরে একটা পশুকে জবাই করা, পৃথিবীর সবচেয়ে অমানবিক কাজ গুলির একটি।

বন্ধ হোক সকল প্রকার পশু হত্যা। কোরবানি এবং কালীপূজা নামক অপসংস্কৃতির হাত থেকে পশুদের বাঁচতে দিন। জীব জগতের সকল প্রাণীকে সমানভাবে এই পৃথিবীতে বসবাসের সুযোগ দিন।

মনে রাখবেন আপনি মানুষ, এই পৃথিবীতে আপনার যেমন বাঁচার অধিকার আছে, ঠিক একইভাবে জীব জগতের সকল প্রাণীর বাঁচার অধিকার আছে। আপনার নিজের স্বার্থে নিরীহ পশু পাখিদের হত্যা করার অধিকার আপনাকে কেউ দেয়নি।

এই হিংস্র কাজ আপনার জন্য আনন্দের হতে পারে, কিন্তু অন্য কারো জন্য বড়ই বেদনাদায়ক।আপনার শরীরের কষ্টটা আর ব্যাথা যেমন আপনি অনুভব করেন, ঠিক একইভাবে তাদের আঘাতটাও অনুভব করার চেষ্টা করুন। আসুন সকল প্রকার পশু হত্যা বন্ধ করে সুন্দর এক মানবিক পৃথিবী গড়ে তুলি।

ঈদুল আযহা নামক পশু হত্যার নিষ্ঠুর অপসংস্কৃতির আনন্দ আমার জন্য না।

ফেসবুক মন্তব্য

১ thought on “বন্ধ হোক ধর্মীয় নিয়মে পশু হত্যা করে উল্লাস করা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − = 15